আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

১৯- ত্বালাক - বিবাহ বিচ্ছেদ অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৫৭০
আন্তর্জাতিক নং: ১৪৮০-৮
- ত্বালাক - বিবাহ বিচ্ছেদ অধ্যায়
৫. বায়িন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই
৩৫৭০। ইসহহাক ইবনে ইবরাহীম ও আব্দ ইবনে হুমায়দ (রাহঃ) ......... উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, আবু আমর ইবনে হাফস ইবনে মুগীরা (রাযিঃ) আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ) এর সঙ্গে ইয়ামানে গমন করেন। এরপর তিনি তার স্ত্রী ফাতিমা বিনতে কায়সকে অবশিষ্ট এক তালাকের কথা বলে পাঠালেন (তালাক আগেই দিয়েছিলেন)। তিনি হারিস ইবনে হিশাম ও আবু রাবীআকে নিজের পক্ষ থেকে তার (স্ত্রীকে) খোরপোষ হিসেবে কিছু দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। তখন তারা দু’জন তাকে (ফাতিমাকে) বললেন,আল্লাহর কসম! তোমার জন্য কোন খোরপোষ নেই। তবে তুমি গর্ভবতী হলে ভিন্ন কথা।

এরপর তিনি নবী (ﷺ) -এর কাছে এলেন এবং তাদের দু’জনের উক্তি সম্পর্কে তাকে অবহিত করলেন। তখন তিনি তাকে বললেন, তোমার জন্য কোন খোরপোষ নেই। এরপর তিনি নবী (ﷺ) এর কাছে স্বামীর ঘরে ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। তখন তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি কোথায় যাব? তিনি বললেন, ইবনে উম্মু মাকতুমের কাছে চলে যাও। সে অন্ধ মানুষ। তুমি প্রয়োজনবোধে তার নিকট কাপড় খুলতে পারবে এবং সে তোমাকে দেখতে পাবে না। এরপর যখন তার ইদ্দত পূর্ণ হল তখন নবী (ﷺ) তাঁকে উসামা ইবনে যায়দের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিলেন।

পরবর্তীকালে (উমাইয়া গভর্নর) মারওয়ান এই হাদীসের সত্যতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার উদ্দেশ্য কাবীসা ইবনে যুওয়াবকে তার কাছে পাঠান। তখন তিনি তার (কাবীসার) কাছে এই হাদীস বর্ণনা করেন। (এই খবর শুনে) মারওয়ান বললেন, একজন মহিলা ছাড়া অন্য কারো কাছে আমার এই হাদীস শুনিনি। আমরা (এই বিষয়ে) নির্ভরযোগ্য ও বিশুদ্ধ মত গ্রহণ করব যার উপর আমরা মুসলিম জনসাধারণকে পেয়েছি।

ফাতিমা বিনতে কায়স (রাযিঃ) এর নিকট মারওয়ানের মন্তব্য পোঁছলে তিনি বলেন, আমার ও তোমাদের মধ্য কুরআনই চূড়ান্ত মীমাংসাকারী। আল্লাহ বলেছেনঃ ″তোমরা তাদেরকে তাদের ঘর থেকে বের করে দিয়ো না।″ তিনি বলেন, এই আয়াত সে সব মহিলাদের জন্য প্রযোজ্য যাদের জন্য রাজ’আতের অধিকার আছে। তাই তিন তালাকের পর নতুন করে আর কি থাকতে পারে? এরপর তোমারা কী করে বলতে পার যে, যে মহিলা গর্ভবতী নয় তার জন্য কোন খোরপোষ নেই? তাহলে তোমরা তাকে কিসের ভিত্তিতে তোমাদের ঘরে আটক করে রাখবে?
كتاب الطلاق
باب المطلقة البا ئن لا نفقة لها
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، - وَاللَّفْظُ لِعَبْدٍ - قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ، الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ أَبَا عَمْرِو بْنَ حَفْصِ بْنِ الْمُغِيرَةِ، خَرَجَ مَعَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ إِلَى الْيَمَنِ فَأَرْسَلَ إِلَى امْرَأَتِهِ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ بِتَطْلِيقَةٍ كَانَتْ بَقِيَتْ مِنْ طَلاَقِهَا وَأَمَرَ لَهَا الْحَارِثَ بْنَ هِشَامٍ وَعَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ بِنَفَقَةٍ فَقَالاَ لَهَا وَاللَّهِ مَا لَكِ نَفَقَةٌ إِلاَّ أَنْ تَكُونِي حَامِلاً . فَأَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَتْ لَهُ قَوْلَهُمَا . فَقَالَ " لاَ نَفَقَةَ لَكِ " . فَاسْتَأْذَنَتْهُ فِي الاِنْتِقَالِ فَأَذِنَ لَهَا . فَقَالَتْ أَيْنَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ " إِلَى ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ " . وَكَانَ أَعْمَى تَضَعُ ثِيَابَهَا عِنْدَهُ وَلاَ يَرَاهَا فَلَمَّا مَضَتْ عِدَّتُهَا أَنْكَحَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا مَرْوَانُ قَبِيصَةَ بْنَ ذُؤَيْبٍ يَسْأَلُهَا عَنِ الْحَدِيثِ فَحَدَّثَتْهُ بِهِ فَقَالَ مَرْوَانُ لَمْ نَسْمَعْ هَذَا الْحَدِيثَ إِلاَّ مِنِ امْرَأَةٍ سَنَأْخُذُ بِالْعِصْمَةِ الَّتِي وَجَدْنَا النَّاسَ عَلَيْهَا . فَقَالَتْ فَاطِمَةُ حِينَ بَلَغَهَا قَوْلُ مَرْوَانَ فَبَيْنِي وَبَيْنَكُمُ الْقُرْآنُ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( لاَ تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ) الآيَةَ قَالَتْ هَذَا لِمَنْ كَانَتْ لَهُ مُرَاجَعَةٌ فَأَىُّ أَمْرٍ يَحْدُثُ بَعْدَ الثَّلاَثِ فَكَيْفَ تَقُولُونَ لاَ نَفَقَةَ لَهَا إِذَا لَمْ تَكُنْ حَامِلاً فَعَلاَمَ تَحْبِسُونَهَا.
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)