আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

১৬- হজ্ব - উমরার অধ্যায়

হাদীস নং: ৩০২৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৩০৫-৪
- হজ্ব - উমরার অধ্যায়
৫২. কুরবানীর দিন সুন্নতসম্মত নিয়ম এই যে, প্রথমে (জামরায়) কংকর নিক্ষেপ করতে হবে, তারপর কুরবানী করতে হবে, তারপর মাথা মুণ্ডন করতে হবে এবং তা ডানপাশ থেকে শুরু করতে হবে
৩০২৫। ইবনে আবু উমর (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) বলেন, তিনি জামরায় পাথর নিক্ষেপ করলেন। তারপর কুরবানী করলেন, তারপর মাথা কামালেন- তিনি ক্ষৌরকারের প্রতি মাথার ডানপার্শ্ব এগিয়ে দিলেন এবং সে তা চেঁছে দিল। তারপর তিনি আবু তালহা আনসারী (রাযিঃ) কে ডাকলেন এবং তাকে (নিজের) চুল দান করলেন। অতঃপর তিনি মাথার বামপাশ এগিয়ে দিলেন এবং বললেনঃ কামিয়ে দাও। সে তা কমিয়ে দিল। তিনি চুলগুলো আবু তালহা (রাযিঃ) কে দিয়ে বললেনঃ এগুলো লোকদের মধ্যে বন্টন কর।
كتاب الحج
باب بَيَانِ أَنَّ السُّنَّةَ يَوْمَ النَّحْرِ أَنْ يَرْمِيَ ثُمَّ يَنْحَرَ ثُمَّ يَحْلِقَ وَالاِبْتِدَاءِ فِي الْحَلْقِ بِالْجَانِبِ الأَيْمَنِ مِنْ رَأْسِ الْمَحْلُوقِ
وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ حَسَّانَ، يُخْبِرُ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ لَمَّا رَمَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْجَمْرَةَ وَنَحَرَ نُسُكَهُ وَحَلَقَ نَاوَلَ الْحَالِقَ شِقَّهُ الأَيْمَنَ فَحَلَقَهُ ثُمَّ دَعَا أَبَا طَلْحَةَ الأَنْصَارِيَّ فَأَعْطَاهُ إِيَّاهُ ثُمَّ نَاوَلَهُ الشِّقَّ الأَيْسَرَ فَقَالَ " احْلِقْ " . فَحَلَقَهُ فَأَعْطَاهُ أَبَا طَلْحَةَ فَقَالَ " اقْسِمْهُ بَيْنَ النَّاسِ ".

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীস থেকে এ কথা জানা গেল যে, মাথা মুড়ানোর সঠিক পদ্ধতি এটাই যে, প্রথমে ডান দিকের চুল পরিষ্কার করিয়ে নেওয়া হবে, তারপর বাম দিকের।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ক্ষেত্রে নিজের কেশ মুবারক আবূ তালহা আনসারী রাযি.-কে দিয়েছিলেন। আবু তালহা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিশেষ প্রিয়পাত্র ও তাঁর জন্য প্রাণ উৎসর্গকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। উহুদের যুদ্ধে হুযূর (ﷺ)কে কাফেরদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য তিনি শত্রুদের নিক্ষেপিত তীর নিজের শরীর পেতে গ্রহণ করতেন। এতে তার দেহে চালুনির মত অসংখ্য ছিদ্রের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সেবা ও আরামের প্রতি এবং তাঁর কাছে আগত মেহমান-মুসাফিরদের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখতেন। মোটকথা, এ ধরনের সেবাকার্যে তাঁর ও তাঁর স্ত্রী উম্মে সুলাইম (হযরত আনাসের মা)-এর একটা বিশেষ অবস্থান ছিল। সম্ভবত এসব বিশেষ খেদমত ও সেবার কারণে হুযুর (ﷺ) নিজের মাথার কেশ মুবারক তাকে দিয়েছিলেন এবং অন্যদের মাঝেও তার মাধ্যমে বিতরণ করেছিলেন। এ হাদীসটি আল্লাহওয়ালা ও পুণ্যবানদের তাবাররুক গ্রহণ করার বৈধতারও স্পষ্ট ভিত্তি ও দলীল।

অনেক স্থানে যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর "কেশ মুবারক" রয়েছে বলে বলা হয়, এগুলোর মধ্য থেকে যেগুলোর বেলায় নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে, প্রবল ধারণা এটাই যে, এগুলো বিদায় হজ্বের সময় বিতরণকৃত ঐসব চুলেরই অংশ হবে। কোন কোন বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে, হযরত আবূ তালহা লোকদেরকে একটি একটি অথবা দু'টি দু'টি করে চুল বিলিয়েছিলেন। এভাবে এ চুলগুলো হাজার হাজার সাহাবায়ে কেরামের কাছে গিয়ে পৌঁছেছিল। আর এ কথাও স্পষ্ট যে, তাদের মধ্য থেকে প্রত্যেকেই এবং তাদের মৃত্যুর পর তাদের পরবর্তী প্রজন্ম এই পবিত্র তাবাররুকের হেফাযত করে থাকবে। এজন্য এগুলোর মধ্য থেকে অনেকগুলোই যদি এ পর্যন্তও কোথাও কোথাও সংরক্ষিত থেকে থাকে, তাহলে এটা কোন বিষ্ময়কর ব্যাপার নয়। কিন্তু নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ ও সনদ ছাড়া কোন চুলকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর "কেশ মুবারক" সাব্যস্ত করা খুবই মারাত্মক কথা ও বিরাট গুনাহ্। আর সর্বাবস্থায় অর্থাৎ, আসল হোক অথবা কৃত্রিম- এটাকে এবং এর প্রদর্শনীকে ব্যবসার মাধ্যম বানিয়ে নেওয়া- যেমন, অনেক স্থানে হয়ে থাকে- জঘন্য অপরাধ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)