হাদীস অনুসন্ধানের ফলাফল
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৪০১
আন্তর্জাতিক নং: ৪১২
- নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৭৬। নামাযে ডান দিকে থুথু ফেলবে না
৪০১। হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন তার সামনে বা ডানে থুথু না ফেলে; বরং তার বাঁয়ে বা বাঁ পায়ের নীচে ফেলে।
كتاب الصلاة
باب لاَ يَبْصُقْ عَنْ يَمِينِهِ، فِي الصَّلاَةِ
412 - حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي قَتَادَةُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لاَ يَتْفِلَنَّ أَحَدُكُمْ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَلاَ عَنْ يَمِينِهِ، وَلَكِنْ عَنْ يَسَارِهِ، أَوْ تَحْتَ رِجْلِهِ»
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৪০২
আন্তর্জাতিক নং: ৪১৩
- নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৭৭। থুথু যেন বাঁ দিকে অথবা পায়ের নীচে ফেলে
৪০২। আদম (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেন, মু’মিন যখন নামাযে থাকে, তখন সে তার রবের সঙ্গে একান্তে কথা বলে। কাজেই সে যেন তার সামনে, ডানে থুথু না ফেলে, বরং তার বাঁ দিকে অথবা পায়ের নীচে ফেলে।
كتاب الصلاة
باب لِيَبْزُقْ عَنْ يَسَارِهِ، أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ الْيُسْرَى
413 - حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ المُؤْمِنَ إِذَا كَانَ فِي الصَّلاَةِ، فَإِنَّمَا يُنَاجِي رَبَّهُ، فَلاَ يَبْزُقَنَّ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَلاَ عَنْ يَمِينِهِ، وَلَكِنْ عَنْ يَسَارِهِ، أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ»
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৪০৩
আন্তর্জাতিক নং: ৪১৪
- নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৭৭। থুথু যেন বাঁ দিকে অথবা পায়ের নীচে ফেলে
৪০৩। আলী (রাহঃ) .... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) একবার মসজিদের কিবলার দিকের দেওয়ালে কফ দেখলেন, তখন তিনি কাঁকর দিয়ে তা মুছে দিলেন। তারপর সামনের দিকে অথবা ডান দিকে থুথু ফেলতে নিষেধ করলেন। কিন্তু (প্রয়োজনে) বাঁ দিকে অথবা বাঁ পায়ের নীচে ফেলতে বললেন।
যুহরী (রাহঃ) হুমাইদ (রাহঃ) এর মাধ্যমে আবু সা’ঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
যুহরী (রাহঃ) হুমাইদ (রাহঃ) এর মাধ্যমে আবু সা’ঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
كتاب الصلاة
باب لِيَبْزُقْ عَنْ يَسَارِهِ، أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ الْيُسْرَى
414 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ [ص:91]، أَنَّ النَّبِيَّ صلّى الله عليه وسلم أَبْصَرَ نُخَامَةً فِي قِبْلَةِ المَسْجِدِ، فَحَكَّهَا بِحَصَاةٍ ثُمَّ «نَهَى أَنْ يَبْزُقَ الرَّجُلُ بَيْنَ يَدَيْهِ، أَوْ عَنْ يَمِينِهِ وَلَكِنْ عَنْ يَسَارِهِ، أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ اليُسْرَى» وَعَنِ الزُّهْرِيِّ، سَمِعَ حُمَيْدًا، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ نَحْوَهُ
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৪০৪
আন্তর্জাতিক নং: ৪১৫
- নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৭৮। মসজিদে থুথু ফেলার কাফফারা
৪০৪। আদম (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, মসজিদে থুথু ফেলা গুনাহ, আর তার কাফফারা (প্রতিকার) হল তা পুঁতে ফেলা।
كتاب الصلاة
باب كَفَّارَةِ الْبُزَاقِ فِي الْمَسْجِدِ
415 - حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «البُزَاقُ فِي المَسْجِدِ خَطِيئَةٌ وَكَفَّارَتُهَا دَفْنُهَا»
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৪০৫
আন্তর্জাতিক নং: ৪১৬
- নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৭৯। মসজিদে কফ পুঁতে ফেলা
৪০৫। ইসহাক ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমাদের কেউ নামাযে দাঁড়ালে সে তার সামনের দিকে থুথু ফেলবে না। সে যতক্ষণ তার মুসল্লায় থাকে, ততক্ষণ মহান আল্লাহর সঙ্গে চুপে চুপে কথা বলে। আর ডান দিকেও ফেলবে না। কেননা তার ডান দিকে থাকেন ফিরিশতা। সে যেন তার বাঁ দিকে অথবা পায়ের নীচে থুথু ফেলে এবং পরে তা পুঁতে ফেলে।
كتاب الصلاة
باب دَفْنِ النُّخَامَةِ فِي الْمَسْجِدِ
416 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ هَمَّامٍ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلاَةِ، فَلاَ يَبْصُقْ أَمَامَهُ، فَإِنَّمَا يُنَاجِي اللَّهَ مَا دَامَ فِي مُصَلَّاهُ، وَلاَ عَنْ يَمِينِهِ، فَإِنَّ عَنْ يَمِينِهِ مَلَكًا، وَلْيَبْصُقْ عَنْ يَسَارِهِ، أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ، فَيَدْفِنُهَا»
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৪০৬
আন্তর্জাতিক নং: ৪১৭
- নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮০। থুথু ফেলতে বাধ্য হলে তা কাপড়ের কিনারে ফেলবে।
৪০৬। মালিক ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) কিবলার দিকে (দেওয়ালে) কফ দেখে তা নিজ হাতে মুছে ফেললেন আর তাঁর চেহারায় অসন্তোষ প্রকাশ পেল। বা সে কারণে তাঁর চেহারায় অসন্তোষ প্রকাশ পেল এবং এর প্রতি তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ পেল। তিনি বললেনঃ যখন তোমাদের কেউ নামাযে দাঁড়ায়, তখন সে তার রবের সঙ্গে চুপে চুপে কথা বলে। অথবা (বলেছেন) তখন তার রব কিবলা ও তার মাঝখানে থাকেন। কাজেই সে যেন কিবলার দিকে থুথু না ফেলে, বরং (প্রয়োজনে) তার বাঁ দিকে বা পায়ের নীচে ফেলবে। তারপর তিনি চাঁদরের কোণ ধরে তাতে থুথু ফেলে এক অংশের উপর অপর অংশ ভাঁজ করে দিলেন এবং বললেনঃ অথবা এরূপ করবে।
كتاب الصلاة
باب إِذَا بَدَرَهُ الْبُزَاقُ فَلْيَأْخُذْ بِطَرَفِ ثَوْبِهِ
417 - حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى نُخَامَةً فِي القِبْلَةِ، فَحَكَّهَا بِيَدِهِ وَرُئِيَ مِنْهُ كَرَاهِيَةٌ، أَوْ رُئِيَ كَرَاهِيَتُهُ لِذَلِكَ وَشِدَّتُهُ عَلَيْهِ، وَقَالَ: «إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا قَامَ فِي صَلاَتِهِ، فَإِنَّمَا يُنَاجِي رَبَّهُ أَوْ رَبُّهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ قِبْلَتِهِ، فَلاَ يَبْزُقَنَّ فِي قِبْلَتِهِ، وَلَكِنْ عَنْ يَسَارِهِ أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ» ، ثُمَّ أَخَذَ طَرَفَ رِدَائِهِ، فَبَزَقَ فِيهِ وَرَدَّ بَعْضَهُ عَلَى بَعْضٍ، قَالَ: «أَوْ يَفْعَلُ هَكَذَا»
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৪০৭
আন্তর্জাতিক নং: ৪১৮
- নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮১। নামায পূর্ণ করার ও কিবলার ব্যাপারে লোকদেরকে ইমামের উপদেশ দান।
৪০৭। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা কি মনে কর যে, আমার দৃষ্টি (কেবল) কিবলার দিকে? আল্লাহর কসম! আমার কাছে তোমাদের খুশূ (বিনয়) ও রুকু কিছুই গোপন থাকে না। অবশ্যই আমি আমার পেছন থেকেও তোমাদের দেখি।
كتاب الصلاة
باب عِظَةِ الإِمَامِ النَّاسَ فِي إِتْمَامِ الصَّلاَةِ، وَذِكْرِ الْقِبْلَةِ
418 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «هَلْ تَرَوْنَ قِبْلَتِي هَا هُنَا، فَوَاللَّهِ مَا يَخْفَى عَلَيَّ خُشُوعُكُمْ وَلاَ رُكُوعُكُمْ، إِنِّي لَأَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِي»
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৪০৮
আন্তর্জাতিক নং: ৪১৯
- নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮১। নামায পূর্ণ করার ও কিবলার ব্যাপারে লোকদেরকে ইমামের উপদেশ দান।
৪০৮। ইয়াহয়া ইবনে সালিহ (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে নামায আদায় করলেন। তারপর তিনি মিম্বরে উঠলেন এবং ইরশাদ করলেন, তোমাদের নামাযে রুকুতে আমি অবশ্যই তোমাদের আমার পেছন থেকে দেখি, যেমন এখন তোমাদের দেখছি।
كتاب الصلاة
باب عِظَةِ الإِمَامِ النَّاسَ فِي إِتْمَامِ الصَّلاَةِ، وَذِكْرِ الْقِبْلَةِ
419 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ صَالِحٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ عَلِيٍّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: صَلَّى بِنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلاَةً، ثُمَّ رَقِيَ المِنْبَرَ، فَقَالَ فِي الصَّلاَةِ وَفِي الرُّكُوعِ: «إِنِّي لَأَرَاكُمْ مِنْ وَرَائِي كَمَا أَرَاكُمْ»
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৪০৯
আন্তর্জাতিক নং: ৪২০
- নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮২। অমুক গোত্রের মসজিদ বলা যায় কি?
৪০৯। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুদ্ধের জন্য তৈরী ঘোড়াকে ‘হাফয়া’ (নামক স্থান) থেকে ‘সানিয়াতুল ওয়াদা’ পর্যন্ত দৌড় প্রতিযোগিতা করিয়েছিলেন। আর যে ঘোড়া যুদ্ধের জন্য তৈরী নয়, সে ঘোড়াকে ‘সানিয়া’ থেকে যুরাইক গোত্রের মসজিদ পর্যন্ত দৌড় প্রতিযোগিতা করিয়েছিলেন। আর এই প্রতিযোগিতায় আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) অগ্রগামী ছিলেন।
كتاب الصلاة
بَابٌ: هَلْ يُقَالُ مَسْجِدُ بَنِي فُلاَنٍ؟
420 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَابَقَ بَيْنَ الخَيْلِ الَّتِي أُضْمِرَتْ مِنَ الحَفْيَاءِ، وَأَمَدُهَا ثَنِيَّةُ الوَدَاعِ، وَسَابَقَ بَيْنَ الخَيْلِ الَّتِي لَمْ تُضْمَرْ مِنَ الثَّنِيَّةِ إِلَى مَسْجِدِ بَنِي زُرَيْقٍ» ، وَأَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ كَانَ فِيمَنْ سَابَقَ بِهَا
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৪১০
আন্তর্জাতিক নং: ৪২১ - ৪২২
- নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৩। মসজিদে কোন কিছু ভাগ করা ও (খেজুরের) ছড়া ঝুলানো।
আবু আব্দুল্লাহ বুখারী (রাহঃ) বলেন,الْعِذْقُ - الْقِنْوُ একই জিনিসের নাম। এর দ্বিবচন قِنْوَانِ এবং বহুবচনেও قِنْوَانٌ যেমন صنو ও صنوان।
ইবরাহীম (রাহঃ) ... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর কাছে বাহরাইন থেকে কিছু মাল এলো। তিনি বললেনঃ এগুলো মসজিদে রেখে দাও। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এ যাবত যত মাল আনা হয়েছে তার মধ্যে এ মালই ছিল পরিমাণে সবচে' বেশী। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযে চলে গেলেন এবং এর দিকে ভ্রুক্ষেপও করলেন না। নামায শেষ করে তিনি এসে মালের কাছে গিয়ে বসলেন। তিনি যাকেই দেখলেন, কিছু মাল দিয়ে দিলেন। ইতিমধ্যে আব্বাস (রাযিঃ) এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকেও কিছু দিন। কারণ আমি নিজে ও আকিলের (এ দু’জন বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের কয়েদি ছিলেন) পক্ষ থেকে মুক্তিপণ দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ নিয়ে যান। তিনি তা কাপড়ে ভরে নিলেন। তারপর তা উঠাতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু পারলেন না। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কাউকে বলুন, যেন আমাকে এটি উঠিয়ে দেয়। তিনি বললেনঃ না। আব্বাস (রাযিঃ) বললেনঃ তাহলে আপনি নিজেই তুলে দিন। তিনি বললেনঃ না। তারপর আব্বাস (রাযিঃ) তা থেকে কিছু মাল রেখে দিলেন। তারপর আবার তা তুলতে চেষ্টা করলেন। (এবারও তুলতে না পেরে) তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! কাউকে আদেশ করুন যেন আমাকে তুলে দেয়। তিনি বললেনঃ না। তাহলে আপনিই আমাকে তুলে দিন। তিনি বললেনঃ না। তারপর আব্বাস (রাযিঃ) আরো কিছু মাল নামিয়ে রাখলেন। এবার তিনি উঠাতে পারলেন এবং তা নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মালের প্রতি তার এরূপ আগ্রহ দেখে এতই অবাক হয়েছিলেন যে, তিনি চোখের আড়াল না হওয়া পর্যন্ত আব্বাসের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি দিরহাম বাকী থাকা পর্যন্ত উঠলেন না।
পরিচ্ছেদ: ২৮৪। মসজিদে যাকে খাওয়ার দাওয়াত দেয়া হয়, আর যিনি তা কবুল করেন।
আবু আব্দুল্লাহ বুখারী (রাহঃ) বলেন,الْعِذْقُ - الْقِنْوُ একই জিনিসের নাম। এর দ্বিবচন قِنْوَانِ এবং বহুবচনেও قِنْوَانٌ যেমন صنو ও صنوان।
ইবরাহীম (রাহঃ) ... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর কাছে বাহরাইন থেকে কিছু মাল এলো। তিনি বললেনঃ এগুলো মসজিদে রেখে দাও। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এ যাবত যত মাল আনা হয়েছে তার মধ্যে এ মালই ছিল পরিমাণে সবচে' বেশী। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাযে চলে গেলেন এবং এর দিকে ভ্রুক্ষেপও করলেন না। নামায শেষ করে তিনি এসে মালের কাছে গিয়ে বসলেন। তিনি যাকেই দেখলেন, কিছু মাল দিয়ে দিলেন। ইতিমধ্যে আব্বাস (রাযিঃ) এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকেও কিছু দিন। কারণ আমি নিজে ও আকিলের (এ দু’জন বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের কয়েদি ছিলেন) পক্ষ থেকে মুক্তিপণ দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ নিয়ে যান। তিনি তা কাপড়ে ভরে নিলেন। তারপর তা উঠাতে চেষ্টা করলেন, কিন্তু পারলেন না। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কাউকে বলুন, যেন আমাকে এটি উঠিয়ে দেয়। তিনি বললেনঃ না। আব্বাস (রাযিঃ) বললেনঃ তাহলে আপনি নিজেই তুলে দিন। তিনি বললেনঃ না। তারপর আব্বাস (রাযিঃ) তা থেকে কিছু মাল রেখে দিলেন। তারপর আবার তা তুলতে চেষ্টা করলেন। (এবারও তুলতে না পেরে) তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! কাউকে আদেশ করুন যেন আমাকে তুলে দেয়। তিনি বললেনঃ না। তাহলে আপনিই আমাকে তুলে দিন। তিনি বললেনঃ না। তারপর আব্বাস (রাযিঃ) আরো কিছু মাল নামিয়ে রাখলেন। এবার তিনি উঠাতে পারলেন এবং তা নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মালের প্রতি তার এরূপ আগ্রহ দেখে এতই অবাক হয়েছিলেন যে, তিনি চোখের আড়াল না হওয়া পর্যন্ত আব্বাসের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি দিরহাম বাকী থাকা পর্যন্ত উঠলেন না।
পরিচ্ছেদ: ২৮৪। মসজিদে যাকে খাওয়ার দাওয়াত দেয়া হয়, আর যিনি তা কবুল করেন।
৪১০। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (ﷺ)-কে মসজিদে পেলাম আর তার সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন সাহাবী। আমি দাঁড়িয়ে গেলাম। তিনি আমাকে বললেনঃ তোমাকে কি আবু তালহা পাঠিয়েছেন? আমি বললামঃ জ্বী, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ খাবারের জন্য? আমি বললামঃ জ্বী, হ্যাঁ। তখন তাঁর আশেপাশে যারা ছিলেন, তিনি তাঁদেরকে বললেনঃ উঠ। তারপর তিনি চলতে শুরু করলেন। (রাবী বলেন) আর আমি তাঁদের সামনে সামনে চললাম।
كتاب الصلاة
بَابُ القِسْمَةِ، وَتَعْلِيقِ القِنْوِ فِي المَسْجِدِ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: «القِنْوُ العِذْقُ وَالِاثْنَانِ قِنْوَانِ وَالجَمَاعَةُ أَيْضًا قِنْوَانٌ مِثْلَ صِنْوٍ وَصِنْوَانٍ»
421 - وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي ابْنَ طَهْمَانَ، عَنْ عَبْدِ العَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَالٍ مِنَ البَحْرَيْنِ، فَقَالَ: «انْثُرُوهُ فِي المَسْجِدِ» وَكَانَ أَكْثَرَ مَالٍ أُتِيَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ [ص:92] صلّى الله عليه وسلم، فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الصَّلاَةِ وَلَمْ يَلْتَفِتْ إِلَيْهِ، فَلَمَّا قَضَى الصَّلاَةَ جَاءَ فَجَلَسَ إِلَيْهِ، فَمَا كَانَ يَرَى أَحَدًا إِلَّا أَعْطَاهُ، إِذْ جَاءَهُ العَبَّاسُ، فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ: أَعْطِنِي، فَإِنِّي فَادَيْتُ نَفْسِي وَفَادَيْتُ عَقِيلًا، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خُذْ» فَحَثَا فِي ثَوْبِهِ، ثُمَّ ذَهَبَ يُقِلُّهُ فَلَمْ يَسْتَطِعْ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، اؤْمُرْ بَعْضَهُمْ يَرْفَعْهُ إِلَيَّ، قَالَ: «لاَ» قَالَ: فَارْفَعْهُ أَنْتَ عَلَيَّ، قَالَ: «لاَ» فَنَثَرَ مِنْهُ، ثُمَّ ذَهَبَ يُقِلُّهُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، اؤْمُرْ بَعْضَهُمْ يَرْفَعْهُ عَلَيَّ، قَالَ: «لاَ» قَالَ: فَارْفَعْهُ أَنْتَ عَلَيَّ، قَالَ: «لاَ» فَنَثَرَ مِنْهُ، ثُمَّ احْتَمَلَهُ، فَأَلْقَاهُ عَلَى كَاهِلِهِ، ثُمَّ انْطَلَقَ، فَمَا زَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُتْبِعُهُ بَصَرَهُ حَتَّى خَفِيَ عَلَيْنَا - عَجَبًا مِنْ حِرْصِهِ - فَمَا قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَثَمَّ مِنْهَا دِرْهَمٌ
باب من دعا لطعام في المسجد ومن أجاب فيه
421 - وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي ابْنَ طَهْمَانَ، عَنْ عَبْدِ العَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَالٍ مِنَ البَحْرَيْنِ، فَقَالَ: «انْثُرُوهُ فِي المَسْجِدِ» وَكَانَ أَكْثَرَ مَالٍ أُتِيَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ [ص:92] صلّى الله عليه وسلم، فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الصَّلاَةِ وَلَمْ يَلْتَفِتْ إِلَيْهِ، فَلَمَّا قَضَى الصَّلاَةَ جَاءَ فَجَلَسَ إِلَيْهِ، فَمَا كَانَ يَرَى أَحَدًا إِلَّا أَعْطَاهُ، إِذْ جَاءَهُ العَبَّاسُ، فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ: أَعْطِنِي، فَإِنِّي فَادَيْتُ نَفْسِي وَفَادَيْتُ عَقِيلًا، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خُذْ» فَحَثَا فِي ثَوْبِهِ، ثُمَّ ذَهَبَ يُقِلُّهُ فَلَمْ يَسْتَطِعْ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، اؤْمُرْ بَعْضَهُمْ يَرْفَعْهُ إِلَيَّ، قَالَ: «لاَ» قَالَ: فَارْفَعْهُ أَنْتَ عَلَيَّ، قَالَ: «لاَ» فَنَثَرَ مِنْهُ، ثُمَّ ذَهَبَ يُقِلُّهُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، اؤْمُرْ بَعْضَهُمْ يَرْفَعْهُ عَلَيَّ، قَالَ: «لاَ» قَالَ: فَارْفَعْهُ أَنْتَ عَلَيَّ، قَالَ: «لاَ» فَنَثَرَ مِنْهُ، ثُمَّ احْتَمَلَهُ، فَأَلْقَاهُ عَلَى كَاهِلِهِ، ثُمَّ انْطَلَقَ، فَمَا زَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُتْبِعُهُ بَصَرَهُ حَتَّى خَفِيَ عَلَيْنَا - عَجَبًا مِنْ حِرْصِهِ - فَمَا قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَثَمَّ مِنْهَا دِرْهَمٌ
باب من دعا لطعام في المسجد ومن أجاب فيه
422 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، سَمِعَ أَنَسًا، قَالَ: وَجَدْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي المَسْجِدِ مَعَهُ نَاسٌ، فَقُمْتُ فَقَالَ لِي: «آرْسَلَكَ أَبُو طَلْحَةَ؟» ، قُلْتُ: نَعَمْ، فَقَالَ: «لِطَعَامٍ» ، قُلْتُ: نَعَمْ، فَقَالَ: «لِمَنْ مَعَهُ قُومُوا، فَانْطَلَقَ وَانْطَلَقْتُ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ»
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৪১১
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৩
- নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৫। মসজিদে বিচার করা ও নারী-পুরুষের মধ্যে লিআন করা।
৪১১। ইয়াহয়া (রাহঃ) .... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বলল: ইয়া রাসুলাল্লাহ! কেউ তার স্ত্রীর সাথে অন্য ব্যক্তিকে দেখতে পেলে কি সে তাকে হত্যা করবে? পরে মসজিদে সে ও তার স্ত্রী একে অন্যকে লিআন করল। তখন আমি উপস্থিত ছিলাম।
كتاب الصلاة
باب الْقَضَاءِ وَاللِّعَانِ فِي الْمَسْجِدِ بَيْنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ
423 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّ رَجُلًا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ «أَرَأَيْتَ رَجُلًا وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا أَيَقْتُلُهُ؟ فَتَلاَعَنَا فِي المَسْجِدِ، وَأَنَا شَاهِدٌ»
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৪১২
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৪
- নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৬। কারো ঘরে প্রবেশ করলে যেখানে ইচ্ছা বা যেখানে নির্দেশ করা হয় সেখানেই নামায আদায় করবে। এ ব্যাপারে বেশী খোঁজাখুঁজি করবে না।
৪১২। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... ইতবান ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) তার ঘরে এলেন এবং বললেনঃ তোমার ঘরের কোন স্থানে নামায আদায় করা পছন্দ কর? তিনি বলেন, তখন আমি তাঁকে একটি স্থানের দিকে ইশারা করলাম। নবী (ﷺ) তাকবীর বললেন। আমরা তাঁর পেছনে কাতার করে দাঁড়ালাম। তিনি দু’রাকআত নামায আদায় করলেন।
كتاب الصلاة
باب إِذَا دَخَلَ بَيْتًا يُصَلِّي حَيْثُ شَاءَ، أَوْ حَيْثُ أُمِرَ، وَلاَ يَتَجَسَّسُ
424 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ، عَنْ عِتْبَانَ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَاهُ فِي مَنْزِلِهِ، فَقَالَ: «أَيْنَ تُحِبُّ أَنْ أُصَلِّيَ لَكَ مِنْ بَيْتِكَ؟» قَالَ: فَأَشَرْتُ لَهُ إِلَى مَكَانٍ، فَكَبَّرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَصَفَفْنَا خَلْفَهُ، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৪১৩
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৫
- নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৭। ঘরে মসজিদ তৈরী করা।
বারা' ইবনে আযিব (রাযিঃ) নিজের বাড়ীর মসজিদে জামাআত করে নামায আদায় করেছিলেন।
বারা' ইবনে আযিব (রাযিঃ) নিজের বাড়ীর মসজিদে জামাআত করে নামায আদায় করেছিলেন।
৪১৩। সাঈদ ইবনে উফায়র (রাহঃ) ..... মাহমুদ ইবনে রাবী আনসারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, ইতবান ইবনে মালিক (রাযিঃ), যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আনসারগণের অন্যতম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে হাযির হয়ে আরয করলেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেয়েছে। আমি আমার গোত্রের লোকদের নিয়ে নামায আদায় করি। কিন্তু বৃষ্টি হলে আমার ও তাদের বাসস্থানের মধ্যবর্তী নিম্নভূমিতে পানি জমে যাওয়াতে তা পার হয়ে তাদের মসজিদে পৌঁছতে এবং তাদেরকে নিয়ে নামায আদায় করতে সমর্থ হই না। আর ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার একান্ত ইচ্ছা যে, আপনি আমার ঘরে তাশরিফ নিয়ে কোন এক স্থানে নামায আদায় করেন এবং আমি সেই স্থানকে নামাযের জন্য নির্দিষ্ট করে নিই। রাবি বলেন, তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইনশাআল্লাহ অচিরেই আমি তা করব।
ইতবান (রাযিঃ) বলেন: পরদিন সূর্যোদয়ের পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর (রাযিঃ) আমার ঘরে তাশরিফ আনেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘরে প্রবেশ করতে চাইলে আমি তাঁকে অনুমতি দিলাম। ঘরে প্রবেশ করে তিনি না বসেই জিজ্ঞাসা করলেন: তোমার ঘরের কোন স্থানে নামায আদায় করা পছন্দ কর? তিনি বলেন: আমি তাঁকে ঘরের এক প্রান্তের দিকে ইঙ্গিত করলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়ালেন এবং তাকবীর বললেন। তখন আমরাও দাঁড়ালাম এবং কাতারবন্দী হলাম। তিনি দু’রাকআত নামায আদায় করলেন। তারপর সালাম ফিরালেন।
তিনি (ইতবান) বলেন, আমরা তাঁকে কিছুক্ষণের জন্য বসালাম এবং তাঁর জন্য তৈরী ‘খাযীরাহ’ নামক খাবার তাঁর সামনে পেশ করলাম। রাবী বলেন, এ সময় মহল্লার কিছু লোক ঘরে ভীড় জমালেন। তখন তিনি উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলে উঠলেন, ‘মালিক ইবনে দুখাইশিন কোথায়? অথবা বললেন ‘ইবনে দুখশুন’ কোথায়? তখন একজন জওয়াব দিলেন, সে মুনাফিক। সে মহান আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলকে ভালবাসে না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এরূপ বলো না। তুমি কি দেখছ না যে, সে আল্লাহর সন্তোষ লাভের আশায় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে? তখন সে ব্যক্তি বললেনঃ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। আমরা তো তার সম্পর্ক ও হিত কামনা মুনাফিকদের সাথেই দেখি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ তাআলা তো এমন ব্যক্তির প্রতি জাহান্নাম হারাম করে দিয়েছেন, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে।
রাবী ইবনে শিহাব বলেনঃ তারপর আমি মাহমুদ ইবনে রবী (রাযিঃ) এর হাদীস সম্পর্কে হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ আনসারী (রাহঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, যিনি বনু সালিম গোত্রের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন। তিনি এ হাদীস সমর্থন করলেন।
ইতবান (রাযিঃ) বলেন: পরদিন সূর্যোদয়ের পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর (রাযিঃ) আমার ঘরে তাশরিফ আনেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘরে প্রবেশ করতে চাইলে আমি তাঁকে অনুমতি দিলাম। ঘরে প্রবেশ করে তিনি না বসেই জিজ্ঞাসা করলেন: তোমার ঘরের কোন স্থানে নামায আদায় করা পছন্দ কর? তিনি বলেন: আমি তাঁকে ঘরের এক প্রান্তের দিকে ইঙ্গিত করলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়ালেন এবং তাকবীর বললেন। তখন আমরাও দাঁড়ালাম এবং কাতারবন্দী হলাম। তিনি দু’রাকআত নামায আদায় করলেন। তারপর সালাম ফিরালেন।
তিনি (ইতবান) বলেন, আমরা তাঁকে কিছুক্ষণের জন্য বসালাম এবং তাঁর জন্য তৈরী ‘খাযীরাহ’ নামক খাবার তাঁর সামনে পেশ করলাম। রাবী বলেন, এ সময় মহল্লার কিছু লোক ঘরে ভীড় জমালেন। তখন তিনি উপস্থিত লোকদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বলে উঠলেন, ‘মালিক ইবনে দুখাইশিন কোথায়? অথবা বললেন ‘ইবনে দুখশুন’ কোথায়? তখন একজন জওয়াব দিলেন, সে মুনাফিক। সে মহান আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলকে ভালবাসে না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এরূপ বলো না। তুমি কি দেখছ না যে, সে আল্লাহর সন্তোষ লাভের আশায় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে? তখন সে ব্যক্তি বললেনঃ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। আমরা তো তার সম্পর্ক ও হিত কামনা মুনাফিকদের সাথেই দেখি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ তাআলা তো এমন ব্যক্তির প্রতি জাহান্নাম হারাম করে দিয়েছেন, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে।
রাবী ইবনে শিহাব বলেনঃ তারপর আমি মাহমুদ ইবনে রবী (রাযিঃ) এর হাদীস সম্পর্কে হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ আনসারী (রাহঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, যিনি বনু সালিম গোত্রের একজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন। তিনি এ হাদীস সমর্থন করলেন।
كتاب الصلاة
باب الْمَسَاجِدِ فِي الْبُيُوتِ وَصَلَّى الْبَرَاءُ بْنُ عَازِبٍ فِي مَسْجِدِهِ فِي دَارِهِ جَمَاعَةً
425 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَحْمُودُ بْنُ الرَّبِيعِ الأَنْصَارِيُّ، أَنَّ عِتْبَانَ بْنَ مَالِكٍ وَهُوَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا مِنَ الأَنْصَارِ أَنَّهُ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ أَنْكَرْتُ بَصَرِي، وَأَنَا أُصَلِّي لِقَوْمِي فَإِذَا كَانَتِ الأَمْطَارُ سَالَ الوَادِي الَّذِي بَيْنِي وَبَيْنَهُمْ، لَمْ أَسْتَطِعْ أَنْ آتِيَ مَسْجِدَهُمْ فَأُصَلِّيَ بِهِمْ، وَوَدِدْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَنَّكَ تَأْتِينِي فَتُصَلِّيَ فِي بَيْتِي، فَأَتَّخِذَهُ مُصَلًّى، قَالَ: فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «سَأَفْعَلُ إِنْ [ص:93] شَاءَ اللَّهُ» قَالَ عِتْبَانُ: فَغَدَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبُو بَكْرٍ حِينَ ارْتَفَعَ النَّهَارُ، فَاسْتَأْذَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَذِنْتُ لَهُ، فَلَمْ يَجْلِسْ حَتَّى دَخَلَ البَيْتَ، ثُمَّ قَالَ: «أَيْنَ تُحِبُّ أَنْ أُصَلِّيَ مِنْ بَيْتِكَ» قَالَ: فَأَشَرْتُ لَهُ إِلَى نَاحِيَةٍ مِنَ البَيْتِ، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَبَّرَ، فَقُمْنَا فَصَفَّنَا فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ، قَالَ وَحَبَسْنَاهُ عَلَى خَزِيرَةٍ صَنَعْنَاهَا لَهُ، قَالَ: فَآبَ فِي البَيْتِ، رِجَالٌ مِنْ أَهْلِ الدَّارِ ذَوُو عَدَدٍ، فَاجْتَمَعُوا، فَقَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ: أَيْنَ مَالِكُ بْنُ الدُّخَيْشِنِ أَوِ ابْنُ الدُّخْشُنِ؟ فَقَالَ بَعْضُهُمْ: ذَلِكَ مُنَافِقٌ لاَ يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " لاَ تَقُلْ ذَلِكَ، أَلاَ تَرَاهُ قَدْ قَالَ: لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، يُرِيدُ بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ " قَالَ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: فَإِنَّا نَرَى وَجْهَهُ وَنَصِيحَتَهُ إِلَى المُنَافِقِينَ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " فَإِنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَ عَلَى النَّارِ مَنْ قَالَ: لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، يَبْتَغِي بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ " قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: ثُمَّ سَأَلْتُ الحُصَيْنَ بْنَ مُحَمَّدٍ الأَنْصَارِيَّ - وَهُوَ أَحَدُ بَنِي سَالِمٍ - وَهُوَ مِنْ سَرَاتِهِمْ، عَنْ حَدِيثِ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ الأَنْصَارِيِّ: «فَصَدَّقَهُ بِذَلِكَ»
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৪১৪
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৬
- নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮। মসজিদে প্রবেশ ও অন্যান্য কাজ ডান দিক থেকে আরম্ভ করা।
ইবনে উমর (রাযিঃ) প্রবেশের সময় প্রথমে ডান পা দিয়ে শুরু করতেন এবং বের হওয়ার সময় প্রথমে বাম পা দিয়ে শুরু করতেন।
ইবনে উমর (রাযিঃ) প্রবেশের সময় প্রথমে ডান পা দিয়ে শুরু করতেন এবং বের হওয়ার সময় প্রথমে বাম পা দিয়ে শুরু করতেন।
৪১৪। সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ..... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) নিজের সমস্ত কাজে যথাসম্ভব ডানদিক থেকে আরম্ভ করা পছন্দ করতেন। পবিত্রতা হাসিলের সময়, মাথা আঁচড়ানোর সময় এবং জুতা পরিধানের সময়ও।
كتاب الصلاة
باب التَّيَمُّنِ فِي دُخُولِ الْمَسْجِدِ وَغَيْرِهِ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَبْدَأُ بِرِجْلِهِ الْيُمْنَى، فَإِذَا خَرَجَ بَدَأَ بِرِجْلِهِ الْيُسْرَى
426 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الأَشْعَثِ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحِبُّ التَّيَمُّنَ مَا اسْتَطَاعَ فِي شَأْنِهِ كُلِّهِ، فِي طُهُورِهِ وَتَرَجُّلِهِ وَتَنَعُّلِهِ»
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৪১৫
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৭
- নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৯। জাহিলী যুগের মুশরিকদের কবর খুঁড়ে ফেলে মসজিদ নির্মাণ করা।
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ইয়াহুদীদের উপর আল্লাহর অভিশাপ, তারা নবীগণের কবরকে মসজিদ বানিয়েছে।
আর কবরের উপর নামায আদায় করা মাকরূহ হওয়া প্রসঙ্গে।
উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ)-কে একটি কবরের কাছে নামায আদায় করতে দেখে বললেন: কবর! কবর! কিন্তু তিনি তাঁকে নামায পুনরায় আদায় করতে বলেন নি।
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ইয়াহুদীদের উপর আল্লাহর অভিশাপ, তারা নবীগণের কবরকে মসজিদ বানিয়েছে।
আর কবরের উপর নামায আদায় করা মাকরূহ হওয়া প্রসঙ্গে।
উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ)-কে একটি কবরের কাছে নামায আদায় করতে দেখে বললেন: কবর! কবর! কিন্তু তিনি তাঁকে নামায পুনরায় আদায় করতে বলেন নি।
৪১৫। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, উম্মে হাবীবা ও উম্মে সালামা (রাযিঃ) হাবশায় তাঁদের দেখা একটি গির্জার কথা বলেছিলেন, যাতে বেশ কিছু মূর্তি ছিল। তাঁরা উভয়ে বিষয়টি নবী (ﷺ) এর নিকট বর্ণনা করলেন। তিনি ইরশাদ করলেনঃ তাদের অবস্থা ছিল এমন যে, কোন সৎ লোক মারা গেলে তারা তার কবরের উপর মসজিদ বানাতো। আর তার ভিতরে ঐ লোকের মূর্তি তৈরী করে রাখতো। কিয়ামতের দিন তারাই আল্লাহর কাছে সবচাইতে নিকৃষ্ট সৃষ্টি বলে গণ্য হবে।
كتاب الصلاة
بَابُ هَلْ تُنْبَشُ قُبُورُ مُشْرِكِي الْجَاهِلِيَّةِ، وَيُتَّخَذُ مَكَانَهَا مَسَاجِدَ لِقَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ، اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ وَمَا يُكْرَهُ مِنَ الصَّلاَةِ فِي الْقُبُورِ. وَرَأَى عُمَرُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يُصَلِّي عِنْدَ قَبْرٍ فَقَالَ الْقَبْرَ الْقَبْرَ. وَلَمْ يَأْمُرْهُ بِالإِعَادَةِ
427 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ المُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ المُؤْمِنِينَ، أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ، وَأُمَّ سَلَمَةَ ذَكَرَتَا كَنِيسَةً رَأَيْنَهَا بِالحَبَشَةِ فِيهَا تَصَاوِيرُ، فَذَكَرَتَا لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «إِنَّ أُولَئِكَ إِذَا كَانَ فِيهِمُ الرَّجُلُ الصَّالِحُ فَمَاتَ، بَنَوْا عَلَى قَبْرِهِ مَسْجِدًا، وَصَوَّرُوا فِيهِ تِلْكَ الصُّوَرَ، فَأُولَئِكَ شِرَارُ الخَلْقِ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ القِيَامَةِ»
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৪১৬
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৮
- নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮৯। জাহিলী যুগের মুশরিকদের কবর খুঁড়ে ফেলে মসজিদ নির্মাণ করা।
৪১৬। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) মদীনায় পৌঁছে প্রথমে মদীনার উচ্চ এলাকায় অবস্থিত বনু আমর ইবনে আউফ’ নামক গোত্রে উপনীত হন। তাদের সঙ্গে নবী (ﷺ) চৌদ্দ দিন (অপর বর্ণনায় চব্বিশ দিন) অবস্থান করেন। তারপর তিনি বনু নাজ্জারকে ডেকে পাঠালেন। তারা কাঁধে তলোয়ার ঝুলিয়ে উপস্থিত হল। আমি যেন এখনো সে দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি যে, নবী (ﷺ) ছিলেন তার বাহনের উপর, আবু বকর (রাযিঃ) সে বাহনেই তাঁর পেছনে আর বনু নাজ্জারের দল তাঁর আশেপাশে।
অবশেষে তিনি আবু আইয়্যুব আনসারী (রাযিঃ) এর ঘরের সামনে অবতরণ করলেন। নবী (ﷺ) যেখানেই নামাযের ওয়াক্ত হয় সেখানেই নামায আদায় করতে পছন্দ করতেন এবং তিনি ছাগল-ভেড়ার খোয়াড়েও নামায আদায় করতেন। এখন তিনি মসজিদ তৈরী করার নির্দেশ দেন। তিনি বনু নাজ্জারকে ডেকে বললেনঃ হে বনু নাজ্জার! তোমরা আমার কাছ থেকে তোমাদের এই বাগিচার মূল্য নির্ধারণ কর। তারা বললোঃ না, আল্লাহর কসম, আমরা এর দাম নেব না। এর দাম আমরা একমাত্র আল্লাহর কাছেই আশা করি।
আনাস (রাযিঃ) বলেনঃ আমি তোমাদের বলছি, এখানে মুশরিকদের কবর এবং ভগ্নাবশেষ ছিল। আর ছিল খেজুরের গাছ। নবী (ﷺ) এর নির্দেশে মুশরিকদের কবর খুঁড়ে ফেলা হল। তারপর ভগ্নাবশেষ সমতল করে দেওয়া হল, খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলা হল এবং এর দুই পাশে পাথর বসানো হল। সাহাবীগণ পাথর তুলতে তুলতে ছন্দোবদ্ধ কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। আর নবী (ﷺ)-ও তাঁদের সাথে ছিলেন। তিনি তখন বলছিলেনঃ
اللَّهُمَّ لاَ خَيْرَ إِلاَّ خَيْرُ الآخِرَهْ فَاغْفِرْ لِلأَنْصَارِ وَالْمُهَاجِرَهْ
হে আল্লাহ! আখিরাতের কল্যাণ ছাড়া (প্রকৃতপক্ষে) আর কোন কল্যাণ নেই। আপনি আনসার ও মুহাজিরগণকে ক্ষমা করে দিন।
অবশেষে তিনি আবু আইয়্যুব আনসারী (রাযিঃ) এর ঘরের সামনে অবতরণ করলেন। নবী (ﷺ) যেখানেই নামাযের ওয়াক্ত হয় সেখানেই নামায আদায় করতে পছন্দ করতেন এবং তিনি ছাগল-ভেড়ার খোয়াড়েও নামায আদায় করতেন। এখন তিনি মসজিদ তৈরী করার নির্দেশ দেন। তিনি বনু নাজ্জারকে ডেকে বললেনঃ হে বনু নাজ্জার! তোমরা আমার কাছ থেকে তোমাদের এই বাগিচার মূল্য নির্ধারণ কর। তারা বললোঃ না, আল্লাহর কসম, আমরা এর দাম নেব না। এর দাম আমরা একমাত্র আল্লাহর কাছেই আশা করি।
আনাস (রাযিঃ) বলেনঃ আমি তোমাদের বলছি, এখানে মুশরিকদের কবর এবং ভগ্নাবশেষ ছিল। আর ছিল খেজুরের গাছ। নবী (ﷺ) এর নির্দেশে মুশরিকদের কবর খুঁড়ে ফেলা হল। তারপর ভগ্নাবশেষ সমতল করে দেওয়া হল, খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলা হল এবং এর দুই পাশে পাথর বসানো হল। সাহাবীগণ পাথর তুলতে তুলতে ছন্দোবদ্ধ কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। আর নবী (ﷺ)-ও তাঁদের সাথে ছিলেন। তিনি তখন বলছিলেনঃ
اللَّهُمَّ لاَ خَيْرَ إِلاَّ خَيْرُ الآخِرَهْ فَاغْفِرْ لِلأَنْصَارِ وَالْمُهَاجِرَهْ
হে আল্লাহ! আখিরাতের কল্যাণ ছাড়া (প্রকৃতপক্ষে) আর কোন কল্যাণ নেই। আপনি আনসার ও মুহাজিরগণকে ক্ষমা করে দিন।
كتاب الصلاة
بَابُ هَلْ تُنْبَشُ قُبُورُ مُشْرِكِي الْجَاهِلِيَّةِ، وَيُتَّخَذُ مَكَانَهَا مَسَاجِدَ
428 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَارِثِ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ المَدِينَةَ فَنَزَلَ أَعْلَى المَدِينَةِ فِي حَيٍّ يُقَالُ لَهُمْ بَنُو عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ، فَأَقَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهِمْ أَرْبَعَ عَشْرَةَ لَيْلَةً، ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَى بَنِي النَّجَّارِ، فَجَاءُوا مُتَقَلِّدِي السُّيُوفِ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى رَاحِلَتِهِ، وَأَبُو بَكْرٍ رِدْفُهُ وَمَلَأُ بَنِي النَّجَّارِ حَوْلَهُ حَتَّى أَلْقَى بِفِنَاءِ أَبِي أَيُّوبَ [ص:94]، وَكَانَ يُحِبُّ أَنْ يُصَلِّيَ حَيْثُ أَدْرَكَتْهُ الصَّلاَةُ، وَيُصَلِّي فِي مَرَابِضِ الغَنَمِ، وَأَنَّهُ أَمَرَ بِبِنَاءِ المَسْجِدِ، فَأَرْسَلَ إِلَى مَلَإٍ مِنْ بَنِي النَّجَّارِ فَقَالَ: «يَا بَنِي النَّجَّارِ ثَامِنُونِي بِحَائِطِكُمْ هَذَا» ، قَالُوا: لاَ وَاللَّهِ لاَ نَطْلُبُ ثَمَنَهُ إِلَّا إِلَى اللَّهِ، فَقَالَ أَنَسٌ: فَكَانَ فِيهِ مَا أَقُولُ لَكُمْ قُبُورُ المُشْرِكِينَ، وَفِيهِ خَرِبٌ وَفِيهِ نَخْلٌ، فَأَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقُبُورِ المُشْرِكِينَ، فَنُبِشَتْ، ثُمَّ بِالخَرِبِ فَسُوِّيَتْ، وَبِالنَّخْلِ فَقُطِعَ، فَصَفُّوا النَّخْلَ قِبْلَةَ المَسْجِدِ وَجَعَلُوا عِضَادَتَيْهِ الحِجَارَةَ، وَجَعَلُوا يَنْقُلُونَ الصَّخْرَ وَهُمْ يَرْتَجِزُونَ وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَهُمْ، وَهُوَ يَقُولُ: «اللَّهُمَّ لاَ خَيْرَ إِلَّا خَيْرُ الآخِرَهْ فَاغْفِرْ لِلْأَنْصَارِ وَالمُهَاجِرَهْ»
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৪১৭
আন্তর্জাতিক নং: ৪২৯
- নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৯০। ছাগল থাকার স্থানে নামায আদায় করা।
৪১৭। সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ছাগল থাকার স্থানে নামায আদায় করেছেন। রাবী বলেন, তারপর আমি আনাস (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, মসজিদ নির্মাণের আগে তিনি (নবী ﷺ) ছাগল থাকার স্থানে নামায আদায় করেছেন।
كتاب الصلاة
باب الصَّلاَةِ فِي مَرَابِضِ الْغَنَمِ
429 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِي مَرَابِضِ الغَنَمِ، ثُمَّ سَمِعْتُهُ بَعْدُ يَقُولُ: «كَانَ يُصَلِّي فِي مَرَابِضِ الغَنَمِ قَبْلَ أَنْ يُبْنَى المَسْجِدُ»
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৪১৮
আন্তর্জাতিক নং: ৪৩০
- নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৯১। উট রাখার স্থানে নামায আদায় করা।
৪১৮। সাদ্কা ইবনে ফযল (রাহঃ) ......... নাফি (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর (রাযিঃ)-কে তাঁর উটের দিকে নামায আদায় করতে দেখেছি। আর ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেছেনঃ আমি নবী (ﷺ)-কে তা করতে দেখেছি।
كتاب الصلاة
باب الصَّلاَةِ فِي مَوَاضِعِ الإِبِلِ
430 - حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ الفَضْلِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَيَّانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ: رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ «يُصَلِّي إِلَى بَعِيرِهِ» ، وَقَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفْعَلُهُ
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৪১৯
আন্তর্জাতিক নং: ৪৩১
- নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৯২। চুলা, আগুন বা এমন কোন বস্তু যার উপাসনা করা হয়, তা সামনে রেখে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিল করারই উদ্দেশ্যে নামায আদায় করা।
যুহরী (রাহঃ) বলেনঃ আমাকে আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) জানিয়েছেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমার সামনে আগুন (জাহান্নাম) পেশ করা হলো, তখন আমি নামাযে ছিলাম।
যুহরী (রাহঃ) বলেনঃ আমাকে আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) জানিয়েছেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমার সামনে আগুন (জাহান্নাম) পেশ করা হলো, তখন আমি নামাযে ছিলাম।
৪১৯। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার সূর্যগ্রহণ হল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায আদায় করলেন। তারপর বললেনঃ আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়েছে। আজকের মত ভয়াবহ দৃশ্য আমি আর কখনো দেখিনি।
كتاب الصلاة
بَابُ مَنْ صَلَّى وَقُدَّامَهُ تَنُّورٌ أَوْ نَارٌ، أَوْ شَيْءٌ مِمَّا يُعْبَدُ، فَأَرَادَ بِهِ اللَّهَ وَقَالَ الزُّهْرِيُّ، أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عُرِضَتْ عَلَيَّ النَّارُ وَأَنَا أُصَلِّي»
431 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: انْخَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ قَالَ: «أُرِيتُ النَّارَ فَلَمْ أَرَ مَنْظَرًا كَاليَوْمِ قَطُّ أَفْظَعَ»
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৪২০
আন্তর্জাতিক নং: ৪৩২
- নামাযের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৯৩। কবরস্থানে নামায আদায় করা মাকরূহ।
৪২০। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের ঘরেও কিছু নামায আদায় করবে এবং ঘরকে তোমরা কবরে পরিণত করবে না।
كتاب الصلاة
باب كَرَاهِيَةِ الصَّلاَةِ فِي الْمَقَابِرِ
432 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «اجْعَلُوا فِي بُيُوتِكُمْ مِنْ صَلاَتِكُمْ وَلاَ تَتَّخِذُوهَا قُبُورًا»