হাদীস অনুসন্ধানের ফলাফল
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৩২১
আন্তর্জাতিক নং: ৩২৭
- হায়েয-ইস্তিহাযার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২২৮। ইস্তিহাযার শিরা
৩২১। ইবরাহীম ইবনে মুনযির হিযামী (রাহঃ) .... নবী পত্নী আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) সাত বছর পর্যন্ত ইস্তিহাযাগ্রস্তা ছিলেন। তিনি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি তাঁকে গোসলের নির্দেশ দিলেন এবং বললেনঃ এ শিরা-নির্গত রক্ত। এরপর উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) প্রতি নামাযের জন্য গোসল করতেন।*
* প্রকৃতপক্ষে মুস্তাহাযার জন্য প্রতি সালাতে গোসল ওয়াজিব নয়। তবে তিনি হয়ত নিজ ধারণায় গোসল করা প্রয়োজন মনে করেছিলেন অথবা রোগের প্রকোপ কমার জন্য এরূপ করছিলেন। (উমদাতুল ক্বারী, ৩খ, পৃ. ৩১১)
* প্রকৃতপক্ষে মুস্তাহাযার জন্য প্রতি সালাতে গোসল ওয়াজিব নয়। তবে তিনি হয়ত নিজ ধারণায় গোসল করা প্রয়োজন মনে করেছিলেন অথবা রোগের প্রকোপ কমার জন্য এরূপ করছিলেন। (উমদাতুল ক্বারী, ৩খ, পৃ. ৩১১)
كتاب الحيض
باب عِرْقِ الاِسْتِحَاضَةِ
327 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ المُنْذِرِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَعْنٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، وَعَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ اسْتُحِيضَتْ سَبْعَ سِنِينَ، فَسَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ، فَأَمَرَهَا أَنْ تَغْتَسِلَ، فَقَالَ: «هَذَا عِرْقٌ» فَكَانَتْ تَغْتَسِلُ لِكُلِّ صَلاَةٍ
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৩২২
আন্তর্জাতিক নং: ৩২৮
- হায়েয-ইস্তিহাযার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২২৯। তাওয়াফে যিয়ারতের পর স্ত্রীলোকের হায়য শুরু হওয়া।
৩২২। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ..... নবী (ﷺ) এর পত্নী আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! সাফিয়্যা বিনতে হুয়াইয়ের হায়য শুরু হয়েছে। তিনি বললেনঃ সে তো আমাদেরকে আটকিয়ে রাখবে। সে কি তোমাদের সঙ্গে তাওয়াফে-যিয়ারত করেনি? তাঁর জবাব দিলেন, হ্যাঁ করেছেন। তিনি বললেনঃ তা হলে বের হও।
كتاب الحيض
باب الْمَرْأَةِ تَحِيضُ بَعْدَ الإِفَاضَةِ
328 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهَا قَالَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ صَفِيَّةَ بِنْتَ حُيَيٍّ قَدْ حَاضَتْ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَعَلَّهَا تَحْبِسُنَا أَلَمْ تَكُنْ طَافَتْ مَعَكُنَّ» ، فَقَالُوا: بَلَى، قَالَ: «فَاخْرُجِي»
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৩২৩
আন্তর্জাতিক নং: ৩২৯ - ৩৩০
- হায়েয-ইস্তিহাযার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২২৯। তাওয়াফে যিয়ারতের পর স্ত্রীলোকের হায়য শুরু হওয়া।
৩২৩। মুআল্লা ইবনে আসাদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ (তাওয়াফে যিয়ারতের পর) মহিলার হায়য হলে তার চলে যাওয়ার অনুমতি রয়েছে। এর আগে ইবনে উমর (রাযিঃ) বলতেনঃ সে যেতে পারবে না। তারপর তাঁকে বলতে শুনেছি যে, সে যেতে পারে। কারণ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের জন্য (যাওয়ার) অনুমতি দিয়েছিলেন।
كتاب الحيض
باب الْمَرْأَةِ تَحِيضُ بَعْدَ الإِفَاضَةِ
حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ رُخِّصَ لِلْحَائِضِ أَنْ تَنْفِرَ، إِذَا حَاضَتْ. وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَقُولُ فِي أَوَّلِ أَمْرِهِ إِنَّهَا لاَ تَنْفِرُ. ثُمَّ سَمِعْتُهُ يَقُولُ تَنْفِرُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَخَّصَ لَهُنَّ.
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৩২৪
আন্তর্জাতিক নং: ৩৩১
- হায়েয-ইস্তিহাযার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩০। ইসতিহাযাগ্রস্তা নারীর পবিত্রতা দেখা।
ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ মুস্তাহাযা দিনের কিছু সময়ের জন্য হলেও পবিত্রতা দেখলে গোসল করবে ও নামায আদায় করবে। আর নামায আদায় করার পর তাঁর স্বামী তাঁর সাথে মিলতে পারে। কারণ, নামাযের গুরুত্ব অত্যধিক।
ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ মুস্তাহাযা দিনের কিছু সময়ের জন্য হলেও পবিত্রতা দেখলে গোসল করবে ও নামায আদায় করবে। আর নামায আদায় করার পর তাঁর স্বামী তাঁর সাথে মিলতে পারে। কারণ, নামাযের গুরুত্ব অত্যধিক।
৩২৪। আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হায়য দেখা দিলে নামায ছেড়ে দাও আর হায়যের সময় শেষ হয়ে গেলে রক্ত ধুয়ে নাও এবং নামায আদায় কর।
كتاب الحيض
باب إِذَا رَأَتِ الْمُسْتَحَاضَةُ الطُّهْرَ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ تَغْتَسِلُ وَتُصَلِّي وَلَوْ سَاعَةً، وَيَأْتِيهَا زَوْجُهَا إِذَا صَلَّتْ، الصَّلاَةُ أَعْظَمُ
331 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، عَنْ زُهَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا أَقْبَلَتِ الحَيْضَةُ، فَدَعِي الصَّلاَةَ، وَإِذَا أَدْبَرَتْ، فَاغْسِلِي عَنْكِ الدَّمَ وَصَلِّي»
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৩২৫
আন্তর্জাতিক নং: ৩৩২
- হায়েয-ইস্তিহাযার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩১। নিফাস অবস্থায় মৃত স্ত্রীলোকের জানাযার নামায ও তাঁর পদ্ধতি
৩২৫। আহমদ ইবনে সুরায়জ (রাহঃ) .... সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একজন প্রসূতি মহিলা মারা গেলে নবী (ﷺ) তাঁর জানাযা পড়লেন। নামাযে তিনি মহিলার দেহের মাঝ বরাবর দাঁড়িয়েছিলেন।
كتاب الحيض
باب الصَّلاَةِ عَلَى النُّفَسَاءِ وَسُنَّتِهَا
332 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي سُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شَبَابَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ حُسَيْنٍ المُعَلِّمِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ: «أَنَّ امْرَأَةً مَاتَتْ فِي بَطْنٍ، فَصَلَّى عَلَيْهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَامَ وَسَطَهَا»
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৩২৬
আন্তর্জাতিক নং: ৩৩৩
- হায়েয-ইস্তিহাযার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩২। শিরোনামবিহীন পরিচ্ছেদ।
৩২৬। হাসান ইবনে মুদরিক (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আমার খালা নবী (ﷺ)-এর পত্নী মায়মুনা (রাযিঃ) থেকে শুনেছি যে, তিনি হায়য অবস্থায় নামায আদায় করতেন না; তখন তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সিজদার জায়গায় সোজাসুজি শুয়ে থাকতেন। নবী (ﷺ) তাঁর চাটাইয়ে নামায আদায় করতেন। সিজদা করার সময় তাঁর কাপড়ের অংশ আমার (মায়মুনার) গায়ে লাগতো।
كتاب الحيض
باب
333 - حَدَّثَنَا الحَسَنُ بْنُ مُدْرِكٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ اسْمُهُ الوَضَّاحُ، مِنْ كِتَابِهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ الشَّيْبَانِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ، قَالَ: سَمِعْتُ خَالَتِي مَيْمُونَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَنَّهَا كَانَتْ تَكُونُ حَائِضًا، لاَ تُصَلِّي وَهِيَ مُفْتَرِشَةٌ بِحِذَاءِ مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «وَهُوَ يُصَلِّي عَلَى خُمْرَتِهِ إِذَا سَجَدَ أَصَابَنِي بَعْضُ ثَوْبِهِ»
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৩২৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩৩৪
- তায়াম্মুমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩৩। তায়াম্মুমের অধ্যায়।
আল্লাহ তাআলার বাণীঃ {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا، فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ} [المائدة: 6]
এবং তোমরা পানি না পেলে পাক মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে এবং তা তোমরা তোমাদের মুখ ও হাতে বুলাবে (৫ঃ৬)।
আল্লাহ তাআলার বাণীঃ {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا، فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ} [المائدة: 6]
এবং তোমরা পানি না পেলে পাক মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে এবং তা তোমরা তোমাদের মুখ ও হাতে বুলাবে (৫ঃ৬)।
৩২৭। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ..... নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে কোন এক সফরে বেরিয়েছিলাম। যখন আমরা ‘বায়যা’ অথবা ‘যাতুল জায়শ’ নামক স্থানে পৌছলাম তখন আমার একখানা হার হারিয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে হারের খোঁজে থেমে গেলেন আর লোকেরাও তাঁর সঙ্গে থেমে গেলেন, অথচ তাঁরা পানির নিকটে ছিলেন না। তখন লোকেরা আবু বকর (রাযিঃ) এর কাছে এসে বললেনঃ আয়িশা কি করেছে আপনি কি দেখেন নি? তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও লোকদের আটকিয়ে ফেলেছেন, অথচ তাঁরা পানির নিকটে নেই এবং তাঁদের সাথেও পানি নেই।
আবু বকর (রাযিঃ) আমার নিকট আসলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার উরুর উপরে মাথা রেখে ঘুমিয়েছিলেন। আবু বকর (রাযিঃ) বললেনঃ তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর লোকদের আটকিয়ে ফেলেছ! অথচ আশেপাশে কোথাও পানি নেই। আয়িশা (রাযিঃ) বললেন, আবু বকর (রাযিঃ) আমাকে খুব তিরস্কার করলেন আর আল্লাহর ইচ্ছা, তিনি যা খুশি তাই বললেন। তিনি আমার কোমরে আঘাত দিতে লাগলেন। আমার উরুর উপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাথা থাকায় আমি নড়তে পারছিলাম না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভোরে উঠলেন, কিন্তু পানি ছিল না। তখন আল্লাহ তাআলা তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করলেন। তারপর সবাই তায়াম্মুম করে নিলেন।
উসায়দ ইবনে হুযায়র (রাযিঃ) বলেছেনঃ হে আবু বকরের পরিবারবর্গ! এটাই আপনাদের প্রথম বরকত নয়। আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ তারপর আমি যে উটে ছিলাম তাকে দাঁড় করালে দেখি আমার হারখানা তার নীচে পড়ে আছে।
আবু বকর (রাযিঃ) আমার নিকট আসলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার উরুর উপরে মাথা রেখে ঘুমিয়েছিলেন। আবু বকর (রাযিঃ) বললেনঃ তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর লোকদের আটকিয়ে ফেলেছ! অথচ আশেপাশে কোথাও পানি নেই। আয়িশা (রাযিঃ) বললেন, আবু বকর (রাযিঃ) আমাকে খুব তিরস্কার করলেন আর আল্লাহর ইচ্ছা, তিনি যা খুশি তাই বললেন। তিনি আমার কোমরে আঘাত দিতে লাগলেন। আমার উরুর উপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাথা থাকায় আমি নড়তে পারছিলাম না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভোরে উঠলেন, কিন্তু পানি ছিল না। তখন আল্লাহ তাআলা তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করলেন। তারপর সবাই তায়াম্মুম করে নিলেন।
উসায়দ ইবনে হুযায়র (রাযিঃ) বলেছেনঃ হে আবু বকরের পরিবারবর্গ! এটাই আপনাদের প্রথম বরকত নয়। আয়িশা (রাযিঃ) বলেনঃ তারপর আমি যে উটে ছিলাম তাকে দাঁড় করালে দেখি আমার হারখানা তার নীচে পড়ে আছে।
كتاب التيمم
كِتَابُ التَّيَمُّمِ وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا، فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ} [المائدة: 6]
334 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ القَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَتْ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ، حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْبَيْدَاءِ أَوْ بِذَاتِ الجَيْشِ انْقَطَعَ عِقْدٌ لِي، فَأَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى التِمَاسِهِ، وَأَقَامَ النَّاسُ مَعَهُ وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ، فَأَتَى النَّاسُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، فَقَالُوا: أَلاَ تَرَى مَا صَنَعَتْ عَائِشَةُ؟ أَقَامَتْ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسِ وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ، وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ، فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاضِعٌ رَأْسَهُ عَلَى فَخِذِي قَدْ نَامَ، فَقَالَ: حَبَسْتِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالنَّاسَ، وَلَيْسُوا عَلَى مَاءٍ، وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ: فَعَاتَبَنِي أَبُو بَكْرٍ، وَقَالَ: مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ وَجَعَلَ يَطْعُنُنِي بِيَدِهِ فِي خَاصِرَتِي، فَلاَ يَمْنَعُنِي مِنَ التَّحَرُّكِ إِلَّا مَكَانُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى فَخِذِي، «فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ أَصْبَحَ عَلَى غَيْرِ مَاءٍ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ آيَةَ التَّيَمُّمِ فَتَيَمَّمُوا» ، فَقَالَ أُسَيْدُ بْنُ الحُضَيْرِ: مَا هِيَ بِأَوَّلِ بَرَكَتِكُمْ يَا آلَ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ: فَبَعَثْنَا البَعِيرَ الَّذِي كُنْتُ عَلَيْهِ، فَأَصَبْنَا العِقْدَ تَحْتَهُ
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৩২৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩৩৫
- তায়াম্মুমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩৩। তায়াম্মুমের অধ্যায়।
৩২৮। মুহাম্মাদ ইবনে সিনান ও সাঈদ ইবনে নযর (রাহঃ) .... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেনঃ আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে কাউকেও দেওয়া হয়নি। (১) আমাকে এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে যে, একমাস দূরত্বেও তা প্রতিফলিত হয়; (২) সমস্ত যমীন আমার জন্য পবিত্র ও নামায আদায়ের উপযোগী করা হয়েছে। কাজেই আমার উম্মতের যে কোন লোক ওয়াক্ত হলেই নামায আদায় করতে পারবে; (৩) আমার জন্য গনিমতের মাল হালাল করে দেওয়া হয়েছে, যা আমার আগে আর কারো জন্য হালাল করা হয়নি; (৪) আমাকে (ব্যাপক) শাফাআতের অধিকার দেওয়া হয়েছে; (৫) সমস্ত নবী প্রেরিত হতেন কেবল তাদের সম্প্রদায়ের জন্য, আর আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে সমগ্র মানব জাতির জন্য।
كتاب التيمم
كِتَابُ التَّيَمُّمِ وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا، فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ مِنْهُ} [المائدة: 6]
335 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنَانٍ هُوَ العَوَقِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ: ح وَحَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ النَّضْرِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا سَيَّارٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ هُوَ ابْنُ صُهَيْبٍ الفَقِيرُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " أُعْطِيتُ خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ أَحَدٌ قَبْلِي: نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ مَسِيرَةَ شَهْرٍ، وَجُعِلَتْ لِي الأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا، فَأَيُّمَا رَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي أَدْرَكَتْهُ الصَّلاَةُ فَلْيُصَلِّ، وَأُحِلَّتْ لِي المَغَانِمُ وَلَمْ تَحِلَّ لِأَحَدٍ قَبْلِي، وَأُعْطِيتُ الشَّفَاعَةَ، وَكَانَ النَّبِيُّ يُبْعَثُ إِلَى قَوْمِهِ خَاصَّةً وَبُعِثْتُ إِلَى النَّاسِ عَامَّةً "
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৩২৯
আন্তর্জাতিক নং: ৩৩৬
- তায়াম্মুমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩৪। পানি ও মাটি পাওয়া না গেলে
৩২৯। যাকারিয়্যা ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি এক সময়ে (তাঁর বোন) আসমা (রাযিঃ)-এর হার ধার করে নিয়ে গিয়েছিলেন। (পথিমধ্যে) হারখানা হারিয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেটির খোঁজে লোক পাঠালেন। তিনি এমন সময় হারটি পেলেন, যখন তাদের নামাযের ওয়াক্ত হয়ে গিয়েছিল অথচ তাদের কাছে পানি ছিল না। তাঁরা নামায আদায় করলেন। তারপর বিষয়টি তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে বর্ণনা করেন। তখন আল্লাহ তাআলা তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করেন। সেজন্য উসায়দ ইবনে হুযায়র (রাযিঃ) আয়িশা (রাযিঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেনঃ আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আল্লাহর কসম! আপনি যে কোন অপছন্দনীয় পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন, তাতেই আল্লাহ তাআলা আপনার ও সমস্ত মুসলমানের জন্যে কল্যাণ রেখেছেন।
كتاب التيمم
باب إِذَا لَمْ يَجِدْ مَاءً وَلاَ تُرَابًا
336 - حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا اسْتَعَارَتْ مِنْ أَسْمَاءَ قِلاَدَةً فَهَلَكَتْ، فَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلًا فَوَجَدَهَا، «فَأَدْرَكَتْهُمُ الصَّلاَةُ وَلَيْسَ مَعَهُمْ مَاءٌ، فَصَلَّوْا، فَشَكَوْا ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ آيَةَ التَّيَمُّمِ» فَقَالَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ لِعَائِشَةَ: جَزَاكِ اللَّهُ خَيْرًا، فَوَاللَّهِ مَا نَزَلَ بِكِ أَمْرٌ تَكْرَهِينَهُ، إِلَّا جَعَلَ اللَّهُ ذَلِكِ لَكِ وَلِلْمُسْلِمِينَ فِيهِ خَيْرًا
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৩৩০
আন্তর্জাতিক নং: ৩৩৭
- তায়াম্মুমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩৫। মুকীম অবস্থায় পানি না পেলে এবং নামায ছুটে যাওয়ার ভয় থাকলে তায়াম্মুম করা।
আতা (রাহঃ)-এর অভিমতও তাই। হাসান বসরী (রাহঃ) বলেনঃ যে রোগীর কাছে পানি আছে কিন্তু তাঁর কাছে তা পৌছানোর কোন লোক না থাকে, তবে সে তায়াম্মুম করবে।
ইবনে উমর (রাযিঃ) জুরুফ নামক স্থানের জমি থেকে ফেরার সময় ‘মারবাদুন্না’আম’-এ পৌঁছলে আসরের সময় হয়ে যায়। তখন তিনি (তায়াম্মুম) করে নামায আদায় করলেন। পরে তিনি মদীনা পৌছলেন। তখনো সূর্য উপরে ছিল। কিন্তু তিনি নামায পুনরায় আদায় করলেন না।
আতা (রাহঃ)-এর অভিমতও তাই। হাসান বসরী (রাহঃ) বলেনঃ যে রোগীর কাছে পানি আছে কিন্তু তাঁর কাছে তা পৌছানোর কোন লোক না থাকে, তবে সে তায়াম্মুম করবে।
ইবনে উমর (রাযিঃ) জুরুফ নামক স্থানের জমি থেকে ফেরার সময় ‘মারবাদুন্না’আম’-এ পৌঁছলে আসরের সময় হয়ে যায়। তখন তিনি (তায়াম্মুম) করে নামায আদায় করলেন। পরে তিনি মদীনা পৌছলেন। তখনো সূর্য উপরে ছিল। কিন্তু তিনি নামায পুনরায় আদায় করলেন না।
৩৩০। ইয়াহয়া ইবনে বুকায়র (রাহঃ) ..... আবু জুহাইম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) (মদীনার নিকটস্থ) ‘বি’রে জামাল’ থেকে আসছিলেন। পথিমধ্যে তাঁর সাথে এক ব্যক্তির দেখা হল। লোকটি তাঁকে সালাম দিলেন। নবী (ﷺ) জওয়াব না দিয়ে দেওয়ালের কাছে অগ্রসর হয়ে তাতে (হাত মেরে) নিজ চেহারা ও হস্তদ্বয় মাসাহ করে নিলেন, তারপর সালামের জওয়াব দিলেন।
كتاب التيمم
باب التَّيَمُّمِ فِي الْحَضَرِ، إِذَا لَمْ يَجِدِ الْمَاءَ، وَخَافَ فَوْتَ الصَّلاَةِ وَبِهِ قَالَ عَطَاءٌ. وَقَالَ الْحَسَنُ فِي الْمَرِيضِ عِنْدَهُ الْمَاءُ وَلاَ يَجِدُ مَنْ يُنَاوِلُهُ يَتَيَمَّمُ. وَأَقْبَلَ ابْنُ عُمَرَ مِنْ أَرْضِهِ بِالْجُرُفِ، فَحَضَرَتِ الْعَصْرُ بِمَرْبَدِ النَّعَمِ فَصَلَّى، ثُمَّ دَخَلَ الْمَدِينَةَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ فَلَمْ يُعِدْ
337 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنِ الأَعْرَجِ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَيْرًا مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: أَقْبَلْتُ أَنَا وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَسَارٍ، مَوْلَى مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى أَبِي جُهَيْمِ بْنِ الحَارِثِ بْنِ الصِّمَّةِ الأَنْصَارِيِّ، فَقَالَ أَبُو الجُهَيْمِ الأَنْصَارِيُّ «أَقْبَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ نَحْوِ بِئْرِ جَمَلٍ فَلَقِيَهُ رَجُلٌ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى أَقْبَلَ عَلَى الجِدَارِ، فَمَسَحَ بِوَجْهِهِ وَيَدَيْهِ، ثُمَّ رَدَّ عَلَيْهِ السَّلاَمَ»
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৩৩১
আন্তর্জাতিক নং: ৩৩৮
- তায়াম্মুমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩৬। তায়াম্মুমের জন্য মাটিতে হাত মারার পর হস্তদ্বয়ে ফুঁ দেওয়া।
৩৩১। আদম (রাহঃ) ..... সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবযা তাঁর পিতা [আব্দুর রহমান (রাযিঃ)] থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-এর নিকট এসে জানতে চাইলঃ একবার আমার গোসলের প্রয়োজন হল অথচ আমি পানি পেলাম না। তখন আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাযিঃ) উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-কে বললেনঃ আপনার কি সেই ঘটনা স্মরণ আছে যে, এক সময় আমরা দু’জন সফরে ছিলাম এবং দু’জনেরই গোসলের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল। আপনি তো নামায আদায় করলেন না। আর আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে নামায আদায় করলাম। তারপর আমি ঘটনাটি নবী (ﷺ) এর কাছে বর্ণনা করলাম। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমার জন্য তো এটুকুই যথেষ্ট ছিল। এ বলে নবী (ﷺ) দু’হাত মাটিতে মারলেন এবং দু’হাতে ফুঁ দিয়ে তাঁর চেহারা ও উভয় হাত মাসাহ করলেন।
كتاب التيمم
باب الصَّعِيدُ لِلتَّيَمُّمِ هَل ينْفخ فِي يَدَيْهِ بعد مَا يَضْرِبُ بِهِمَا (و في النسخ الأخرى: بَابٌ المُتَيَمِّمُ هَلْ يَنْفُخُ فِيهِمَا؟)
338 - حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا الحَكَمُ، عَنْ ذَرٍّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ، فَقَالَ: إِنِّي أَجْنَبْتُ فَلَمْ أُصِبِ المَاءَ، فَقَالَ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ لِعُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ: أَمَا تَذْكُرُ أَنَّا كُنَّا فِي سَفَرٍ أَنَا وَأَنْتَ، فَأَمَّا أَنْتَ فَلَمْ تُصَلِّ، وَأَمَّا أَنَا فَتَمَعَّكْتُ فَصَلَّيْتُ، فَذَكَرْتُ لِلنَّبِيِّ صلّى الله عليه وسلم، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ هَكَذَا» فَضَرَبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكَفَّيْهِ الأَرْضَ، وَنَفَخَ فِيهِمَا، ثُمَّ مَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৩৩২
আন্তর্জাতিক নং: ৩৩৯
- তায়াম্মুমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩৭। মুখমণ্ডলে ও হস্তদ্বয়ে তায়াম্মুম করা
৩৩২। হাজ্জাজ (রাহঃ) .... আব্দুর রহমান ইবনে আবযা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আম্মার (রাযিঃ)-ও এ কথা (যা পূর্বের হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে তা) বর্ণনা করেছেন। শু’বা (রাহঃ) নিজের হস্তদ্বয় মাটিতে মেরে মুখের কাছে নিলেন (ফুঁ দিলেন)। তারপর নিজের চেহারা ও হস্তদ্বয় মাসাহ করলেন।
নযর (রাহঃ) শু’বা (রাহঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন।
নযর (রাহঃ) শু’বা (রাহঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন।
كتاب التيمم
باب التَّيَمُّمُ لِلْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ
339 - حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي الحَكَمُ، عَنْ ذَرٍّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ عَمَّارٌ: «بِهَذَا وَضَرَبَ - شُعْبَةُ - بِيَدَيْهِ الأَرْضَ، ثُمَّ أَدْنَاهُمَا مِنْ فِيهِ، ثُمَّ مَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ» وَقَالَ النَّضْرُ: أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الحَكَمِ، قَالَ: سَمِعْتُ ذَرًّا، يَقُولُ: عَنْ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، قَالَ الحَكَمُ: وَقَدْ سَمِعْتُهُ مِنْ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ عَمَّارٌ
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৩৩৩
আন্তর্জাতিক নং: ৩৪০
- তায়াম্মুমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩৭। মুখমণ্ডলে ও হস্তদ্বয়ে তায়াম্মুম করা
৩৩৩। সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) .... সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবযা (রাহঃ) তাঁর পিতা থকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (আব্দুর রহমান) উমর (রাযিঃ) এর কাছে উপস্থিত ছিলেন, আর আম্মার (রাযিঃ) তাঁকে বলেছিলেনঃ আমরা এক অভিযানে গিয়েছিলাম, আমরা উভয়ই জুনুবী হয়ে পড়লাম।
উক্ত রেওয়ায়েতে হাত দু’টোতে ‘نَفَخَ فِيهِمَا’ এর স্থলে ‘تَفَلَ فِيهِمَا’ বলেছেন। উভয়েই সমার্থক।
উক্ত রেওয়ায়েতে হাত দু’টোতে ‘نَفَخَ فِيهِمَا’ এর স্থলে ‘تَفَلَ فِيهِمَا’ বলেছেন। উভয়েই সমার্থক।
كتاب التيمم
باب التَّيَمُّمُ لِلْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ
340 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الحَكَمِ، عَنْ ذَرٍّ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ شَهِدَ عُمَرَ وَقَالَ لَهُ عَمَّارٌ: «كُنَّا فِي سَرِيَّةٍ، فَأَجْنَبْنَا» ، وَقَالَ: «تَفَلَ فِيهِمَا»
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৩৩৪
আন্তর্জাতিক নং: ৩৪১
- তায়াম্মুমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩৭। মুখমণ্ডলে ও হস্তদ্বয়ে তায়াম্মুম করা
৩৩৪। মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আম্মার (রাযিঃ) উমর (রাযিঃ) কে বলেছিলেনঃ (আমি তায়াম্মুমের উদ্দেশ্যে) মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। পরে নবী (ﷺ) এর কাছে গেলাম। তখন তিনি বলেছিলেনঃ চেহারা ও হাত দু’টো মাসাহ করাই তোমার জন্য যথেষ্ট।
كتاب التيمم
باب التَّيَمُّمُ لِلْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ
341 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الحَكَمِ، عَنْ ذَرٍّ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، قَالَ: قَالَ عَمَّارٌ لِعُمَرَ: تَمَعَّكْتُ، فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «يَكْفِيكَ الوَجْهَ وَالكَفَّيْنِ»
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৩৩৫
আন্তর্জাতিক নং: ৩৪২
- তায়াম্মুমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩৭। মুখমণ্ডলে ও হস্তদ্বয়ে তায়াম্মুম করা
৩৩৫। মুসলিম (ইবনে ইবরাহীম) (রাহঃ) ......... আব্দুর রহমান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর (রাযিঃ)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম, আম্মার (রাযিঃ) তাঁকে বললেন, এর পর রাবী পূর্বের হাদীসটি বর্ণনা করেন।
كتاب التيمم
باب التَّيَمُّمُ لِلْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ
342 - حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الحَكَمِ، عَنْ ذَرٍّ، عَنْ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، قَالَ: شَهِدْتُ عُمَرَ، فَقَالَ لَهُ عَمَّارٌ، وَسَاقَ الحَدِيثَ
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৩৩৬
আন্তর্জাতিক নং: ৩৪৩
- তায়াম্মুমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩৭। মুখমণ্ডলে ও হস্তদ্বয়ে তায়াম্মুম করা
৩৩৬। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবযা তাঁর পিতা (আব্দুর রহমান) থেকে বর্ণনা করেন যে, আম্মার (রাযিঃ) বলেছেনঃ রাসূল (ﷺ) মাটিতে হাত মারলেন এবং তাঁর চেহারা ও হস্তদ্বয় মাসাহ করলেন।
كتاب التيمم
باب التَّيَمُّمُ لِلْوَجْهِ وَالْكَفَّيْنِ
343 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الحَكَمِ، عَنْ ذَرٍّ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ عَمَّارٌ: «فَضَرَبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ الأَرْضَ، فَمَسَحَ وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ»
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৩৩৭
আন্তর্জাতিক নং: ৩৪৪
- তায়াম্মুমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩৮। পাক মাটি মুসলিমদের উযুর পানির স্থলবর্তী। পবিত্রতার জন্য পানির পরিবর্তে এটাই যথেষ্ট।
হাসান (রাহঃ) বলেনঃ হাদস না হওয়া পর্যন্ত তাঁর জন্য তায়াম্মুমই যথেষ্ট।
ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) তায়াম্মুম করে ইমামতি করেছেন।
ইয়াহয়া ইবনে সা’ঈদ (রাহঃ) বলেনঃ লোনা ভূমিতে নামায আদায় করা বা তাতে তায়াম্মুম করায় কোন বাধা নেই।
হাসান (রাহঃ) বলেনঃ হাদস না হওয়া পর্যন্ত তাঁর জন্য তায়াম্মুমই যথেষ্ট।
ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) তায়াম্মুম করে ইমামতি করেছেন।
ইয়াহয়া ইবনে সা’ঈদ (রাহঃ) বলেনঃ লোনা ভূমিতে নামায আদায় করা বা তাতে তায়াম্মুম করায় কোন বাধা নেই।
৩৩৭। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... ইমরান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। আমরা রাতে চলতে চলতে শেষরাতে এক স্থনে ঘুমিয়ে পড়লাম। মুসাফিরের জন্য এর চাইতে মধুর ঘুম আর হতে পারে না। (আমরা এমন ঘোর নিদ্রায় নিমগ্ন ছিলাম যে,) সূর্যের তাপ ছাড়া অন্য কিছু আমাদের জাগাতে পারেনি। সর্বপ্রথম জাগলেন অমুক, তারপর অমুক, তারপর অমুক। (রাবী) আবু রাজা’ (রাহঃ) তাঁদের সবারই নাম নিয়েছিলেন কিন্তু আওফ (রাহঃ) তাঁদের নাম মনে রাখতে পারেন নি। চতুর্থবারে জেগে ওঠা ব্যক্তি ছিলেন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)। নবী (ﷺ) ঘুমালে আমরা কেউ তাঁকে জাগাতাম না, যতক্ষণ না তিনি নিজেই জেগে উঠতেন। কারণ নিদ্রাবস্থায় তাঁর উপর কি অবতীর্ণ হচ্ছে তা তো আমাদের জানা নেই।
উমর (রাযিঃ) জেগে যখন মানুষের অবস্থা দেখলেন, আর তিনি ছিলেন দৃঢ়চিত্ত ব্যক্তি—উচ্চস্বরে তাকবীর বলতে শুরু করলেন। তিনি ক্রমাগত উচ্চস্বরে তাকবীর বলতে থাকলেন। এমন কি তাঁর শব্দে নবী (ﷺ) জেগে উঠলেন। তখন লোকেরা তাঁর কাছে ওযর পেশ করলো। তিনি বললেনঃ কোন ক্ষতি নেই বা বললেনঃ কোন ক্ষতি হবে না। এখান থেকে চল। তিনি চলতে লাগলেন। কিছু দূর গিয়ে থামলেন। উযুর পানি আনালেন এবং উযু করলেন। নামাযের আযান দেওয়া হল। তিনি লোকদের নিয়ে নামায আদায় করলেন। নামায শেষ করে দেখলেন, এক ব্যক্তি পৃথক দাড়িয়ে আছেন। তিনি লোকদের সাথে নামায আদায় করেন নি। নবী (ﷺ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে অমুক! তোমাকে লোকদের সাথে নামায আদায় করতে কিসে বাধা দিল? তিনি বললেনঃ আমার উপর গোসল ফরয হয়েছে। অথচ পানি নেই। তিনি বললেনঃ পবিত্র মাটি নাও (তায়াম্মুম কর), এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট।
নবী (ﷺ) পুনরায় সফর শুরু করলেন। লোকেরা তাঁকে পিপাসার কষ্ট জানালো। তিনি অবতরণ করলেন, তারপর অমুক ব্যক্তিকে ডাকলেন। (রাবী) আবু রাজা’ (রাহঃ) তাঁর নাম উল্লেখ করেছিলেন কিন্তু আওফ (রাহঃ) তা ভুলে গিয়েছেন। তিনি আলী (রাযিঃ)-কেও ডাকলেন। তারপর উভয়কেই পানি খুঁজে আনতে বললেন। তাঁরা পানির খোঁজে বের হলেন। তাঁরা পথে এক মহিলাকে দুই মশক পানি উটের উপর করে নিতে দেখলেন। তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেনঃ পানি কোথায়? সে বললোঃ গতকাল এ সময়ে আমি পানির নিকটে ছিলাম। আমার গোত্র পেছনে রয়ে গেছে। তাঁরা বললেনঃ এখন আমাদের সঙ্গে চলো। সে বললোঃ কোথায়? তাঁরা বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট। সে বললঃ সেই লোকটির কাছে যাকে সাবি’ (ধর্ম পরিবর্তনকারী) বলা হয়? তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ, তোমরা যাকে এই বলে থাক। আচ্ছা, এখন চল। তাঁরা তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এলেন এবং সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন।
ইমরান (রাযিঃ) বলেনঃ লোকেরা স্ত্রীলোকটিকে তাঁর উট থেকে নামালেন। তারপর নবী (ﷺ) একটি পাত্র আনতে বললেন এবং উভয় মশকের মুখ খুলে তাতে পানি ঢাললেন এবং সেগুলোর মুখ বন্ধ করে দিলেন। তারপর সে মশকের নীচের মুখ খুলে দিয়ে লোকদের মধ্যে পানি পান করার ও জন্তু-জানোয়ারকে পানি পান করানোর ঘোষণা দিলেন। তাঁদের মধ্যে যার ইচ্ছা পানি পান করলেন ও জন্তুকে পান করালেন। অবশেষে যে ব্যক্তির গোসলের দরকার ছিল, তাকেও এক পাত্র পানি দিয়ে নবী (ﷺ) বললেনঃ এ পানি নিয়ে যাও এবং গোসল সার। ঐ মহিলা দাড়িয়ে দেখছিল যে তাঁর পানি নিয়ে কী করা হচ্ছে। আল্লাহর কসম! যখন তাঁর থেকে পানি নেয়া শেষ হল তখন আমাদের মনে হল, মশকগুলো পূর্বাপেক্ষা অধিক ভর্তি।
তারপর নবী (ﷺ) বললেনঃ মহিলার জন্য কিছু একত্র কর। লোকেরা মহিলার জন্য আজওয়া (বিশেষ খেজুর), আটা ও ছাতু এনে একত্র করলেন। যখন তাঁরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী জমা করলেন, তখন তা একটা কাপড়ে বেধে মহিলাকে উটের উপর সওয়ার করালেন এবং তাঁর সামনে কাপড়ে বাঁধা গাঁঠরিটি রেখে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি জান যে, আমরা তোমার পানি মোটেই কম করিনি; বরং আল্লাহ তা’আলাই আমাদের পানি পান করিয়েছেন।
এরপর সে তাঁর পরিজনের কাছে ফিরে গেল। তাঁর বেশ দেরি হয়েছিল। পরিবারের লোকজন তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, হে অমুক! তোমার এত দেরি হল কেন? উত্তরে সে বললো, একটা আশ্চার্যজনক ঘটনা! দু’জন লোকের সাথে আমার দেখা হয়েছিল। তাঁরা আমাকে সেই লোকটির কাছে নিয়ে গিয়েছিল, যকে সাবি’ বলা হয়। আর সেখানে সে এসব করল। এ বলে সে মধ্যমা ও তর্জনী আঙ্গুল দিয়ে আসমান ও যমীনের দিকে ইশারা করে বলল, আল্লাহর কসম! সে এ দু’টির মধ্যে সবচাইতে বড় জাদুকর, নয় তো সে বাস্তবিকই আল্লাহর রাসূল। এ ঘটনার পর মুসলিমরা ওই মহিলার গোত্রের আশপাশের মুশরিকদের উপর হামলা করতেন কিন্তু মহিলার সাথে সম্পর্কযুক্ত গোত্রের কোন ক্ষতি করতেন না। একদিন মহিলা নিজের গোত্রকে বললঃ আমার মনে হয় তারা ইচ্ছা করে তোমাদের নিষ্কৃতি দিচ্ছে। এ সব দেখে কি তোমরা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হবে না? তাঁরা সবাই মহিলাটির কথা মেনে নিল এবং ইসলাম দাখিল হয়ে গেল।
আবু আব্দুল্লাহ (রাহঃ) বলেনঃ صَبَأَ শব্দের অর্থ নিজের দ্বীন ছেড়ে অন্যের দ্বীন গ্রহণ করা। আবুল আলিয়া (রাহঃ) বলেনঃ صابئين হচ্ছে আহলে কিতাবের একটা দল, যারা যবূর কিতাব পড়ে থাকে। أصب শব্দের অর্থ ঝুকে পড়া।
উমর (রাযিঃ) জেগে যখন মানুষের অবস্থা দেখলেন, আর তিনি ছিলেন দৃঢ়চিত্ত ব্যক্তি—উচ্চস্বরে তাকবীর বলতে শুরু করলেন। তিনি ক্রমাগত উচ্চস্বরে তাকবীর বলতে থাকলেন। এমন কি তাঁর শব্দে নবী (ﷺ) জেগে উঠলেন। তখন লোকেরা তাঁর কাছে ওযর পেশ করলো। তিনি বললেনঃ কোন ক্ষতি নেই বা বললেনঃ কোন ক্ষতি হবে না। এখান থেকে চল। তিনি চলতে লাগলেন। কিছু দূর গিয়ে থামলেন। উযুর পানি আনালেন এবং উযু করলেন। নামাযের আযান দেওয়া হল। তিনি লোকদের নিয়ে নামায আদায় করলেন। নামায শেষ করে দেখলেন, এক ব্যক্তি পৃথক দাড়িয়ে আছেন। তিনি লোকদের সাথে নামায আদায় করেন নি। নবী (ﷺ) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ হে অমুক! তোমাকে লোকদের সাথে নামায আদায় করতে কিসে বাধা দিল? তিনি বললেনঃ আমার উপর গোসল ফরয হয়েছে। অথচ পানি নেই। তিনি বললেনঃ পবিত্র মাটি নাও (তায়াম্মুম কর), এটাই তোমার জন্য যথেষ্ট।
নবী (ﷺ) পুনরায় সফর শুরু করলেন। লোকেরা তাঁকে পিপাসার কষ্ট জানালো। তিনি অবতরণ করলেন, তারপর অমুক ব্যক্তিকে ডাকলেন। (রাবী) আবু রাজা’ (রাহঃ) তাঁর নাম উল্লেখ করেছিলেন কিন্তু আওফ (রাহঃ) তা ভুলে গিয়েছেন। তিনি আলী (রাযিঃ)-কেও ডাকলেন। তারপর উভয়কেই পানি খুঁজে আনতে বললেন। তাঁরা পানির খোঁজে বের হলেন। তাঁরা পথে এক মহিলাকে দুই মশক পানি উটের উপর করে নিতে দেখলেন। তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেনঃ পানি কোথায়? সে বললোঃ গতকাল এ সময়ে আমি পানির নিকটে ছিলাম। আমার গোত্র পেছনে রয়ে গেছে। তাঁরা বললেনঃ এখন আমাদের সঙ্গে চলো। সে বললোঃ কোথায়? তাঁরা বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট। সে বললঃ সেই লোকটির কাছে যাকে সাবি’ (ধর্ম পরিবর্তনকারী) বলা হয়? তাঁরা বললেনঃ হ্যাঁ, তোমরা যাকে এই বলে থাক। আচ্ছা, এখন চল। তাঁরা তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এলেন এবং সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন।
ইমরান (রাযিঃ) বলেনঃ লোকেরা স্ত্রীলোকটিকে তাঁর উট থেকে নামালেন। তারপর নবী (ﷺ) একটি পাত্র আনতে বললেন এবং উভয় মশকের মুখ খুলে তাতে পানি ঢাললেন এবং সেগুলোর মুখ বন্ধ করে দিলেন। তারপর সে মশকের নীচের মুখ খুলে দিয়ে লোকদের মধ্যে পানি পান করার ও জন্তু-জানোয়ারকে পানি পান করানোর ঘোষণা দিলেন। তাঁদের মধ্যে যার ইচ্ছা পানি পান করলেন ও জন্তুকে পান করালেন। অবশেষে যে ব্যক্তির গোসলের দরকার ছিল, তাকেও এক পাত্র পানি দিয়ে নবী (ﷺ) বললেনঃ এ পানি নিয়ে যাও এবং গোসল সার। ঐ মহিলা দাড়িয়ে দেখছিল যে তাঁর পানি নিয়ে কী করা হচ্ছে। আল্লাহর কসম! যখন তাঁর থেকে পানি নেয়া শেষ হল তখন আমাদের মনে হল, মশকগুলো পূর্বাপেক্ষা অধিক ভর্তি।
তারপর নবী (ﷺ) বললেনঃ মহিলার জন্য কিছু একত্র কর। লোকেরা মহিলার জন্য আজওয়া (বিশেষ খেজুর), আটা ও ছাতু এনে একত্র করলেন। যখন তাঁরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী জমা করলেন, তখন তা একটা কাপড়ে বেধে মহিলাকে উটের উপর সওয়ার করালেন এবং তাঁর সামনে কাপড়ে বাঁধা গাঁঠরিটি রেখে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি জান যে, আমরা তোমার পানি মোটেই কম করিনি; বরং আল্লাহ তা’আলাই আমাদের পানি পান করিয়েছেন।
এরপর সে তাঁর পরিজনের কাছে ফিরে গেল। তাঁর বেশ দেরি হয়েছিল। পরিবারের লোকজন তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, হে অমুক! তোমার এত দেরি হল কেন? উত্তরে সে বললো, একটা আশ্চার্যজনক ঘটনা! দু’জন লোকের সাথে আমার দেখা হয়েছিল। তাঁরা আমাকে সেই লোকটির কাছে নিয়ে গিয়েছিল, যকে সাবি’ বলা হয়। আর সেখানে সে এসব করল। এ বলে সে মধ্যমা ও তর্জনী আঙ্গুল দিয়ে আসমান ও যমীনের দিকে ইশারা করে বলল, আল্লাহর কসম! সে এ দু’টির মধ্যে সবচাইতে বড় জাদুকর, নয় তো সে বাস্তবিকই আল্লাহর রাসূল। এ ঘটনার পর মুসলিমরা ওই মহিলার গোত্রের আশপাশের মুশরিকদের উপর হামলা করতেন কিন্তু মহিলার সাথে সম্পর্কযুক্ত গোত্রের কোন ক্ষতি করতেন না। একদিন মহিলা নিজের গোত্রকে বললঃ আমার মনে হয় তারা ইচ্ছা করে তোমাদের নিষ্কৃতি দিচ্ছে। এ সব দেখে কি তোমরা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হবে না? তাঁরা সবাই মহিলাটির কথা মেনে নিল এবং ইসলাম দাখিল হয়ে গেল।
আবু আব্দুল্লাহ (রাহঃ) বলেনঃ صَبَأَ শব্দের অর্থ নিজের দ্বীন ছেড়ে অন্যের দ্বীন গ্রহণ করা। আবুল আলিয়া (রাহঃ) বলেনঃ صابئين হচ্ছে আহলে কিতাবের একটা দল, যারা যবূর কিতাব পড়ে থাকে। أصب শব্দের অর্থ ঝুকে পড়া।
كتاب التيمم
باب الصَّعِيدُ الطَّيِّبُ وَضُوءُ الْمُسْلِمِ ، يَكْفِيهِ مِنَ الْمَاءِ وَقَالَ الْحَسَنُ يُجْزِئُهُ التَّيَمُّمُ مَا لَمْ يُحْدِثْ. وَأَمَّ ابْنُ عَبَّاسٍ وَهُوَ مُتَيَمِّمٌ. وَقَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ لاَ بَأْسَ بِالصَّلاَةِ عَلَى السَّبَخَةِ وَالتَّيَمُّمِ بِهَا
344 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَوْفٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو رَجَاءٍ، عَنْ عِمْرَانَ، قَالَ: كُنَّا فِي سَفَرٍ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَإِنَّا أَسْرَيْنَا حَتَّى كُنَّا فِي آخِرِ اللَّيْلِ، وَقَعْنَا وَقْعَةً، وَلاَ وَقْعَةَ أَحْلَى عِنْدَ المُسَافِرِ مِنْهَا، فَمَا أَيْقَظَنَا إِلَّا حَرُّ الشَّمْسِ، وَكَانَ أَوَّلَ مَنِ اسْتَيْقَظَ فُلاَنٌ، ثُمَّ فُلاَنٌ، ثُمَّ فُلاَنٌ - يُسَمِّيهِمْ أَبُو رَجَاءٍ فَنَسِيَ عَوْفٌ ثُمَّ عُمَرُ بْنُ الخَطَّابِ الرَّابِعُ - وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا نَامَ لَمْ يُوقَظْ حَتَّى يَكُونَ هُوَ يَسْتَيْقِظُ، لِأَنَّا لاَ نَدْرِي مَا يَحْدُثُ لَهُ فِي نَوْمِهِ، فَلَمَّا اسْتَيْقَظَ عُمَرُ وَرَأَى مَا أَصَابَ النَّاسَ وَكَانَ رَجُلًا جَلِيدًا، فَكَبَّرَ وَرَفَعَ صَوْتَهُ بِالتَّكْبِيرِ، فَمَا زَالَ يُكَبِّرُ وَيَرْفَعُ صَوْتَهُ بِالتَّكْبِيرِ حَتَّى اسْتَيْقَظَ بِصَوْتِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا اسْتَيْقَظَ شَكَوْا إِلَيْهِ الَّذِي أَصَابَهُمْ، قَالَ: «لاَ ضَيْرَ - أَوْ لاَ يَضِيرُ - ارْتَحِلُوا» ، فَارْتَحَلَ، فَسَارَ غَيْرَ بَعِيدٍ، ثُمَّ نَزَلَ فَدَعَا بِالوَضُوءِ، فَتَوَضَّأَ، وَنُودِيَ بِالصَّلاَةِ، فَصَلَّى بِالنَّاسِ، فَلَمَّا انْفَتَلَ مِنْ صَلاَتِهِ إِذَا هُوَ بِرَجُلٍ مُعْتَزِلٍ لَمْ يُصَلِّ مَعَ القَوْمِ، قَالَ: «مَا مَنَعَكَ يَا فُلاَنُ أَنْ تُصَلِّيَ مَعَ القَوْمِ؟» قَالَ: أَصَابَتْنِي جَنَابَةٌ وَلاَ مَاءَ، قَالَ: «عَلَيْكَ بِالصَّعِيدِ، فَإِنَّهُ يَكْفِيكَ» ، ثُمَّ سَارَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاشْتَكَى إِلَيْهِ النَّاسُ مِنَ العَطَشِ، فَنَزَلَ فَدَعَا فُلاَنًا - كَانَ يُسَمِّيهِ أَبُو رَجَاءٍ نَسِيَهُ عَوْفٌ - وَدَعَا عَلِيًّا فَقَالَ: «اذْهَبَا، فَابْتَغِيَا المَاءَ» فَانْطَلَقَا، فَتَلَقَّيَا امْرَأَةً بَيْنَ مَزَادَتَيْنِ - أَوْ سَطِيحَتَيْنِ - مِنْ مَاءٍ عَلَى بَعِيرٍ لَهَا، فَقَالاَ لَهَا: أَيْنَ المَاءُ؟ قَالَتْ: عَهْدِي بِالْمَاءِ أَمْسِ هَذِهِ السَّاعَةَ وَنَفَرُنَا خُلُوفٌ، قَالاَ لَهَا: انْطَلِقِي، إِذًا قَالَتْ: إِلَى أَيْنَ؟ قَالاَ: إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَتْ: الَّذِي يُقَالُ لَهُ الصَّابِئُ، قَالاَ: هُوَ الَّذِي تَعْنِينَ، فَانْطَلِقِي، فَجَاءَا بِهَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَحَدَّثَاهُ الحَدِيثَ، قَالَ: فَاسْتَنْزَلُوهَا عَنْ بَعِيرِهَا، وَدَعَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِإِنَاءٍ، فَفَرَّغَ فِيهِ مِنْ أَفْوَاهِ المَزَادَتَيْنِ - أَوْ سَطِيحَتَيْنِ - وَأَوْكَأَ أَفْوَاهَهُمَا وَأَطْلَقَ العَزَالِيَ، وَنُودِيَ فِي النَّاسِ اسْقُوا وَاسْتَقُوا، فَسَقَى مَنْ شَاءَ وَاسْتَقَى مَنْ شَاءَ وَكَانَ آخِرُ ذَاكَ أَنْ أَعْطَى الَّذِي أَصَابَتْهُ الجَنَابَةُ إِنَاءً مِنْ مَاءٍ، قَالَ: «اذْهَبْ فَأَفْرِغْهُ عَلَيْكَ» ، وَهِيَ قَائِمَةٌ تَنْظُرُ إِلَى مَا يُفْعَلُ بِمَائِهَا، وَايْمُ اللَّهِ لَقَدْ أُقْلِعَ عَنْهَا، وَإِنَّهُ لَيُخَيَّلُ إِلَيْنَا أَنَّهَا أَشَدُّ مِلْأَةً مِنْهَا حِينَ ابْتَدَأَ فِيهَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اجْمَعُوا لَهَا» فَجَمَعُوا لَهَا مِنْ بَيْنِ عَجْوَةٍ وَدَقِيقَةٍ وَسَوِيقَةٍ حَتَّى جَمَعُوا لَهَا طَعَامًا، فَجَعَلُوهَا فِي ثَوْبٍ وَحَمَلُوهَا عَلَى بَعِيرِهَا وَوَضَعُوا الثَّوْبَ بَيْنَ يَدَيْهَا، قَالَ لَهَا: «تَعْلَمِينَ، مَا رَزِئْنَا مِنْ مَائِكِ شَيْئًا، وَلَكِنَّ اللَّهَ هُوَ الَّذِي أَسْقَانَا» ، فَأَتَتْ أَهْلَهَا وَقَدِ احْتَبَسَتْ عَنْهُمْ، قَالُوا: مَا حَبَسَكِ يَا فُلاَنَةُ، قَالَتْ: العَجَبُ لَقِيَنِي رَجُلاَنِ، فَذَهَبَا بِي إِلَى هَذَا الَّذِي يُقَالُ لَهُ الصَّابِئُ فَفَعَلَ كَذَا وَكَذَا، فَوَاللَّهِ إِنَّهُ لَأَسْحَرُ [ص:77] النَّاسِ مِنْ بَيْنِ هَذِهِ وَهَذِهِ، وَقَالَتْ: بِإِصْبَعَيْهَا الوُسْطَى وَالسَّبَّابَةِ، فَرَفَعَتْهُمَا إِلَى السَّمَاءِ - تَعْنِي السَّمَاءَ وَالأَرْضَ - أَوْ إِنَّهُ لَرَسُولُ اللَّهِ حَقًّا، فَكَانَ المُسْلِمُونَ بَعْدَ ذَلِكَ يُغِيرُونَ عَلَى مَنْ حَوْلَهَا مِنَ المُشْرِكِينَ، وَلاَ يُصِيبُونَ الصِّرْمَ الَّذِي هِيَ مِنْهُ، فَقَالَتْ: يَوْمًا لِقَوْمِهَا مَا أُرَى أَنَّ هَؤُلاَءِ القَوْمَ يَدْعُونَكُمْ عَمْدًا، فَهَلْ لَكُمْ فِي الإِسْلاَمِ؟ فَأَطَاعُوهَا، فَدَخَلُوا فِي الإِسْلاَمِ، قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: " صَبَأَ: خَرَجَ مِنْ دِينٍ إِلَى غَيْرِهِ " وَقَالَ أَبُو العَالِيَةِ: «الصَّابِئِينَ فِرْقَةٌ مِنْ أَهْلِ الكِتَابِ يَقْرَءُونَ الزَّبُورَ»
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৩৩৮
আন্তর্জাতিক নং: ৩৪৫
- তায়াম্মুমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩৯। জুনুবী ব্যক্তির রোগ বৃদ্ধির, মৃত্যুর বা তৃষ্ণার্ত থেকে যাওয়ার আশঙ্কা বোধ হলে তায়াম্মুম করা।
বর্ণিত আছে যে, এক শীতের রাতে আমর ইবনু’ল আস (রাযিঃ) জুনুবী হয়ে পড়লে তায়াম্মুম করলেন। আর (এ প্রসঙ্গে) তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ তোমরা নিজেদের হত্যা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। (৪ : ২৯) এরপর নবী (ﷺ) এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি তাকে দোষারোপ করেন নি।
বর্ণিত আছে যে, এক শীতের রাতে আমর ইবনু’ল আস (রাযিঃ) জুনুবী হয়ে পড়লে তায়াম্মুম করলেন। আর (এ প্রসঙ্গে) তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ তোমরা নিজেদের হত্যা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। (৪ : ২৯) এরপর নবী (ﷺ) এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করা হলে তিনি তাকে দোষারোপ করেন নি।
৩৩৮। বিশর ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... আবু ওয়াইল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আবু মুসা (রাযিঃ) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেনঃ (জুনুবী) পানি না পেলে কি নামায আদায় করবে না? আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বললেনঃ হ্যাঁ, আমি এক মাসও যদি পানি না পাই তবে নামায আদায় করব না। এ ব্যাপারে লোকদের যদি অনুমতি দেই তা হলে তাঁরা একটু শীত বোধ করলেই এরূপ করতে থাকবে। অর্থাৎ তায়াম্মুম করে নামায আদায় করবে। আবু মুসা (রাযিঃ) বললেনঃ তাহলে উমর (রাযিঃ)-এর সামনে আম্মার (রাযিঃ)-এর কথার তাৎপর্য কি হবে? তিনি উত্তরে বললেনঃ উমর (রাযিঃ) আম্মার (রাযিঃ)-এর কথায় তুষ্ট হয়েছেন বলে আমি মনে করি না।
كتاب التيمم
بَابٌ: إِذَا خَافَ الجُنُبُ عَلَى نَفْسِهِ المَرَضَ أَوِ المَوْتَ، أَوْ خَافَ العَطَشَ، تَيَمَّمَ وَيُذْكَرُ أَنَّ عَمْرَو بْنَ العَاصِ: " أَجْنَبَ فِي لَيْلَةٍ بَارِدَةٍ، فَتَيَمَّمَ وَتَلاَ: {وَلاَ تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا} [النساء: 29] فَذَكَرَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ يُعَنِّفْ "
345 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ هُوَ غُنْدَرٌ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، قَالَ: قَالَ أَبُو مُوسَى لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ: «إِذَا لَمْ يَجِدِ المَاءَ لاَ يُصَلِّي؟» قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: لَوْ رَخَّصْتُ لَهُمْ فِي هَذَا كَانَ إِذَا وَجَدَ أَحَدُهُمُ البَرْدَ قَالَ: هَكَذَا - يَعْنِي تَيَمَّمَ - وَصَلَّى، قَالَ: قُلْتُ: «فَأَيْنَ قَوْلُ عَمَّارٍ لِعُمَرَ؟» قَالَ: إِنِّي لَمْ أَرَ عُمَرَ قَنِعَ بِقَوْلِ عَمَّارٍ
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৩৩৯
আন্তর্জাতিক নং: ৩৪৬
- তায়াম্মুমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩৯। জুনুবী ব্যক্তির রোগ বৃদ্ধির, মৃত্যুর বা তৃষ্ণার্ত থেকে যাওয়ার আশঙ্কা বোধ হলে তায়াম্মুম করা।
৩৩৯। উমর ইবনে হাফস (রাহঃ) .... শাকীক ইবনে সালামা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাস’উদ ও আবু মুসা (রাযিঃ)-এর কাছে ছিলাম। তাঁকে আবু মুসা (রাযিঃ) বললেনঃ হে আবু আব্দুর রহমান। কেউ জুনুবী হলে যদি পানি না পায় তবে কি করবে? তখন আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বললেনঃ পানি না পাওয়া পর্যন্ত নামায আদায় করবে না। আবু মুসা (রাযিঃ) বললেনঃ তাহলে আম্মার (রাযিঃ) এর কথার উত্তরে আপনি কি বলবেন? তাঁকে যে নবী (ﷺ) বলেছিলেন (তায়াম্মুম করে নেয়া) তোমার জন্য যথেষ্ট ছিল। আব্দুল্লাহ ইবনে মাস’উদ (রাযিঃ) বললেনঃ তুমি দেখ না উমর (রাযিঃ) আম্মারের এই কথায় সন্তুষ্ট ছিলেন না? আবু মুসা (রাযিঃ) পুনরায় বললেনঃ আম্মারের কথা বাদ দিলেও তায়াম্মুমের আয়াতের কি ব্যাখ্যা করবেন? আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) এর কোন উত্তর দিতে পারলেন না। তিনি তবুও বললেনঃ আমরা যদি লোকদের তার অনুমতি দিয়ে দেই তাহলে আশঙ্কা হয়, কারো কাছে পানি ঠাণ্ডা মনে হলেই তায়াম্মুম করবে। রাবী আ’মাশ (রাহঃ) বলেনঃ আমি শাকীক (রাহঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) এ কারণে কি তায়াম্মুম অপছন্দ করেছিলেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ।
كتاب التيمم
باب إِذَا خَافَ الْجُنُبُ عَلَى نَفْسِهِ الْمَرَضَ أَوِ الْمَوْتَ أَوْ خَافَ الْعَطَشَ، تَيَمَّمَ
346 - حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ: سَمِعْتُ شَقِيقَ بْنَ سَلَمَةَ، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ، وَأَبِي مُوسَى، فَقَالَ لَهُ أَبُو مُوسَى: أَرَأَيْتَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِذَا أَجْنَبَ فَلَمْ يَجِدْ مَاءً، كَيْفَ يَصْنَعُ؟ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: لاَ يُصَلِّي حَتَّى يَجِدَ المَاءَ، فَقَالَ أَبُو مُوسَى: فَكَيْفَ تَصْنَعُ بِقَوْلِ عَمَّارٍ حِينَ قَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَانَ يَكْفِيكَ» قَالَ: أَلَمْ تَرَ عُمَرَ لَمْ يَقْنَعْ بِذَلِكَ، فَقَالَ أَبُو مُوسَى: فَدَعْنَا مِنْ قَوْلِ عَمَّارٍ كَيْفَ تَصْنَعُ بِهَذِهِ الآيَةِ؟ فَمَا دَرَى عَبْدُ اللَّهِ مَا يَقُولُ، فَقَالَ: إِنَّا لَوْ رَخَّصْنَا لَهُمْ فِي هَذَا لَأَوْشَكَ إِذَا بَرَدَ عَلَى أَحَدِهِمُ المَاءُ أَنْ يَدَعَهُ وَيَتَيَمَّمَ فَقُلْتُ لِشَقِيقٍ فَإِنَّمَا كَرِهَ عَبْدُ اللَّهِ لِهَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ»
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ৩৪০
আন্তর্জাতিক নং: ৩৪৭
- তায়াম্মুমের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৪০। তায়াম্মুমের জন্য মাটিতে একবার হাত মারা
৩৪০। মুহাম্মাদ ইবনে সালাম (রাহঃ) .... শাকীক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) ও আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ)-এর সঙ্গে বসা ছিলাম। আবু মুসা (রাযিঃ) আব্দুল্লাহ (রাযিঃ)-কে বললেনঃ কোন ব্যক্তির জুনুবী হলে সে যদি এক মাস পর্যন্ত পানি না পায়, তাহলে কি সে তায়াম্মুম করে নামায আদায় করবে না? শাকীক (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেছেনঃ একমাস পানি না পেলেও সে তায়াম্মুম করবে না। তখন তাঁকে আবু মুসা (রাযিঃ) বললেনঃ তাহলে সূরা মায়িদার এ আয়াত সম্পর্কে কি করবেন যে ″পানি না পেলে পাক মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করবে″ (৫ : ৬)। আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) জওয়াব দিলেনঃ মানুষকে সেই অনুমতি দিলে অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছার সম্ভবনা রয়েছে যে, সামান্য ঠাণ্ডা লাগলেই লোকেরা মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করবে। আমি বললামঃ আপনারা এ জন্যই কি তা অপছন্দ করেন? তিনি জওয়াব দিলেন, হ্যাঁ।
আবু মুসা (রাযিঃ) বললেনঃ আপনি কি উমর ইবনে খাত্তব (রাযিঃ)-এর সম্মুখে আম্মার (রাযিঃ)-এর এ কথা শোনেন নি যে, আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটা প্রয়োজনে বাইরে পাঠিয়েছিলেন। সফরে আমি জুনুবী হয়ে পড়লাম এবং পানি পেলাম না। এজন্য আমি জন্তুর মত মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে ঘটনাটি বিবৃত করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমার জন্য তো এতুকুই যথেষ্ট ছিল—এই বলে তিনি দু’হাত মাটিতে মারলেন। তারপর তা ঝেড়ে নিলেন এবং তা দিয়ে তিনি বাম হাতে ডান হাতের পিঠ মাসাহ করলেন কিংবা রাবী বলেছেন, বাম হাতের পিঠ ডান হাতে মাসাহ করলেন। তারপর হাত দুটো দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল মাসাহ করলেন। আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বললেনঃ আপনি দেখেন নি যে, উমর (রাযিঃ) আম্মার (রাযিঃ)-এর কথায় সন্তুষ্ট হন নি?
ইয়া’লা (রাহঃ) আ’মাশ (রাহঃ) থেকে এবং তিনি শাকীক (রাহঃ) থেকে আরো বলেছেন যে , তিনি বললেনঃ আমি আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) ও আবু মুসা (রাযিঃ)-এর কাছে হাযির ছিলাম; আবু মুসা (রাযিঃ) বলেছিলেনঃ আপনি উমর (রাযিঃ) থেকে আম্মারের এ কথা শোনেন নি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে ও আপনাকে বাইরে পাঠিয়েছিলেন। তখন আমি জুনুবী হয়ে গিয়ে মাটিতে গড়াগড়ি দিয়েছিলাম। তারপর আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে এ বিষয় তাঁকে জানালাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এই যথেষ্ট ছিল—এ বলে তিনি তাঁর মুখমণ্ডল এবং দু’হাত একবার মাসাহ করলেন
আবু মুসা (রাযিঃ) বললেনঃ আপনি কি উমর ইবনে খাত্তব (রাযিঃ)-এর সম্মুখে আম্মার (রাযিঃ)-এর এ কথা শোনেন নি যে, আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটা প্রয়োজনে বাইরে পাঠিয়েছিলেন। সফরে আমি জুনুবী হয়ে পড়লাম এবং পানি পেলাম না। এজন্য আমি জন্তুর মত মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে ঘটনাটি বিবৃত করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমার জন্য তো এতুকুই যথেষ্ট ছিল—এই বলে তিনি দু’হাত মাটিতে মারলেন। তারপর তা ঝেড়ে নিলেন এবং তা দিয়ে তিনি বাম হাতে ডান হাতের পিঠ মাসাহ করলেন কিংবা রাবী বলেছেন, বাম হাতের পিঠ ডান হাতে মাসাহ করলেন। তারপর হাত দুটো দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল মাসাহ করলেন। আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বললেনঃ আপনি দেখেন নি যে, উমর (রাযিঃ) আম্মার (রাযিঃ)-এর কথায় সন্তুষ্ট হন নি?
ইয়া’লা (রাহঃ) আ’মাশ (রাহঃ) থেকে এবং তিনি শাকীক (রাহঃ) থেকে আরো বলেছেন যে , তিনি বললেনঃ আমি আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) ও আবু মুসা (রাযিঃ)-এর কাছে হাযির ছিলাম; আবু মুসা (রাযিঃ) বলেছিলেনঃ আপনি উমর (রাযিঃ) থেকে আম্মারের এ কথা শোনেন নি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে ও আপনাকে বাইরে পাঠিয়েছিলেন। তখন আমি জুনুবী হয়ে গিয়ে মাটিতে গড়াগড়ি দিয়েছিলাম। তারপর আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে এ বিষয় তাঁকে জানালাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এই যথেষ্ট ছিল—এ বলে তিনি তাঁর মুখমণ্ডল এবং দু’হাত একবার মাসাহ করলেন
كتاب التيمم
باب التَّيَمُّمُ ضَرْبَةٌ
347 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا مَعَ عَبْدِ اللَّهِ وَأَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ، فَقَالَ لَهُ أَبُو مُوسَى: لَوْ أَنَّ رَجُلًا أَجْنَبَ فَلَمْ يَجِدِ المَاءَ شَهْرًا، أَمَا كَانَ يَتَيَمَّمُ وَيُصَلِّي، فَكَيْفَ تَصْنَعُونَ بِهَذِهِ الْآيَةِ فِي سُورَةِ المَائِدَةِ: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا} [النساء: 43] فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: لَوْ رُخِّصَ لَهُمْ فِي هَذَا لَأَوْشَكُوا إِذَا بَرَدَ عَلَيْهِمُ المَاءُ أَنْ يَتَيَمَّمُوا الصَّعِيدَ. قُلْتُ: وَإِنَّمَا كَرِهْتُمْ هَذَا لِذَا؟ قَالَ: نَعَمْ، فَقَالَ أَبُو مُوسَى: أَلَمْ تَسْمَعْ قَوْلَ عَمَّارٍ لِعُمَرَ: بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَاجَةٍ، فَأَجْنَبْتُ فَلَمْ أَجِدِ المَاءَ، فَتَمَرَّغْتُ فِي الصَّعِيدِ كَمَا تَمَرَّغُ الدَّابَّةُ، فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ أَنْ تَصْنَعَ هَكَذَا، فَضَرَبَ بِكَفِّهِ ضَرْبَةً عَلَى الأَرْضِ، ثُمَّ نَفَضَهَا، ثُمَّ مَسَحَ بِهِمَا ظَهْرَ كَفِّهِ بِشِمَالِهِ أَوْ ظَهْرَ شِمَالِهِ بِكَفِّهِ، ثُمَّ مَسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ» فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: أَفَلَمْ تَرَ عُمَرَ لَمْ يَقْنَعْ بِقَوْلِ [ص:78] عَمَّارٍ؟ وَزَادَ يَعْلَى، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ: كُنْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ وَأَبِي مُوسَى، فَقَالَ أَبُو مُوسَى: أَلَمْ تَسْمَعْ قَوْلَ عَمَّارٍ لِعُمَرَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَنِي أَنَا وَأَنْتَ، فَأَجْنَبْتُ فَتَمَعَّكْتُ بِالصَّعِيدِ، فَأَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرْنَاهُ، فَقَالَ: «إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ هَكَذَا. وَمَسَحَ وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ وَاحِدَةً»
তাহকীক: