হাদীস অনুসন্ধানের ফলাফল
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ১৮১
আন্তর্জাতিক নং: ১৮২
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩১। শ্রদ্ধেয় জনকে কোন ব্যক্তির উযু করিয়ে দেওয়া
১৮১। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) .... মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, তিনি এক সফরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলেন। এক সময় তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে গেলেন। (প্রয়োজন সেরে আসার পর) মুগীরা তাঁকে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন এবং তিনি উযু করছিলেন। তিনি তাঁর মুখমণ্ডল এবং দুহাত ধুলেন এবং তাঁর মাথা মাসাহ করলেন ও উভয় মোজার উপর মাসাহ্ করলেন।
كتاب الوضوء
باب الرَّجُلِ يُوَضِّئُ صَاحِبَهُ
182 - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَهَّابِ، قَالَ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي سَعْدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَنَّ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ عُرْوَةَ بْنَ المُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، يُحَدِّثُ عَنِ المُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، أَنَّهُ كَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ، وَأَنَّهُ ذَهَبَ لِحَاجَةٍ لَهُ، وَأَنَّ مُغِيرَةَ «جَعَلَ يَصُبُّ المَاءَ عَلَيْهِ وَهُوَ يَتَوَضَّأُ، فَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ، وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ، وَمَسَحَ عَلَى الخُفَّيْنِ»
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ১৮২
আন্তর্জাতিক নং: ১৮৩
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩২। বিনা উযুতে কুরআন প্রভৃতি পাঠ করা।
মনসূর (রাহঃ) ... ইবরাহীম (রাহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, হাম্মামখানায় (কুরআন) পাঠ করা এবং বিনা উযুতে পত্র লেখায় কোন দোষ নেই।
হাম্মাদ (রাহঃ) ইবরাহীম (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন, হাম্মামখানার লোকদের পরনে ইযার (লুঙ্গি বা পায়জামা) থাকলে সালাম দিও নতুবা সালাম দিও না।
মনসূর (রাহঃ) ... ইবরাহীম (রাহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, হাম্মামখানায় (কুরআন) পাঠ করা এবং বিনা উযুতে পত্র লেখায় কোন দোষ নেই।
হাম্মাদ (রাহঃ) ইবরাহীম (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন, হাম্মামখানার লোকদের পরনে ইযার (লুঙ্গি বা পায়জামা) থাকলে সালাম দিও নতুবা সালাম দিও না।
১৮২। ইসমাঈল (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি একবার নবী (ﷺ) এর স্ত্রী মায়মুনা (রাযিঃ) এর ঘরে রাত কাটান। তিনি ছিলেন ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর খালা। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ এরপর আমি বিছানার চওড়া দিকে শয়ন করলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর স্ত্রী বিছানার লম্বা দিকে শয়ন করলেন; এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনিভাবে রাত যখন অর্ধেক হয়ে গেল তার কিছু পূর্বে কিংবা কিছু পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জেগে উঠলেন। তিনি বসে হাত দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল থেকে ঘুমের আবেশ মুছতে লাগলেন। তারপর সূরা আলু ইমরানের শেষ দশ আয়াত পাঠ করলেন।
এরপর দাঁড়িয়ে একটি ঝুলন্ত মশক থেকে উযু করলেন। তিনি সুন্দরভাবে উযু করলেন। তারপর নামাযে দাঁড়িয়ে গেলেন। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমিও উঠে তিনি যেরূপ করেছিলেন তদ্রূপ করলাম। তারপর গিয়ে তাঁর বাঁ পাশে দাঁড়ালাম। তিনি তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার ডান কান ধরে একটু নাড়া দিলেন, (এবং তাঁর) ডান পাশে এনে দাঁড় করালেন। তারপর তিনি দু'রাকআত নামায আদায় করলেন। তারপর দু'রাকআত, তারপর দু'রাকআত, দু'রাকআত, তারপর দু'রাকআত, তারপর দু'রাকআত, তারপর বিতর আদায় করলেন। তারপর শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর কাছে মুয়াযযিন এলেন। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে হালকাভাবে দু'রাকআত নামায আদায় করলেন। তারপর বেরিয়ে গিয়ে ফজরের নামায আদায় করলেন।
এরপর দাঁড়িয়ে একটি ঝুলন্ত মশক থেকে উযু করলেন। তিনি সুন্দরভাবে উযু করলেন। তারপর নামাযে দাঁড়িয়ে গেলেন। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমিও উঠে তিনি যেরূপ করেছিলেন তদ্রূপ করলাম। তারপর গিয়ে তাঁর বাঁ পাশে দাঁড়ালাম। তিনি তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার ডান কান ধরে একটু নাড়া দিলেন, (এবং তাঁর) ডান পাশে এনে দাঁড় করালেন। তারপর তিনি দু'রাকআত নামায আদায় করলেন। তারপর দু'রাকআত, তারপর দু'রাকআত, দু'রাকআত, তারপর দু'রাকআত, তারপর দু'রাকআত, তারপর বিতর আদায় করলেন। তারপর শুয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর কাছে মুয়াযযিন এলেন। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে হালকাভাবে দু'রাকআত নামায আদায় করলেন। তারপর বেরিয়ে গিয়ে ফজরের নামায আদায় করলেন।
كتاب الوضوء
باب قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ بَعْدَ الْحَدَثِ وَغَيْرِهِ وَقَالَ مَنْصُورٌ عَنْ إِبْرَاهِيمَ لاَ بَأْسَ بِالْقِرَاءَةِ فِي الْحَمَّامِ، وَبِكَتْبِ الرِّسَالَةِ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ. وَقَالَ حَمَّادٌ عَنْ إِبْرَاهِيمَ إِنْ كَانَ عَلَيْهِمْ إِزَارٌ فَسَلِّمْ، وَإِلاَّ فَلاَ تُسَلِّمْ
183 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ بَاتَ لَيْلَةً عِنْدَ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِيَ خَالَتُهُ فَاضْطَجَعْتُ فِي عَرْضِ الوِسَادَةِ " وَاضْطَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَهْلُهُ فِي طُولِهَا، فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حَتَّى إِذَا انْتَصَفَ اللَّيْلُ، أَوْ قَبْلَهُ بِقَلِيلٍ أَوْ بَعْدَهُ بِقَلِيلٍ، اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَجَلَسَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ بِيَدِهِ، ثُمَّ قَرَأَ العَشْرَ الآيَاتِ الخَوَاتِمَ مِنْ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ، ثُمَّ قَامَ إِلَى شَنٍّ مُعَلَّقَةٍ، فَتَوَضَّأَ مِنْهَا فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي. قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَقُمْتُ فَصَنَعْتُ مِثْلَ مَا صَنَعَ، ثُمَّ ذَهَبْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ، فَوَضَعَ يَدَهُ اليُمْنَى عَلَى رَأْسِي، وَأَخَذَ [ص:48] بِأُذُنِي اليُمْنَى يَفْتِلُهَا، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ أَوْتَرَ، ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى أَتَاهُ المُؤَذِّنُ، فَقَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ، ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ "
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ১৮৩
আন্তর্জাতিক নং: ১৮৪
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩৩। পূর্ণ বেহুশী ছাড়া উযু না করা
১৮৩। ইসমাঈল (রাহঃ) ..... আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি একবার নবী (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) এর কাছে এলাম। তখন সুর্যগ্রহণ লেগেছিল। দেখলাম সব মানুষ দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছে এবং আয়িশা (রাযিঃ) ও দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম লোকদের কী হয়েছে? তিনি তাঁর হাত দিয়ে আকাশের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ্’! আমি বললাম এটা কি কোন আলামত? তিনি ইশারা করে বললেন, ‘হ্যাঁ’। এরপর আমিও নামাযে দাঁড়িয়ে গেলাম। এমনকি আমাকে সংজ্ঞাহীনতায় আচ্ছন্ন করে ফেলল এবং আমি আমার মাথায় পানি দিতে লাগলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (মুসল্লীদের দিকে) ফিরে আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করে বললেন, “যেসব জিনিস আমি ইতিপূর্বে দেখিনি সেসব আমার এই স্থানে আমি দেখতে পেয়েছি, এমনকি জান্নাত এবং জাহান্নামও।
আর আমার কাছে ওহী পাঠানো হয়েছে যে, কবরে তোমাদের পরীক্ষা করা হবে দাজ্জালের ফিতনার ন্যায় অথবা তার কাছাকাছি। বর্ণনাকারী বলেন, আসমা (রাযিঃ) কোনটি বলেছিলেন, আমি জানিনা। তোমাদের প্রত্যেকের কাছে (ফিরিশতা) উপস্থিত হবে এবং তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, “এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার কি জ্ঞান আছে?” তারপর ‘মু’মিন, বা ‘মু’কিন’ ব্যক্তি বলবে- আসমা (রাযিঃ) ‘মুমিন’ বলেছিলেন না ‘মুকিন’ তা আমি জানিনা- ইনি মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। তিনি আমাদের কাছে মু‘জিযা ও হিদায়ত নিয়ে এসেছিলেন। আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছি, তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি। তারপর তাকে বলা হবে নিশ্চিন্তে ঘুমাও। আমরা জানলাম যে, তুমি মু’মিন ছিলে। আর ‘মুনাফিক’ বা ‘মুরতাব’ বলবে, আমি জানিনা। -আসমা (রাযিঃ) কোনটি বলেছিলেন তা আমি জানিনা- লোকজনকে এঁর সম্পর্কে কিছু একটা বলতে শুনেছি আর আমিও তা-ই বলেছি।
আর আমার কাছে ওহী পাঠানো হয়েছে যে, কবরে তোমাদের পরীক্ষা করা হবে দাজ্জালের ফিতনার ন্যায় অথবা তার কাছাকাছি। বর্ণনাকারী বলেন, আসমা (রাযিঃ) কোনটি বলেছিলেন, আমি জানিনা। তোমাদের প্রত্যেকের কাছে (ফিরিশতা) উপস্থিত হবে এবং তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, “এ ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার কি জ্ঞান আছে?” তারপর ‘মু’মিন, বা ‘মু’কিন’ ব্যক্তি বলবে- আসমা (রাযিঃ) ‘মুমিন’ বলেছিলেন না ‘মুকিন’ তা আমি জানিনা- ইনি মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। তিনি আমাদের কাছে মু‘জিযা ও হিদায়ত নিয়ে এসেছিলেন। আমরা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছি, তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি। তারপর তাকে বলা হবে নিশ্চিন্তে ঘুমাও। আমরা জানলাম যে, তুমি মু’মিন ছিলে। আর ‘মুনাফিক’ বা ‘মুরতাব’ বলবে, আমি জানিনা। -আসমা (রাযিঃ) কোনটি বলেছিলেন তা আমি জানিনা- লোকজনকে এঁর সম্পর্কে কিছু একটা বলতে শুনেছি আর আমিও তা-ই বলেছি।
كتاب الوضوء
باب مَنْ لَمْ يَتَوَضَّأْ إِلاَّ مِنَ الْغَشْىِ الْمُثْقِلِ
184 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ امْرَأَتِهِ فَاطِمَةَ، عَنْ جَدَّتِهَا أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّهَا قَالَتْ: أَتَيْتُ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ خَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَإِذَا النَّاسُ قِيَامٌ يُصَلُّونَ، وَإِذَا هِيَ قَائِمَةٌ تُصَلِّي، فَقُلْتُ: مَا لِلنَّاسِ؟ فَأَشَارَتْ بِيَدِهَا نَحْوَ السَّمَاءِ، وَقَالَتْ: سُبْحَانَ اللَّهِ، فَقُلْتُ: آيَةٌ؟ فَأَشَارَتْ: أَيْ نَعَمْ، فَقُمْتُ حَتَّى تَجَلَّانِي الغَشْيُ، وَجَعَلْتُ أَصُبُّ فَوْقَ رَأْسِي مَاءً، فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: " مَا مِنْ شَيْءٍ كُنْتُ لَمْ أَرَهُ إِلَّا قَدْ رَأَيْتُهُ فِي مَقَامِي هَذَا، حَتَّى الجَنَّةَ وَالنَّارَ، وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي القُبُورِ مِثْلَ - أَوْ قَرِيبَ مِنْ - فِتْنَةِ الدَّجَّالِ - لاَ أَدْرِي أَيَّ ذَلِكَ، قَالَتْ: أَسْمَاءُ - يُؤْتَى أَحَدُكُمْ، فَيُقَالُ لَهُ: مَا عِلْمُكَ بِهَذَا الرَّجُلِ؟ فَأَمَّا المُؤْمِنُ أَوِ المُوقِنُ - لاَ أَدْرِي أَيَّ ذَلِكَ قَالَتْ: أَسْمَاءُ - فَيَقُولُ: هُوَ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَالهُدَى، فَأَجَبْنَا وَآمَنَّا وَاتَّبَعْنَا، فَيُقَالُ لَهُ: نَمْ صَالِحًا، فَقَدْ عَلِمْنَا إِنْ كُنْتَ لَمُؤْمِنًا، وَأَمَّا المُنَافِقُ أَوِ المُرْتَابُ - لاَ أَدْرِي أَيَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ - فَيَقُولُ: لاَ أَدْرِي، سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ شَيْئًا فَقُلْتُهُ "
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ১৮৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৮৫
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩৪। পূর্ণ মাথা মাসাহ করা।
আল্লাহ তাআলার এ বাণীর পরিপ্রেক্ষিতে وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ (আর তোমাদের মাথা মাসাহ কর) (৫ঃ ৬)। ইবনুল মুসায়্যিব বলেনঃ স্ত্রীলোকও (এ ক্ষেত্রে) পুরুষের সমপর্যায়ে। সে তার মাথা মাসাহ্ করবে।
ইমাম মালিক (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হল, মাথার কিছু অংশ মাসাহ্ করা কি যথেষ্ট হবে? তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) এর হাদীস দলীল হিসেবে পেশ করলেন।
আল্লাহ তাআলার এ বাণীর পরিপ্রেক্ষিতে وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ (আর তোমাদের মাথা মাসাহ কর) (৫ঃ ৬)। ইবনুল মুসায়্যিব বলেনঃ স্ত্রীলোকও (এ ক্ষেত্রে) পুরুষের সমপর্যায়ে। সে তার মাথা মাসাহ্ করবে।
ইমাম মালিক (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হল, মাথার কিছু অংশ মাসাহ্ করা কি যথেষ্ট হবে? তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) এর হাদীস দলীল হিসেবে পেশ করলেন।
১৮৪। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) .... ইয়াহয়া আল-মাযিনী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাযিঃ)-কে (তিনি আমর ইবনে ইয়াহয়ার দাদা) জিজ্ঞাসা করলঃ আপনি কি আমাদেরকে দেখাতে পারেন, কিভাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উযু করতেন? আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) বলেনঃ হ্যাঁ। তারপর তিনি পানি আনালেন। হাতের উপর সে পানি ঢেলে দু’বার তাঁর হাত ধুলেন। তারপর কুলি করলেন এবং তিনবার নাকে পানি দিয়ে ঝেড়ে পরিস্কার করলেন। এরপর চেহারা তিনবার ধুলেন। তারপর দু’হাত কনুই পর্যন্ত দু’বার করে ধুলেন। তারপর দু’হাত দিয়ে মাথা মাসাহ করলেন। অর্থাৎ হাত দু’টি সামনে ও পিছনে নিলেন। মাথার সম্মুখ ভাগ থেকে শুরু করে উভয় হাত গর্দান পর্যন্ত নিলেন। তারপর আবার যেখান থেকে নিয়েছিলেন, সেখানেই ফিরিয়ে আনলেন। তারপর দু’পা ধুলেন।
كتاب الوضوء
باب مَسْحِ الرَّأْسِ كُلِّهِ لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: (وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ). وَقَالَ ابْنُ الْمُسَيَّبِ الْمَرْأَةُ بِمَنْزِلَةِ الرَّجُلِ تَمْسَحُ عَلَى رَأْسِهَا. وَسُئِلَ مَالِكٌ أَيُجْزِئُ أَنْ يَمْسَحَ بَعْضَ الرَّأْسِ فَاحْتَجَّ بِحَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ
185 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى المَازِنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلًا، قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، وَهُوَ جَدُّ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى أَتَسْتَطِيعُ أَنْ تُرِيَنِي، كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَوَضَّأُ؟ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ: نَعَمْ، فَدَعَا بِمَاءٍ، فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ فَغَسَلَ مَرَّتَيْنِ، ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلاَثًا، ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا، ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ إِلَى المِرْفَقَيْنِ، ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ بِيَدَيْهِ، فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ، بَدَأَ بِمُقَدَّمِ رَأْسِهِ حَتَّى ذَهَبَ بِهِمَا إِلَى قَفَاهُ، ثُمَّ رَدَّهُمَا إِلَى المَكَانِ الَّذِي بَدَأَ مِنْهُ، ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ "
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ১৮৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৮৬
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩৫। উভয় পা গিরা পর্যন্ত ধোয়া
১৮৫। মুসা (রাহঃ) .... আমর ইবনে আবু হাসান (রাহঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাযিঃ)-কে নবী (ﷺ) এর উযু সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। তখন তিনি এক পাত্র পানি আনালেন এবং তাঁদের (দেখাবার) জন্য নবী (ﷺ) এর মত উযু করলেন। তিনি পাত্র থেকে দু’হাতে পানি ঢাললেন। তা দিয়ে হাত দুটি তিনবার ধুলেন। তারপর পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে তিন আঁজলা পানি দিয়ে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়লেন। তারপর আবার হাত ঢুকালেন। তিনবার তাঁর চেহারা মুবারক ধুলেন। তারপর আবার হাত ঢুকিয়ে (পানি নিয়ে) দুই হাত কনুই পর্যন্ত দু’বার ধুলেন। তারপর আবার হাত ঢুকিয়ে উভয় হাত দিয়ে সামনে এবং পেছনে একবার মাথা মাসাহ করলেন। তারপর দু’পা গিরা পর্যন্ত ধুলেন।
كتاب الوضوء
باب غَسْلِ الرِّجْلَيْنِ إِلَى الْكَعْبَيْنِ
186 - حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ أَبِيهِ، شَهِدْتُ عَمْرَو بْنَ أَبِي حَسَنٍ، سَأَلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَيْدٍ، عَنْ وُضُوءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَدَعَا بِتَوْرٍ مِنْ مَاءٍ، فَتَوَضَّأَ لَهُمْ وُضُوءَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص:49]، «فَأَكْفَأَ عَلَى يَدِهِ مِنَ التَّوْرِ، فَغَسَلَ يَدَيْهِ ثَلاَثًا، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي التَّوْرِ، فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَاسْتَنْثَرَ، ثَلاَثَ غَرَفَاتٍ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا، ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ إِلَى المِرْفَقَيْنِ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فَمَسَحَ رَأْسَهُ، فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ مَرَّةً وَاحِدَةً، ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ إِلَى الكَعْبَيْنِ»
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ১৮৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৮৭
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩৬। মানুষের উযুর অবশিষ্ট পানি ব্যবহার করা।
জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) তাঁর পরিবারকে মিসওয়াক ধোয়া অবশিষ্ট পানি দিয়ে উযু করতে নির্দেশ দেন।
জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) তাঁর পরিবারকে মিসওয়াক ধোয়া অবশিষ্ট পানি দিয়ে উযু করতে নির্দেশ দেন।
১৮৬। আদম (রাহঃ) ......... আবু জুহায়ফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, একবার দুপুরে নবী (ﷺ) আমাদের সামনে বেরিয়ে এলেন। তাঁকে উযুর পানি এনে দেওয়া হল। তখন তিনি উযু করলেন। লোকে তাঁর উযুর ব্যবহৃত পানি নিয়ে গায়ে মাখতে লাগল। এরপর নবী (ﷺ) যোহরের দু’রাকআত এবং আসরের দু’রাকআত নামায আদায় করলেন। আর তাঁর সামনে ছিল একখানি লাঠি।
كتاب الوضوء
باب اسْتِعْمَالِ فَضْلِ وَضُوءِ النَّاسِ
وَأَمَرَ جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَهْلَهُ أَنْ يَتَوَضَّئُوا بِفَضْلِ سِوَاكِهِ
وَأَمَرَ جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَهْلَهُ أَنْ يَتَوَضَّئُوا بِفَضْلِ سِوَاكِهِ
187 - حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الحَكَمُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا جُحَيْفَةَ، يَقُولُ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالهَاجِرَةِ، فَأُتِيَ بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ، فَجَعَلَ النَّاسُ يَأْخُذُونَ مِنْ فَضْلِ وَضُوئِهِ فَيَتَمَسَّحُونَ بِهِ، فَصَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الظُّهْرَ رَكْعَتَيْنِ، وَالعَصْرَ رَكْعَتَيْنِ، وَبَيْنَ يَدَيْهِ عَنَزَةٌ
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ১৮৭
আন্তর্জাতিক নং: ১৮৮
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩৬। মানুষের উযুর অবশিষ্ট পানি ব্যবহার করা।
১৮৭। আবু মুসা (রাযিঃ) বলেনঃ নবী (ﷺ) একটি পাত্র আনালেন যাতে পানি ছিল। তারপর তিনি তার মধ্যে উভয় হাত ও চেহারা মুবারক ধুলেন এবং তার মধ্যে কুলি করলেন। তারপর তাঁদের দু’জন [আবু মুসা (রাযিঃ) ও বিলাল (রাযিঃ)]-কে বললেন, তোমরা এ থেকে পান কর এবং তোমাদের মুখমণ্ডলে ও বুকে ঢাল।
كتاب الوضوء
باب اسْتِعْمَالِ فَضْلِ وَضُوءِ النَّاسِ
188 - وَقَالَ أَبُو مُوسَى: دَعَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَدَحٍ فِيهِ مَاءٌ، فَغَسَلَ يَدَيْهِ وَوَجْهَهُ فِيهِ، وَمَجَّ فِيهِ، ثُمَّ قَالَ لَهُمَا: «اشْرَبَا مِنْهُ، وَأَفْرِغَا عَلَى وُجُوهِكُمَا وَنُحُورِكُمَا»
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ১৮৮
আন্তর্জাতিক নং: ১৮৯
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩৬। মানুষের উযুর অবশিষ্ট পানি ব্যবহার করা।
১৮৮। আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... মাহমুদ ইবনুর-রবী' (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, বর্ণনাকারী বলেনঃ তিনি সে ব্যক্তি, যার মুখমণ্ডলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদের কুয়া থেকে পানি নিয়ে কুলির পানি দিয়েছিলান। তিনি তখন বালক ছিলেন। উরওয়া (রাহঃ) মিসওয়ার (রাযিঃ) প্রমুখের কাছ থেকে হাদীস বর্ণনা করেন। এ উভয় বর্ণনা একটি অন্যটির সত্যায়ন করে। নবী (ﷺ) যখন উযু করতেন তখন তাঁর ব্যবহৃত পানির উপর তাঁরা (সাহাবায়ে কিরাম) যেন হুমড়ি খেয়ে পড়তেন।
كتاب الوضوء
باب اسْتِعْمَالِ فَضْلِ وَضُوءِ النَّاسِ
189 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَحْمُودُ بْنُ الرَّبِيعِ، قَالَ «وَهُوَ الَّذِي مَجَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي وَجْهِهِ وَهُوَ غُلاَمٌ مِنْ بِئْرِهِمْ» وَقَالَ عُرْوَةُ، عَنِ المِسْوَرِ، وَغَيْرِهِ يُصَدِّقُ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا صَاحِبَهُ «وَإِذَا تَوَضَّأَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَادُوا يَقْتَتِلُونَ عَلَى وَضُوئِهِ»
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ১৮৯
আন্তর্জাতিক নং: ১৯০
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩৭। (শিরোনামমুক্ত) পরিচ্ছেদ
১৮৯। আব্দুর রহমান ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রাযিঃ) বলেনঃ আমার খালা আমাকে নিয়ে নবী (ﷺ) এর খিদমতে হাযির হলেন এবং বললেনঃ ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার ভাগ্নে অসুস্থ’। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং বরকতের দুআ করলেন। তারপর উযু করলেন। আমি তাঁর উযুর (অবশিষ্ট) পানি পান করলাম। তারপর তাঁর পেছনে দাঁড়ালাম। তখন আমি তাঁর উভয় কাঁধের মধ্যস্থলে মোহরে নুবূওয়াত দেখতে পেলাম। তা ছিল নওশার আসনের ঘুন্টির মত।
كتاب الوضوء
باب خال عن الترجمة
190 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنِ الجَعْدِ، قَالَ: سَمِعْتُ السَّائِبَ بْنَ يَزِيدَ، يَقُولُ: ذَهَبَتْ بِي خَالَتِي إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ ابْنَ أُخْتِي وَجِعٌ «فَمَسَحَ رَأْسِي وَدَعَا لِي بِالْبَرَكَةِ، ثُمَّ تَوَضَّأَ، فَشَرِبْتُ مِنْ وَضُوئِهِ، ثُمَّ قُمْتُ خَلْفَ ظَهْرِهِ، فَنَظَرْتُ إِلَى خَاتَمِ النُّبُوَّةِ بَيْنَ كَتِفَيْهِ، مِثْلَ زِرِّ الحَجَلَةِ»
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ১৯০
আন্তর্জাতিক নং: ১৯১
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩৮। এক আঁজলা পানি দিয়ে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া
১৯০। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, একবার তিনি পাত্র থেকে উভয় হাতে পানি ঢেলে দু’হাত ধৌত করলেন। তারপর এক আঁজলা পানি দিয়ে (মুখ) ধুলেন বা কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলান। তিনবার এরূপ করলেন। তারপর দু’হাত কনুই পর্যন্ত দু’-দু’বার ধুলেন এবং মাথার সামনের অংশ এবং পেছনের অংশ মাসাহ করলেন। আর গিরা পর্যন্ত দু’পা ধুলেন। এরপর বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উযু এরূপ ছিল।
كتاب الوضوء
باب مَنْ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ مِنْ غَرْفَةٍ وَاحِدَةٍ
191 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، أَنَّهُ أَفْرَغَ مِنَ الإِنَاءِ عَلَى يَدَيْهِ فَغَسَلَهُمَا، ثُمَّ غَسَلَ - أَوْ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ - مِنْ كَفَّةٍ وَاحِدَةٍ، فَفَعَلَ ذَلِكَ ثَلاَثًا، فَغَسَلَ يَدَيْهِ إِلَى المِرْفَقَيْنِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ، وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ، مَا أَقْبَلَ وَمَا أَدْبَرَ، وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ إِلَى الكَعْبَيْنِ، ثُمَّ قَالَ: «هَكَذَا وُضُوءُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ১৯১
আন্তর্জাতিক নং: ১৯২
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩৯। একবার মাথা মাসাহ্ করা
১৯১। সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ......... ইয়াহয়া (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার আমর ইবনে আবু হাসান (রাযিঃ) এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাযিঃ)-কে নবী (ﷺ) এর উযু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তারপর তিনি পানির একটি পাত্র আনালেন এবং উযু করে তাঁদের দেখালেন। তিনি পাত্রটি কাত করে উভয় হাতের উপর পানি ঢেলে তিনবার তা ধুয়ে ফেলেন। তারপর পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকালেন এবং তিন আঁজলা পানি দিয়ে তিনবার করে কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে তা ঝেড়ে ফেললেন। তারপর আবার পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকালেন (এবং পানি দিয়ে) তিনবার মুখমণ্ডল ধুলেন। তারপর আবার পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকালেন এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত দু’-দু’বার ধুলেন। তারপর আবার পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকালেন। তাঁর মাথা হাত দিয়ে সামনে এবং পেছনে মাসাহ করলেন। তারপর আবার পাত্রের মধ্যে তাঁর হাত ঢুকালেন এবং উভয় পা ধুলেন।
كتاب الوضوء
باب مَسْحِ الرَّأْسِ مَرَّةً
192 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: شَهِدْتُ عَمْرَو بْنَ أَبِي حَسَنٍ، سَأَلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَيْدٍ عَنْ وُضُوءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «فَدَعَا بِتَوْرٍ [ص:50] مِنْ مَاءٍ فَتَوَضَّأَ لَهُمْ، فَكَفَأَ عَلَى يَدَيْهِ فَغَسَلَهُمَا ثَلاَثًا، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلاَثًا، بِثَلاَثِ غَرَفَاتٍ مِنْ مَاءٍ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ، فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ، فَغَسَلَ يَدَيْهِ إِلَى المِرْفَقَيْنِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ فَمَسَحَ بِرَأْسِهِ، فَأَقْبَلَ بِيَدَيْهِ وَأَدْبَرَ بِهِمَا، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ فَغَسَلَ رِجْلَيْهِ»
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ১৯২
আন্তর্জাতিক নং: ১৯২
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৩৯। একবার মাথা মাসাহ্ করা
১৯২। উহাইব (রাহঃ) সূত্রে মুসা (রাহঃ) আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, মাথা একবার মাসাহ্ করেন।
كتاب الوضوء
باب مَسْحِ الرَّأْسِ مَرَّةً
192 - وحَدَّثَنَا مُوسَى قَالَ: حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ قَالَ: مَسَحَ رَأْسَهُ مَرَّةً
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ১৯৩
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪০। নিজ স্ত্রীর সাথে উযু করা এবং স্ত্রীর উযুর অবশিষ্ট পানি (ব্যবহার করা)।
উমর (রাযিঃ) গরম পানি দিয়ে এবং খ্রিস্টান মহিলার ঘরের পানি দিয়ে উযু করেন।
উমর (রাযিঃ) গরম পানি দিয়ে এবং খ্রিস্টান মহিলার ঘরের পানি দিয়ে উযু করেন।
১৯৩। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল (ﷺ) এর যামানায় পুরুষ এবং মহিলা একত্রে উযু করতেন।
كتاب الوضوء
باب وُضُوءِ الرَّجُلِ مَعَ امْرَأَتِهِ وَفَضْلِ وَضُوءِ الْمَرْأَةِ وَتَوَضَّأَ عُمَرُ بِالحَمِيمِ وَمِنْ بَيْتِ نَصْرَانِيَّةٍ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ كَانَ الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ يَتَوَضَّئُونَ فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَمِيعًا.
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ১৯৪
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪১। বেহুশ লোকের ওপর নবী (ﷺ) এর উযুর পানি ছিটিয়ে দেওয়া
১৯৪। আবুল ওলীদ (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমার পীড়িত অবস্থায় একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার খোঁজ-খবর নিতে এলেন। আমি তখন এতই অসুস্থ ছিলাম যে, আমার জ্ঞান ছিল না। তারপর তিনি উযু করলেন এবং তাঁর উযুর পানি আমার ওপর ছিটিয়ে দিলেন। তখন আমার জ্ঞান ফিরে এল। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (আমার) ‘মীরাস’ কে পাবে? আমার একমাত্র ওয়ারিস হল কালালা (অর্থ পিতামাতা ও সন্তান-সন্ততি ছাড়া অন্যেরা)। তখন ফারায়েযের আয়াত নাযিল হল।
كتاب الوضوء
باب صَبِّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَضُوءَهُ عَلَى الْمُغْمَى عَلَيْهِ
194 - حَدَّثَنَا أَبُو الوَلِيدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ المُنْكَدِرِ، قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرًا يَقُولُ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُنِي، وَأَنَا مَرِيضٌ لاَ أَعْقِلُ، فَتَوَضَّأَ وَصَبَّ عَلَيَّ مِنْ وَضُوئِهِ، فَعَقَلْتُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لِمَنِ المِيرَاثُ؟ إِنَّمَا يَرِثُنِي كَلاَلَةٌ، فَنَزَلَتْ آيَةُ الفَرَائِضِ
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ১৯৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৯৫
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪২। গামলা, কাঠ ও পাথরের পাত্রে উযু-গোসল করা
১৯৫। আব্দুল্লাহ ইবনে মুনীর (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নামাযের সময় উপস্থিত হলে যাঁদের বাড়ী নিকটে ছিল তাঁরা (উযু করার জন্য) বাড়ী চলে গেলেন। আর কিছু লোক রয়ে গেলেন (তাঁদের কোন উযুর ব্যবস্থা ছিল না)। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য একটি পাথরের পাত্রে পানি আনা হল। পাত্রটি এত ছোট ছিল যে, তার মধ্যে তাঁর উভয় হাত মেলে দেওয়া সম্ভব ছিল না। তা থেকেই কওমের সকল লোক উযু করলেন। আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, আপনারা কতজন ছিলেন? তিনি বললেন, আশিজন বা আরো বেশী।
كتاب الوضوء
باب الْغُسْلِ وَالْوُضُوءِ فِي الْمِخْضَبِ وَالْقَدَحِ وَالْخَشَبِ وَالْحِجَارَةِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُنِيرٍ، سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ بَكْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ حَضَرَتِ الصَّلاَةُ، فَقَامَ مَنْ كَانَ قَرِيبَ الدَّارِ إِلَى أَهْلِهِ، وَبَقِيَ قَوْمٌ، فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِخْضَبٍ مِنْ حِجَارَةٍ فِيهِ مَاءٌ، فَصَغُرَ الْمِخْضَبُ أَنْ يَبْسُطَ فِيهِ كَفَّهُ، فَتَوَضَّأَ الْقَوْمُ كُلُّهُمْ. قُلْنَا كَمْ كُنْتُمْ قَالَ ثَمَانِينَ وَزِيَادَةً.
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ১৯৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৯৬
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪২। গামলা, কাঠ ও পাথরের পাত্রে উযু-গোসল করা
১৯৬। মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) .... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার নবী (ﷺ) একটি পানি ভর্তি পাত্র আনালেন। তাতে তাঁর উভয় হাত ও মুখমণ্ডল ধুলেন এবং কুলি করলেন।
كتاب الوضوء
باب الْغُسْلِ وَالْوُضُوءِ فِي الْمِخْضَبِ وَالْقَدَحِ وَالْخَشَبِ وَالْحِجَارَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَعَا بِقَدَحٍ فِيهِ مَاءٌ، فَغَسَلَ يَدَيْهِ وَوَجْهَهُ فِيهِ وَمَجَّ فِيهِ.
তাহকীক:
বর্ণনাকারী:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ১৯৭
আন্তর্জাতিক নং: ১৯৭
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪২। গামলা, কাঠ ও পাথরের পাত্রে উযু-গোসল করা
১৯৭। আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাযিঃ) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বাড়ীতে এলেন। আমরা তাঁকে পিতলের একটি পাত্রে পানি দিলাম। তিনি তা দিয়ে উযু করলেন। তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ও উভয় হাত দু’-দু’বার করে ধুলেন এবং তাঁর হাত সামনে ও পেছনে এনে মাথা মাসাহ করলেন আর উভয় পা ধুলেন।
كتاب الوضوء
باب الْغُسْلِ وَالْوُضُوءِ فِي الْمِخْضَبِ وَالْقَدَحِ وَالْخَشَبِ وَالْحِجَارَةِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ أَتَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْرَجْنَا لَهُ مَاءً فِي تَوْرٍ مِنْ صُفْرٍ فَتَوَضَّأَ، فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَيَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ، وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ فَأَقْبَلَ بِهِ وَأَدْبَرَ، وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ.
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ১৯৮
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪২। গামলা, কাঠ ও পাথরের পাত্রে উযু-গোসল করা
১৯৮। আবুল ইয়ামান (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, নবী (ﷺ) এর রোগ যন্ত্রণা বেড়ে গেলে তিনি আমার ঘরে শুশ্রূষার জন্য তাঁর পত্নীগণের অনুমতি চাইলেন। তাঁরা অনুমতি দিলে নবী (ﷺ) (আমার ঘরে আসার জন্য) দু’ব্যক্তির ওপর ভর করে বের হলেন। আর তাঁর পা দু’খানি তখন মাটিতে চিহ্ন রেখে যাচ্ছিল। তিনি আব্বাস (রাযিঃ) ও অন্য এক ব্যক্তির মাঝখানে ছিলেন। উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে এ কথা অবহিত করলাম। তিনি বললেন, সে অন্য ব্যক্তিটি কে তা কি তুমি জানো? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তিনি হলেন আলী ইবনে আবু তালিব (রাযিঃ)। আয়িশা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, নবী (ﷺ) তাঁর ঘরে আসার পর রোগ আরো বেড়ে গেলে তিনি বললেন, তোমরা আমার উপর মুখের বাঁধন খোলা হয়নি এমন সাতটি মশকের পানি ঢেলে দাও, তাহলে হয়ত আমি মানুষকে কিছু ওসিয়ত করব। তাঁকে তাঁর সহধর্মিণী হাফসা (রাযিঃ) এর একটি বড় পাত্রের মধ্যে বসিয়ে দেওয়া হল। তারপর আমরা তাঁর ওপর সেই সাত মশক পানি ঢালতে শুরু করলাম। এভাবে ঢালার পর এক সময় তিনি আমাদের প্রতি ইশারা করলেন, (এখন থাম) তোমরা তোমাদের কাজ করেছ। এরপর তিনি বের হয়ে জনসমক্ষে গেলেন।
كتاب الوضوء
باب الْغُسْلِ وَالْوُضُوءِ فِي الْمِخْضَبِ وَالْقَدَحِ وَالْخَشَبِ وَالْحِجَارَةِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمَّا ثَقُلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَاشْتَدَّ بِهِ وَجَعُهُ، اسْتَأْذَنَ أَزْوَاجَهُ فِي أَنْ يُمَرَّضَ فِي بَيْتِي، فَأَذِنَّ لَهُ، فَخَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ رَجُلَيْنِ تَخُطُّ رِجْلاَهُ فِي الأَرْضِ بَيْنَ عَبَّاسٍ وَرَجُلٍ آخَرَ. قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ فَأَخْبَرْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ أَتَدْرِي مَنِ الرَّجُلُ الآخَرُ قُلْتُ لاَ. قَالَ هُوَ عَلِيٌّ. وَكَانَتْ عَائِشَةُ ـ رضى الله عنها ـ تُحَدِّثُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ بَعْدَ مَا دَخَلَ بَيْتَهُ وَاشْتَدَّ وَجَعُهُ " هَرِيقُوا عَلَىَّ مِنْ سَبْعِ قِرَبٍ، لَمْ تُحْلَلْ أَوْكِيَتُهُنَّ، لَعَلِّي أَعْهَدُ إِلَى النَّاسِ ". وَأُجْلِسَ فِي مِخْضَبٍ لِحَفْصَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ طَفِقْنَا نَصُبُّ عَلَيْهِ تِلْكَ حَتَّى طَفِقَ يُشِيرُ إِلَيْنَا أَنْ قَدْ فَعَلْتُنَّ، ثُمَّ خَرَجَ إِلَى النَّاسِ.
তাহকীক:
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ১৯৯
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪৩। গামলা থেকে উযু করা
১৯৯। খালিদ ইবনে মাখলাদ (রাহঃ) .... ইয়াহয়া (রাহঃ) বলেন, আমার চাচা উযুর পানি বেশী খরচ করতেন। একদিন তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাযিঃ)-কে বললেন, আপনি নবী (ﷺ)কে কিভাবে উযু করতে দেখেছেন? তিনি এক গামলা পানি আনালেন। সেটি উভয় হাতের ওপর কাত করে (তা থেকে পানি ঢেলে)
উভয় হাত তিনবার ধুলেন, তারপর তাঁর হাত গামলায় ঢুকালেন। তারপর এক আঁজলা পানি দিয়ে তিনবার কুলি করলেন এবং নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর পানিতে তাঁর হাত ঢুকালেন। উভয় হাতে এক আঁজলা পানি নিয়ে মুখমণ্ডল তিনবার ধুলেন। তারপর উভয় হাত কনুই পর্যন্ত দু’বার করে ধুলেন। তারপর উভয় হাতে পানি নিয়ে মাথার সামনে এবং পেছনে মাসাহ করলেন এবং দু’পা ধুলেন। তারপর বললেন, আমি নবী (ﷺ) কে এভাবেই উযু করতে দেখেছি।
উভয় হাত তিনবার ধুলেন, তারপর তাঁর হাত গামলায় ঢুকালেন। তারপর এক আঁজলা পানি দিয়ে তিনবার কুলি করলেন এবং নাক পরিষ্কার করলেন। তারপর পানিতে তাঁর হাত ঢুকালেন। উভয় হাতে এক আঁজলা পানি নিয়ে মুখমণ্ডল তিনবার ধুলেন। তারপর উভয় হাত কনুই পর্যন্ত দু’বার করে ধুলেন। তারপর উভয় হাতে পানি নিয়ে মাথার সামনে এবং পেছনে মাসাহ করলেন এবং দু’পা ধুলেন। তারপর বললেন, আমি নবী (ﷺ) কে এভাবেই উযু করতে দেখেছি।
كتاب الوضوء
باب الْوُضُوءِ مِنَ التَّوْرِ
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، قَالَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ عَمِّي يُكْثِرُ مِنَ الْوُضُوءِ، قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ أَخْبِرْنِي كَيْفَ رَأَيْتَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ فَدَعَا بِتَوْرٍ مِنْ مَاءٍ، فَكَفَأَ عَلَى يَدَيْهِ فَغَسَلَهُمَا ثَلاَثَ مِرَارٍ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي التَّوْرِ، فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ مِنْ غَرْفَةٍ وَاحِدَةٍ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فَاغْتَرَفَ بِهَا فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ غَسَلَ يَدَيْهِ إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ، ثُمَّ أَخَذَ بِيَدِهِ مَاءً، فَمَسَحَ رَأْسَهُ، فَأَدْبَرَ بِيَدَيْهِ وَأَقْبَلَ ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ، فَقَالَ هَكَذَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ.
সহীহ বুখারী
হাদীস নং: ২০০
- উযূর অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৪৩। গামলা থেকে উযু করা
২০০। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) একপাত্র পানি চাইলেন। একটি বড় পাত্র তাঁর কাছে আনা হল, তাতে সামান্য পানি ছিল। তারপর তিনি তার মধ্যে তাঁর আঙ্গুল রাখলেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, আমি পানির দিকে তাকাতে লাগলাম। তাঁর আঙ্গুলের ভেতর দিয়ে পানি উথলে উঠতে লাগল। আনাস (রাযিঃ) বলেন, যারা উযু করেছিল, আমি অনুমান করলাম তাদের সংখ্যা ছিল ৭০ থেকে ৮০ জন।
كتاب الوضوء
باب الْوُضُوءِ مِنَ التَّوْرِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَعَا بِإِنَاءٍ مِنْ مَاءٍ، فَأُتِيَ بِقَدَحٍ رَحْرَاحٍ فِيهِ شَىْءٌ مِنْ مَاءٍ، فَوَضَعَ أَصَابِعَهُ فِيهِ. قَالَ أَنَسٌ فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ إِلَى الْمَاءِ يَنْبُعُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ، قَالَ أَنَسٌ فَحَزَرْتُ مَنْ تَوَضَّأَ مَا بَيْنَ السَّبْعِينَ إِلَى الثَّمَانِينَ.