শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
شرح معاني الآثار المختلفة المروية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في الأحكام
১৫. বন্ধক রাখার অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ১৯ টি
হাদীস নং: ৫৮৯৪
বন্ধক রাখার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অধ্যায় : বন্ধক পর্ব
বন্ধক রাখা প্রাণীতে আরােহণ, তার ব্যবহার ও তার দুধপান করা প্রসঙ্গ
বন্ধক রাখা প্রাণীতে আরােহণ, তার ব্যবহার ও তার দুধপান করা প্রসঙ্গ
৫৮৯৪। আলী ইব্ন শায়বা …… হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী(ﷺ) হতে বর্ণনা করেন, যানবাহনের উট যখন বন্ধক রাখা হবে, তখন তার ওপরে তার ব্যয় বহনের বিনিময়ে আরােহণ করা যাবে এবং উটের দুধ পান করা যাবে তার ব্যয় বহনের বিনিময়ে, যখন তা বন্ধক রাখা হবে।
আবু জাফর (রাহঃ) বলেন, একদল উলামা-ই কিরাম এই মত পােষণ করেন, রাহেন বা বন্ধকদাতার জন্য তার বন্ধক রাখা চতুষ্পদ প্রাণীর ওপর তার ব্যয় বহনের বিনিময়ে সওয়ার হওয়া জায়েয আছে। অনুরূপভাবে তার ব্যয় বহনের বিনিময়ে দুধপান করাও জায়েয আছে। তাঁরা উল্লেখিত এ হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করেন।
আল্লামা আইনী বলেন, এ উলামা-ই কিরাম দ্বারা ইবরাহীম নাখঈ, ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) আহলে যাহির উদ্দেশ্য। অতঃপর তিনি বলেন, হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-এর মতও এটাই।
অপরদিকে উলামা-ই কিরামের অন্য একটি দল তাঁদের বিরােধিতা করে বলেন, রাহেন-এর জন্য তার বন্ধক রাখা চতুষ্পদ প্রাণীর ওপর সওয়ার হওয়া জায়েয নেই। অনুরূপভাবে বন্ধক রাখা প্রাণীর দুধপান করাও তার জন্য জায়েয নেই। বস্তুত দুধও উক্ত প্রাণীর সাথে বন্ধক। আর রাহেনের জন্য তার বন্ধক রাখা বস্তুর কোন কিছু দ্বারা উপকৃত হওয় জায়েয নয়।
আল্লামা আইনী বলেন, এ উলামা-ই কিরাম দ্বারা সাওরী, ইমাম আবু হানীফা, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ, ইমাম মালিক ও ইমাম আহমদ (রাহঃ) উদ্দেশ্য।
প্রথম মতের প্রবক্তাদের বিরুদ্ধে তাদের দলীল হলাে, তারা উল্লেখিত যে হাদীসটি দলীল হিসেবে পেশ করেছেন, বস্তুত তা মুজমাল বা সংক্ষিপ্ত। উক্ত হাদীসে একথা উল্লেখ করা হয়নি, কোন ব্যক্তি সওয়ার হবে, অতএব তারা مرتهن (বন্ধক গ্রহীতা)-কে বাদ দিয়ে راهن-কে কিভাবে সাব্যস্ত করলেন ? (সে-ই আরােহণ করতে পারবে ও দুধপান করতে পারবে)? কিতাবুল্লাহ, সুন্নত কিংবা ইজমা, এই তিন দলীলের কোন এক দলীল ছাড়া কারাে অনুকূলে সিদ্ধান্ত দেয়া যাবে না। এ হাদীসটি হুশায়মও বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এমন কিছু বর্ণনা করেছেন, যা ইয়াযীদ ইব্ন হারূন বর্ণনা করেন নি।
আবু জাফর (রাহঃ) বলেন, একদল উলামা-ই কিরাম এই মত পােষণ করেন, রাহেন বা বন্ধকদাতার জন্য তার বন্ধক রাখা চতুষ্পদ প্রাণীর ওপর তার ব্যয় বহনের বিনিময়ে সওয়ার হওয়া জায়েয আছে। অনুরূপভাবে তার ব্যয় বহনের বিনিময়ে দুধপান করাও জায়েয আছে। তাঁরা উল্লেখিত এ হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করেন।
আল্লামা আইনী বলেন, এ উলামা-ই কিরাম দ্বারা ইবরাহীম নাখঈ, ইমাম শাফিঈ (রাহঃ) আহলে যাহির উদ্দেশ্য। অতঃপর তিনি বলেন, হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ)-এর মতও এটাই।
অপরদিকে উলামা-ই কিরামের অন্য একটি দল তাঁদের বিরােধিতা করে বলেন, রাহেন-এর জন্য তার বন্ধক রাখা চতুষ্পদ প্রাণীর ওপর সওয়ার হওয়া জায়েয নেই। অনুরূপভাবে বন্ধক রাখা প্রাণীর দুধপান করাও তার জন্য জায়েয নেই। বস্তুত দুধও উক্ত প্রাণীর সাথে বন্ধক। আর রাহেনের জন্য তার বন্ধক রাখা বস্তুর কোন কিছু দ্বারা উপকৃত হওয় জায়েয নয়।
আল্লামা আইনী বলেন, এ উলামা-ই কিরাম দ্বারা সাওরী, ইমাম আবু হানীফা, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মাদ, ইমাম মালিক ও ইমাম আহমদ (রাহঃ) উদ্দেশ্য।
প্রথম মতের প্রবক্তাদের বিরুদ্ধে তাদের দলীল হলাে, তারা উল্লেখিত যে হাদীসটি দলীল হিসেবে পেশ করেছেন, বস্তুত তা মুজমাল বা সংক্ষিপ্ত। উক্ত হাদীসে একথা উল্লেখ করা হয়নি, কোন ব্যক্তি সওয়ার হবে, অতএব তারা مرتهن (বন্ধক গ্রহীতা)-কে বাদ দিয়ে راهن-কে কিভাবে সাব্যস্ত করলেন ? (সে-ই আরােহণ করতে পারবে ও দুধপান করতে পারবে)? কিতাবুল্লাহ, সুন্নত কিংবা ইজমা, এই তিন দলীলের কোন এক দলীল ছাড়া কারাে অনুকূলে সিদ্ধান্ত দেয়া যাবে না। এ হাদীসটি হুশায়মও বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এমন কিছু বর্ণনা করেছেন, যা ইয়াযীদ ইব্ন হারূন বর্ণনা করেন নি।
كتاب الرهن
كِتَابُ الرَّهْنِ بَابُ رُكُوبِ الرَّهْنِ وَاسْتِعْمَالِهِ وَشُرْبِ لَبَنِهِ
5894 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ شَيْبَةَ قَالَ: ثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ قَالَ: أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ أَبِي زَائِدَةَ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الظَّهْرُ يُرْكَبُ بِنَفَقَتِهِ إِذَا كَانَ مَرْهُونًا وَلَبَنُ الدَّرِّ يُشْرَبُ بِنَفَقَتِهِ إِذَا كَانَ مَرْهُونًا» [ص:99] قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَذَهَبَ قَوْمٌ إِلَى أَنَّ لِلرَّاهِنِ أَنْ يَرْكَبَ الرَّهْنَ بِحَقِّ نَفَقَتِهِ عَلَيْهِ وَيَشْرَبَ لَبَنَهُ أَيْضًا بِحَقِّ نَفَقَتِهِ عَلَيْهِ وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِهَذَا الْحَدِيثِ. وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ آخَرُونَ فَقَالُوا: لَيْسَ لِلرَّاهِنِ أَنْ يَرْكَبَ الرَّهْنَ وَلَا يَشْرَبَ لَبَنَهُ وَهُوَ رَهْنٌ مَعَهُ وَلَيْسَ لَهُ أَنْ يَنْتَفِعَ مِنْهُ بِشَيْءٍ. وَكَانَ مِنَ الْحُجَّةِ لَهُمْ عَلَى أَهْلِ الْمَقَالَةِ الْأُولَى أَنَّ هَذَا الْحَدِيثَ الَّذِي احْتَجُّوا بِهِ حَدِيثٌ مُجْمَلٌ لَمْ يُبَيِّنْ فِيهِ مَنِ الَّذِي يَرْكَبُ وَيَشْرَبُ اللَّبَنَ؟ فَمِنْ أَيْنَ جَازَ لَهُمْ أَنْ يَجْعَلُوهُ الرَّاهِنَ دُونَ أَنْ يَجْعَلُوهُ الْمُرْتَهِنَ؟ هَذَا لَا يَكُونُ لِأَحَدٍ إِلَّا بِدَلِيلٍ يَدُلُّهُ عَلَى ذَلِكَ إِمَّا مِنْ كِتَابٍ أَوْ سُنَّةٍ أَوْ إِجْمَاعٍ. وَمَعَ ذَلِكَ فَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ هُشَيْمٌ وَبَيَّنَ فِيهِ مَا لَمْ يُبَيِّنْ يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৮৯৫
বন্ধক রাখার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বন্ধক রাখা প্রাণীতে আরােহণ, তার ব্যবহার ও তার দুধপান করা প্রসঙ্গ
৫৮৯৫। আহমদ ইব্ন দাউদ ….. হুশায়ম পর্যায়ক্রমে যাকারিয়া, শা'বী ও হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, নবী(ﷺ) ইরশাদ করেছেন : যখন কোন চতুষ্পদ প্রাণী বন্ধক রাখা হয় তখন مرتهن -এর ওপর এর ঘাস খাওয়ানাের দায়িত্ব বর্তাবে। আর তার দুধপান করা যাবে। আর যে ব্যক্তি দুধপান করবে ও সওয়ার হবে, তার ওপর তার ব্যয় বহন করার দায়িত্ব বর্তাবে।
এ হাদীস প্রমাণ করে যে, প্রথম হাদীসে যার সওয়ার হওয়া ও দুধপান করার কথা বলা হয়েছে, সে ব্যক্তি مرتهن (সে راهن নয়) সওয়ার হওয়া ও দুধপান করার অধিকার তাকে প্রদান করা হয়েছে এবং বিনিময়ে তার ওপরই তার ব্যয় বহনের দায় আরােপ করা হয়েছে। আর এটাই আমাদের মাযহাব ছিল তখন, যখন রিবা ও সুদ মুবাহ ছিল এবং এমন ঋণ হতে যখন নিষেধ করা হয়নি যে ঋণ কোন উপকার টেনে আনে। আর একই ধরনের বস্তুর অসম বিনিময় গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়নি। অবশ্য তারপর রিবা হারাম করা হয়েছে, এমন সব ঋণও হারাম করা হয়েছে যা উপকার টেনে আনে (এবং ঋণদাতা অতিরিক্ত উপকার লাভ করে)। আর উলামা-ই কিরাম এ বিষয়ে একমত যে, বন্ধক রাখা প্রাণীর ব্যয় راهن-এর ওপর বর্তাবে, مرتهن-এর ওপর নয় এবং বন্ধক রাখা বস্তু مرتهن-এর জন্য ব্যবহার করা জায়েয নয়। রিবা মানসূখ হবার ব্যাপারে যে সব রিওয়ায়াত বর্ণিত আছে তা হতে-
এ হাদীস প্রমাণ করে যে, প্রথম হাদীসে যার সওয়ার হওয়া ও দুধপান করার কথা বলা হয়েছে, সে ব্যক্তি مرتهن (সে راهن নয়) সওয়ার হওয়া ও দুধপান করার অধিকার তাকে প্রদান করা হয়েছে এবং বিনিময়ে তার ওপরই তার ব্যয় বহনের দায় আরােপ করা হয়েছে। আর এটাই আমাদের মাযহাব ছিল তখন, যখন রিবা ও সুদ মুবাহ ছিল এবং এমন ঋণ হতে যখন নিষেধ করা হয়নি যে ঋণ কোন উপকার টেনে আনে। আর একই ধরনের বস্তুর অসম বিনিময় গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়নি। অবশ্য তারপর রিবা হারাম করা হয়েছে, এমন সব ঋণও হারাম করা হয়েছে যা উপকার টেনে আনে (এবং ঋণদাতা অতিরিক্ত উপকার লাভ করে)। আর উলামা-ই কিরাম এ বিষয়ে একমত যে, বন্ধক রাখা প্রাণীর ব্যয় راهن-এর ওপর বর্তাবে, مرتهن-এর ওপর নয় এবং বন্ধক রাখা বস্তু مرتهن-এর জন্য ব্যবহার করা জায়েয নয়। রিবা মানসূখ হবার ব্যাপারে যে সব রিওয়ায়াত বর্ণিত আছে তা হতে-
كتاب الرهن
5895 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ، قَالَ: ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ سَالِمٍ الصَّائِغُ، قَالَ: ثنا هُشَيْمٌ، عَنْ زَكَرِيَّا، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ذَكَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا كَانَتِ الدَّابَّةُ مَرْهُونَةً فَعَلَى الْمُرْتَهِنِ عَلَفُهَا وَلَبَنُ الدَّرِّ يُشْرَبُ وَعَلَى الَّذِي يَشْرَبُ نَفَقَتُهَا وَيَرْكَبُ» فَدَلَّ هَذَا الْحَدِيثُ أَنَّ الْمَعْنِيَّ بِالرُّكُوبِ وَشُرْبِ اللَّبَنِ فِي الْحَدِيثِ الْأَوَّلِ هُوَ الْمُرْتَهِنُ لَا الرَّاهِنُ فَجَعَلَ ذَلِكَ لَهُ وَجُعِلَتِ النَّفَقَةُ عَلَيْهِ بَدَلًا مِمَّا يَتَعَوَّضُ مِنْهُ مِمَّا ذَكَرْنَا. وَكَانَ هَذَا عِنْدَنَا وَاللهُ أَعْلَمُ، فِي وَقْتِ مَا كَانَ الرِّبَا مُبَاحًا وَلَمْ يُنْهَ حِينَئِذٍ عَنِ الْقَرْضِ الَّذِي يَجُرُّ مَنْفَعَةً وَلَا عَنْ أَخْذِ الشَّيْءِ بِالشَّيْءِ وَإِنْ كَانَا غَيْرَ مُتَسَاوِيَيْنِ ثُمَّ حُرِّمَ الرِّبَا بَعْدَ ذَلِكَ وَحُرِّمَ كُلُّ قَرْضٍ جَرَّ نَفْعًا وَأَجْمَعَ أَهْلُ الْعِلْمِ أَنَّ نَفَقَةَ الرَّهْنِ عَلَى الرَّاهِنِ لَا عَلَى الْمُرْتَهِنِ وَأَنَّهُ لَيْسَ لِلْمُرْتَهِنِ اسْتِعْمَالُ الرَّهْنِ. فَمِمَّا رُوِيَ فِي نَسْخِ الرِّبَا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৮৯৬
আন্তর্জাতিক নং: ৫৮৯৭
বন্ধক রাখার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বন্ধক রাখা প্রাণীতে আরােহণ, তার ব্যবহার ও তার দুধপান করা প্রসঙ্গ
৫৮৯৬-৯৭। সুলায়মান ইব্ন শুআয়ব ..…. মাসরূক হযরত আয়েশা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন : যখন সূরা বাকারার শেষের আয়াতসমূহ নাযিল হলাে, তখন রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) দাঁড়িয়ে সেগুলাে মানুষের সম্মুখে পাঠ করলেন। অতঃপর তিনি মদের ক্রয়-বিক্রয় করে ব্যবসা-বাণিজ্য করা হারাম ঘােষণা করলেন।
হাদীসের রাবী আব্দুর রহমান ইব্ন যিয়াদ আস্-সাকাফী-কে ইব্ন ইউনুস বিশ্বস্ত বলে মন্তব্য করেছেন। অনুরূপভাবে আবুয-যুহাও একজন বিশ্বস্ত রাবী ।
আহমদ ইব্ন দাউদ ….. মাসরূক হযরত আয়েশা (রাযিঃ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
অতঃপর যখন রিবা হারাম ঘােষণা করা হলাে, তখন এর যাবতীয় রূপও হারাম হয়ে গেল এবং রিবা ও সুদী কারবারে গৃহীত সব বস্তু তার সমপরিমাণ বদলে ফিরিয়ে দেয়া হলাে। আর এ সময়েই দুধের পশুর ওলানের দুধ বিক্রয় করাও হারাম করা হলাে। তখন যে ব্যয় বহনের মাধ্যমে ব্যয় বহনকারী ওলানের দুধের মালিক হতাে, সে ব্যয় করাও নিষিদ্ধ হওয়ার অন্তর্ভুক্ত হলাে। আর সে ব্যয় (নিষিদ্ধ হওয়া) তার কোন বিশেষ পরিমাণের ওপর মউকুফ নয়। অনুপভাবে দুধ বিক্রয়ের অবৈধতাও কোন বিশেষ পরিমাণের ওপর নির্ভরশীল নয়।
অতএব রিবা মানসূখ হবার কারণে مرتهن-এর ওপর তার নিকট বন্ধক রাখা বস্তু দ্বারা মুনাফা লাভের বিনিময়ে এবং দুধ দোহন করে তা পান করার বিনিময়ে যে ব্যয় বহন করা ওয়াজিব ছিল, তাও রহিত হয়েছে।
আর যিনি বন্ধকী প্রাণীর ব্যয় راهن-এর ওপর বর্তায় বলে মত প্রকাশ করেন এবং বন্ধকী বস্তু ব্যবহার করার অধিকারও তারই বলে সাব্যস্ত করেন, তাঁকে বলা হবে, বলুন তাে راهن-এর জন্য কি এটা জায়েয হবে যে, সে এমন একটি প্রাণী কারাে নিকট বন্ধক রাখবে, যার ওপর সে নিজে সওয়ার হওয়ার শর্ত করে ? তবে তার না বলা ছাড়া কোন উপায় নেই। তখন তাকে আবার জিজ্ঞেস করা হবে, বন্ধকী বস্তু এবং مرتهن -এর মাঝে বাধার অপসারণ না করলে তাে رهن , জায়েযই হবে না, তখন তাে مرتهن তা কবয করবে এবং তার হাতেই তা থাকবে, راهن এর হাতে নয়। যেমন আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন : فرهان مقبوضة - তখনও তিনি বলবেন, জ্বী, হ্যাঁ। তখন তাকে বলা হবে, যে পশুর ওপর راهن সওয়ার হয়ে আছে, তা বন্ধক রাখা যখন গ্রহণযােগ্য হবে , তখন তার কবযায় তা অবশিষ্ট থাকা একই কারণে জায়েয হবে না। কারণ বন্ধকী চুক্তিতে مرتهن-এর কবযায় বন্ধক রাখা বস্তুর অব্যাহতভাবে থাকা জরুরী। কারণ رهن (বন্ধক রাখা)-এর অর্থই হলাে مرتهن তার ঋণের বিনিময়ে বন্ধকী বস্তুকে আটকিয়ে রাখবে। আর এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা مرتهن-কে বন্ধক রাখা বাদী হতে খিদমত ও সেবা গ্রহণ করতে বিরত রাখে। কারণ এক্ষেত্রে উক্ত বাঁদী এমন এক অবস্থায় উপনীত হয়, যে কারণে তাকে বন্ধক রাখা চলে না।
এই দ্বিতীয় দলের পক্ষে অন্য একটি দলীল হলাে, উলামা-ই কিরাম এ বিষয়ে একমত যে, যে বাঁদীকে বন্ধক রাখা হয়, راهن -এর জন্য তার সাথে যৌন মিলন করা জায়েয নয় এবং مرتهن -এর জন্য তাকে বাধা দেয়ার অধিকার আছে। সুতরাং مرتهن যেমন راهن-কে তার বন্ধক রাখার অধিকারে বাঁদীর সহিত যৌন মিলন ঘটাতে বাধা দিতে পারে, অনুরূপভাবে راهن একই অধিকারে مرتهن কে উক্ত বাঁদী হতে খিদমত ও সেবা গ্রহণ করতে বাধা দিতে পারে। এটাই ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর মত।
হাদীসের রাবী আব্দুর রহমান ইব্ন যিয়াদ আস্-সাকাফী-কে ইব্ন ইউনুস বিশ্বস্ত বলে মন্তব্য করেছেন। অনুরূপভাবে আবুয-যুহাও একজন বিশ্বস্ত রাবী ।
আহমদ ইব্ন দাউদ ….. মাসরূক হযরত আয়েশা (রাযিঃ) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
অতঃপর যখন রিবা হারাম ঘােষণা করা হলাে, তখন এর যাবতীয় রূপও হারাম হয়ে গেল এবং রিবা ও সুদী কারবারে গৃহীত সব বস্তু তার সমপরিমাণ বদলে ফিরিয়ে দেয়া হলাে। আর এ সময়েই দুধের পশুর ওলানের দুধ বিক্রয় করাও হারাম করা হলাে। তখন যে ব্যয় বহনের মাধ্যমে ব্যয় বহনকারী ওলানের দুধের মালিক হতাে, সে ব্যয় করাও নিষিদ্ধ হওয়ার অন্তর্ভুক্ত হলাে। আর সে ব্যয় (নিষিদ্ধ হওয়া) তার কোন বিশেষ পরিমাণের ওপর মউকুফ নয়। অনুপভাবে দুধ বিক্রয়ের অবৈধতাও কোন বিশেষ পরিমাণের ওপর নির্ভরশীল নয়।
অতএব রিবা মানসূখ হবার কারণে مرتهن-এর ওপর তার নিকট বন্ধক রাখা বস্তু দ্বারা মুনাফা লাভের বিনিময়ে এবং দুধ দোহন করে তা পান করার বিনিময়ে যে ব্যয় বহন করা ওয়াজিব ছিল, তাও রহিত হয়েছে।
আর যিনি বন্ধকী প্রাণীর ব্যয় راهن-এর ওপর বর্তায় বলে মত প্রকাশ করেন এবং বন্ধকী বস্তু ব্যবহার করার অধিকারও তারই বলে সাব্যস্ত করেন, তাঁকে বলা হবে, বলুন তাে راهن-এর জন্য কি এটা জায়েয হবে যে, সে এমন একটি প্রাণী কারাে নিকট বন্ধক রাখবে, যার ওপর সে নিজে সওয়ার হওয়ার শর্ত করে ? তবে তার না বলা ছাড়া কোন উপায় নেই। তখন তাকে আবার জিজ্ঞেস করা হবে, বন্ধকী বস্তু এবং مرتهن -এর মাঝে বাধার অপসারণ না করলে তাে رهن , জায়েযই হবে না, তখন তাে مرتهن তা কবয করবে এবং তার হাতেই তা থাকবে, راهن এর হাতে নয়। যেমন আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন : فرهان مقبوضة - তখনও তিনি বলবেন, জ্বী, হ্যাঁ। তখন তাকে বলা হবে, যে পশুর ওপর راهن সওয়ার হয়ে আছে, তা বন্ধক রাখা যখন গ্রহণযােগ্য হবে , তখন তার কবযায় তা অবশিষ্ট থাকা একই কারণে জায়েয হবে না। কারণ বন্ধকী চুক্তিতে مرتهن-এর কবযায় বন্ধক রাখা বস্তুর অব্যাহতভাবে থাকা জরুরী। কারণ رهن (বন্ধক রাখা)-এর অর্থই হলাে مرتهن তার ঋণের বিনিময়ে বন্ধকী বস্তুকে আটকিয়ে রাখবে। আর এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা مرتهن-কে বন্ধক রাখা বাদী হতে খিদমত ও সেবা গ্রহণ করতে বিরত রাখে। কারণ এক্ষেত্রে উক্ত বাঁদী এমন এক অবস্থায় উপনীত হয়, যে কারণে তাকে বন্ধক রাখা চলে না।
এই দ্বিতীয় দলের পক্ষে অন্য একটি দলীল হলাে, উলামা-ই কিরাম এ বিষয়ে একমত যে, যে বাঁদীকে বন্ধক রাখা হয়, راهن -এর জন্য তার সাথে যৌন মিলন করা জায়েয নয় এবং مرتهن -এর জন্য তাকে বাধা দেয়ার অধিকার আছে। সুতরাং مرتهن যেমন راهن-কে তার বন্ধক রাখার অধিকারে বাঁদীর সহিত যৌন মিলন ঘটাতে বাধা দিতে পারে, অনুরূপভাবে راهن একই অধিকারে مرتهن কে উক্ত বাঁদী হতে খিদমত ও সেবা গ্রহণ করতে বাধা দিতে পারে। এটাই ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর মত।
كتاب الرهن
5896 - مَا حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ شُعَيْبٍ قَالَ: ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ قَالَ: ثنا شُعْبَةُ عَنْ مَنْصُورٍ وَالْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي الضُّحَى عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: لَمَّا نَزَلَتِ الْآيَاتُ الَّتِي فِي آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ قَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَرَأَهُنَّ عَلَى النَّاسِ ثُمَّ حَرَّمَ التِّجَارَةَ فِي بَيْعِ الْخَمْرِ
5897 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ، قَالَ ثنا مُسَدَّدٌ، قَالَ: ثنا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَنْصُورٌ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، مِثْلَهُ فَلَمَّا حُرِّمَ الرِّبَا حُرِّمَتْ أَشْكَالُهُ كُلُّهَا وَرُدَّتِ الْأَشْيَاءُ الْمَأْخُوذَةُ إِلَى أَبْدَالِهَا الْمُسَاوِيَةِ لَهَا وَحُرِّمَ بَيْعُ اللَّبَنِ فِي الضُّرُوعِ فَدَخَلَ فِي ذَلِكَ النَّهْيُ عَنِ النَّفَقَةِ الَّتِي يَمْلِكُ بِهَا الْمُنْفِقُ لَبَنًا فِي الضُّرُوعِ وَتِلْكَ النَّفَقَةُ فَغَيْرُ مَوْقُوفٍ عَلَى مِقْدَارِهَا وَاللَّبَنُ كَذَلِكَ أَيْضًا. فَارْتَفَعَ بِنَسْخِ الرِّبَا أَنْ تَجِبَ النَّفَقَةُ عَلَى الْمُرْتَهِنِ بِالْمَنَافِعِ الَّتِي يَجِبُ لَهُ عِوَضُهَا مِنْهَا وَبِاللَّبَنِ الَّذِي يَحْتَلِبُهُ فَيَشْرَبُهُ وَيُقَالُ لِمَنْ صَرَفَ ذَلِكَ إِلَى الرَّاهِنِ فَجَعَلَ لَهُ اسْتِعْمَالَ الرَّهْنِ: أَيَجُوزُ لِلرَّاهِنِ أَنْ يَرْهَنَ رَجُلًا دَابَّةً هُوَ رَاكِبُهَا؟ فَلَا يَجِدُ بُدًّا مِنْ أَنْ يَقُولَ: لَا. [ص:100] فَيُقَالُ لَهُ: فَإِذَا كَانَ الرَّهْنُ لَا يَجُوزُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مُخَلًّى بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْمُرْتَهِنِ فَيَقْبِضُهُ وَيَصِيرُ فِي يَدِهِ دُونَ يَدِ الرَّاهِنِ كَمَا وَصَفَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ الرَّهْنَ بِقَوْلِهِ {فَرِهَانٌ مَقْبُوضَةٌ} [البقرة: 283] فَيَقُولُ: نَعَمْ. فَيُقَالُ لَهُ: فَلَمَّا لَمْ يَجُزْ أَنْ يَسْتَقْبِلَ الرَّهْنَ عَلَى مَا الرَّاهِنُ رَاكِبُهُ لَمْ يَجُزْ ثُبُوتُهُ فِي يَدِهِ بَعْدَ ذَلِكَ رَهْنًا بِحَقِّهِ إِلَّا لِذَلِكَ أَيْضًا لِأَنَّ دَوَامَ الْقَبْضِ لَا بُدَّ مِنْهُ فِي الرَّهْنِ إِذَا كَانَ الرَّاهِنُ إِنَّمَا هُوَ احْتِبَاسُ الْمُرْتَهِنِ لِلشَّيْءِ الْمَرْهُونِ بِالدَّيْنِ وَفِي ذَلِكَ أَيْضًا مَا يَمْنَعُ الْمُرْتَهِنَ مِنِ اسْتِخْدَامِ الْأَمَةِ الرَّهْنِ لِأَنَّهَا تَرْجِعُ بِذَلِكَ إِلَى حَالٍ لَا يَجُوزُ عَلَيْهَا اسْتِقْبَالُ الرَّهْنِ. وَحُجَّةٌ أُخْرَى أَنَّهُمْ قَدْ أَجْمَعُوا أَنَّ الْأَمَةَ الرَّهْنَ لَيْسَ لِلرَّاهِنِ أَنْ يَطَأَهَا وَلِلْمُرْتَهِنِ مَنْعُهُ مِنْ ذَلِكَ. فَكَمَا كَانَ الْمُرْتَهِنُ يَمْنَعُ الرَّاهِنَ بِحَقِّ الرَّهْنِ مِنْ وَطْئِهَا كَانَ لَهُ أَيْضًا أَنْ يَمْنَعَهُ بِحَقِّ الرَّهْنِ مِنِ اسْتِخْدَامِهَا. وَهَذَا قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ.
5897 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ، قَالَ ثنا مُسَدَّدٌ، قَالَ: ثنا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَنْصُورٌ، عَنْ مُسْلِمٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، مِثْلَهُ فَلَمَّا حُرِّمَ الرِّبَا حُرِّمَتْ أَشْكَالُهُ كُلُّهَا وَرُدَّتِ الْأَشْيَاءُ الْمَأْخُوذَةُ إِلَى أَبْدَالِهَا الْمُسَاوِيَةِ لَهَا وَحُرِّمَ بَيْعُ اللَّبَنِ فِي الضُّرُوعِ فَدَخَلَ فِي ذَلِكَ النَّهْيُ عَنِ النَّفَقَةِ الَّتِي يَمْلِكُ بِهَا الْمُنْفِقُ لَبَنًا فِي الضُّرُوعِ وَتِلْكَ النَّفَقَةُ فَغَيْرُ مَوْقُوفٍ عَلَى مِقْدَارِهَا وَاللَّبَنُ كَذَلِكَ أَيْضًا. فَارْتَفَعَ بِنَسْخِ الرِّبَا أَنْ تَجِبَ النَّفَقَةُ عَلَى الْمُرْتَهِنِ بِالْمَنَافِعِ الَّتِي يَجِبُ لَهُ عِوَضُهَا مِنْهَا وَبِاللَّبَنِ الَّذِي يَحْتَلِبُهُ فَيَشْرَبُهُ وَيُقَالُ لِمَنْ صَرَفَ ذَلِكَ إِلَى الرَّاهِنِ فَجَعَلَ لَهُ اسْتِعْمَالَ الرَّهْنِ: أَيَجُوزُ لِلرَّاهِنِ أَنْ يَرْهَنَ رَجُلًا دَابَّةً هُوَ رَاكِبُهَا؟ فَلَا يَجِدُ بُدًّا مِنْ أَنْ يَقُولَ: لَا. [ص:100] فَيُقَالُ لَهُ: فَإِذَا كَانَ الرَّهْنُ لَا يَجُوزُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مُخَلًّى بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْمُرْتَهِنِ فَيَقْبِضُهُ وَيَصِيرُ فِي يَدِهِ دُونَ يَدِ الرَّاهِنِ كَمَا وَصَفَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ الرَّهْنَ بِقَوْلِهِ {فَرِهَانٌ مَقْبُوضَةٌ} [البقرة: 283] فَيَقُولُ: نَعَمْ. فَيُقَالُ لَهُ: فَلَمَّا لَمْ يَجُزْ أَنْ يَسْتَقْبِلَ الرَّهْنَ عَلَى مَا الرَّاهِنُ رَاكِبُهُ لَمْ يَجُزْ ثُبُوتُهُ فِي يَدِهِ بَعْدَ ذَلِكَ رَهْنًا بِحَقِّهِ إِلَّا لِذَلِكَ أَيْضًا لِأَنَّ دَوَامَ الْقَبْضِ لَا بُدَّ مِنْهُ فِي الرَّهْنِ إِذَا كَانَ الرَّاهِنُ إِنَّمَا هُوَ احْتِبَاسُ الْمُرْتَهِنِ لِلشَّيْءِ الْمَرْهُونِ بِالدَّيْنِ وَفِي ذَلِكَ أَيْضًا مَا يَمْنَعُ الْمُرْتَهِنَ مِنِ اسْتِخْدَامِ الْأَمَةِ الرَّهْنِ لِأَنَّهَا تَرْجِعُ بِذَلِكَ إِلَى حَالٍ لَا يَجُوزُ عَلَيْهَا اسْتِقْبَالُ الرَّهْنِ. وَحُجَّةٌ أُخْرَى أَنَّهُمْ قَدْ أَجْمَعُوا أَنَّ الْأَمَةَ الرَّهْنَ لَيْسَ لِلرَّاهِنِ أَنْ يَطَأَهَا وَلِلْمُرْتَهِنِ مَنْعُهُ مِنْ ذَلِكَ. فَكَمَا كَانَ الْمُرْتَهِنُ يَمْنَعُ الرَّاهِنَ بِحَقِّ الرَّهْنِ مِنْ وَطْئِهَا كَانَ لَهُ أَيْضًا أَنْ يَمْنَعَهُ بِحَقِّ الرَّهْنِ مِنِ اسْتِخْدَامِهَا. وَهَذَا قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ.
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৮৯৮
বন্ধক রাখার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বন্ধক রাখা প্রাণীতে আরােহণ, তার ব্যবহার ও তার দুধপান করা প্রসঙ্গ
৫৮৯৮। ফাহদ ..... ইসমাঈল ইব্ন আবু খালিদ শা'বী হতে বর্ণনা করেন رهن (বন্ধক রাখা বস্তু) হতে কোন প্রকার উপকার লাভ করা যাবে না ।
এই তাে ইমাম শা'বী একথা বলেন, অথচ তিনি হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী(ﷺ) ঐ হাদীস বর্ণনা করেছেন, যা পূর্বে উল্লেখ করেছি। অতএব এ সম্ভাবনা আছে যে, তিনি নবী(ﷺ) হতে ঐ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তারপর তিনি তার বিপরীত হাদীসও বর্ণনা করেন। অথচ পূর্বে বর্ণিত হাদীস মানসূখ হবার বিষয়টি তাঁর নিকট প্রমাণিত নয়। যদি বাস্তবে এমনিই হয়ে থাকে, তবে নিশ্চিতভাবে তাঁর রায়ে তিনি অভিযুক্ত হবেন। আর তার রায়ে যখন তিনি অভিযুক্ত হবেন, তখন তিনি তাঁর রিওয়ায়াতেও অভিযুক্ত হবেন। আর যখন তাঁর রিওয়ায়াতে তাঁর আদালত প্রমাণিত, তখন তাঁর রিওয়ায়াতের বিপরীত বিষয় ত্যাগ করার ব্যাপারেও তাঁর আদালাত প্রতিষ্ঠিত। আর দুটি বিষয়ের (রিওয়ায়াতে ক্ষেত্রে আদালাত ও রিওয়ায়াত ত্যাগ করার ক্ষেত্রে আদালাত) কোন একটি রহিত হওয়া যখন অনিবার্য হবে তখন অন্যটিও অনিবর্যভাবে রহিত হবে। হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত এ হাদীস দ্বারা যিনি দলীল পেশ করেন, তিনি একথা বলেন যে, নবী(ﷺ) হতে যিনি কোন হাদীস বর্ণনা করেন, সে হাদীসের ব্যাখ্যাও তিনিই অধিক ভাল জানেন। সুতরাং তিনি তাঁর নিজের নীতির কাছেই আব্দ্ধ হবেন এবং তাঁর বক্তব্য মুতাবিক তাঁর ঐ কথা বলাই জরুরী হবে, যা ইমাম শা'বী (রাহঃ) বলেছেন এবং তা নবী(ﷺ) হতে বর্ণিত ঐ হাদীসের বিপরীত যা তিনি হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। যে হাদীস আমরা পূর্বে বর্ণনা করেছি। এটাই ঐ হাদীসের মানসূখ হবার প্রমাণ।
এই তাে ইমাম শা'বী একথা বলেন, অথচ তিনি হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে, তিনি নবী(ﷺ) ঐ হাদীস বর্ণনা করেছেন, যা পূর্বে উল্লেখ করেছি। অতএব এ সম্ভাবনা আছে যে, তিনি নবী(ﷺ) হতে ঐ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তারপর তিনি তার বিপরীত হাদীসও বর্ণনা করেন। অথচ পূর্বে বর্ণিত হাদীস মানসূখ হবার বিষয়টি তাঁর নিকট প্রমাণিত নয়। যদি বাস্তবে এমনিই হয়ে থাকে, তবে নিশ্চিতভাবে তাঁর রায়ে তিনি অভিযুক্ত হবেন। আর তার রায়ে যখন তিনি অভিযুক্ত হবেন, তখন তিনি তাঁর রিওয়ায়াতেও অভিযুক্ত হবেন। আর যখন তাঁর রিওয়ায়াতে তাঁর আদালত প্রমাণিত, তখন তাঁর রিওয়ায়াতের বিপরীত বিষয় ত্যাগ করার ব্যাপারেও তাঁর আদালাত প্রতিষ্ঠিত। আর দুটি বিষয়ের (রিওয়ায়াতে ক্ষেত্রে আদালাত ও রিওয়ায়াত ত্যাগ করার ক্ষেত্রে আদালাত) কোন একটি রহিত হওয়া যখন অনিবার্য হবে তখন অন্যটিও অনিবর্যভাবে রহিত হবে। হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত এ হাদীস দ্বারা যিনি দলীল পেশ করেন, তিনি একথা বলেন যে, নবী(ﷺ) হতে যিনি কোন হাদীস বর্ণনা করেন, সে হাদীসের ব্যাখ্যাও তিনিই অধিক ভাল জানেন। সুতরাং তিনি তাঁর নিজের নীতির কাছেই আব্দ্ধ হবেন এবং তাঁর বক্তব্য মুতাবিক তাঁর ঐ কথা বলাই জরুরী হবে, যা ইমাম শা'বী (রাহঃ) বলেছেন এবং তা নবী(ﷺ) হতে বর্ণিত ঐ হাদীসের বিপরীত যা তিনি হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। যে হাদীস আমরা পূর্বে বর্ণনা করেছি। এটাই ঐ হাদীসের মানসূখ হবার প্রমাণ।
كتاب الرهن
5898 - وَقَدْ حَدَّثَنَا فَهْدٌ قَالَ: ثنا أَبُو نُعَيْمٍ قَالَ: ثنا الْحَسَنُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ لَا يُنْتَفَعُ مِنَ الرَّهْنِ بِشَيْءٍ فَهَذَا الشَّعْبِيُّ يَقُولُ هَذَا وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا ذَكَرْنَا. فَيَجُوزُ عَلَيْهِ أَنْ يَكُونَ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يُحَدِّثُهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِذَلِكَ ثُمَّ يَقُولُ هُوَ بِخِلَافِهِ وَلَمْ يَثْبُتِ النَّسْخُ عِنْدَهُ؟ فَلَئِنْ كَانَ ذَلِكَ كَذَلِكَ فَلَقَدْ صَارَ مُتَّهَمًا فِي رَأْيِهِ وَإِذَا كَانَ مُتَّهَمًا فِي رَأْيِهِ كَانَ مُتَّهَمًا فِي رِوَايَتِهِ وَإِذَا ثَبَتَتْ لَهُ الْعَدَالَةُ فِي رِوَايَتِهِ ثَبَتَتْ لَهُ الْعَدَالَةُ فِي تَرْكِ خِلَافِهَا وَإِنْ وَهَبَ سُقُوطَ أَحَدِالْأَمْرَيْنِ وَهَبَ سُقُوطَ الْآخَرِ. وَالْمُحْتَجُّ عَلَيْنَا بِحَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ هَذَا يَقُولُ مَنْ رَوَى حَدِيثًا عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَهُوَ أَعْلَمُ بِتَأْوِيلِهِ. فَكَانَ يَجِيءُ عَلَى أَصْلِهِ وَيَلْزَمُهُ فِي قَوْلِهِ أَنْ يَقُولَ لِمَ قَالَ الشَّعْبِيُّ مَا ذَكَرْنَا مِمَّا يُخَالِفُ مَا رُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ ذَلِكَ دَلِيلًا عَلَى نَسْخِهِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৮৯৯
আন্তর্জাতিক নং: ৫৯০০
বন্ধক রাখার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বন্ধক রাখা বস্তু মুরতাহিনের হাতে হালাক হলে তার হুকুম কি ?
৫৮৯৯-৫৯০০। ইউনুস ..... ইব্ন শিহাব হযরত ইব্নুল মুসায়্যিব (রাহঃ) হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) ইরশাদ করেন : رهن (বন্ধক রাখা বস্তু) আটকিয়ে রাখা যাবে না। ইউনুস ইব্ন ইয়াযীদ শিহাব সূত্রে বলেন, ইব্নুল মুসায়্যিব বলতেন, বন্ধক রাখা বস্তুর ফায়দা ও উপকার তার মালিকের (راهن) প্রাপ্য এবং তার ওপরই তার ক্ষতিও বর্তাবে।
হাদীসটি ইমাম মালিক তাঁর মুওয়াত্তা গ্রন্থে এবং আব্দুর রাযযাক তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে ও ইমাম বায়হাকী বর্ণনা করেছেন।
হাদীসটি ইমাম মালিক তাঁর মুওয়াত্তা গ্রন্থে এবং আব্দুর রাযযাক তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে ও ইমাম বায়হাকী বর্ণনা করেছেন।
كتاب الرهن
بَابُ الرَّهْنِ يَهْلِكُ فِي يَدِ الْمُرْتَهِنِ كَيْفَ حُكْمُهُ؟
5899 - حَدَّثَنَا يُونُسُ قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ أَنَّهُ سَمِعَ مَالِكًا وَيُونُسَ وَابْنَ أَبِي ذِئْبٍ يُحَدِّثُونَ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنِ ابْنِ الْمُسَيِّبِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يُغْلَقُ الرَّهْنُ»
5900 - قَالَ يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: وَكَانَ ابْنُ الْمُسَيِّبِ يَقُولُ الرَّهْنُ لِصَاحِبِهِ غُنْمُهُ وَعَلَيْهِ غُرْمُهُ
5900 - قَالَ يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: وَكَانَ ابْنُ الْمُسَيِّبِ يَقُولُ الرَّهْنُ لِصَاحِبِهِ غُنْمُهُ وَعَلَيْهِ غُرْمُهُ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৯০১
বন্ধক রাখার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বন্ধক রাখা বস্তু মুরতাহিনের হাতে হালাক হলে তার হুকুম কি ?
৫৯০১। মুহাম্মাদ ইব্ন খুযায়মা .…. আতা ও সুলায়মান ইব্ন মুসা হতে বর্ণিত, তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) বলেছেন : বন্ধক রাখা বস্তু (মুরতাহিনের নিকট) আটকিয়ে রাখা যাবে না ।
আবু জাফর (রাহঃ) বলেন, অতঃপর কোন মন্তব্যকারী মন্তব্য করেন, যখন রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) একথা বলছেন لا يغلق الرهن لصاحبه وعليه غرمه এর দ্বারা এ কথাই প্রমাণিত হয় যে, رهن (বন্ধক রাখা বস্তু) ঋণের বিনিময়ে নষ্ট হবে না। আর তার মালিকের জন্যই তার ফায়দা, আর তার ক্ষতিও তার ওপরই বর্তাবে।
আল্লামা আইনী (রাহঃ) বলেন, যিনি এই বক্তব্য পেশ করেছেন, তিনি হলেন, ইমাম শাফিঈ (রাহঃ)। তিনিই এ বক্তব্য পেশ করেছেন এবং غنم ও غرم এর এই ভিন্ন ব্যাখ্যাও তিনিই পেশ করেছন। অবশ্য তাঁর এ মতের সাথে ইমাম আহমদ, আবু সাওর, আবু সাওর ইব্নুল মুনযির, এছাড়া, যুহরী, আওযাঈ ও আতা ইব্ন আবু রাবাহ্ একমত পােষণ করেন।
এই যে ব্যাখ্যা তিনি প্রদান করেছেন সমস্ত ভাষাবিদ পণ্ডিত তা অস্বীকার করেন, আর তারা একথা বলেছেন, এটা তাদের মতে কোন সঠিক ব্যাখ্যা নয়।
আর এ হাদীসটি منقطع হওয়া সত্ত্বেও যে বিষয়টি আমাদেরকে এখানে হাদীসটি পেশ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলাে, এ হাদীস দ্বারা যিনি আমাদের বিরুদ্ধে দলীল পেশ করেন, তিনি منقطع রিওয়ায়াত দ্বারা নয়, حسن রিওয়ায়াত দ্বারাই দলীল পেশ করার পক্ষপাতী। আর যদি তিনি তার বিরােধীর প্রতি ইনসাফ করতেন তবে অবশ্যই এ ধরনের منقطع রিওয়ায়াতকে দলীল হিসেবে পেশ করতেন না। অথচ তাঁর মতে منقطع
রিওয়ায়াত দলীল হতে পারে না।
যদি তিনি বলেন, এ হাদীসটি منقطع হওয়া সত্ত্বেও আমরা এ কারণে গ্রহণ করেছি, যেহেতু হাদীসটি হযরত
সাঈদ ইব্নুল মুসায়্যিব (রাহঃ) হতে বর্ণিত এবং হযরত সাঈদ ইব্নুল মুসায়্যিব (রাহঃ) হতে বর্ণিত منقطع রিওয়ায়াত منقطع রিওয়ায়াতের সমতুল্য (এবং তাঁর মতই গ্রহণযােগ্য), তবে তাকে বলা হবে, আপনাকে এ অধিকার কে দিল যে, হযরত সাঈদ ইব্নুল মুসায়্যিব (রাহঃ)-এর সাথে এ মর্যাদাকে খাস করবেন এবং তাঁর মত আরাে মদীনার অধিবাসী উলামা-ই কিরাম রয়েছেন, তাদেরকে এ মর্যাদা হতে বিরত রাখবেন ? যেমন আবু সালামা, ক্বাসেম, সালেম, উরওয়াহ, সুলায়মান ইব্ন ইয়াসার (রাহঃ) ও তাঁদের অনুরূপ আরাে মদীনার যে সব অধিবাসী রয়েছেন। এছাড়া, শা'বী, ইবরাহীম নাখঈ, এবং তাঁদের সমমর্যাদার কূফার অধিবাসী যে উলামা-ই কিরাম রয়েছেন। আর হাসান বসরী ও ইব্ন সীরীন এবং তাঁদের মত আরাে যে সমস্ত বসরার অধিবাসী রয়েছেন। অনুরূপভাবে যাদের অবস্থা উল্লেখ করলাম, তাদের যুগের বিভিন্ন শহরে যে ফুকাহা-ই কিরাম রয়েছেন এবং তাদের উপরের প্রথম শ্রেণীর যে সমস্ত তাবিঈ রয়েছেন, যেমন আলকামা, আসওয়াদ, আমর ইব্ন শুরাহবীল, আবীদাহ ও শুরাইহ (রাহঃ) প্রমুখ।
যদি হযরত সাঈদ ইব্নুল মুসায়্যিব (রাহঃ)-এর ব্যাপারে এরূপ স্বাধীনতা থাকে, তবে যাদের আমরা উল্লেখ করেছি, তাদের ব্যাপারে অন্যদেরও স্বাধীনতা থাকবে। আর আপনি ব্যতীত অন্যান্য উলামা-ই কিরাম যদি নিষিদ্ধ হন তবে এ নিষেধাজ্ঞা আপনার ব্যাপারেও প্রযোজ্য হবে। কারণ এটা একটা অবিচার। আর আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে কারাে অবিচার করার অধিকার নেই। অথচ উলামা-ই কিরাম রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) এর উল্লেখিত হাদীসের ভিন্ন ব্যাখ্যাও প্রদান করেছেন।
আবু জাফর (রাহঃ) বলেন, অতঃপর কোন মন্তব্যকারী মন্তব্য করেন, যখন রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) একথা বলছেন لا يغلق الرهن لصاحبه وعليه غرمه এর দ্বারা এ কথাই প্রমাণিত হয় যে, رهن (বন্ধক রাখা বস্তু) ঋণের বিনিময়ে নষ্ট হবে না। আর তার মালিকের জন্যই তার ফায়দা, আর তার ক্ষতিও তার ওপরই বর্তাবে।
আল্লামা আইনী (রাহঃ) বলেন, যিনি এই বক্তব্য পেশ করেছেন, তিনি হলেন, ইমাম শাফিঈ (রাহঃ)। তিনিই এ বক্তব্য পেশ করেছেন এবং غنم ও غرم এর এই ভিন্ন ব্যাখ্যাও তিনিই পেশ করেছন। অবশ্য তাঁর এ মতের সাথে ইমাম আহমদ, আবু সাওর, আবু সাওর ইব্নুল মুনযির, এছাড়া, যুহরী, আওযাঈ ও আতা ইব্ন আবু রাবাহ্ একমত পােষণ করেন।
এই যে ব্যাখ্যা তিনি প্রদান করেছেন সমস্ত ভাষাবিদ পণ্ডিত তা অস্বীকার করেন, আর তারা একথা বলেছেন, এটা তাদের মতে কোন সঠিক ব্যাখ্যা নয়।
আর এ হাদীসটি منقطع হওয়া সত্ত্বেও যে বিষয়টি আমাদেরকে এখানে হাদীসটি পেশ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলাে, এ হাদীস দ্বারা যিনি আমাদের বিরুদ্ধে দলীল পেশ করেন, তিনি منقطع রিওয়ায়াত দ্বারা নয়, حسن রিওয়ায়াত দ্বারাই দলীল পেশ করার পক্ষপাতী। আর যদি তিনি তার বিরােধীর প্রতি ইনসাফ করতেন তবে অবশ্যই এ ধরনের منقطع রিওয়ায়াতকে দলীল হিসেবে পেশ করতেন না। অথচ তাঁর মতে منقطع
রিওয়ায়াত দলীল হতে পারে না।
যদি তিনি বলেন, এ হাদীসটি منقطع হওয়া সত্ত্বেও আমরা এ কারণে গ্রহণ করেছি, যেহেতু হাদীসটি হযরত
সাঈদ ইব্নুল মুসায়্যিব (রাহঃ) হতে বর্ণিত এবং হযরত সাঈদ ইব্নুল মুসায়্যিব (রাহঃ) হতে বর্ণিত منقطع রিওয়ায়াত منقطع রিওয়ায়াতের সমতুল্য (এবং তাঁর মতই গ্রহণযােগ্য), তবে তাকে বলা হবে, আপনাকে এ অধিকার কে দিল যে, হযরত সাঈদ ইব্নুল মুসায়্যিব (রাহঃ)-এর সাথে এ মর্যাদাকে খাস করবেন এবং তাঁর মত আরাে মদীনার অধিবাসী উলামা-ই কিরাম রয়েছেন, তাদেরকে এ মর্যাদা হতে বিরত রাখবেন ? যেমন আবু সালামা, ক্বাসেম, সালেম, উরওয়াহ, সুলায়মান ইব্ন ইয়াসার (রাহঃ) ও তাঁদের অনুরূপ আরাে মদীনার যে সব অধিবাসী রয়েছেন। এছাড়া, শা'বী, ইবরাহীম নাখঈ, এবং তাঁদের সমমর্যাদার কূফার অধিবাসী যে উলামা-ই কিরাম রয়েছেন। আর হাসান বসরী ও ইব্ন সীরীন এবং তাঁদের মত আরাে যে সমস্ত বসরার অধিবাসী রয়েছেন। অনুরূপভাবে যাদের অবস্থা উল্লেখ করলাম, তাদের যুগের বিভিন্ন শহরে যে ফুকাহা-ই কিরাম রয়েছেন এবং তাদের উপরের প্রথম শ্রেণীর যে সমস্ত তাবিঈ রয়েছেন, যেমন আলকামা, আসওয়াদ, আমর ইব্ন শুরাহবীল, আবীদাহ ও শুরাইহ (রাহঃ) প্রমুখ।
যদি হযরত সাঈদ ইব্নুল মুসায়্যিব (রাহঃ)-এর ব্যাপারে এরূপ স্বাধীনতা থাকে, তবে যাদের আমরা উল্লেখ করেছি, তাদের ব্যাপারে অন্যদেরও স্বাধীনতা থাকবে। আর আপনি ব্যতীত অন্যান্য উলামা-ই কিরাম যদি নিষিদ্ধ হন তবে এ নিষেধাজ্ঞা আপনার ব্যাপারেও প্রযোজ্য হবে। কারণ এটা একটা অবিচার। আর আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে কারাে অবিচার করার অধিকার নেই। অথচ উলামা-ই কিরাম রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) এর উল্লেখিত হাদীসের ভিন্ন ব্যাখ্যাও প্রদান করেছেন।
كتاب الرهن
5901 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خُزَيْمَةَ، قَالَ: ثنا يُوسُفُ بْنُ عَدِيٍّ قَالَ: ثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ إِدْرِيسَ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، [ص:101] وَسُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى، قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " لَا يُغْلَقُ الرَّهْنُ قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَقَالَ قَائِلٌ: فَلَمَّا قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُغْلَقُ الرَّهْنُ لِصَاحِبِهِ غُنْمُهُ وَعَلَيْهِ غُرْمُهُ ثَبَتَ بِذَلِكَ أَنَّ الرَّهْنَ لَا يَضِيعُ بِالدَّيْنِ وَأَنَّ لِصَاحِبِهِ غُنْمَهُ وَهُوَ سَلَامَتُهُ وَعَلَيْهِ غُرْمُهُ وَهُوَ غُرْمُ الدَّيْنِ بَعْدَ ضَيَاعِ الرَّهْنِ. وَهَذَا تَأْوِيلٌ قَدْ أَنْكَرَهُ أَهْلُ الْعِلْمِ جَمِيعًا بِاللُّغَةِ وَزَعَمُوا أَنْ لَا وَجْهَ لَهُ عِنْدَهُمْ. وَالَّذِي حَمَلَنَا عَلَى أَنْ نَأْتِيَ بِهَذَا الْحَدِيثِ وَإِنْ كَانَ مُنْقَطِعًا احْتِجَاجُ الَّذِي يَقُولُ بِالْمُسْنَدِ بِهِ عَلَيْنَا وَدَعْوَاهُ أَنَّا خَالَفْنَاهُ. وَقَدْ كَانَ يَلْزَمُهُ عَلَى أَصْلِهِ لَوْ أَنْصَفَ خَصْمَهُ أَنْ لَا يَحْتَجَّ بِمِثْلِ هَذَا إِذَا كَانَ مُنْقَطِعًا وَهُوَ لَا يَقُومُ الْحُجَّةُ عِنْدَهُ بِالْمُنْقَطِعِ. فَإِنْ قَالَ: إِنَّمَا قَبِلْتَهُ وَإِنْ كَانَ مُنْقَطِعًا لِأَنَّهُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ وَمُنْقَطِعُ سَعِيدٍ يَقُومُ مَقَامَ الْمُتَّصِلِ. قِيلَ لَهُ: وَمَنْ جَعَلَ لَكَ أَنْ تَخُصَّ سَعِيدًا هَذَا وَتَمْنَعَ مِنْهُ مِثْلَهُ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ مِثْلَ أَبِي سَلَمَةَ وَالْقَاسِمِ وَسَالِمٍ وَعُرْوَةَ وَسُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ وَأَمْثَالِهِمْ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ وَالشَّعْبِيِّ وَإِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ وَأَمْثَالِهِمَا رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ وَالْحَسَنِ وَابْنِ سِيرِينَ وَأَمْثَالِهِمَا رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ وَكَذَلِكَ مَنْ كَانَ فِي عَصْرِ مَنْ ذَكَرْنَا مِنْ سَائِرِ فُقَهَاءِ الْأَمْصَارِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ وَمَنْ كَانَ فَوْقَهُمْ مِنَ الطَّبَقَةِ الْأُولَى مِنَ التَّابِعِينَ مِثْلَ عَلْقَمَةَ وَالْأَسْوَدِ وَعَمْرِو بْنِ شُرَحْبِيلَ وَعُبَيْدَةَ وَشُرَيْحٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ؟ . لَئِنْ كَانَ هَذَا لَكَ مُطْلَقًا فِي سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ فَإِنَّهُ مُطْلَقٌ لِغَيْرِكَ فِيمَنْ ذَكَرْنَا. وَإِنْ كَانَ غَيْرُكَ مَمْنُوعًا مِنْ ذَلِكَ فَإِنَّكَ مَمْنُوعٌ مِنْ مِثْلِهِ لِأَنَّ هَذَا تَحَكُّمٌ وَلَيْسَ لِأَحَدٍ أَنْ يَحْكُمَ فِي دِينِ اللهِ بِالتَّحَكُّمِ. وَقَدْ قَالَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي تَأْوِيلِ قَوْلِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَيْرَ مَا ذَكَرْتَ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৯০২
আন্তর্জাতিক নং: ৫৯০৪
বন্ধক রাখার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বন্ধক রাখা বস্তু মুরতাহিনের হাতে হালাক হলে তার হুকুম কি ?
৫৯০২-০৪। আলী ইব্ন আব্দুল আযীয ..... মুগীরা ও ইবরাহীম (রাহঃ) এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেন, যে এক ব্যক্তির নিকট একটি বস্তু বন্ধক রেখে তার নিকট হতে কিছু দিরহাম নিয়েছিল। সে তাকে বললাে, আমি যদি এই এই তারিখের মধ্যে তােমার প্রাপ্য পরিশােধ করি, তবে তাে তােমার জিনিস ফিরিয়ে নিব, আর তা না হলে তােমার পাওনার বিনিময়ে তােমার জন্য বন্ধকি বস্তুর মধ্যে তােমার প্রাপ্য রয়েছে (অর্থাৎ বন্ধকি বস্তুর মাধ্যমে তােমার প্রাপ্য পরিশােধ করা হবে)। তখন ইবরাহীম বললেন, لا يغلق الرهن তখন আবু উবাইদ বললেন, তবে কি এটাই তার প্রশ্নের জবাব মনে করব?
তাউস .... হতে এরূপ বর্ণিত হয়েছে, যা আমার নিকট পর্যায়ক্রমে ইব্ন উয়ায়না ও আমর-এর মাধ্যমে তাউস হতে পৌঁছেছে। আবু উবায়দ বলেন, আব্দুর রহমান ইব্ন মাহ্দী পর্যায়ক্রমে মালিক ইব্ন আনাস ও সুফিয়ান ইব্ন সাঈদ হতে বর্ণনা করেন, তাঁরা দুজনই হাদীসের এই ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
ইউনুস ইব্ন আব্দুল আলা বলেন, ইব্ন ওয়াহব, মালিক ইব্ন আনাস (রাযিঃ) হতেও এ ব্যাখ্যা বর্ণনা
করেছেন।
তাউস .... হতে এরূপ বর্ণিত হয়েছে, যা আমার নিকট পর্যায়ক্রমে ইব্ন উয়ায়না ও আমর-এর মাধ্যমে তাউস হতে পৌঁছেছে। আবু উবায়দ বলেন, আব্দুর রহমান ইব্ন মাহ্দী পর্যায়ক্রমে মালিক ইব্ন আনাস ও সুফিয়ান ইব্ন সাঈদ হতে বর্ণনা করেন, তাঁরা দুজনই হাদীসের এই ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
ইউনুস ইব্ন আব্দুল আলা বলেন, ইব্ন ওয়াহব, মালিক ইব্ন আনাস (রাযিঃ) হতেও এ ব্যাখ্যা বর্ণনা
করেছেন।
كتاب الرهن
04 - 5902 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، فِيمَا أَعْلَمُ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فَقَدْ دَخَلَ فِيمَا كَانَ أَجَازَهُ لِي. قَالَ: ثنا أَبُو عُبَيْدٍ قَالَ: ثنا جَرِيرٌ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ فِي رَجُلٍ دَفَعَ إِلَى رَجُلٍ رَهْنًا وَأَخَذَ مِنْهُ دَرَاهِمَ وَقَالَ: إِنْ جِئْتُكَ بِحَقِّكَ إِلَى كَذَا وَكَذَا وَإِلَّا وَفَّى الرَّهْنُ لَكَ بِحَقِّكَ. فَقَالَ إِبْرَاهِيمُ لَا يُغْلَقُ الرَّهْنُ قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: أفَجَعَلُهُ جَوَابًا لِمَسْأَلَتِهِ؟ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ طَاوُسٍ نَحْوٌ مِنْ هَذَا بَلَغَنِي ذَلِكَ عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرٍو عَنْ طَاوُسٍ
قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: وَأَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَسُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُمَا كَانَ يُفَسِّرَانِهِ عَلَى هَذَا التَّفْسِيرِ
حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، بِذَلِكَ أَيْضًا
قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: وَأَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَسُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ أَنَّهُمَا كَانَ يُفَسِّرَانِهِ عَلَى هَذَا التَّفْسِيرِ
حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، بِذَلِكَ أَيْضًا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৯০৫
বন্ধক রাখার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বন্ধক রাখা বস্তু মুরতাহিনের হাতে হালাক হলে তার হুকুম কি ?
৫৯০৫। ফাহদ ….. সাঈদ ইব্নুল মুসায়্যিব (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) ইরশাদ করেছেন لاتغلق الرهن এ হাদীস দ্বারা বাহনের মালিককে মুরতাহিন-এর নিকট হতে ক্রয় করা হতে বাধা প্রদান করা করা হবে, যাবত না তা অন্যের নিকট বিক্রয় করা হবে।
ইমাম যুহরী (রাহঃ) غلق এর অর্থ 'বিক্রয়' করা বুঝেছেন, নষ্ট হওয়া বুঝেননি। এ পূর্ববর্তী আলিমগণ তা-ই বলেন
যা আমরা উল্লেখ করেছি। আর রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) হতেও এ সম্পর্কে বর্ণিত আছে।
ইমাম যুহরী (রাহঃ) غلق এর অর্থ 'বিক্রয়' করা বুঝেছেন, নষ্ট হওয়া বুঝেননি। এ পূর্ববর্তী আলিমগণ তা-ই বলেন
যা আমরা উল্লেখ করেছি। আর রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) হতেও এ সম্পর্কে বর্ণিত আছে।
كتاب الرهن
5905 - حَدَّثَنَا فَهْدٌ، قَالَ: ثنا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: قَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يُغْلَقُ الرَّهْنُ» فَبِذَلِكَ يُمْنَعُ صَاحِبُ الرَّهْنِ أَنْ يَبْتَاعَهُ مِنَ الَّذِي رَهَنَهُ عِنْدَهُ حَتَّى يُبَاعَ مِنْ غَيْرِهِ. فَذَهَبَ الزُّهْرِيُّ أَيْضًا فِي ذَلِكَ الْغَلْقِ إِلَى أَنَّهُ فِي الْبَيْعِ لَا فِي الضَّيَاعِ فَهَؤُلَاءِ الْمُتَقَدِّمُونَ يَقُولُونَ بِمَا ذَكَرْنَا. وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا أَيْضًا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৯০৬
বন্ধক রাখার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বন্ধক রাখা বস্তু মুরতাহিনের হাতে হালাক হলে তার হুকুম কি ?
৫৯০৬। মুহাম্মাদ ইব্ন খুযায়মা ….. আতা ইব্ন আবু রাবাহ হতে বর্ণনা করেন, একবার এক ব্যক্তি অন্যের নিকট হতে একটা ঘােড়া বন্ধক রাখল, অতঃপর ঘােড়াটা مرتهن -এর নিকট মারা গেল। তখন রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) তাকে বললেন, তােমার হক ও পাওনা শেষ হয়ে গেছে।
এ হাদীস এ কথাই প্রমাণ করে যে, رهن (বন্ধক রাখা বস্তু) নষ্ট হবার কারণে دين (ঋণ)-ও বাতিল হয়ে যায়।
যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, এ হাদীস তাে منقطع (মুনকাতী) ? তবে তাকে বলা হবে, যে হাদীস আপনি দলীল
হিসেবে পেশ করছেন, তাও তাে منقطع ; অতএব যদি منقطع হাদীস আমাদের বিরুদ্ধে আপনার পক্ষে
দলীল হতে পারে, তবে আপনার বিরুদ্ধেও منقطع হাদীস আমাদের পক্ষে দলীল হবে।
আর রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) হতে ভিন্ন সূত্রেও এর অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে :
এ হাদীস এ কথাই প্রমাণ করে যে, رهن (বন্ধক রাখা বস্তু) নষ্ট হবার কারণে دين (ঋণ)-ও বাতিল হয়ে যায়।
যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, এ হাদীস তাে منقطع (মুনকাতী) ? তবে তাকে বলা হবে, যে হাদীস আপনি দলীল
হিসেবে পেশ করছেন, তাও তাে منقطع ; অতএব যদি منقطع হাদীস আমাদের বিরুদ্ধে আপনার পক্ষে
দলীল হতে পারে, তবে আপনার বিরুদ্ধেও منقطع হাদীস আমাদের পক্ষে দলীল হবে।
আর রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) হতে ভিন্ন সূত্রেও এর অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে :
كتاب الرهن
5906 - مَا قَدْ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خُزَيْمَةَ قَالَ: ثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّيْمِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ الْمُبَارَكِ قَالَ: ثنا مُصْعَبُ بْنُ ثَابِتٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ أَنَّ رَجُلًا ارْتَهَنَ فَرَسًا فَمَاتَ الْفَرَسُ فِي يَدِ الْمُرْتَهِنِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «ذَهَبَ حَقُّكَ» فَدَلَّ هَذَا مِنْ قَوْلِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى بُطْلَانِ الدَّيْنِ بِضَيَاعِ الرَّهْنِ. فَإِنْ قَالَ: هَذَا مُنْقَطِعٌ قِيلَ لَهُ: وَالَّذِي تَأَوَّلْتَهُ أَيْضًا مُنْقَطِعٌ فَإِنْ كَانَ الْمُنْقَطِعُ حُجَّةً لَكَ عَلَيْنَا فَالْمُنْقَطِعُ أَيْضًا حُجَّةٌ لَنَا عَلَيْكَ. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ جِهَةٍ أُخْرَى مَا يُوَافِقُ ذَلِكَ أَيْضًا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৯০৭
আন্তর্জাতিক নং: ৫৯০৮
বন্ধক রাখার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বন্ধক রাখা বস্তু মুরতাহিনের হাতে হালাক হলে তার হুকুম কি ?
৫৯০৭-০৮। আবুল আওয়াম মুহাম্মাদ ইব্ন আব্দুল্লাহ ইব্ন আব্দুল জব্বার আল-মুরাদী ….. আব্দুর রহমান ইব্ন আবুয যিনাদ তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আমাদের যে সকল প্রখ্যাত ফুকাহা-ই কিরামকে পেয়েছি, তাদের মধ্যে রয়েছেন, হযরত সাঈদ ইব্নুল মুসায়্যিব, উরওয়া ইব্ন যুবায়র, কাসিম ইব্ন মুহাম্মাদ, আবু বকর ইব্ন আব্দুর রহমান, খারেজা ইব্ন যায়দ ও উবায়দুল্লাহ্ ইব্ন উবায়দ সহ অনুরপ আরো মাশাইখ, ফুক্বাহা ও বিশিষ্ট খ্যাতিমান উলামা-ই কিরাম। অতঃপর তিনি তাদের এ ধরনের যে সব বক্তব্য তাঁর কিতাবে সঙ্কলন করেছেন তা উল্লেখ করেন। তাঁরা বলেন, الرهن بما فيه إذا ملك وعميت قيمته অর্থাৎ বন্ধক রাখা বস্তু যখন নষ্ট হয়ে যাবে এবং তার মূল্য অস্পষ্ট হবে, তখন তা তার মূল্যের বিনিময়েই নষ্ট হবে।
তাদের মধ্যে ثقه ও নির্ভরযােগ্য মুহাদ্দিসগণ নবী(ﷺ) হতে এ রিওয়ায়াত مرفوع সূত্রে বর্ণনা করেন।
উল্লেখিত মদীনার ইমাম এ সকল ও ফুকাহা-ই কিরাম বলেন, "الرهن يهلك بما فيه" (বন্ধক রাখা বস্তু তার
মূল্যের বিনিময়ে হালাক ও নষ্ট হবে)। তাদের মধ্যে যারা নির্ভরযােগ্য রাবী, তারা এ রিওয়ায়াতটি মারফূ' বর্ণনা
করেন। তাদের কোন একজনও যা বর্ণনা করেন তা দলীল হিসেবে বিবেচিত। কারণ তিনি ইমাম ও ফকীহ। সেক্ষেত্রে যে বিষয়ে তাদের সম্মিলিত বক্তব্য ও মত হয় এবং যে বিষয়ে তাদের ইজমা অনুষ্ঠিত হয়, তা আরাে শক্তিশালী ও গ্রহণযােগ্য। হযরত সাঈদ ইব্নুল মুসায়্যিব (রাহঃ)-এর বক্তব্য হতেও এর বিশুদ্ধতা প্রমাণিত হয়েছে এবং তাঁর বক্তব্য রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) -এর বাণী لا يغلق الرهن হতে গৃহীত।
যিনি আমাদের মতের বিরােধিতা করেন, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) হতে হাদীস বর্ণনা করেন, তিনিই তার ব্যাখ্যা অধিক ভাল জানেন। এমনকি হযরত ইব্ন আব্বাস (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে তিনি বলেন,
যে হাদীস, সাইফ পর্যায়ক্রমে কায়স ইব্ন সা'দ ও আমর ইব্ন দীনার হযরত ইব্ন আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) একজন সাক্ষীর সাথে দাবি উথাপনকারী (مدعى ) শপথ দ্বারা ফায়সালা করেছেন। আমর বলেন, এ ফায়সালা তিনি করেছেন, মাল ও ধন-সম্পদের ব্যাপারে। তিনি আমর (রাহঃ)-এর এ বক্তব্য ও ব্যাখ্যাকে এ বিষয়ের দলীল হিসেবে পেশ করেছেন, যে রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) এর এ ফায়সালা ধন-সম্পদ সম্পর্কে ছিল, যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে নয়। এখন আমর ইব্ন দীনার (রাহঃ)-এর এ বক্তব্য যদি দলীল হিসেবে গৃহীত হয়, তবে হযরত সাঈদ ইব্নুল মুসায়্যিব (রাহঃ)-এর বক্তব্য ও ব্যাখ্যা যা আমরা উল্লেখ করেছি, দলীল হবার জন্য অধিকতর গ্রহণযােগ্য হবে। আর এই যে বিরােধী আলিম, যিনি উপরের বক্তব্য পেশ করেছেন এবং তিনি তাঁর এ বক্তব্যকে অনুসরণ করার জন্য বলেন, আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করি, তিনি কার থেকে এ কথা গ্রহণ করেছেন এবং এ ব্যাপারে কে তার ইমাম ?
অথচ আমরা রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) হতে এর বিপরীত হাদীস বর্ণনা করেছি এবং তাবিঈন হতেও এর বিপরীত রিওয়ায়াত বর্ণনা করেছি। আর প্রধান ও বড় বড় সাহাবা-ই কিরাম (রাযিঃ) হতেও এর বিপরীত বর্ণিত হয়েছে।
তাদের মধ্যে ثقه ও নির্ভরযােগ্য মুহাদ্দিসগণ নবী(ﷺ) হতে এ রিওয়ায়াত مرفوع সূত্রে বর্ণনা করেন।
উল্লেখিত মদীনার ইমাম এ সকল ও ফুকাহা-ই কিরাম বলেন, "الرهن يهلك بما فيه" (বন্ধক রাখা বস্তু তার
মূল্যের বিনিময়ে হালাক ও নষ্ট হবে)। তাদের মধ্যে যারা নির্ভরযােগ্য রাবী, তারা এ রিওয়ায়াতটি মারফূ' বর্ণনা
করেন। তাদের কোন একজনও যা বর্ণনা করেন তা দলীল হিসেবে বিবেচিত। কারণ তিনি ইমাম ও ফকীহ। সেক্ষেত্রে যে বিষয়ে তাদের সম্মিলিত বক্তব্য ও মত হয় এবং যে বিষয়ে তাদের ইজমা অনুষ্ঠিত হয়, তা আরাে শক্তিশালী ও গ্রহণযােগ্য। হযরত সাঈদ ইব্নুল মুসায়্যিব (রাহঃ)-এর বক্তব্য হতেও এর বিশুদ্ধতা প্রমাণিত হয়েছে এবং তাঁর বক্তব্য রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) -এর বাণী لا يغلق الرهن হতে গৃহীত।
যিনি আমাদের মতের বিরােধিতা করেন, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) হতে হাদীস বর্ণনা করেন, তিনিই তার ব্যাখ্যা অধিক ভাল জানেন। এমনকি হযরত ইব্ন আব্বাস (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস সম্পর্কে তিনি বলেন,
যে হাদীস, সাইফ পর্যায়ক্রমে কায়স ইব্ন সা'দ ও আমর ইব্ন দীনার হযরত ইব্ন আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) একজন সাক্ষীর সাথে দাবি উথাপনকারী (مدعى ) শপথ দ্বারা ফায়সালা করেছেন। আমর বলেন, এ ফায়সালা তিনি করেছেন, মাল ও ধন-সম্পদের ব্যাপারে। তিনি আমর (রাহঃ)-এর এ বক্তব্য ও ব্যাখ্যাকে এ বিষয়ের দলীল হিসেবে পেশ করেছেন, যে রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) এর এ ফায়সালা ধন-সম্পদ সম্পর্কে ছিল, যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে নয়। এখন আমর ইব্ন দীনার (রাহঃ)-এর এ বক্তব্য যদি দলীল হিসেবে গৃহীত হয়, তবে হযরত সাঈদ ইব্নুল মুসায়্যিব (রাহঃ)-এর বক্তব্য ও ব্যাখ্যা যা আমরা উল্লেখ করেছি, দলীল হবার জন্য অধিকতর গ্রহণযােগ্য হবে। আর এই যে বিরােধী আলিম, যিনি উপরের বক্তব্য পেশ করেছেন এবং তিনি তাঁর এ বক্তব্যকে অনুসরণ করার জন্য বলেন, আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করি, তিনি কার থেকে এ কথা গ্রহণ করেছেন এবং এ ব্যাপারে কে তার ইমাম ?
অথচ আমরা রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) হতে এর বিপরীত হাদীস বর্ণনা করেছি এবং তাবিঈন হতেও এর বিপরীত রিওয়ায়াত বর্ণনা করেছি। আর প্রধান ও বড় বড় সাহাবা-ই কিরাম (রাযিঃ) হতেও এর বিপরীত বর্ণিত হয়েছে।
كتاب الرهن
5907 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَوَّامِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْمُرَادِيُّ قَالَ: ثنا خَالِدُ بْنُ نِزَارٍ الْأَيْلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: كَانَ مَنْ أَدْرَكْتُ مِنْ فُقَهَائِنَا الَّذِينَ يَنْتَهِي إِلَى قَوْلِهِمْ مِنْهُمْ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ وَعُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ وَالْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَخَارِجَةُ بْنُ زَيْدٍ وَعُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ فِي مَشْيَخَةٍ مِنْ نُظَرَائِهِمْ أَهْلَ فِقْهٍ وَصَلَاحٍ وَفَضْلٍ فَذَكَرَ جَمِيعَ مَا جَمَعَ مِنْ أَقَاوِيلِهِمْ فِي كِتَابِهِ عَلَى هَذِهِ الصِّفَةِ أَنَّهُمْ قَالُوا: " الرَّهْنُ بِمَا فِيهِ إِذَا هَلَكَ وَعَمِيَتْ قِيمَتُهُ وَيَرْفَعُ ذَلِكَ مِنْهُمُ الثِّقَةُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَهَؤُلَاءِ أَئِمَّةُ الْمَدِينَةِ وَفُقَهَاؤُهَا يَقُولُونَ: إِنَّ الرَّهْنَ يَهْلِكُ بِمَا فِيهِ وَيَرْفَعُهُ الثِّقَةُ مِنْهُمْ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَيُّهُمْ مَا حَكَاهُ فَهُوَ حُجَّةٌ لِأَنَّهُ فَقِيهٌ إِمَامٌ ثُمَّ قَوْلُهُمْ جَمِيعًا بِذَلِكَ وَإِجْمَاعُهُمْ عَلَيْهِ. فَقَدْ ثَبَتَ بِهِ صِحَّةُ ذَلِكَ أَيْضًا عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ وَهُوَ الْمَأْخُوذُ عَنْهُ قَوْلُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُغْلَقُ الرَّهْنُ.
5908 - وَقَدْ زَعَمَ هَذَا الْمُخَالِفُ لَنَا أَنَّ مَنْ رَوَى حَدِيثًا عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَهُوَ أَعْلَمُ بِتَأْوِيلِهِ حَتَّى قَالَ فِي حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا الَّذِي رَوَاهُ سَيْفٌ لَنَا عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَضَى بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِدِ قَالَ عَمْرٌو: فِي الْأَمْوَالِ فَجَعَلَ هُوَ قَوْلَ عَمْرٍو فِي هَذَا حُجَّةً وَدَلِيلًا لَهُ أَنَّ ذَلِكَ الْحَكَمَ فِي الْأَمْوَالِ دُونَ سَائِرِ الْأَشْيَاءِ. فَلَئِنْ كَانَ قَوْلُ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ: هَذَا تَأْوِيلُهُ يَجِبُ بِهِ حُجَّةً فَإِنَّ قَوْلَ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ الَّذِي ذَكَرْنَا وَتَأْوِيلَهُ فِيمَا رَوَى أَحْرَى أَنْ يَكُونَ حُجَّةً وَهَذَا الْمُخَالِفُ لَنَا قَدْ زَعَمَ أَنَّهُ يَقُولُ بِالِاتِّبَاعِ فَعَمَّنْ أَخَذَ قَوْلَهُ هَذَا وَمَنْ إِمَامُهُ فِيهِ. [ص:103] وَقَدْ رَوَيْنَا عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خِلَافَهُ وَعَنْ تَابِعِي أَصْحَابِهِ خِلَافُهُ أَيْضًا. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَئِمَّةِ أَصْحَابِهِ خِلَافُ ذَلِكَ أَيْضًا
5908 - وَقَدْ زَعَمَ هَذَا الْمُخَالِفُ لَنَا أَنَّ مَنْ رَوَى حَدِيثًا عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَهُوَ أَعْلَمُ بِتَأْوِيلِهِ حَتَّى قَالَ فِي حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا الَّذِي رَوَاهُ سَيْفٌ لَنَا عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَضَى بِالْيَمِينِ مَعَ الشَّاهِدِ قَالَ عَمْرٌو: فِي الْأَمْوَالِ فَجَعَلَ هُوَ قَوْلَ عَمْرٍو فِي هَذَا حُجَّةً وَدَلِيلًا لَهُ أَنَّ ذَلِكَ الْحَكَمَ فِي الْأَمْوَالِ دُونَ سَائِرِ الْأَشْيَاءِ. فَلَئِنْ كَانَ قَوْلُ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ: هَذَا تَأْوِيلُهُ يَجِبُ بِهِ حُجَّةً فَإِنَّ قَوْلَ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ الَّذِي ذَكَرْنَا وَتَأْوِيلَهُ فِيمَا رَوَى أَحْرَى أَنْ يَكُونَ حُجَّةً وَهَذَا الْمُخَالِفُ لَنَا قَدْ زَعَمَ أَنَّهُ يَقُولُ بِالِاتِّبَاعِ فَعَمَّنْ أَخَذَ قَوْلَهُ هَذَا وَمَنْ إِمَامُهُ فِيهِ. [ص:103] وَقَدْ رَوَيْنَا عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خِلَافَهُ وَعَنْ تَابِعِي أَصْحَابِهِ خِلَافُهُ أَيْضًا. وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَئِمَّةِ أَصْحَابِهِ خِلَافُ ذَلِكَ أَيْضًا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৯০৯
বন্ধক রাখার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বন্ধক রাখা বস্তু মুরতাহিনের হাতে হালাক হলে তার হুকুম কি ?
৫৯০৯। ইবরাহীম ইব্ন মারযূক (রাহঃ) ….. উবায়দ ইব্ন উমার (রাহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত উমর ইব্নুল খাত্তাব (রাযিঃ) এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে বললেন, যে অন্যের মাল নিজের কাছে বন্ধক রাখে অতঃপর তা নষ্ট হয়ে যায়। এখন যদি বন্ধকী মালের মূল্য তার দেয়া অর্থের চেয়ে কম হয়, তবে অতিরিক্তটা রাহেন-এর নিকট হতে ফেরত গ্রহণ কর। আর যদি বন্ধকী মালের মূল্য বেশী হয় তবে বেশীটার জন্য সে আমীন হবে।
كتاب الرهن
5909 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ قَالَ: ثنا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ أَبِي الْعَوَّامِ عَنْ مَطَرٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ فِي الرَّجُلِ يَرْتَهِنُ الرَّهْنَ فَيَضِيعُ قَالَ: إِنْ كَانَ بِأَقَلَّ رَدُّوا عَلَيْهِ وَإِنْ كَانَ بِأَفْضَلَ فَهُوَ أَمِينٌ فِي الْفَضْلِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৯১০
বন্ধক রাখার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বন্ধক রাখা বস্তু মুরতাহিনের হাতে হালাক হলে তার হুকুম কি ?
৫৯১০। নসর ইব্ন মারযূক ….. মুহাম্মাদ ইব্নুল হানাফিয়া বলেছেন, হযরত আলী (রাযিঃ) বলেন, যখন কেউ কারাে নিকট কিছু বন্ধক রাখে, অতঃপর মুরতাহিন তাকে বলে, আমি তােমাকে যে অর্থ দিব তার চেয়ে বেশী মূল্যের বস্তু ব্যতীত আমি গ্রহণ করব না। এমতাবস্থায় যদি মুরতাহিনের নিকট উক্ত বস্তু নষ্ট হয়ে যায়, তবে সে অতিরিক্ত মূল্য ফিরিয়ে দেবে। আর যদি রাহেন মুরতাহিনের নিকট স্বেচ্ছায় তার নেয়া অর্থের চেয়ে অধিক মাল বন্ধক রাখে অতঃপর মুরতাহিনের নিকট তা নষ্ট হয়ে যায়,তবে তা বন্ধকী মালের মূল্যের বিনিময় বিবেচিত হবে।
كتاب الرهن
5910 - حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ: ثنا الْخَصِيبُ بْنُ نَاصِحٍ، قَالَ: ثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ عَبْدِ الْأَعْلَى التَّغْلِبِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَنَفِيَّةِ، أَنَّ عَلِيًّا قَالَ: إِذَا رَهَنَ الرَّجُلُ الرَّجُلَ رَهْنًا فَقَالَ لَهُ الْمُعْطَى: لَا أَقْبَلُهُ إِلَّا بِأَكْثَرَ مِمَّا أُعْطِيكَ فَضَاعَ رَدَّ عَلَيْهِ الْفَضْلَ وَإِنْ رَهَنَهُ وَهُوَ أَكْثَرُ مِمَّا أَعْطَى بِطِيبِ نَفْسٍ مِنَ الرَّاهِنِ فَضَاعَ فَهُوَ بِمَا فِيهِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৯১১
বন্ধক রাখার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বন্ধক রাখা বস্তু মুরতাহিনের হাতে হালাক হলে তার হুকুম কি ?
৫৯১১। নসর ….. খাল্লাস ইব্ন আমর হতে বর্ণিত, হযরত আলী (রাযিঃ) বলেন, যখন বন্ধকী বস্তুর মূল্য (মুরতাহিনের দেয়া অর্থের চেয়ে) অতিরিক্ত হয়, অতঃপর তা বিপদগ্রস্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়, তবে মুরতাহিনের অর্থ বন্ধকী বস্তুর বিনিময় বিবেচিত হবে। আর যদি কোন বিপদ না পৌঁছায় এবং তাকেই অভিযুক্ত করা হয়, তবে অতিরিক্ত মাল ফিরিয়ে দিবে।
كتاب الرهن
5911 - حَدَّثَنَا نَصْرٌ، قَالَ: ثنا الْخَطِيبُ، قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ خِلَاسٍ هُوَ ابْنُ عَمْرٍو، أَنَّ عَلِيًّا قَالَ: إِذَا كَانَ فِي الرَّهْنِ فَضْلٌ فَأَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ فَهُوَ بِمَا فِيهِ وَإِنْ لَمْ تُصِبْهُ جَائِحَةٌ وَاتُّهِمَ فَإِنَّهُ يَرُدُّ الْفَضْلَ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৯১২
বন্ধক রাখার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বন্ধক রাখা বস্তু মুরতাহিনের হাতে হালাক হলে তার হুকুম কি ?
৫৯১২। আহমদ ইব্ন দাউদ ….. হাসান ও খাল্লাস ইব্ন আমর হতে বর্ণিত, হযরত আলী (রাযিঃ) বলেন, তারা উভয়-ই (রাহেন ও মুরতাহিন) অতিরিক্ত মাল ফিরিয়ে দিবে। আর যদি কোন বিপদ পৌঁছে থাকে, তবে সে মুক্ত হয়ে যাবে।
এই তো হযরত উমর ও হযরত আলী (রাযিঃ), তাঁরা উভয়েই এ বিষয়ে একমত পােষণ করেন যে, বন্ধকী মালের মূল্য যদি ঋণের সমপরিমাণ হয়, তবে তা নষ্ট হলে ঋণের বিনিময়ে তা নষ্ট হবে। তবে দু'জনের বিরােধ হলো এ বিষয়ে যে, যখন বন্ধকী বস্তুর মূল্য ঋণের পরিমাণের চেয়ে বেশী হবে তখন হযরত উমর (রাযিঃ) বলেন বন্ধকী বস্তুর অতিরিক্ত পরিমাণ আমানত হিসেবে বিবেচিত হবে। আর হযরত আলী (রাযিঃ) ঐ কথা বলেন, যা আমরা নসর ইব্ন মারযূক এবং আহমদ ইব্ন আবু দাউদ (রাহঃ)-এর হাদীসে বর্ণনা করছি।
হাসান ও শুরায়হ হতেও
এই তো হযরত উমর ও হযরত আলী (রাযিঃ), তাঁরা উভয়েই এ বিষয়ে একমত পােষণ করেন যে, বন্ধকী মালের মূল্য যদি ঋণের সমপরিমাণ হয়, তবে তা নষ্ট হলে ঋণের বিনিময়ে তা নষ্ট হবে। তবে দু'জনের বিরােধ হলো এ বিষয়ে যে, যখন বন্ধকী বস্তুর মূল্য ঋণের পরিমাণের চেয়ে বেশী হবে তখন হযরত উমর (রাযিঃ) বলেন বন্ধকী বস্তুর অতিরিক্ত পরিমাণ আমানত হিসেবে বিবেচিত হবে। আর হযরত আলী (রাযিঃ) ঐ কথা বলেন, যা আমরা নসর ইব্ন মারযূক এবং আহমদ ইব্ন আবু দাউদ (রাহঃ)-এর হাদীসে বর্ণনা করছি।
হাসান ও শুরায়হ হতেও
كتاب الرهن
5912 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ، قَالَ: ثنا أَبُو عُمَرَ الْحَوْضِيُّ، قَالَ: ثنا حَمَّادٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، وَخِلَاسِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ عَلِيًّا قَالَ فِي الرَّهْنِ يَتَرَادَّانِ الزِّيَادَةَ وَالنُّقْصَانَ جَمِيعًا فَإِنْ أَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ بَرِئَ فَهَذَا عُمَرُ وَعَلِيٌّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَدْ أَجْمَعَا أَنَّ الرَّهْنَ الَّذِي قِيمَتُهُ مِقْدَارُ الدَّيْنِ يَضِيعُ بِالدَّيْنِ وَإِنَّمَا اخْتِلَافُهُمَا فِيمَا زَادَ مِنْ قِيمَةِ الرَّهْنِ عَلَى مِقْدَارِ الدَّيْنِ. فَقَالَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: هُوَ أَمَانَةٌ. وَقَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ مَا قَدْ رَوَيْنَا عَنْهُ فِي حَدِيثِ نَصْرِ بْنِ مَرْزُوقٍ وَأَحْمَدَ بْنِ دَاوُدَ. وَقَدْ رُوِيَ أَيْضًا عَنِ الْحَسَنِ وَشُرَيْحٍ مِنْ ذَلِكَ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৯১৩
বন্ধক রাখার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বন্ধক রাখা বস্তু মুরতাহিনের হাতে হালাক হলে তার হুকুম কি ?
৫৯১৩। এ বিষয়ে ঐ কথাই বর্ণিত যা নসর আমাদের জানিয়েছেন। তিনি বলেন, খাসীফ পর্যায়ক্রমে হাম্মাদ ইব্ন সালামা ও কাতাদা হতে বর্ণনা করেন, হাসান ও শুরায়হ বলেন -الرهن بما فيه
كتاب الرهن
5913 - مَا قَدْ حَدَّثَنَا نَصْرٌ قَالَ: ثنا الْخَصِيبُ قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ قَتَادَةَ أَنَّ الْحَسَنَ وَشُرَيْحًا قَالَا: الرَّهْنُ بِمَا فِيهِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৯১৪
বন্ধক রাখার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বন্ধক রাখা বস্তু মুরতাহিনের হাতে হালাক হলে তার হুকুম কি ?
৫৯১৪। হুসায়ন ইব্ন নসর ….. আবু হাসীন বলেন, আমি শুরাইহকে বলতে শুনেছি, বন্ধক রাখা বস্তুসমূহ তার সম্পূর্ণ মূল্য সহ-ই ধ্বংস হয়েছে।
كتاب الرهن
5914 - حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ: ثنا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ: ثنا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ، قَالَ: سَمِعْتُ شُرَيْحًا، يَقُولُ: ذَهَبَتِ الرِّهَانُ بِمَا فِيهَا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৯১৫
বন্ধক রাখার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বন্ধক রাখা বস্তু মুরতাহিনের হাতে হালাক হলে তার হুকুম কি ?
৫৯১৫। ইবরাহীম ইব্ন মারযূক ….. ইয়াযীদ ইব্ন আবু যিয়াদ ইসা ইব্ন জাবান হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, একবার আমি একটি গহনা বন্ধক রাখলাম এবং উক্ত গহনার পরিমাণ ঋণ অপেক্ষা অধিক ছিল। অতঃপর তা হালাক হলাে। তারপর তারা দুজনই (রাহেন ও মুরতাহিন) শুরায়হ (রাহঃ)-এর নিকট মীমাংসার জন্য উপস্থিত হলাে। তখন তিনি বললেন, বন্ধকী বস্তু তার সম্পূর্ণ মূল্য সহ-ই হালাক হয়েছে।
এই তাে হাসান ও শুরায়হ (রাহঃ), তাঁরা মনে করেন, বন্ধক রাখা বস্তু হালাক হলে তা ঋণকে বাতিল করে দেয়। ইবরাহীম নাখঈ (রাহঃ) হতেও এ কথা বর্ণিত হয়েছে।
এই তাে হাসান ও শুরায়হ (রাহঃ), তাঁরা মনে করেন, বন্ধক রাখা বস্তু হালাক হলে তা ঋণকে বাতিল করে দেয়। ইবরাহীম নাখঈ (রাহঃ) হতেও এ কথা বর্ণিত হয়েছে।
كتاب الرهن
5915 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ: ثنا وَهْبٌ، قَالَ: ثنا شُعْبَةُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ جَابَانَ، قَالَ: رَهَنْتُ حُلِيًّا وَكَانَ أَكْثَرَ مِمَّا فِيهِ فَضَاعَ فَاخْتَصَمْنَا إِلَى شُرَيْحٍ فَقَالَ الرَّهْنُ بِمَا فِيهِ فَهَذَا الْحَسَنُ وَشُرَيْحٌ قَدْ رَأَيَا الرَّهْنَ يَبْطُلُ ذَهَابُهُ بِالدَّيْنِ وَقَدْ رُوِيَ ذَلِكَ أَيْضًا عَنْ إِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৯১৬
বন্ধক রাখার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বন্ধক রাখা বস্তু মুরতাহিনের হাতে হালাক হলে তার হুকুম কি ?
৫৯১৬। সুলায়মান ইব্ন শুআয়ব তাঁর পিতা সূত্রে …. হাম্মাদ ইবরাহীম হতে বর্ণনা করেন, তিনি মুরতাহিনের হাতে বন্ধক রাখা বস্তু হালাক হলে সে সম্পর্কে বলেন, বন্ধকী বস্তুর মূল্য ও ঋণ যদি সমান হয়, তবে বন্ধকী বস্তু ঋণের বিনিময়ে হালাক হবে। আর যদি তার মূল্য ঋণের চেয়ে কম হয়, তবে ঋণের অতিরিক্ত অংশ ফিরিয়ে দেয়া হবে। আর তার মূল্য ঋণের চেয়ে বেশী হলে অতিরিক্ত অংশে মুরতাহিন আমীন হবে।
এ সম্পর্কে আতা ইব্ন রাবাহ (রাহঃ) হতে বর্ণিত :
এ সম্পর্কে আতা ইব্ন রাবাহ (রাহঃ) হতে বর্ণিত :
كتاب الرهن
5916 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، أَنَّهُ قَالَ فِي الرَّهْنِ: يَهْلِكُ فِي يَدَيِ الْمُرْتَهِنِ إِنْ كَانَتْ قِيمَتُهُ وَالدَّيْنِ سَوَاءً ضَاعَ بِالدَّيْنِ وَإِنْ كَانَتْ قِيمَتُهُ أَقَلَّ مِنَ الدَّيْنِ رَدَّ عَلَيْهِ الْفَضْلَ وَإِنْ كَانَتْ قِيمَتُهُ أَكْثَرَ مِنَ الدَّيْنِ فَهُوَ أَمِينٌ فِي الْفَضْلِ وَرُوِيَ فِي ذَلِكَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৯১৭
বন্ধক রাখার অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বন্ধক রাখা বস্তু মুরতাহিনের হাতে হালাক হলে তার হুকুম কি ?
৫৯১৭। ইব্ন মারযূক …… আতা থেকে বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি তার বাঁদী অন্য এক ব্যক্তির নিকট বন্ধক রাখার পর হালাক হয়ে যায়। তার সম্পর্কে আতা (রাহঃ) বলেন, সে (বাঁদী) মুরতাহিনের হক (ঋণ)-এর বিনিময়ে হালাক হয়েছে।
এই তাে হযরত আতা এই কথা বলেন, অথচ আমরা তাঁর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) হতে বর্ণনা করেছি “ لا يغلق الرهن ”(বন্ধকী বস্তু হতে রাহেনকে বাধা দেয়া যাবে না)। অতএব এ রিওয়ায়াতও আমাদের বিরােধীর বিপক্ষে আমাদের দলীল। কারণ তাঁর নীতি হলো, রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) হতে যিনি হাদীস বর্ণনা করেন, তাঁর ব্যাখ্যাই দলীল হিসেবে বিবেচিত। অথচ তিনি এসব ব্যাখ্যারই বিরােধিতা করেছেন। অনুরূপ যেসব রিওয়ায়াত আমরা রাসূলুল্লাহ(ﷺ) হতে বর্ণনা করেছি এবং হযরত উমর, আলী (রাযিঃ) এবং যে সমস্ত তাবিঈ হতে আমরা বর্ণনা করেছি, তাদেরও তিনি বিরােধিতা করেছেন। সুতরাং আমরা জিজ্ঞেস করি, এ বিষয়ে তাঁর ইমাম কে? এবং তিনি কার অনুসরণ করেন ?
তারপর তিনি যা বলেন এবং যে মতের তিনি অনুসরণ করেন, আমাদের যুক্তিও তা প্রতিরােধ করে। কারণ বন্ধকী বস্তুকে তিনি (মুরতাহিনের নিকট) আমানত মনে করেন, যা নষ্ট হয়ে গেলে কোন বিনিময় ছাড়াই নষ্ট হবে (যা একেবারেই একটা ভুল ধারণা)। কারণ উলামা-ই কিরাম এ বিষয়ে একমত পােষণ করেন যে, সমস্ত আমানতের মালিকের এ অধিকার থাকে যে, সে তার আমানত যে কোন সময় নিয়ে নিতে পারে। অতএব এ পরিস্থিতি হলে, মুরতাহিনের জন্য তাকে বাধা দেয়া হারাম হবে। অথচ বন্ধকের মাসআলা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ মুরতাহিনের জন্য এ অধিকার থাকে যে, সে বন্ধক রাখা বস্তুকে আটকিয়ে রাখতে পারবে। আর তার মালিকের নিকট হতে যতদিন পর্যন্ত তার ঋণ আদায় করতে না পারবে, ততদিন সে মালিককে তা নিতে বাধা দিতে পারবে। অতএব এর দ্বারা رهن (বন্ধক রাখা বস্তু)-এর হুকুম আমানতের হুকুম হতে পৃথক হয়ে গেল। আর আমরা এটাও দেখেছি যে, লুণ্ঠিত বস্তু লুণ্ঠনকারীদের জন্য আটকিয়ে রাখা হারাম, অথচ যাদের নিকট হতে লুণ্ঠন করা হয়েছে, তাদের জন্য তা হালাল। অথচ رهن এমন নয়। কারণ মুরতাহিনের জন্য তা আটকিয়ে রাখা হালাল। আর রাহেন যতদিন তার ঋণ পরিশােধ না করবে, ততদিন পর্যন্ত মুরতাহিন তাকে তার বন্ধক রাখা বস্তু হতে বাধাও দিতে পারবে।
আর আমরা এটাও দেখেছি যে, ধার করা বস্তু দ্বারা ধারকারী ব্যক্তি উপকৃত হতে পারে। আর যে ব্যক্তি তাকে ধার দিয়েছে, তার পক্ষে যে কোন সময় তার ইচ্ছা অনুযায়ী তার নিকট হতে তা নিয়ে নিতে পারে। অথচ رهن ও বন্ধকের মাসআলা এমন নয়। কারণ বন্ধকী বস্তু ব্যবহার করা মুরতাহিনের ওপর সম্পূর্ণ হারাম। অতএব, رهن ও বন্ধকের হুকুম, আমানত, غصب (লুণ্ঠন) ও عارثه (ধার)-এর হুকুম হতে যে পৃথক তা সুস্পষ্ট হলাে। আর এ কথা প্রমাণিত হলাে যে, رهن এর হুকুম, এসব কিছুর হুকুম হতে ভিন্ন।
আর উলামা-ই কিরাম এ বিষয়ে একমত যে, মুরতাহিনের জন্য বন্ধকী বস্তু আটকিয়ে রাখার অধিকার রয়েছে, যাবত না সে তার ঋণ পূর্ণ নিয়ে নিবে। আর রাহেন যখন তার ঋণ হতে মুক্ত হবে, তখন তার জন্য তা নিয়ে নেয়া হালাল।
বন্ধকী বস্তু আটকিয়ে রাখার অধিকার যখন ঋণ আটকিয়ে রাখার সাথে সম্পৃক্ত এবং তার আটক হতে মুক্ত হওয়া যখন ঋণ হতে মুক্ত হবার সাথে সম্পৃক্ত, অতএব ঠিক এভাবেই বন্ধকী বস্তু বহাল থাকলে ঋণও বহাল থাকবে। আর তা বহাল না থাকলে ঋণও বহাল থাকবে না ।
অনুরূপভাবে আমরা এটাও লক্ষ্য করেছি যে, আমাদের ও আমাদের বিরােধী এই কথকের মতে বিক্রেতার জন্য তার বিক্রয় করা মাল মূল্য পরিশােধ না করার কারণে আটকিয়ে রাখা জায়েয আছে। আর এই অবস্থায় যদি উক্ত মাল তার নিকট নষ্ট হয়ে যায়, তবে তার ثمن অর্থাৎ তার বিক্রয় মূল্যও নষ্ট হবে। (অর্থাৎ তার মূল্য তাকে দেয়া হবে না)। অতএব আমরা ও তিনি এই যে বিষয়ের ওপর একমত হয়েছি, তার ওপর প্রতিষ্ঠিত যুক্তির দাবি হলো, رهن (বন্ধক রাখা মাল)-ও অনুরূপ হবে। অর্থাৎ رهن নষ্ট হলে ঋণও বাতিল হবে। যেমন বিক্রয় করা মাল বিক্রেতার কাছে নষ্ট হলে বিক্রয় মূল্য বাতিল হয়ে যায় । অনুরূপভাবে رهن নষ্ট হলেও ঋণ বাতিল হয়ে যায়। এ বিষয়ে এটাই আমাদের যুক্তি।
তবে ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাহঃ) ঐ মত অবলম্বন করেন, যা আমরা এ অনুচ্ছেদে হযরত উমর (রাযিঃ) ও ইবাহিম নাখঈ (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছি। আর غصب ও লুণ্ঠনের ব্যাপারে উলামা-ই কিরাম যে বিষয়ের ওপর ঐকমত্য পােষণ করেছেন, তারা তা দ্বারা দলীল পেশ করেন। তারা বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, লুণ্ঠনকারীর নিকট যদি লুণ্ঠিত মাল নষ্ট হয়ে যায়, তবে লুণ্ঠিত মালের মূল্যের বেশী তার ওপর ওয়াজিব হয় না। অথচ লুণ্ঠন করা হারাম। অতএব বন্ধকী মাল, যা মুরতাহিনের যিম্মায় তার হিফাযতের দায়িত্ব বর্তায়, তা নষ্ট হয়ে গেলেও তার মূল্যের অধিকের সে যামিন হবে না।
আর সাঈদ ইব্নুল মুসায়্যিব (রাহঃ)-এর যে বক্তব্য له غنمه وعليه غرمه এর ব্যাখ্যার ব্যাপারে তারা বলেন, তাঁর এ বক্তব্য بيع বা ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপারে প্রযােজ্য। অর্থাৎ বন্ধকী বস্তু যখন ঋণের চেয়ে কম মূল্যে বিক্রয় করা হবে, তখন রাহেন মুরতাহিনের অবশিষ্ট ঋণের জন্য দায়ী থাকবে। হাদীসে বর্ণিত وعليه غرمه -এর অর্থ এটাই। আর যখন ঋণের চেয়ে বেশী মূল্যে বিক্রয় করা হবে, তখন তার বন্ধকী বস্তুর অধিক মূল্য সে গ্রহণ করবে। হাদীসে বর্ণিত له غنمه-এর অর্থ এটাই।
এই তাে হযরত আতা এই কথা বলেন, অথচ আমরা তাঁর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) হতে বর্ণনা করেছি “ لا يغلق الرهن ”(বন্ধকী বস্তু হতে রাহেনকে বাধা দেয়া যাবে না)। অতএব এ রিওয়ায়াতও আমাদের বিরােধীর বিপক্ষে আমাদের দলীল। কারণ তাঁর নীতি হলো, রাসূলুল্লাহ্(ﷺ) হতে যিনি হাদীস বর্ণনা করেন, তাঁর ব্যাখ্যাই দলীল হিসেবে বিবেচিত। অথচ তিনি এসব ব্যাখ্যারই বিরােধিতা করেছেন। অনুরূপ যেসব রিওয়ায়াত আমরা রাসূলুল্লাহ(ﷺ) হতে বর্ণনা করেছি এবং হযরত উমর, আলী (রাযিঃ) এবং যে সমস্ত তাবিঈ হতে আমরা বর্ণনা করেছি, তাদেরও তিনি বিরােধিতা করেছেন। সুতরাং আমরা জিজ্ঞেস করি, এ বিষয়ে তাঁর ইমাম কে? এবং তিনি কার অনুসরণ করেন ?
তারপর তিনি যা বলেন এবং যে মতের তিনি অনুসরণ করেন, আমাদের যুক্তিও তা প্রতিরােধ করে। কারণ বন্ধকী বস্তুকে তিনি (মুরতাহিনের নিকট) আমানত মনে করেন, যা নষ্ট হয়ে গেলে কোন বিনিময় ছাড়াই নষ্ট হবে (যা একেবারেই একটা ভুল ধারণা)। কারণ উলামা-ই কিরাম এ বিষয়ে একমত পােষণ করেন যে, সমস্ত আমানতের মালিকের এ অধিকার থাকে যে, সে তার আমানত যে কোন সময় নিয়ে নিতে পারে। অতএব এ পরিস্থিতি হলে, মুরতাহিনের জন্য তাকে বাধা দেয়া হারাম হবে। অথচ বন্ধকের মাসআলা এর সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ মুরতাহিনের জন্য এ অধিকার থাকে যে, সে বন্ধক রাখা বস্তুকে আটকিয়ে রাখতে পারবে। আর তার মালিকের নিকট হতে যতদিন পর্যন্ত তার ঋণ আদায় করতে না পারবে, ততদিন সে মালিককে তা নিতে বাধা দিতে পারবে। অতএব এর দ্বারা رهن (বন্ধক রাখা বস্তু)-এর হুকুম আমানতের হুকুম হতে পৃথক হয়ে গেল। আর আমরা এটাও দেখেছি যে, লুণ্ঠিত বস্তু লুণ্ঠনকারীদের জন্য আটকিয়ে রাখা হারাম, অথচ যাদের নিকট হতে লুণ্ঠন করা হয়েছে, তাদের জন্য তা হালাল। অথচ رهن এমন নয়। কারণ মুরতাহিনের জন্য তা আটকিয়ে রাখা হালাল। আর রাহেন যতদিন তার ঋণ পরিশােধ না করবে, ততদিন পর্যন্ত মুরতাহিন তাকে তার বন্ধক রাখা বস্তু হতে বাধাও দিতে পারবে।
আর আমরা এটাও দেখেছি যে, ধার করা বস্তু দ্বারা ধারকারী ব্যক্তি উপকৃত হতে পারে। আর যে ব্যক্তি তাকে ধার দিয়েছে, তার পক্ষে যে কোন সময় তার ইচ্ছা অনুযায়ী তার নিকট হতে তা নিয়ে নিতে পারে। অথচ رهن ও বন্ধকের মাসআলা এমন নয়। কারণ বন্ধকী বস্তু ব্যবহার করা মুরতাহিনের ওপর সম্পূর্ণ হারাম। অতএব, رهن ও বন্ধকের হুকুম, আমানত, غصب (লুণ্ঠন) ও عارثه (ধার)-এর হুকুম হতে যে পৃথক তা সুস্পষ্ট হলাে। আর এ কথা প্রমাণিত হলাে যে, رهن এর হুকুম, এসব কিছুর হুকুম হতে ভিন্ন।
আর উলামা-ই কিরাম এ বিষয়ে একমত যে, মুরতাহিনের জন্য বন্ধকী বস্তু আটকিয়ে রাখার অধিকার রয়েছে, যাবত না সে তার ঋণ পূর্ণ নিয়ে নিবে। আর রাহেন যখন তার ঋণ হতে মুক্ত হবে, তখন তার জন্য তা নিয়ে নেয়া হালাল।
বন্ধকী বস্তু আটকিয়ে রাখার অধিকার যখন ঋণ আটকিয়ে রাখার সাথে সম্পৃক্ত এবং তার আটক হতে মুক্ত হওয়া যখন ঋণ হতে মুক্ত হবার সাথে সম্পৃক্ত, অতএব ঠিক এভাবেই বন্ধকী বস্তু বহাল থাকলে ঋণও বহাল থাকবে। আর তা বহাল না থাকলে ঋণও বহাল থাকবে না ।
অনুরূপভাবে আমরা এটাও লক্ষ্য করেছি যে, আমাদের ও আমাদের বিরােধী এই কথকের মতে বিক্রেতার জন্য তার বিক্রয় করা মাল মূল্য পরিশােধ না করার কারণে আটকিয়ে রাখা জায়েয আছে। আর এই অবস্থায় যদি উক্ত মাল তার নিকট নষ্ট হয়ে যায়, তবে তার ثمن অর্থাৎ তার বিক্রয় মূল্যও নষ্ট হবে। (অর্থাৎ তার মূল্য তাকে দেয়া হবে না)। অতএব আমরা ও তিনি এই যে বিষয়ের ওপর একমত হয়েছি, তার ওপর প্রতিষ্ঠিত যুক্তির দাবি হলো, رهن (বন্ধক রাখা মাল)-ও অনুরূপ হবে। অর্থাৎ رهن নষ্ট হলে ঋণও বাতিল হবে। যেমন বিক্রয় করা মাল বিক্রেতার কাছে নষ্ট হলে বিক্রয় মূল্য বাতিল হয়ে যায় । অনুরূপভাবে رهن নষ্ট হলেও ঋণ বাতিল হয়ে যায়। এ বিষয়ে এটাই আমাদের যুক্তি।
তবে ইমাম আবু হানীফা, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদ (রাহঃ) ঐ মত অবলম্বন করেন, যা আমরা এ অনুচ্ছেদে হযরত উমর (রাযিঃ) ও ইবাহিম নাখঈ (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেছি। আর غصب ও লুণ্ঠনের ব্যাপারে উলামা-ই কিরাম যে বিষয়ের ওপর ঐকমত্য পােষণ করেছেন, তারা তা দ্বারা দলীল পেশ করেন। তারা বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি যে, লুণ্ঠনকারীর নিকট যদি লুণ্ঠিত মাল নষ্ট হয়ে যায়, তবে লুণ্ঠিত মালের মূল্যের বেশী তার ওপর ওয়াজিব হয় না। অথচ লুণ্ঠন করা হারাম। অতএব বন্ধকী মাল, যা মুরতাহিনের যিম্মায় তার হিফাযতের দায়িত্ব বর্তায়, তা নষ্ট হয়ে গেলেও তার মূল্যের অধিকের সে যামিন হবে না।
আর সাঈদ ইব্নুল মুসায়্যিব (রাহঃ)-এর যে বক্তব্য له غنمه وعليه غرمه এর ব্যাখ্যার ব্যাপারে তারা বলেন, তাঁর এ বক্তব্য بيع বা ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপারে প্রযােজ্য। অর্থাৎ বন্ধকী বস্তু যখন ঋণের চেয়ে কম মূল্যে বিক্রয় করা হবে, তখন রাহেন মুরতাহিনের অবশিষ্ট ঋণের জন্য দায়ী থাকবে। হাদীসে বর্ণিত وعليه غرمه -এর অর্থ এটাই। আর যখন ঋণের চেয়ে বেশী মূল্যে বিক্রয় করা হবে, তখন তার বন্ধকী বস্তুর অধিক মূল্য সে গ্রহণ করবে। হাদীসে বর্ণিত له غنمه-এর অর্থ এটাই।
كتاب الرهن
5917 - مَا قَدْ حَدَّثَنَا ابْنُ مَرْزُوقٍ قَالَ: ثنا أَبُو عَاصِمٍ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ فِي رَجُلٍ رَهَنَ رَجُلًا جَارِيَةً فَهَلَكَتْ قَالَ: هِيَ بِحَقِّ الْمُرْتَهِنِ [ص:104] فَهَذَا عَطَاءٌ يَقُولُ بِهَذَا وَقَدْ رَوَيْنَا عَنْهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ لَا يَغْلَقُ الرَّهْنُ. فَهَذَا أَيْضًا حُجَّةٌ عَلَى مُخَالِفِنَا إِذَا كَانَ مِنْ أَصْلِهِ أَنَّ مَنْ رَوَى حَدِيثًا عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَأْوِيلُهُ فِيهِ حُجَّةٌ. فَقَدْ خَالَفَ هَذَا كُلَّهُ فِي هَذَا الْبَابِ وَخَالَفَ مَا قَدْ رَوَيْنَاهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا وَعَمَّنْ ذَكَرْنَا مِنَ التَّابِعِينَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ فَمَنْ إِمَامُهُ فِي هَذَا؟ أَوْ بِمَنِ اقْتَدَى بِهِ؟ . ثُمَّ النَّظَرُ فِي هَذَا أَيْضًا يَدْفَعُ مَا قَالَ وَمَا ذَهَبَ إِلَيْهِ إِذْ جَعْلُ الرَّهْنِ أَمَانَةً يَضِيعُ بِغَيْرِ شَيْءٍ. وَقَدْ أَجْمَعُوا أَنَّ الْأَمَانَاتِ لِرَبِّهَا أَنْ يَأْخُذَهَا وَحَرَامٌ عَلَى الْمُرْتَهِنِ مَنْعُهُ مِنْهَا. وَالرَّهْنُ مُخَالِفٌ لِذَلِكَ إِذَا كَانَ لِلْمُرْتَهِنِ حَبْسُهُ وَمَنْعُ مَالِكِهِ مِنْهُ حَتَّى يَسْتَوْفِيَ دَيْنَهُ فَخَرَجَ بِذَلِكَ حُكْمُهُ مِنْ حُكْمِ الْأَمَانَاتِ. وَرَأَيْنَا الْأَشْيَاءَ الْمَغْصُوبَةَ حَرَامٌ عَلَى الْغَاصِبِينَ حَبْسُهَا وَحَلَالٌ لِلْمَغْصُوبِينَ مِنْهُمْ أَخْذُهَا وَالرَّهْنُ لَيْسَ كَذَلِكَ لِأَنَّ الْمُرْتَهِنَ حَلَالٌ لَهُ حَبْسُ الرَّهْنِ وَمَنْعُ الرَّاهِنِ مِنْهُ حَتَّى يَسْتَوْفِيَ مِنْهُ دَيْنَهُ. وَرَأَيْنَا الْعَوَارِيَّ لِلْمُسْتَعِيرِ الِانْتِفَاعُ بِهَا وَلِلْمُعِيرِ أَخْذُهَا مِنْهُ مَتَى أَحَبَّ. وَالرَّهْنُ لَيْسَ كَذَلِكَ لِأَنَّ الْمُرْتَهِنَ حَرَامٌ عَلَيْهِ اسْتِعْمَالُ الرَّهْنِ وَلَيْسَ لِلرَّاهِنِ أَخْذُهُ مِنْهُ حَتَّى يُوفِيَهُ دَيْنَهُ. فَبَانَ حُكْمُ الرَّهْنِ عَنْ حُكْمِ الْوَدَائِعِ وَالْغُصُوبِ وَالْعَوَارِيِّ وَثَبَتَ أَنَّ حُكْمَهُ بِخِلَافِ حُكْمِ ذَلِكَ كُلِّهِ. وَقَدْ أَجْمَعُوا أَنَّ لِلْمُرْتَهِنِ حَبْسَهُ حَتَّى يَسْتَوْفِيَ الدَّيْنَ وَحَلَالٌ لِلرَّاهِنِ أَخْذُهُ إِذَا بَرِئَ مِنَ الدَّيْنِ. فَلَمَّا كَانَ حَبْسُ الرَّهْنِ مُضَمَّنًا بِحَبْسِ الدَّيْنِ وَسُقُوطُ حَبْسِهِ مُضَمَّنًا بِسُقُوطِ حَبْسِ الدَّيْنِ كَانَ كَذَلِكَ أَيْضًا ثُبُوتُ الدَّيْنِ مُضَمَّنًا بِثُبُوتِ الرَّهْنِ فَمَا كَانَ الرَّهْنُ ثَابِتًا فَالدَّيْنُ ثَابِتٌ وَمَتَى كَانَ الرَّهْنُ غَيْرَ ثَابِتٍ فَالدَّيْنُ غَيْرُ ثَابِتٍ. وَكَذَلِكَ رَأَيْنَا الْمَبِيعَ فِي قَوْلِنَا وَقَوْلِ هَذَا الْمُخَالِفِ لَنَا لِلْبَائِعِ حَبْسُهُ بِالثَّمَنِ وَمَتَى ضَاعَ فِي يَدِهِ ضَاعَ بِالثَّمَنِ. فَالنَّظَرُ عَلَى مَا اجْتَمَعَا عَلَيْهِ نَحْنُ وَهُوَ مِنْ هَذَا أَنْ يَكُونَ الرَّهْنُ كَذَلِكَ وَأَنْ يَكُونَ ضَيَاعُهُ يُبْطِلُ الدَّيْنَ كَمَا كَانَ ضَيَاعُ الْمَبِيعِ يُبْطِلُ الثَّمَنَ. فَهَذَا هُوَ النَّظَرُ فِي هَذَا الْبَابِ غَيْرَ أَنَّ أَبَا حَنِيفَةَ وَأَبَا يُوسُفَ وَمُحَمَّدًا رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ ذَهَبُوا فِي الرَّهْنِ إِلَى مَا قَدْ رَوَيْنَاهُ فِي هَذَا الْبَابِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ وَإِبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ. وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِكَ بِمَا قَدْ أَجْمَعُوا عَلَيْهِ فِي الْغَصْبِ فَقَالُوا: رَأَيْنَا الْأَشْيَاءَ الْمَغْصُوبَةَ لَا يُوجِبُ ضَيَاعُهَا مِنْ غَصْبِهَا أَكْثَرَ مِنْ ضَمَانِ قِيمَتِهَا وَغَصْبُهَا حَرَامٌ. قَالُوا: فَالْأَشْيَاءُ الْمَرْهُونَةُ الَّتِي قَدْ ثَبَتَ أَنَّهَا مَضْمُونَةٌ أَحْرَى أَنْ لَا يَجِبَ بِضَمَانِهَا عَلَى مَنْ قَدْ ضَمِنَهَا أَكْثَرُ مِنْ مِقْدَارِ قِيمَتِهَا. وَكَانُوا يَذْهَبُونَ فِي تَفْسِيرِ قَوْلِ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ لَهُ غُنْمُهُ وَعَلَيْهِ غُرْمُهُ إِلَى أَنَّ ذَلِكَ فِي الْبَيْعِ. [ص:105] يُرِيدُونَ إِذَا بِيعَ الرَّهْنُ بِثَمَنٍ فِيهِ نَقْصٌ عَنِ الدَّيْنِ غَرِمَ الْمُرْتَهِنُ ذَلِكَ النَّقْصَ وَهُوَ غُرْمُهُ الْمَذْكُورُ فِي الْحَدِيثِ وَإِذَا بِيعَ بِفَضْلٍ عَنِ الدَّيْنِ أَخَذَ الرَّاهِنُ ذَلِكَ الْفَضْلَ وَهُوَ غُنْمُهُ الْمَذْكُورُ فِي الْحَدِيثِ
তাহকীক: