আল্লামা সায়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.

আল্লামা সায়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.

আল্লামা সায়্যিদ মুহাম্মাদ সুলাইমান নদভী রহ.


১৩০২ হিঃ, ১৩৭২ হিঃ, ১৮৮৪ ইং, ১৯৫৩ ইং


নাম ও বংশ

হযরাতুল আল্লাম সায়্যিদ মুহাম্মাদ সুলাইমান নদভী রহ. এর আসল নাম ছিল “আনীসুল হাসান”। তিনি জন্মগ্রহণের পর তাঁর সম্মানিত দাদা এ নাম ঠিক করেছিলেন। তাঁর উপনাম ছিল আবূ নাজীব। পরবর্তীতে বার্মার রাজধানী রেঙ্গুনের জনৈক ব্যবসায়ী সুলাইমানের নামে প্রভাবিত হয়ে ঘরের লোকজন তাঁকে সুলাইমান নামে ডাকা আরম্ভকরে। মাওলানা বুঝ বুদ্ধির বয়সে পৌঁছার পর নিজের নাম “সায়্যিদ সুলাইমান” বলা ও লেখা আরম্ভ করে দেন। ঘটনাক্রমে ঐ সময়ে পাঁচ সুলাইমান একসাথে হয়ে যান।


১. শাহ সুলাইমান ফুলওয়ারী (প্রসিদ্ধ আলেম, ওয়ায়েয ও সূফী)।

২. কাযী সুলাইমান মনসূরপুরী “রাহমাতুল লিল আলামীন” গ্রন্থের সম্মানিত লেখক।

৩. মাওলানা সুলাইমান আশরাফ (সাবেক সদর, দ্বীনিয়াত বিভাগ মুসলিম ইউনিভার্সিটি আলীগড়)।

৪. স্যার শাহ সুলাইমান (সাবেক সদর, ভাইস চ্যান্সলর মুসলিম ইউনিভার্সিটি আলীগড়)।

৫. আমাদের আলোচ্য মনীষী সায়্যিদ সুলাইমান নদভী রহ.।


সায়্যিদ সুলাইমান বলার দ্বারা অনেক সময় উপরের বৈসাদৃশ্যের আশংকা থাকত, এজন্য প্রথমে মাওলানা মরহুম নিজের নামের সাথে নিজের এলাকার নিসবত 'বিসনাভী' সংযুক্ত করেন। কিছুদিন পর অবশ্য তিনি নদওয়ার নিসবতে নদভী হয়ে যান। এখন তাঁর নাম সব সময়ের জন্য সায়্যিদ সুলাইমান নদভী হয়ে যায়।


বংশ ও বাড়ী

প্রখ্যাত ঐতিহাসিক মাওলানা মানাযির আহসান গীলানী রহ. 'রিয়ায' নামক পুস্তিকায় 'সুলাইমান' সংখ্যায় একটি প্রবন্ধ লিখেন। সেখানে তিনি হযরত ওয়ালার বাড়ীর ব্যাপারে লিখেন: "আল্লামা সায়্যিদ সুলাইমান নদভী রহ. বিহার প্রদেশের প্রসিদ্ধ গ্রাম যা অভিজাত ব্যক্তিবর্গের গ্রাম হিসেবে পরিচিত 'বিসনায়' জন্মগ্রহণ করেন। এ এলাকাটি অনেক পূর্ব থেকেই উলামা ফুযালা অধ্যুষিত স্বর্ণ প্রসবিনী অঞ্চল হিসেবে সুপ্রসিদ্ধ”।


সায়্যিদ ছাহেব রহ. এর সম্মানিত পিতা মাওলানা হাকীম সায়্যিদ আবুল হাসান রহ. একজন প্রসিদ্ধ ও গভীর জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি “ইসলামপুর" রাজ্যের সরকারী ডাক্তার ছিলেন এবং নকশবন্দিয়া সিলসিলায় শাইখে কামেল ছিলেন। তাঁর বাহ্যিক অবয়ব গাম্ভীর্যপূর্ণ ও অভ্যন্তরীণ অবস্থা তাকওয়ার প্রতিচ্ছবি ছিল। সায়্যিদ ছাহেব রহ. এর আম্মাও একজন ইবাদতগুযার নেককার বিদূষী মহিলা ছিলেন। সায়্যিদ ছাহেব রহ. এর বড় ভাই মাওলানা সায়্যিদ আবু হাবীব রহ. (ইন্তিকাল ১৩৪৬ হিঃ) বয়সে হযরত থেকে ১৮ বছরের বড় ছিলেন। তিনিও নকশবন্দিয়া সিলসিলায় মুজাযে বাইআত ছিলেন।


জন্ম

মরহুম সায়্যিদ সুলাইমান নদভী রহ. ১৩০২ হিজরীর ২৩ সফর পবিত্র জুমু'আর দিনে মুতাবিক ১৮৮৪ খ্রীস্টাব্দের ২২ নভেম্বর সকাল বেলা জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের পর তাঁর সম্মানিত দাদা হাকীম মুহাম্মাদী রহ. খুবই আনন্দিত হন এবং বেশ কিছু ফার্সী কবিতা পাঠ করেন।


শৈশব

ছোটকালে পড়াশোনা করার জন্য বাড়ীর বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। ঘরের মধ্যেই ইলমী ও দ্বীনী পরিবেশ ছিল। তাঁর মুহতারাম বড় ভাই তাঁকে কিছু জরূরী কিতাব পড়িয়ে দেন। আবার তরীকতের পীর হিসেবে মাঝে মধ্যে ছোট ভাই কে নিজের হালকায়ে তাওয়াজ্জুহে বসাতেন। হযরত নদভী রহ. তাঁর ভাইয়ের ব্যাপারে বলেন: “আমি আমার ভাইয়ের সাহচর্যের বরকতে আমার অন্তরে পবিত্রতা অনুভব করতাম।"


কেমন যেন এটা ছিল উদ্ভাসিত সূচনা। যার সুন্দর পরিসমাপ্তি হয়েছে হযরত হাকীমুল উম্মাত থানভী রহ. এর পবিত্র হাতে।


শৈশবেই শাহ ইসমাঈল শহীদ রহ. এর "তাকবিয়াতুল ঈমান" কিতাবটির মাধ্যমে সায়্যিদ ছাহেব রহ. দারুণভাবে প্রভাবিত হন। এক স্থানে তিনি বলেন: “এই “তাকবিয়াতুল ঈমান” হল প্রথম কিতাব, যা আমাকে দ্বীনে হক্বের কথাবার্তা শিখিয়েছে এবং এমনভাবে শিখিয়েছে যে, তালীম ও অধ্যয়নের যমানায় বহুবার ঝড় উঠেছে, খেয়ালাতের তুফান ছুটেছে, কিন্তু এই কিতাবের উসীলায় আল্লাহ পাক হিফাযত করেছেন। ইলমে কালামের মাসায়িল, আশায়িরা ও মু'তাযিলীদের ঝগড়া, ইমাম গাযালী, ইমাম রাযী ও ইবনে রুশদের প্রমাণসমূহ একের পর এক চোখের সামনে দিয়ে পার হয়েছে কিন্তু মাওলানা ইসমাঈল শহীদ রহ. এর তালকীন আপন স্থানে অটল থেকেছে।"


নিয়মতান্ত্রিক শিক্ষা

সায়্যিদ ছাহেব রহ. নিজ বড় ভাইয়ের নিকট প্রাথমিক শিক্ষা ও বুনিয়াদী দীক্ষা অর্জন করে স্বীয় পিতার কর্মস্থল ইসলামপুর পৌঁছেন। এখানে কিছু কিতাব পড়া শেষ করেন। এরপর বিহারের রাজধানী পাটনার ফুলওয়ারী নামক স্থানে খানকাহে মুজীবী তে থেকে মাওলানা মুহিউদ্দীন (সাজ্জাদা নাশীন খানকাহে ফুলওয়ারী) এর নিকট আরো কিছু কিতাব পরিপূর্ণ করেন।


ফুলওয়ারীর পড়াশোনা শেষে সায়্যিদ ছাহেব কে মাদরাসায়ে ইমদাদিয়া দারভাঙ্গায় প্রেরণ করা হয়। সেখানে তিনি ১ বৎসর থেকে দরসে নিযামীর আরো কিছু কিতাব খতম করেন।


নদওয়াতুল উলামা

মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯০১ খ্রীস্টাব্দে সায়্যিদ ছাহেব রহ. ঐতিহ্যবাহী দরসগাহ উত্তর প্রদেশের রাজধানী লাখনৌ এর নদওয়াতুল উলামায় ভর্তি হন। এখানে পাঁচ বছর পড়াশোনা করে ১৯০৬ খ্রীস্টাব্দে তাকমীলের সনদ হাসিল করেন। এখানে তিনি আল্লামা শিবলী মরহুমের ন্যায় মহান ব্যক্তির সান্নিধ্য অর্জন করেন। এছাড়াও নদওয়ার অন্যান্য শিক্ষকদের নিকট থেকেও তিনি অনেক কিছু হাসিল করেন।


ইলমী সুখ্যাতি

সায়্যিদ ছাহেব বিভিন্ন উলূম ও ফনূন থেকে অবসর হওয়া মাত্রই তাঁকে "আন নদওয়াহ" এর ন্যায় উচ্চমান সম্পন্ন মাসিক পত্রিকার সম্পাদক বানিয়ে দেয়া হয়। ঐ পত্রিকায় দেশ সেরা সাহিত্যিকগণ প্রবন্ধ নিবন্ধ লিখতেন।


সায়্যিদ ছাহেব রহ. এর সমকালীন প্রসিদ্ধ লেখক ও গবেষক মাওলানা আবদুল মাজেদ দরিয়াবাদী রহ. তাঁর ব্যাপারে লিখেছেন: "চোখ দুটো মাওলানা শিবলী মরহুমের লেখার অপেক্ষায় থাকত। হযরত সায়্যিদ সুলাইমান নদভী রহ. এর লেখার প্রতি আকর্ষণও কম ছিল না।"


(সিদকে জাদীদ ২২ জানুয়ারী ১৯৫৪ খ্রীঃ)

ঐ সময় সায়্যিদ ছাহেব যে সব গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ লিখেছেন, সেগুলোর শিরোনামের দিকে চোখ বুলালেই ব্যাপারটা অনুমান করা যায়।

১. সমাজতন্ত্র ও ইসলাম

২. জ্যোতির্বিদ্যা ও মুসলমান

৩. উন্নতির পথ

৪. বার্ণাবাসের বাইবেল

৫. ইবনে সাদের পরিচয়

৬. ক্বিয়ামত

৭. ঈমান বিল গাইব ইত্যাদি।


"আল হেলাল” পত্রিকার সম্পাদনা পর্ষদে অংশগ্রহণ

ভারত উপমহাদেশে গত শতাব্দীর শুরু অংশে মাওলানা আবুল কালাম আযাদের সম্পাদনায় প্রকাশিত আল হেলাল পত্রিকা ছিল নাম করা একটি পত্রিকা। এতে মাওলানা আযাদ বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষুরধার কলমকে তরবারী বানিয়েছেন। মাওলানা আযাদের একান্ত ইচ্ছা ও অনুরোধে এবং স্বীয় গুরু মাওলানা শিবলীর সরাসরি নির্দেশে সায়্যিদ সুলাইমান নদভী রহ. এ পত্রিকার সম্পাদনা পর্ষদে যোগদান করে ইলমী-আদবী ও রাজনৈতিক খেদমত আঞ্জাম দেয়া আরম্ভ করেন।


অবশ্য বিশেষ কিছু অবস্থার কারণে সায়্যিদ ছাহেব ১৯১৪ খ্রীস্টাব্দে মাত্র ২ বছর পর আল হেলাল থেকে ইস্তফা দিয়ে দরস ও তালীমের উদ্দেশ্যে পুনেতে যোগদান করেন। এতে মাওলানা আযাদ খুব মনক্ষুন্ন হন। সায়্যিদ ছাহেবের নিকট তোষামোদ খোশামোদে ভরা বিশাল পত্র লিখেন।


সায়্যিদ ছাহেবের ঐ সময়ের কিছু নিবন্ধের শিরোনাম দেখুন।


১. ইসলামে স্বাধীনতা, ২. কুরআন নাযিলের স্মারক, ৩. হাবশার ইতিহাসের এক ঝলক, ৪. বনী ইসরাঈলের ঘটনাসমূহ, ৫. মাশহাদে আকবার ইত্যাদি।


আল্লামা শিবলীর স্থলাভিষিক্ত হওয়া

১৯১৪ খ্রীস্টাব্দের নভেম্বরে আল্লামা শিবলীর অন্তিম সময় নিকটবর্তী হয়ে আসে। ফলে তিনি তার যোগে তাঁর এই প্রিয় শিষ্যকে পুনা থেকে ডাকিয়ে আনেন। আর চিরকালের জন্য নিজের ঠোঁট ও চোখ বন্ধ করার পূর্বে তাঁকে খুব আদর ও মায়ার সাথে নিজ অধীনে পরিচালিত ঐতিহাসিক ইলমী কাজ "সীরাতুন নবী" সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণ করার অসিয়্যত করেন এবং এই অঙ্গীকার দৃঢ় করে ১৯১৪ খ্রীস্টাব্দের ১৮ নভেম্বর ইন্তিকাল করেন।


দারুল মুসান্নিফীনের ভিত্তি

যখন সায়্যিদ সুলাইমান নদভী রহ. আযমগড় আগমন করেন, তখন সেখানে “দারুল মুসান্নিফীন" বা লেখকসংঘ তৈরী হয়নি। ১ বছর পূর্বে আল্লামা শিবলী মরহুম শুধুমাত্র সেটার রূপরেখা প্রস্তুত করেছিলেন। কিন্তু সেটা স্রেফ একটি কল্পনা ছিল যার কোন অস্তিত্ব ছিল না। একমাত্র সায়্যিদ ছাহেব রহ. এর একক প্রচেষ্টায় একদিন উসতাযে মুহতারাম শিবলীর স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়। প্রতিষ্ঠিত হয় দারুল মুসান্নিফীন আযমগড়। উপমহাদেশে ইলমী ময়দানে যার অবদান অবিস্মরণীয়।


রাজনৈতিক ময়দানে সায়্যিদ ছাহেবের অবদান

১৯১৭ খ্রীস্টাব্দে কলিকাতায় অনুষ্ঠিত মজলিসে উলামায়ে বাঙ্গালের জলসায় তিনি সভাপতিত্ব করেন। সেখানে তিনি প্রচন্ড চাপ থাকা সত্ত্বেও ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে অগ্নিঝরা বক্তব্য রাখেন।


১৯২০ খ্রীস্টাব্দে মাওলানা মুহাম্মাদ আলী জাওহার এবং মাওলানা আবদুর বারী ফিরিঙ্গী মহল্লী রহ. এর পীড়াপীড়িতে খেলাফত প্রতিনিধি দলের সাথে উলামায়ে হিন্দের একজন প্রতিনিধি হিসেবে ইউরোপ গমন করেন এবং সেখানে তিনি প্রতিনিধিত্বের হকও আদায় করেন।


১৯২৬ খ্রীস্টাব্দে সায়্যিদ ছাহেব কলিকাতায় অনুষ্ঠিত জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সম্মেলনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ঐ সম্মেলনে দারুল উলূম দেওবন্দের স্বনামধন্য মুহাদ্দিস আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরীও রহ. শরীক হয়েছিলেন। সায়্যিদ সুলাইমান নদভী রহ. সেদিন সভাপতির ভাষণে ঐতিহাসিক বক্তব্য পেশ করেছিলেন।


১৯২৭ খ্রীস্টাব্দে সায়্যিদ ছাহেব রহ. আঞ্জুমানে হেমায়েতে ইসলামের দাওয়াতে "রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে ইসলামের প্রসার" শিরোনামে চমৎকার একটি ভাষণ পেশ করেন। ঐ মজলিসে বড় বড় আলেমদের সাথে প্রাচ্যের কবি আল্লামা ইকবাল মরহুমও ছিলেন। সায়্যিদ ছাহেবের বক্তব্য শুনে আল্লামা ইকবাল তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।


এ কয়েকটি উদাহরণের দ্বারাই সায়্যিদ ছাহেব রহ. এর কওমী ও জাতীয় খেদমত সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।


নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভালোবাসা

সায়্যিদ ছাহেব এ হিসেবে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মানুষ যে, তিনি স্বীয় উসতায মাওলানা শিবলী রহ. এর বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থ "সীরাতুন্নবী” সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিপূর্ণ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। যে সৌভাগ্য মাওলানা শিবলী শেষ বয়সে অর্জন করেছেন সে সৌভাগ্য তাঁরই হাতে গড়া শিষ্য সায়্যিদ সুলাইমান নদভী রহ. এর অনেক আগেই হাসিল হয়েছে।


সায়্যিদ ছাহেবের অন্তরে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভালোবাসা এত বেশি ছিল যে, তিনি সুলুকের মানযিল অতিক্রম করার পূর্বেই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শানে বেআদবীর কোন কথা সহ্য করতে পারতেন না। দুর্ভাগ্যক্রমে এমন কোন ঘটনা সামনে আসলে তাঁর কলম তলোয়ার বনে যেত।


মুরশিদের সন্ধান ও খেলাফত লাভ

সায়্যিদ সুলাইমান নদভী রহ. একজন চৌকস আলেমে দ্বীন হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ দশ বছর ধরে কোন আল্লাহওয়ালা বুযুর্গের সন্ধান করছিলেন। পরিশেষে হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহ. এর সাথে অন্তরের তীব্র আকর্ষণের দরূন তাঁরই বিশিষ্ট খলীফা হযরত হাকীমুল উম্মাত থানভী রহ. এর কাছে মুরীদ হয়ে যান। যাঁদের মধ্যে তাঁর পূর্বে মাওলানা আব্দুল মাজেদ দরিয়াবাদী রহ. এবং মাওলানা আব্দুল বারী নদভী রহ. শামিল হয়েছিলেন।


সায়্যিদ ছাহেব রহ. মাওলানা আব্দুল বারী রহ. এর নিকট লেখা একটি চিঠিতে লিখেন: “হযরত থানভী রহ. আমার প্রতিটি ব্যাপারে এমনকি আমার ব্যক্তিগত ব্যাপারগুলো সম্পর্কেও অবগত। এটা আমার মহব্বতের জোশ যে, নিজ স্নেহশীল পিতার ন্যায় তাঁকে প্রতিটা ব্যাপারে না লিখে শান্তি পাইনা।"


হযরত হাকীমুল উম্মাত থানভী রহ. তাঁকে খুব বেশি ভালোবাসতেন ও মূল্যায়ন করতেন। হযরত থানভী রহ. তাঁর নিকট চিঠিতে লিখেন "আমার মনে চায় আপনাকে খেলাফত দেই। আমি এ ব্যাপারে ইস্তিখারাও করেছি। এখন আপনার পরামর্শ কী"?


সায়্যিদ ছাহেব রহ. যেহেতু ২/৩ দিনের মধ্যেই থানাভবন যাওয়ার ইচ্ছা করেছিলেন এজন্য তিনি এ চিঠির উত্তর দেননি। থানাভবনে উপস্থিত হওয়ার পরও চুপ ছিলেন। পরিশেষে এক দিন হযরত হাকীমুল উম্মাত থানভী রহ. এর একটা চিরকুট পৌঁছল "আপনি তো আমার পত্রের উত্তর দিলেন না"। তখন সায়্যিদ ছাহেব রহ. লিখলেন: "হযরত! আপনার চিঠি পড়ে আমার পায়ের নিচের মাটি সরে গেছে। কোথায় আমি আর কোথায় এ যিম্মাদারী বা দায়িত্ব?"


এ উত্তর শুনে হযরত হাকীমুল উম্মাত থানভী রহ. উপস্থিত সকলকে লক্ষ্য করে বললেন, আলহামদুলিল্লাহ ঐ উত্তরই এসেছে, যেটার আশা ছিল।


এর পর পরই হযরত হাকীমুল উম্মাত রহ. তাঁকে বাইআতের ইজাযত তথা খেলাফত দানে ধন্য করেন।


রচনাবলী

সায়্যিদ ছাহেবের রহ. কয়েকটি প্রখ্যাত রচনা নিম্নরূপ:

১. সীরাতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ২. খুতবাতে মাদরাস (সীরাতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয়ক অসাধারণ ৮টি ভাষণ), ৩. সীরাতে আয়েশা রাযি., ৪. আরযুল কুরআন, ৫. আরব ও হিন্দকে তাআল্লুকাত, ৬. খৈয়্যাম, ৭. হায়াতে শিবলী, ৮. খুতবাত ও মাকালাত ইত্যাদি।


ইন্তিকাল

শেষ জীবনে হযরত সায়্যিদ ছাহেব রহ. এর স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়েছিল। সামান্য খানা খেতে পারতেন। যদ্দরুন ধীরে ধীরে শক্তি নিঃশেষ হয়ে আসছিল।


অবশেষে ১৩৭৩ হিজরীর ১৪ রবীউল আউয়াল রবিবার মুতাবিক ২২ নভেম্বর ১৯৫৩ খ্রীস্টাব্দ ইলমের এ মহীরূহ চির কালের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলেন। চলে গেলেন না ফেরার দেশে।


رَحِمَهُ اللَّهُ رَحْمَةً وَاسِعَةً


تعريف بالمؤلف أبو الحسن الندوي (١٣٣٣ هـ = ١٩١٤ م - ١٤٢٠ هـ = ١٩٩٩ م) اسمه ونسبه: علي أبو الحسن بن عبد الحي بن فخر الدين، ينتهي نسبه إلى الحسن بن علي رضي الله عنهما. كان والده علامة الهند ومؤرخها، وكانت والدته من السيدات الفاضلات تحفظ القرآن الكريم وتقول الشعر، وتؤلف الكتب. ولد بقرية «تكية» بمديرية «راي بريلي» في الولاية الشمالية بالهند في ٦ محرم ١٣٣٣ هـ الموافق ١٩١٤ م. توفي والده وهو دون العاشرة فأشرف أخوه الكبير د. عبد العلي الحسني على تربيته. حفظ القرآن الكريم، وتعلم الأردية والإنجليزية والعربية. التحق بدار العلوم لندوة العلماء عام ١٩٢٩ م ودرس علوم الحديث والتفسير والفقه. عين مدرساً في دار العلوم ندوة العلماء عام ١٩٣٤ م، ودرس العلوم الدينية والأدب العربي. بدأ رحلاته الدعوية منذ عام ١٩٣٩ م في الهند، وأسس مركزاً للتعليمات الإسلامية عام ١٩٤٣ م. اختير عضواً في المجلس الانتظامي لندوة العلماء عام ١٩٤٨ م، واختير أميناً عاماً لندوة العلماء عام ١٩٦١ م. أسس حركة رسالة الإنسانية عام ١٩٥١ م، والمجمع الإسلامي العلمي عام ١٩٥٩ م، في لكنو بالهند. دعا إلى تأسيس رابطة الأدب الإسلامي العالمية، واختير أول رئيس لها عام ١٩٨٦ م. حصل على عضوية كثير من الهيئات والمؤسسات الدعوية العلمية والعالمية منها: رابطة العالم الإسلامي - المجلس الأعلى للدعوة الإسلامية في القاهرة - رئيس مركز أكسفورد للدراسات الإسلامية - رابطة الجامعات الإسلامية - وكان عضواً في مجامع اللغة العربية في كل من دمشق والقاهرة وعمان .. ترك الشيخ أبو الحسن ثروة علمية كبيرة من المؤلفات الدعوية والفكرية والأدبية قارب ثلاثمائة عنوان باللغة العربية، ومن أهمها: ١ - ماذا خسر العالم بانحطاط المسلمين. ٢ - إلى الإسلام من جديد. ٣ - إذا هبت ريح الإيمان. ٤ - الطريق إلى المدينة. ٥ - رجال الفكر والدعوة في الإسلام. ٦ - سيرة خاتم النبيين للأطفال. ٧ - نظرات في الأدب. ٨ - في مسيرة الحياة (٣ أجزاء). وكانت وفاته - رحمه الله - يوم الجمعة ٢٣ رمضان ١٤٢٠ هـ ٣١ كانون الأول / ديسمبر ١٩٩٩ م. لمزيد من المعلومات راجع موقع الشيخ أبي الحسن الندوي على شبكة الإنترنت: http://www.nadwi.net نقلا عن: موقع رابطة الأدب الإسلامي العالمية على الإنترنت http://www.adabislami.org

আল্লামা সায়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী রাহ. -এর কিতাবসমূহ