মুফতী মুহাম্মদ শফী রহ.

মুফতী মুহাম্মদ শফী রহ.

মুফতীয়ে আযম পাকিস্তান

হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব রহ.


১৩১৪ হিঃ, ১৩৯৬ হিঃ, ১৮৯৭ খ্রী:, ১৯৭৬ খ্রী:


জন্ম

১৩১৪ হিজরীর শাবান মাসের ২০ তারিখ মুতাবিক ১৮৯৭ খ্রীস্টাব্দের জানুয়ারী মাসে ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার দেওবন্দ গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।


বংশ

তিনি উসমানী অর্থাৎ হযরত উসমান গণী রাযি. এর বংশধর ছিলেন। তাঁর সম্মানিত পিতার নাম হল মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াসীন ছাহেব রহ.। যিনি হাকীমুল উম্মাত, মুজাদ্দিদুল মিল্লাত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. এর সহপাঠী ছিলেন।


তাঁর মুহতারামা আম্মাজান সায়্যিদ বংশের নারী ছিলেন। তিনি কুতুবুল ইরশাদ হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী রহ. এর হাতে বাইআত ছিলেন।


প্রাথমিক শিক্ষা

মাত্র পাঁচ বছর বয়সে দারুল উলূম দেওবন্দে জনাব হাফেয মুহাম্মাদ আযীম ছাহেব রহ. এর নিকট কুরআনে কারীম নাযেরা পড়া শুরু করেন। পরবর্তীতে দারুল উলুমের শিক্ষক হাফেয আব্দুল আলীম রহ, এবং প্রসিদ্ধ হাফেয খান ছাহেব রহ. এর নিকট হিফয শুরু করেন।


হযরতের সম্মানিত পিতার আকাংখা ছিল তাঁকে কুরআনে কারীমের হাফেয বানাবেন। কয়েক পারা মুখস্তও করেছিলেন, কিন্তু শারীরিক দুর্বলতার দরূন হিফয সম্পন্ন করতে পারেননি। ঐ সময় যে কটা পারা মুখস্ত করেছিলেন, সারা জীবন তা ইয়াদ রাখার প্রতি যত্নবান ছিলেন। এই পারাগুলো তিনি নফল বা তাহাজ্জুদ নামাযে অধিকাংশ সময়েই তিলাওয়াত করতেন।


আরবী, উর্দু ও ফার্সী ভাষার প্রাথমিক কিতাবগুলো নিজ সম্মানিত পিতা হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াসীন ছাহেব রহ. এর নিকট পাঠ করেন।


কিতাব বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ

১৩৩১ হিজরীতে তিনি নিয়মতান্ত্রিকভাবে দারুল উলূম দেওবন্দে ভর্তি হন। তাঁর উল্লেখযোগ্য আসাতিযায়ে কিরাম হলেন-


১. মুহাদ্দিসুল আসর আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রহ.

২. শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা শাব্বীর আহমাদ উসমানী রহ.

৩. শাইখুল আদব হযরত মাওলানা ইযায আলী ছাহেব রহ.

৪. মুফতীয়ে আযম হযরত মাওলানা আযীযুর রহমান ছাহেব রহ.

৫. আলেমে রাব্বানী হযরত মাওলানা সায়্যিদ আসগার হুসাইন ছাহেব রহ.

৬. জামিউল মাকূল ওয়াল মানকূল হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইবরাহীম ছাহেব বলয়াভী রহ.

৭. হযরাতুল আল্লাম রাসূল খান ছাহেব রহ.

৮. দারুল উলূম দেওবন্দের সাবেক মুহতামিম হযরত মাওলানা কাসেম নানুতভী রহ. এর সুযোগ্য পুত্র মাওলানা মুহাম্মাদ আহমাদ ছাহেব রহ. প্রমুখ।


দরস ও ইফতার মসনদে

বিশ্ববিখ্যাত ইলমী মারকায ঐতিহ্যবাহী দারুল উলূম দেওবন্দে ১৩৩৭ হিজরীতে মাত্র ২৩ বছর বয়সে নিয়মতান্ত্রিকভাবে শিক্ষকতা শুরু করেন এবং একটানা বারো বছর (একযুগ) অত্যন্ত সুনামের সাথে বিভিন্ন শাস্ত্রের দরস দান করেন।


আর ১৩৩৯ হিজরীতে দারুল উলূম দেওবন্দের মত প্রতিষ্ঠানের প্রধান মুফতীর পদে সমাসীন হন এবং টানা চৌদ্দ বছর এ বিশাল দায়িত্ব এত সুন্দরভাবে আঞ্জাম দিয়েছেন যার দৃষ্টান্ত মেলা ভার।


এ খেদমতের পাশাপাশি হাদীস ও তাফসীরের কয়েকটি মূল্যবান কিতাবেরও তিনি দরস প্রদান করেন।


পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের জন্য দারুল উলূম দেওবন্দ হতে ইস্তফা

১৩৬২ হিজরীতে দারুল উলূম দেওবন্দে টানা ২৬ বছর কর্মমুখর কীর্তিময় খেদমতের পর পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে পুরোপুরি অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে দারুল উলূম হতে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়ে নেন এবং আপন শাইখ ও মুরশিদ হযরত হাকীমুল উম্মাত থানভী রহ. এর খানকায় চলে আসেন। তখন হযরত হাকীমুল উম্মাত রহ. তাঁকে উদ্দেশ্য করে দেওয়ানে হামাসার একটি পঙতি পাঠ করেন: أَضَاعُوْكَ وَأَيَّ فَتى أَضَاعُوْا "তারা তোমায় হারিয়ে ফেলল। আর কেমন যোগ্য যুবককে তারা হারাল"।


অতঃপর হযরতওয়ালা থানভী রহ. বলেন, “দারুল উলূম হতে তোমাকে মাসিক যে সম্মানী দেয়া হত, সেটা থেকে বেশির ওয়াদা তো করছিনা, কিন্তু এ পরিমাণ সম্মানী অবশ্যই তোমাকে দিব যাতে করে তুমি আমার এখানে থেকে নিশ্চিন্ত মনে কাজ করতে পার। (আহসানুস সাওয়ানিহ পৃঃ ৮৩৩)


বাইআত ও সুলুক

প্রথমে হযরত শাইখুল হিন্দ রহ. এর কাছে বাইআত হয়েছিলেন। যখন তিনি মাল্টা কারাগার হতে দেওবন্দ ফিরে এসেছিলেন।


থানাভবনের খানকায় প্রাথমিক উপস্থিতিসমূহ

নিজ সম্মানিত পিতার সাথে হযরত ওয়ালা রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী রহ. এর ইন্তিকালের পর যখন বুঝবুদ্ধি পোক্ত হয়নি, প্রথমবার উপস্থিত হন।


এরপর ১৩৩২ হিজরীতে یونانی فلسفہ বা গ্রীকদর্শনের ব্যাপারে পরামর্শের জন্য দ্বিতীয়বার হাজিরা দেন। তারপর ১৩৩৭ হিজরীতে সুলুক ও তরীকত শেখার উদ্দেশ্যে তৃতীয়বার উপস্থিত হন।


বাইআত নবায়ন

অতঃপর ১৩৪৬ হিজরীতে বাইআত নবায়ন করেন এবং ১৩৬২ হিজরীতে হযরতওয়ালা হাকীমুল উম্মাত থানভী রহ. এর ইন্তিকাল পর্যন্ত অসংখ্যবার উপস্থিত হয়েছেন।


খেলাফত লাভ

১৩৪৯ হিজরীতে তিনি আপন মুরশিদ ও শাইখ হযরত হাকীমুল উম্মাত রহ. হতে বাইআত ও তালকীনের ইজাযত বা অনুমতি লাভকরেন। তাসাওউফ শাস্ত্রের পরিভাষায় যাকে "খেলাফত” লাভ বলে। এভাবেই হযরত থানভী রহ. হযরতওয়ালা মুফতীয়ে আযম রহ. কে নিজ মুজাযীনে বাইআতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে নেন।


মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব রহ. হাকীমুল উম্মাত হযরত থানভী রহ. এর দৃষ্টিতে

হযরত মাওলানা মুফতী জামীল আহমাদ থানভী রহ. বলেন, একবার হযরত হাকীমুল উম্মাত থানভী রহ. বলেন: “আল্লাহ তা'আলা মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব রহ. এর হায়াত বৃদ্ধি করে দিন। আমি দুই কারণে তাঁর উপর আনন্দিত। একে তো তাঁর মাধ্যমে আমার ইলম হাসিল হতে থাকে। আর দ্বিতীয়ত আল্লাহ তা'আলার শুকরিয়া যে, আমার পরেও কাম করনেওয়ালা বিদ্যমান আছে।"


ইলমী খেদমতসমূহ

পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি মুসলিম দেশ যেমন মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, ইরান, বুখারা, সমরকন্দ ও সৌদী আরবেও তাঁর বিপুল পরিমাণ সরাসরি ছাত্র বিদ্যমান।


দারুল উলূম করাচী

হযরত রহ. এর সব থেকে বড় ইলমী স্মারক হল ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় বিদ্যাপীঠ দারুল উলূম, করাচী। ১৩৭০ হিজরীর শাওয়াল মাসে নানকওয়াড়া মহল্লার একটি বাড়ীতে যে মাদরাসার সূচনা, এখন সেটা বিশাল মহীরুহের আকার ধরে পাকিস্তানে দ্বিতীয় দারুল উলূম দেওবন্দের ভূমিকা পালন করছে।


রচনাবলী

হযরতওয়ালা মুফতীয়ে আযম পাকিস্তান আরবী ও উর্দু ভাষায় ১৬২ টি অনবদ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। শুধু ইলমে ফিকহ সংক্রান্ত তাঁর রচনার সংখ্যাই ৯৫টি।


হযরতের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রচনা

১. তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন (উর্দু) ৮খণ্ড। অবিস্মরণীয় একটি ইলমী খেদমত। বিস্তারিত বলার সুযোগ এ সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে নেই।

২. আহকামুল কুরআন (আরবী)

৩. ফাতাওয়ায়ে দারুল উলূম দেওবন্দ (ইমদাদুল মুফতিয়‍্যীন)

৪. ইসলাম কা নেযামে আরাদী (ইসলামী ভূমি আইন)

৫. মাসআলায়ে সুদ

৬. রফীকে সফর 

৭. আহকামে হজ্ব

৮. বীমায়ে যিন্দেগী (জীবন বীমা)

৯. খতমে নবুওয়াত (১০০টি আয়াত ও ২০০ হাদীস সমৃদ্ধ চমৎকার একটি গ্রন্থ)

১০. মাকামে সাহাবা

১১. সুন্নাত ও বিদআত

১২. সীরাতে খাতামুল আম্বিয়া (সিলেবাসভুক্ত কিতাব)

১৩. ওয়াহাদাতে উম্মাত বা উম্মাহর ঐক্য

১৪. দিল কি দুনিয়া

১৫. গুনাহে বে লয্যত

১৬. মাকাতীবে হাকীমুল উম্মাত

১৭. মাজালিসে হাকীমুল উম্মাত

১৮. রূহে তাসাওউফ

১৯. শহীদে কারবালা

২০ আদাবুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইত্যাদি।


ফিক্‌হী খেদমতসমূহ

হযরতের জীবন কেটেছে ফিকহে ইসলামীর খেদমতে। কী দারুল উলুম দেওবন্দ আর কী দারুল উলূম করাচী সর্বত্রই হযরতের ফিকহী অবদান দেদীপ্যমান। তিনি যেখানেই কদম রেখেছেন দারুল ইফতা হয়ে গেছে। তাঁর নিজের হাতে লেখা ফতওয়ার পরিমাণই হল দুই লক্ষের বেশি।


মুফতী আযীযুর রহমান ছাহেব রহ. এর ফাতাওয়া তিনিই “আযীযুল ফাতাওয়া" নামে প্রকাশ করেন।


হযরত হাকীমুল উম্মাত থানভী রহ. এর “ইমদাদুল ফাতাওয়া” কে নতুনভাবে অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত করে তিনিই জাতির সামনে পেশ করেছেন। যা দ্বারা লক্ষ লক্ষ মানুষের উপকার হচ্ছে ও কিয়ামত পর্যন্ত হতে থাকবে ইনশাআল্লাহ।


রাজনৈতিক খেদমতসমূহ

রাজনীতির সাথে হযরতের স্বভাবজাত সম্পর্ক ছিল না। কারণ মূলত তিনি ছিলেন একজন খাঁটি ইলমী ব্যক্তিত্ব। কিন্তু দেশ ও জাতির প্রয়োজনে তাঁকে এ ময়দানে নামতে হয়। তাইতো ১ম বিশ্বযুদ্ধের পর তিনি বলকান অঞ্চলের জন্য হযরত শাইখুল হিন্দ রহ.-এর সাথে চাঁদায় শরীক হয়েছেন।


পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশগ্রহণ

১৯৪৫ খ্রীস্টাব্দের নভেম্বর মাসে কলিকাতায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ভিত্তি রাখা হয়। যার বড় উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা পরিশ্রম করা।


হযরত মুফতী ছাহেব রহ. কানপুরের এক সমাবেশে শরীক হয়ে নিয়মতান্ত্রিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পবিত্র আন্দোলনে নিজেকে ওয়াকফ করে দেন। এ ধারাবাহিকতায় ৯ জুন ১৯৪৭ খ্রী: কায়েদে আযম মুহাম্মাদ আলী জিন্নাহ মরহুমের সাথে অন্যান্য উলামায়ে কিরামসহ সাক্ষাত করেন।

রেফারেন্ডমের সময় হযরত শাইখুল ইসলাম মাওলানা শাব্বীর আহমাদ উসমানী ছাহেব রহ. এর সাথে সীমান্ত প্রদেশের ঐতিহাসিক সফর করেন। যেখানে আল্লাহ তা'আলা শানদার সফলতা দান করেন।


খোদ কায়েদে আযম মোবারকবাদ পেশ করেন এবং তাঁর খেদমতের প্রশংসা করেন।


পাকিস্তানে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার জন্য প্রিয় মাতৃভূমি হতে হিজরত

নিজ উসতায শাইখুল ইসলাম মাওলানা শাব্বীর আহমাদ উসমানী রহ. এর দাওয়াতে নিজ জন্মভূমি ও মাতৃভূমি দেওবন্দকে আল বিদা বলে ৩০ জুমাদাল আখিরাহ ১৩৬৭ হিঃ মুতাবিক ১লা মে ১৯৪৮ খ্রী: পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে হিজরতের জন্য রওয়ানা হয়ে যান।


কাদিয়ানী বিরোধী আন্দোলন

১৩৪০ হিজরীতে কাদিয়ানী ফিতনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে হযরত মুফতীয়ে আযম রহ. নিজ উসতায যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস মাওলানা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রহ. এর নির্দেশে "খতমে নবুওয়াত” নামে এ বিষয়ে অসাধারণ একটি গ্রন্থ রচনা করেন। যা ইনশাআল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর জন্য সাদাকায়ে জারিয়াহ হিসেবে থাকবে।


এই ভন্ড নবীর মিথ্যাচারের মুখোশ উন্মোচনের জন্য তিনি মাওলানা মুহাম্মাদ ইদরীস কান্ধলভী রহ. এবং মাওলানা বদরে আলম মীরাঠী রহ.-এর সাথে পুরো দেশ সফর করেন। এমনকি কাদিয়ানীদের প্রধান কেন্দ্র কাদিয়ানে বিশাল জলসা করে মির্যা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানীর মিথ্যা দাবীসমূহের খণ্ডন করেন।


পাঞ্জাবের ফিরোযপুরে কাদিয়ানীরা বিতর্কসভার চ্যালেঞ্জ করলে এই ঐতিহাসিক বিতর্কসভায় তিনি নিজ প্রাণপ্রিয় উসতায আল্লামা আনওয়ার শাহ ছাহেব কাশ্মীরী রহ. এর সাথে শরীক হয়েছিলেন।


পরবর্তীতে শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাব্বীর আহমাদ উসমানী রহ. এর সাথে বিভিন্ন অঞ্চলে সফর করেন।


প্রসিদ্ধ ছাত্র ও খলীফাদের নামের তালিকা

১. শাইখুল হাদীস আল্লামা সায়্যিদ ইউসুফ বানূরী রহ. প্রতিষ্ঠাতা, জামিআতুল উলূমিল ইসলামিয়া বানূরী টাউন করাচী।


২. হযরত মাওলানা মাসীহুল্লাহ খান ছাহেব রহ. বিশিষ্ট খলীফা, হযরত হাকীমুল উম্মাত থানভী ও পরিচালক মাদরাসা মিফতাহুল উলুম জালালাবাদ, ভারত।


৩. মাওলানা মুহাম্মাদ মিয়া ছাহেব রহ. সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ, ভারত।


৪. শাইখুল হাদীস হযরত মাওলানা আবদুল হক ছাহেব রহ. প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম দারুল উলূম হক্কানিয়া, আকুরা খটক পেশোয়ার পাকিস্তান।


৫. মুহাক্কিক আলেম মাওলানা মুহাম্মাদ সারফারায খান সাফদার রহ. শাইখুল হাদীস নাসরাতুল উলূম গুজরানওয়ালা, পাঞ্জাব।


৬. খতীবে পাকিস্তান হযরত মাওলানা ইহতিশামুল হক থানভী রহ.।


৭. মুফতী রশীদ আহমাদ লুধিয়ানভী রহ. প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম আশরাফুল মাদারিস নাযেমাবাদ, করাচী।


৮. হযরত মাওলানা সাহবান মাহমূদ ছাহেব রহ. উসতাযে হাদীস দারুল উলূম করাচী।


৯. খতীবে আযম মাওলানা সিদ্দীক আহমাদ ছাহেব রহ. শাইখুল হাদীস জামি'আ ইসলামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম।


১০. হযরত মাওলানা মুফতী মুহিউদ্দীন ছাহেব রহ. প্রধান মুফতী ও মুহাদ্দিস আশরাফুল উলূম বড়কাটারা, ঢাকা।


১১. মাওলানা মুহাম্মাদ শরীফ জলন্ধরী রহ. মুহতামিম জামি'আ খাইরুল মাদারিস মুলতান।


১২. মুফতী আব্দুর রউফ ছাহেব রহ. উসতাযে হাদীস জামি'আ দারুল উলূম, করাচী।

১৩. শাইখুল কুররা হযরত মাওলানা ক্বারী ফাতাহ মুহাম্মাদ ছাহেব পানিপথী রহ.।


১৪. হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ রফী উসমানী ছাহেব রহ. সাবেক মুফতীয়ে আযম পাকিস্তান ও সাবেক মহাপরিচালক দারুল উলূম করাচী পাকিস্তান।


১৫. হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী ছাহেব হাফিযাহুল্লাহু তাআলা। ভাইস প্রেসিডেন্ট: ইসলামী ফিকহ একাডেমী, জেদ্দা সৌদী আরব। শাইখুল হাদীস ও মুহতামিম জামি'আ দারুল উলূম করাচী, পাকিস্তান।


ইন্তিকাল ও দাফন

১৩৯৬ হিজরীর ১০ শাওয়ালুল মুকাররাম মুতাবিক ১৯৭৬ ঈসায়ী ৮২ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তিকাল করেন। হযরত ডা. আব্দুল হাই আরেফী রহ. (বিশিষ্ট খলীফা হাকীমুল উম্মাত থানভী রহ.) তাঁর জানাযার নামায পড়ান এবং দারুল উলূমের মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর নিজ ওয়াকফকৃত কবরস্থানে নারিকেল গাছের ছায়ায় যা পনের বছর পূর্বে তিনি নিজ হাতে লাগিয়েছিলেন, তাঁকে দাফন করা হয়।

رَحِمَهُ اللَّهُ رَحْمَةً وَّاسِعَةً إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ


মুফতী মুহাম্মদ শফী রহ. -এর কিতাবসমূহ