
আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রহঃ
রাঈসুল মুহাদ্দিসীন হাযরাতুল আল্লাম মুহাম্মাদ আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রহ.
১২৯২ হিঃ ১৩৫২ হিঃ
১৮৭৫ ইং ১৯৩৩ ইং
পবিত্র জন্ম
হযরত শাহ ছাহেব রহ. ১২৯২ হিজরীর ২৭ শাওয়াল শনিবার সকাল বেলা কাশ্মীরের দুধওয়ান লুলাব নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। দুধওয়ানের মূল রূপ হল 'দুদাওন'। কাশ্মীরী ভাষায় যার অর্থ হল দুধে পরিপূর্ণ মাঠ।
সম্মানিত পিতা ও সম্মানিতা মাতা
হযরত শাহ ছাহেব রহ. এর সম্মানিত পিতা হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ মুআযযাম শাহ ছাহেব অত্যন্ত জ্ঞানী ও বুযুর্গ মানুষ ছিলেন। তিনি সোহরাওয়ার্দী সিলসিলার মুজায ছিলেন। কাশ্মীরের হাজার হাজার মানুষ তাঁর হাতে বাইআত হন। তিনি ১১৫ বছর হায়াত পেয়েছিলেন।
হযরতের মুহতারামা আম্মাজানও সায়্যিদাহ ছিলেন। তার মানে হল হযরত শাহ ছাহেব রহ. পিতা মাতা উভয় দিক দিয়ে সায়্যিদ বংশীয় ছিলেন। কেননা তাঁর বংশধারা কয়েকটি সূত্রে হযরত আলী রাযি. এর সাথে গিয়ে মিলেছে।
হযরতের বাহ্যিক আকৃতি
হযরতের চেহারা খুব সুন্দর ছিল। যেন চৌদ্দ তারিখের পূর্ণিমার চাঁদ। গায়ের রং উজ্জল ফর্সা। যৌবনে আপেলের মত রক্তিম ছিলেন। মাঝ বয়সে রং হালকা সোনালী জাফরানী ছিল। বার্ধক্যে উজ্জ্বল হলদে বর্ণের মত ছিল। ইন্তিকালের পূর্বে গায়ের রং শুধু হলুদই ছিল। কপাল প্রশস্ত ও উন্নত ছিল। মোটকথা হযরত শাহ ছাহেব দারুণ সুন্দর আকৃতির মানুষ ছিলেন।
প্রাথমিক শিক্ষা
মাত্র সাড়ে চার বছর বয়সে নিজ পিতা হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ মুআযযাম শাহ ছাহেব রহ. এর কাছে কুরআনে মাজীদ পাঠ করা আরম্ভকরেন। আর ছয় বছর বয়সে কুরআনে মাজীদ ব্যতীত ফার্সী ভাষার বিভিন্ন পুস্তিকাও শেষ করেন। অতঃপর মাওলানা গোলাম মুহাম্মাদ ছাহেব সূফীপুরী রহ. হতে ফার্সী ও আরবী ভাষার তালীম অর্জন করেন।
১৩০৫ হিজরীতে মাত্র ১৩/১৪ বছর বয়সে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কাশ্মীরের লুলাব অঞ্চল ছেড়ে ইলম হাসিল করার জন্য দূর দূরান্তে চলে যাওয়াকে প্রাধান্য দেন।
সম্মানিত পিতার স্বীকৃতি
হযরতের মুহতারাম আব্বা বলেন: "আমার ছেলে আনওয়ার যখন আমার কাছে কুদূরী কিতাব পড়া আরম্ভ করে, তখন সে আমার নিকট এমন কিছু মাসআলা জিজ্ঞেস করে যেগুলোর উত্তর বড় বড় কিতাব দেখা ব্যতীত দেওয়া আমার পক্ষে কিছুতেই সম্ভব ছিল না। সে একবার যা পড়ত তাই তার অন্তরে পাথরের মত খোদাই হয়ে যেত। তার এ আশ্চর্য মেধা ও বিস্ময়কর ধীশক্তি দেখে পেরেশান হয়ে আমি তাঁকে অন্য একজন আলেমের নিকট হস্তান্তর করলাম। কিন্তু সেই শিক্ষকও তার ব্যাপারে একই অভিযোগ তুললেন।"
যুগের রাযী ও গাযালী হবে
হযরত শাহ ছাহেব রহ. একবার তাঁর ছেলেবেলায় নাহু (আরবী ব্যাকরণ শাস্ত্র) ও মানতিক (যুক্তিবিদ্যা) এর কিছু পুস্তিকা অধ্যয়ন করছিলেন। ঘটনাক্রমে একজন বড় আলেম তখন তাঁর কাছে আসলেন এবং তাঁর কিতাবাদি উঠিয়ে দেখলেন। কিতাবগুলোতে খোদ শাহ ছাহেব রহ. এর হাশিয়া বা টীকা লেখা ছিল। এত অল্প বয়সী একজন বালকের এ মেধা ও প্রতিভা দেখে ঐ আলেম মন্তব্য করলেন "এই ছেলে তাঁর সময়ের (ইমাম ফখরুদ্দীন) রাযী এবং (ইমাম মুহাম্মাদ) গাযালী রহ. হবে।"
আর পরবর্তী জীবনে বাস্তবিকপক্ষেই হযরত এমন হয়েছিলেন।
আযীমুশ শান আলেম হবে
হযরতের পিতা মাওলানা মুআযযাম শাহ রহ. হযরত শাহ ছাহেব রহ. ও তাঁর বড় ভাই মরহুম ইয়াসীন শাহ ছাহেব রহ. কে একবার কাশ্মীরের পাহাড়ে ইতিকাফকারী এক কামেল আরেফের নিকট নিয়ে গেলেন। তখন ঐ বুযুর্গ শাহ ছাহেব রহ. এর আব্বাকে জিজ্ঞেস করলেন: এ সন্তান কি তোমার? এরপর তিনি বলতে লাগলেন: "ইনশাআল্লাহ একদিন এ শিশুই অনেক বড় আযীমুশ শান আলেম হবে এবং ভবিষ্যতে তাঁর ইলমের সুখ্যাতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়বে।"
হযরতের ব্যাপারে প্রতিশ্রুত মাহদী হওয়ার ধারণা
হযরত শাহ ছাহেব রহ. একস্থানে লিখেছেন: আমার অসাধারণ অস্বাভাবিক অবস্থাদি দেখে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ সন্দেহ করত যে, আমিই প্রতিশ্রুত মাহদী। আমার আব্বা ও বংশের অন্যান্য মুরব্বীদের সাধারণ মানুষের এ ধারণা খণ্ডন করতে হত।
হযরত রহ., আরো বলেন, আমি ৯ বছর বয়সে ফিকহ বা ইসলামী আইনশাস্ত্র এবং নাহুশাস্ত্রের বড় বড় কিতাব অধ্যয়ন সমাপ্ত করেছি। ১২ বছর বয়সে ফতওয়া দেয়া আরম্ভ করেছি।
দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি ও হযরত গাঙ্গুহী রহ. থেকে খেলাফত লাভ
১৩০৮ হিজরীতে মাত্র ১৬ বৎসর বয়সে তিনি মাদারে ইলমী বিশ্ববিখ্যাত ইলমী মারকায দারুল উলূম দেওবন্দে ভর্তি হন। এবং ৪ বছর সেখানে অবস্থান করে সময়ের শ্রেষ্ঠ জ্ঞানীদের থেকে যাহেরী ও বাতেনী ইলম অর্জন করে ১৩১২ হিজরীতে সনদে ফারাগাত অর্জন করেন।
দেওবন্দ হতে ফারেগ হয়ে কুতুবুল ইরশাদ হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী রহ. এর খেদমতে গাঙ্গুহ গমন করেন। সেখান থেকে হাদীসের সনদ ছাড়াও সুলুক ও তরীকতের স্তরগুলো অতিক্রম করে খেলাফত লাভে ধন্য হন।
হযরতের কয়েকজন আসাতিযায়ে কিরাম
১. শাইখুল হিন্দ হযরত মাওলানা মাহমূদ হাসান দেওবন্দী রহ.।
২. হযরত মাওলানা খলীল আহমাদ সাহারানপুরী রহ.।
৩. হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইসহাক ছাহেব অমৃতসরী মুহাজিরে মাদানী রহ.।
৪. হযরত মাওলানা গোলাম রাসূল হাযারভী রহ. প্রমুখ।
হযরতের প্রসিদ্ধ কয়েকজন ছাত্র
১. হযরত মাওলানা ফখরুদ্দীন মুরাদাবাদী রহ. শাইখুল হাদীস দারুল উলূম দেওবন্দ।
২. হাকীমুল ইসলাম হযরত মাওলানা ক্বারী মুহাম্মাদ তায়্যিব ছাহেব রহ. মুহতামিম (টানা অর্ধশত বছর) দারুল উলূম দেওবন্দ।
৩. শাইখুল আদব হযরত মাওলানা ইযায আলী ছাহেব রহ.।
৪. মুজাহিদে মিল্লাত মাওলানা হিফযুর রহমান সিওহারভী রহ. সাধারণ সম্পাদক জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ, ভারত।
৫. শাইখুল হাদীস হযরত মাওলানা হাবীবুর রহমান আযমগড়ী রহ.।
৬. বদরুল উলামা হযরত মাওলানা বদরে আলম মীরাঠী রহ. মুহাজিরে মাদানী। ফাইযুল বারী শরহু সহীহিল বুখারীর সংকলক।
৭. হযরত মাওলানা মানাযির আহসান গীলানী রহ. বিশিষ্ট লেখক ও সাহিত্যিক।
৮. হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইদরীস ছাহেব কান্ধলভী রহ.। সদর জামি'আ আশরাফিয়া লাহোর। রচয়িতা: তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন এবং অন্যান্য বহু মূল্যবান গ্রন্থ।
৯. হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব রহ. মুফতীয়ে আযম পাকিস্তান ও প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম দারুল উলূম করাচী, পাকিস্তান।
১০. হযরত মাওলানা ইউসুফ ছাহেব বানূরী রহ. প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম বানূরী টাউন মাদরাসা করাচী। রচয়িতা মাআরিফুস সুনান শরহে সুনানুত তিরমিযী।
১১. মাওলানা মুহাম্মাদ মিয়া ছাহেব দেওবন্দী রহ. নাযেম জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ, দিল্লী ভারত ও বহু গ্রন্থ প্রণেতা।
১২. হযরত মাওলানা মানযূর আহমাদ নোমানী রহ. সম্পাদক মাসিক আল ফুরকান লাখনৌ, ভারত। অসংখ্য কালজয়ী কিতাবের লেখক।
১৩. হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ছাহেব আনওয়ারী, লায়েলপুর, পাকিস্তান। হযরত শাহ ছাহেবের বিশিষ্ট আশেক শিষ্য।
১৪. হযরত মাওলানা আব্দুল ওয়াহহাব ছাহেব। মুহতামিম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসা চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।
১৫. হযরত মাওলানা মুফতী ফাইযুল্লাহ ছাহেব রহ., চট্টগ্রাম হাটহাজারী মাদরাসা।
১৬. মাওলানা সায়্যিদ আহমাদ রেযা ছাহেব। আনওয়ারুল বারীর সংকলক ও হযরতের মেয়ের জামাতা।
১৭. মাওলানা ড. আব্দুল আলী ছাহেব। নাযেম নাদওয়াতুল উলামা লাখনৌ, ভারত। মুফাক্কিরে ইসলাম সায়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. এর আপন বড় ভাই।
১৮. হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াকুব ছাহেব রহ. সদর মুদাররিস, মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসা, চট্টগ্রাম।
১৯. হযরত মাওলানা মুফতী আতীকুর রহমান উসমানী রহ. প্রধান ব্যবস্থাপক নদওয়াতুল মুসান্নিফীন, দিল্লী, ভারত।
২০. হযরত মাওলানা সাঈদ আহমাদ ছাহেব আকবারাবাদী রহ. প্রফেসর মুসলিম ইউনিভার্সিটি, আলীগড়, ভারত, প্রমুখ।
হযরত শাহ ছাহেব রহ. এর রচনাসমূহ
১. আকীদাতুল ইসলাম ফী হায়াতি ঈসা আলাইহিস সালাম।
কিতাবটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ২০০
এ কিতাবটির অপর নাম হল-
حياة المسيح بمتن القرآن والحديث الصحيح
হযরত ঈসা আ. এর হায়াত বা জীবন সম্পর্কে কী আকীদা রাখা উচিত? এ কিতাবে সেটার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে-
২. تحية الإسلام في حياة عيسى عليه السلام ১৫০ পৃষ্ঠাব্যাপী প্রথম কিতাবটির টীকা ও সংযোজন। আরবী সাহিত্য ও অলংকার শাস্ত্রের অনেক অত্যাশ্চর্য ও দুর্লভ বিষয় এতে আছে।
৩. التصريح بما تواتر في نزول المسيح আত তাসরীহ বিমা তাওয়াতারা ফী নুযূলিল মাসীহ” হযরত ঈসা আ. এর পৃথিবীতে অবতরণ সংক্রান্ত হাদীস ও সাহাবায়ে কিরাম রাযি. এর উক্তিসমূহ। প্রচুর পরিশ্রম করে যা জমা করা হয়েছে। যেগুলোর সংখ্যা প্রায় একশর কাছাকাছি হবে।
৪. إكفار الملحدين في ضروريات الدين ইকফারুল মুলহিদীন ফি যারুরিয়্যাতিদ দ্বীন" ১২৮ পৃষ্ঠার চমৎকার একটি কিতাব। যাতে ঈমান ও কুফরের মূল বাস্তবতা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।
৫. خاتم النبيين “খাতামুন নাবিয়্যীন" ৯৬ পৃষ্ঠার রচনা। খতমে নবুওয়াত বিষয়ক ফার্সী ভাষায় লেখা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও জটিল কিতাব। সাধারণ মানুষের জন্য বুঝা দুষ্কর।
৬. فصل الخطاب في مسألة أم الكتاب ফাসলুল খিতাব ফি মাসআলাতি উম্মিল কিতাব" ইমাম ছাহেবের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়ার মাসআলা বিষয়ক ফার্সী ভাষায় রচিত একটি পুস্তিকা। কোন কিতাব দেখা ছাড়াই মাত্র দুই দিনে কিতাবটি রচনা করেন।
৭. نيل الفرقدين في مسألة رفع اليدين নাইলুল ফারকাদাইন ফী মাসআলাতি রাফয়িল ইয়াদাঈন" ১৪৫ পৃষ্ঠায় সংকলিত মতভেদপূর্ণ এ মাসআলাটির উপর চমৎকার একটি কিতাব। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ইনসাফপূর্ণ বিশ্লেষণধর্মী আলোচনায় সুসমৃদ্ধ একটি গ্রন্থ।
৮. بسط اليدين لنيل الفرقدين বাসতুল ইয়াদাইন লি নাইলিল ফারকাদাঈন"।
উল্লেখিত বিষয়ে ৬৪ পৃষ্ঠার একটি ছোট্ট রেসালা।
আল্লামা যাহেদ কাউসারী রহ. এর মত বিদগ্ধ মুহাক্কিক আলেম এ রেসালাটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। (তানীবুল খতীব পৃ: ৮৫)
১০. كشف الستر عن صلاه الوتر কাশফুস সিতর আন সালাতিল বিতর"। বিতরের নামায সংক্রান্ত ৯৮ পৃষ্ঠাব্যাপী অসাধারণ সূক্ষ্ম ও জটিল আলোচনায় পূর্ণ একটি ইলমী রচনা।
১১. ضرب الخاتم على حدوث العالم যারবুল খাতাম আলা হুদূসিল আলাম"
ইলমে কালাম এবং দর্শন শাস্ত্রের একটি প্রসিদ্ধ আলোচ্য বিষয় হল 'পৃথিবীর ক্ষণস্থায়িত্ব'। এ ব্যাপারেই সারগর্ভ আলোচনায় ভরপুর একটি কিতাব।
১২. مرقاة الطارم لحدوث العالم মিরকাতুত তারিম লি হুদূসিল আলাম" উল্লেখিত বিষয়ে ৬২ পৃষ্ঠার একটি গ্রন্থ।
১৩. إزالة الرين في الذب عن قرة العينين ইযালাতুর রাইন ফিয যাব্বি আন কুররাতিল আইনাইন।
হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ. এর সমর্থনে জনৈক তথাকথিত শিয়া আলেমের খণ্ডনে প্রায় দুইশত পৃষ্ঠার একটি কিতাব।
১৪. سهم الغيب في كبد أهل الريب সাহমুল গাইব ফী কাবিদি আহলির রাইব"।
ইলমে গাইব সংক্রান্ত আহমাদ রেযা খান ও তার অনুসারীদের খণ্ডনে রচিত একটি দুর্লভ দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ।
১৫. مشكلات القرآن "মুশকিলাতুল কুরআন” ২৮৭ পৃষ্ঠায় সমাপ্ত কুরআনী উলূম ও জ্ঞানের অমূল্য এক রত্নভাণ্ডার।
১৬. خزينة الأسرار "খাযীনাতুল আসরার”। দু'আ আযকারের আলোচনায় সমৃদ্ধ একটি অনুপম রচনা।
১৭. فيض الباري بشرح صحيح البخاري ফাইযুল বারী বিশারহি সহীহিল বুখারী"।
হযরত শাহ ছাহেব রহ. এর দরসে বুখারীর মহামূল্যবান তাকরীর। যা বিন্যস্ত করেছেন শাহ ছাহেবের রহ. বিশিষ্ট শাগরেদ মাওলানা বদরে আলম মীরাঠী, মুহাজিরে মাদানী রহ.।
কিতাবটি শাহ ছাহেব রহ. এর উত্তাল তরঙ্গ বিক্ষুব্ধ জ্ঞানের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। মোটা মোটা ৪ ভলিউমে মুদ্রিত। প্রায় সকল আহলে ইলমের নিকট সমাদৃত।
১৮. العرف الشذى لشرح جامع الترمذي আল আরফুয শাযী লি শারহি জামিয়িত তিরমিযী" রহ.
শাহ ছাহেব রহ. এর দরসে তিরমিযীর মণিমুক্তাতুল্য তাকরীর। গুজরাট নিবাসী মাওলানা চেরাগ মুহাম্মাদ রহ. কর্তৃক সংকলিত। হাদীসের ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য মহামূল্যবান তোহফা।
১৯. أنوار المحمود في شرح سنن أبي داود আনওয়ারুল মাহমুদ ফী শারহি সুনানি আবী দাউদ"।
হাদীসের প্রসিদ্ধ কিতাব সুনানে আবূ দাউদের দরসের শ্রুতিলিখন। মরহুম মাওলানা মুহাম্মাদ সিদ্দীক ছাহেব নাজীবাবাদী কর্তৃক সংকলিত, ২ খণ্ডে মুদ্রিত। কিতাবের নামের ক্ষেত্রে হযরত শাহ ছাহেব রহ. ও তাঁর উসতায শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমূদ হাসান দেওবন্দী রহ. এর নামের দিকে ইশারা করা হয়েছে।
২০. "তাকরীরে সহীহ মুসলিম"
প্রখ্যাত লেখক ও উর্দু সাহিত্যিক হযরত শাহ ছাহেব রহ. এর বিশিষ্ট শিষ্য, কলম সম্রাট মাওলানা মানাযির আহসান গীলানী রহ. কর্তৃক সংকলিত। এখনো পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখেনি।
ইন্তিকাল ও দাফন
১৩৫২ হিজরীর ৩ সফর সোমবার বিস্ময়কর মেধা শক্তির অধিকারী এ মহান মনীষী অসংখ্য ভক্ত ও শিষ্যকে শোক সমুদ্রে ভাসিয়ে আখেরাতের সফরে রওয়ানা হয়ে যান। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। দেওবন্দের ঈদগাহ মাঠের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
رَحِمَهُ اللَّهُ رَحْمَةً وَاسِعَةً
محمد أنور شاه الكشميري ( 1292 هـ - 1875 م = 1353 هـ - 1934 م ) علماء معاصرون المحدث الكبير محمد أنور شاه الكشميري الكاتب / تاج الدين الأزهري ولادته ونشأته : هو الفقيه المجتهد محمد أنور بن معظم شاه ، ولد بكشمير سنة 1292هـ وقد تربى على والديه تربية مثالية ، ولذلك كان معروفًا بالتقوى وغض البصر واحترام الأساتذة ، كان يقول الشيخ مولانا القاري محمد طيب رحمه الله : كنا نتعلم السنن النبوية من سيرة الشيخ أنور وكأن الأخلاق النبوية تجسدت في صورته [1] . ودرس على والده الشيخ غلام رسول الهزاروي كتبًا في الفقه وأصوله ولما بلغ السابعة عشرة من عمره سافر إلى ديوبند ، والتحق بدار العلوم هناك وتخرج منها سنة 1313هـ ، وقد حصل على إجازة درس الحديث من شيخ السنة مولانا رشيد أحمد الكنكوهي وشيخ الهند مولانا محمود الحسن رحمه الله ، ويصل سنده إلىالإمام الترمذي والشيخ ابن عابدين الحنفي. قوة حافظته وطريقته في المطالعة : كان الشيخ رحمه الله شديد الاستحضار قوي الحافظة ، شغوفًا بالمطالعة ، وقد انتهى من مطالعة (عمدة القاري شرح صحيح البخاري) للحافظ العيني في شهر رمضان المبارك وأراد بذلك أن يستعد لدراسة صحيح البخاري في العام الدراسي المقبل الذي كان يبدأ في شهر شوال ، وقد استوعب (فتح الباري شرح صحيح البخاري) للحافظ ابن حجر مطالعة أثناء قراءته صحيح البخاري على شيخه مولانا محمود الحسن رحمه الله [2]. وكانت طريقته في المطالعة أنه إذا وقع في يده أي كتاب علمي مطبوعًا كان أو مخطوطًا أن يأخذه ويطالعه من غير أن يترك شيئا منه ، وهو أول عالم بين علماء الهند طالع مسند الإمام أحمد بن حنبل المطبوع بمصر ، فكان يطالع منه كل يوم مائتي صفحة مع نقد أحاديثه وضبط أحكامه [3]. مكانته العلمية : كان الشيخ رحمه الله إمامًا في علوم القرآن والحديث ، وحافظًا واعيًا لمذاهب الأئمة مع إدراك الاختلاف بينهما ، وقادرًا على اختيار ما يراه صوابًا ، ولم يقتصر في مطالعته على كتب علماء مدرسة بعينها - مع أنه كان حنفيًا - وإنما قرأ لعلماء مدارس مختلفة لهم انتقادات شديدة فيما بينهم ، مثل الحافظ ابن تيمية والحافظ ابن القيم وابن دقيق العيد والحافظ ابن حجر رحمهم الله ، وقد أحاط بكتب أهل الكتاب من أسفار العهد الجديد والقديم ، وطالع بالعبرية وجمع مئة بشارة من التوراة تتعلقبرسالة نبينا محمد -صلى الله عليه وسلم- [4]. رحلاته العلمية : سافر الشيخ رحمه الله بعد تخرجه إلى عدة مدارس ، ودرس هناك عدة أعوام ، وقد التقى في فرصة زيارة الحرمين الشريفين بعدد من رجال العلم ، منهم الشيخ حسين الجسر الطرابلسي عالم الخلافة العثمانية صاحب الرسالة الحميدية والحصون الحميدية [5] . وبدأ بالتدريس في دار العلوم في ديوبند بعد عدة أعوام من رجوعه من الحرمين الشريفين ، وظل مدرسًا بها حتى عام 1345 هـ ، ثم رحل إلى ( داهبيل) في مقاطعة ( كجرات )، وأسس بها معهدًا كبيرًا يسمى( بالجامعة الإسلامية ) وإدارة تأليف تسمى ( بالمجلس العلمي ) . آراء معاصريه من العلماء فيه : وقد أثنى عليه العلماء المعاصرون ، ولثناء المعاصر على المعاصر قيمة كبيرة . فقد قال الشيخ سليمان الندوي رحمه الله : هو البحر المحيط الذي ظاهره هادئ ساكن وباطنه مملوء من اللآلئ الفاخرة الثمينة [6] . وقال المحدث علي الحنبلي المصري رحمه الله : ما رأيت عالمًا مثل الشيخ أنور الذي يستطيع أن ينقد على نظريات الحافظ ابن تيمية والحافظ ابن حجر وابن حزم والشوكاني رحمهم الله ، ويحاكم بينهم ويؤدي حق البحث والتحقيق مع رعاية جلالة قدرهم [7] . جهوده في الرد على القاديانية : قد ظهرت في العالم فتن كثيرة ، وقد عمل العلماء ضدها بجهد كبير ، ومن الفتن الكبرى التي وقعت في هذه البلاد (الهند) بوحي من أعداء الإسلام وتأييد منهم ( نشأة الفتنة القاديانية ) وقد تصدى العلماء لهذه الفتنة الملعونة ، وواجهوها وجدوا في القضاء عليها في جميع البلاد . وكانت جهود الشيخ أنور رحمه الله في مواجهتهم أكثر من جهود العلماء المعاصرين لأنه لم يكن يدخر جهدًا ولا يهدأ له بال ولا يرتاح له فكر في ليل أو نهار ، وكان يفكر دائماً في إيجاد الطرق الكفيلة للقضاء على هذه الطائفة فأيقظ العلماء من النوم العميق في أنحاء العالم ، وحثهم على القيام بواجبهم في القضاء عليها بالتبليغ والتصنيف ، وقد تيسر لأصحابه وتلامذته تأليف كتب ورسائل ضد هذه الطائفة الكاذبة باللغات المختلفة . وقد ألف الشيخ أنور بنفسه ، مؤلفات صغيرة وكبيرة حولها منها : 1- إكفار الملحدين . 2- التصريح بما تواتر في نزول المسيح . 3- تحية الإسلام في حياة عيسى عليه السلام . 4- عقيدة الإسلام في حياة عيسى . 5- خاتم النبيين . وهذه كلها باللغة العربية إلا كتاب خاتم النبيين فإنه باللغة الفارسية . آثاره : قد ترك الشيخ آثارًا في صورة التلامذة والكتب المؤلفة ، فأما عدد تلاميذه فيزيد على ألفين وأكتفي بذكر بعض منهم : حضرة الأستاذ الشيخ مناظر أحسن الجيلاني رحمه الله : كان عالمًا كبيرًا ومحدثًا جليلاً ومصنفًا عظيمًا وله مصنفات كثيرة . والمحدث الكبير مولانا حفظ الرحمن السوهاروي رحمه الله . والشيخ القارىء محمد طيب رحمه الله : ومن تصانيفه ما يلي : أصول الدعوة الدينية ، نظام الأخلاق في الإسلام ، شأن الرسالة ، القرآن والحديث . والمحدث الجليل مولانا محمد إدريس الكاندهلوي رحمه الله . كانوا مصنفين في علوم القرآن والسنة . أما كتبه المؤلفة غير التي ذكرتها فهي كما يلي : (فيض الباري شرح صحيح البخاري) في أربعة مجلدات ، (عرف الشذى على جامع الترمذي) ، (مشكلات القرآن) ، (نيل الفرقدين في مسألة رفع اليدين) ، (فصل الخطاب في مسألة أم الكتاب) ، (ضرب الخاتم على حدوث العالم) ، (خزائن الأسرار) ، وكلها كتب باللغة العربية . _________ (1) مشاهير علماء ديوبند ، القاري فيوض الرحمن ، ص 485 ، نقش دوام مولانا ، انظر ص 81 . (2) التصريح بما تواتر في نزول المسيح ، علامة أنور شاه كشميري ، ص 14 نفحة العنبر ، محمد يوسف البنوري ، ص 300 ، مقدمة أنوار الباري ، 2 / 245 . (3) نفحة العنبر ، ص 25 ، مقدمة أنوار الباري 2 / 245 . (4) المصدر السابق ، ص 95 . (5) تاريخ دار العلوم ديوبند ، السيد محبوب رضوي ، ص 199 ، دائرة المعارف الإسلامية 17/306 . (6) مقدمة أنوار الباري ، 2/240? نفحة العنبر ، ص 4 30 ، تاريخ دار العلوم - ديوبند ، ص 119 . (7) الأنور ، عبد الرحمن كوندو ، ص 595 . (( مجلة البيان ـ العدد [ 10 ] صــ 30 جمادى الآخرة 1408 ـ فبراير 1988 ))