আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ
৬৩- পোষাক-পরিচ্ছদের বর্ণনা
হাদীস নং: ৫৪০৮
আন্তর্জাতিক নং: ৫৮২৫
- পোষাক-পরিচ্ছদের বর্ণনা
৩০৮২. সবুজ পোশাকের বর্ণনা।
৫৪০৮। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... ইকরিমা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, রিফাআ তার স্ত্রীকে তালাক দেয়। পরে আব্দুর রহমান ইবনে যাবির কুরাযী তাকে বিবাহ করেন। আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ তার গায়ে একটি সবুজ রংয়ের ওড়না ছিল। তিনি আয়েশা (রাযিঃ) এর নিকট অভিযোগ করলেন এবং (স্বামীর প্রহারের দরুন) নিজের গায়ের চামড়ার সবুজ বর্ণ দেখালেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন এলেন, -আর স্ত্রীলোকেরা একে অন্যের সহযোগিতা করে থাকে- তখন আয়েশা (রাযিঃ) বললেনঃ কোন মু'মিন মহিলাকে এমনভাবে প্রহারিত হতে আমি কখনও দেখিনি। মহিলাটির চামড়া তার কাপড়ের চেয়ে অধিক সবুজ হয়ে গেছে। বর্ণনাকারী বলেনঃ আব্দুর রহমান শুনতে পেল যে, তার স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসেছে। সুতরাং সেও তার অন্য স্ত্রীর দুটি ছেলের সাথে করে এলো। স্ত্রীলোকটি বললঃ আল্লাহর কসম! তার উপর আমার এছাড়া আর কোন অভিযোগ নেই যে, তার কাছে যা আছে, তা আমাকে এ জিনিসের চেয়ে বেশী তৃপ্তি দেয় না। এ বলে তার কাপড়ের আচল ধরে দেখালো।
আব্দুর রহমান বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে মিথ্যা বলেছে, আমি তাকে ধোলাই করি চামড়া ধোলাই করার ন্যায়। (অর্থাৎ পূর্ণ শক্তির সাথে দীর্ঘস্থায়ী সঙ্গম করি)। কিন্তু সে অবাধ্য স্ত্রী, রিফাআর কাছে ফিরে যেতে চায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ব্যাপার যদি তাই হয়, তাহলে রিফাআ তোমার জন্য হালাল হবে না, অথবা তুমি তার উপযুক্ত হতে পার না, যতক্ষণ না আব্দুর রহমান তোমার সুধা আস্বাদন করবে। বর্ণনাকারী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আব্দুর রহমানের সাথে তার পুত্রদ্বয়কে দেখে বললেনঃ এরা কি তোমার পুত্র? সে বললঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এটিই আসল ব্যাপার, যেজন্য স্ত্রীলোকটি এরূপ করছে। আল্লাহর কসম, কাকের সাথে কাকের যেমন সাদৃশ্য থাকে, তার চেয়েও অধিক মিল রয়েছে ওদের সাথে এর (অর্থাৎ আব্দুর রহমানের সাথে তার পুত্রদের)।
আব্দুর রহমান বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে মিথ্যা বলেছে, আমি তাকে ধোলাই করি চামড়া ধোলাই করার ন্যায়। (অর্থাৎ পূর্ণ শক্তির সাথে দীর্ঘস্থায়ী সঙ্গম করি)। কিন্তু সে অবাধ্য স্ত্রী, রিফাআর কাছে ফিরে যেতে চায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ব্যাপার যদি তাই হয়, তাহলে রিফাআ তোমার জন্য হালাল হবে না, অথবা তুমি তার উপযুক্ত হতে পার না, যতক্ষণ না আব্দুর রহমান তোমার সুধা আস্বাদন করবে। বর্ণনাকারী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আব্দুর রহমানের সাথে তার পুত্রদ্বয়কে দেখে বললেনঃ এরা কি তোমার পুত্র? সে বললঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এটিই আসল ব্যাপার, যেজন্য স্ত্রীলোকটি এরূপ করছে। আল্লাহর কসম, কাকের সাথে কাকের যেমন সাদৃশ্য থাকে, তার চেয়েও অধিক মিল রয়েছে ওদের সাথে এর (অর্থাৎ আব্দুর রহমানের সাথে তার পুত্রদের)।
كتاب اللباس
باب ثِيَابِ الْخُضْرِ
5825 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَهَّابِ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ: أَنَّ رِفَاعَةَ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ، فَتَزَوَّجَهَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الزَّبِيرِ القُرَظِيُّ، قَالَتْ عَائِشَةُ: وَعَلَيْهَا خِمَارٌ أَخْضَرُ، فَشَكَتْ إِلَيْهَا وَأَرَتْهَا خُضْرَةً بِجِلْدِهَا، فَلَمَّا جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالنِّسَاءُ يَنْصُرُ بَعْضُهُنَّ بَعْضًا، قَالَتْ عَائِشَةُ: مَا رَأَيْتُ مِثْلَ مَا يَلْقَى المُؤْمِنَاتُ؟ لَجِلْدُهَا أَشَدُّ خُضْرَةً مِنْ ثَوْبِهَا. قَالَ: وَسَمِعَ أَنَّهَا قَدْ أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَجَاءَ وَمَعَهُ ابْنَانِ لَهُ مِنْ غَيْرِهَا، قَالَتْ: وَاللَّهِ مَا لِي إِلَيْهِ مِنْ ذَنْبٍ، إِلَّا أَنَّ مَا مَعَهُ لَيْسَ بِأَغْنَى عَنِّي مِنْ هَذِهِ، وَأَخَذَتْ هُدْبَةً مِنْ ثَوْبِهَا، فَقَالَ: كَذَبَتْ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ [ص:149]، إِنِّي لَأَنْفُضُهَا نَفْضَ الأَدِيمِ، وَلَكِنَّهَا نَاشِزٌ، تُرِيدُ رِفَاعَةَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " فَإِنْ كَانَ ذَلِكِ لَمْ تَحِلِّي لَهُ، أَوْ: لَمْ تَصْلُحِي لَهُ حَتَّى يَذُوقَ مِنْ عُسَيْلَتِكِ " قَالَ: وَأَبْصَرَ مَعَهُ ابْنَيْنِ لَهُ، فَقَالَ: «بَنُوكَ هَؤُلاَءِ» قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «هَذَا الَّذِي تَزْعُمِينَ مَا تَزْعُمِينَ، فَوَاللَّهِ، لَهُمْ أَشْبَهُ بِهِ مِنَ الغُرَابِ بِالْغُرَابِ»
হাদীসের ব্যাখ্যা:
শরীয়তের এ নির্দেশ কুরআন মজীদেও বর্ণিত হয়েছে। সূরা বাকারায় বলা হয়েছে:
فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ
(অর্থাৎ স্বামী যদি স্ত্রীকে দুই তালাকের পর তৃতীয় তালাকও দিয়ে দেয় তবে সেই মহিলা এ স্বামীর জন্য তত সময় পর্যন্ত হালাল হবে না, যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্বামীর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়)। এরপর সেই দ্বিতীয় স্বামী যদি মৃত্যুবরণ করে অথবা তালাক দিয়ে দেয় তবে ইদ্দত পূর্ণ করার পর প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে।
বস্তুত আলোচ্য হাদীস থেকে এবং এছাড়াও বিভিন্ন হাদীসমূহ থেকে উল্লিখিত আয়াতের তাফসীর ও ব্যাখা এই জানা গেল যে, অন্য স্বামীর সাথে কেবল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যথেষ্ট নয় বরং সেই কাজও প্রয়োজন যা বিবাহের বিশেষ উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। এ বিষয়ে উম্মতের অধিকাংশ আলিমগণের অভিমত এটাই। বিষয় হচ্ছে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে যদি সহবাসের বাধ্যবাধকতা না থাকে তবে দ্বিতীয় বিবাহের শর্ত একেবারে মূল্যহীন ও অর্থহীন হয়ে দাঁড়াবে।
فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ
(অর্থাৎ স্বামী যদি স্ত্রীকে দুই তালাকের পর তৃতীয় তালাকও দিয়ে দেয় তবে সেই মহিলা এ স্বামীর জন্য তত সময় পর্যন্ত হালাল হবে না, যতক্ষণ না দ্বিতীয় স্বামীর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়)। এরপর সেই দ্বিতীয় স্বামী যদি মৃত্যুবরণ করে অথবা তালাক দিয়ে দেয় তবে ইদ্দত পূর্ণ করার পর প্রথম স্বামীর সাথে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে।
বস্তুত আলোচ্য হাদীস থেকে এবং এছাড়াও বিভিন্ন হাদীসমূহ থেকে উল্লিখিত আয়াতের তাফসীর ও ব্যাখা এই জানা গেল যে, অন্য স্বামীর সাথে কেবল বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যথেষ্ট নয় বরং সেই কাজও প্রয়োজন যা বিবাহের বিশেষ উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। এ বিষয়ে উম্মতের অধিকাংশ আলিমগণের অভিমত এটাই। বিষয় হচ্ছে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে যদি সহবাসের বাধ্যবাধকতা না থাকে তবে দ্বিতীয় বিবাহের শর্ত একেবারে মূল্যহীন ও অর্থহীন হয়ে দাঁড়াবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)