আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

৫৯- কুরবানীর অধ্যায়

হাদীস নং: ৫১৭১
আন্তর্জাতিক নং: ৫৫৬৯
- কুরবানীর অধ্যায়
২৯৫০. কুরবানীর গোশত থেকে কতটুকু পরিমাণ আহার করা যাবে, আর কতটুকু পরিমাণ সঞ্চিত রাখা যাবে
৫১৭১। আবু ‘আসিম (রাহঃ) ......... সালামা ইবনে আকওয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কুরবানী করেছে, সে যেন তৃতীয় দিবসে এমতাবস্থায় সকাল অতিবাহিত না করে যে, তার ঘরে কুরবানীর গোশত কিছু পরিমাণ অবশ্যই থাকে। এরপর যখন পরবর্তী বছর আসল, তখন সাহাবীগণ বললেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কি সে রূপ করবো যে রূপ গত বছর করেছিলাম? তখন তিনি বললেনঃ তোমরা নিজেরা খাও অন্যকে খাওয়াও এবং সঞ্চয় করে রাখ কেননা, গত বছর তো মানুষের মধ্যে ছিল অভাব-অনটন। তাই আমি চেয়েছিলাম যে, তোমরা তাতে সাহায্য কর।
كتاب الأضاحي
باب مَا يُؤْكَلُ مِنْ لُحُومِ الأَضَاحِيِّ وَمَا يُتَزَوَّدُ مِنْهَا
5569 - حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ ضَحَّى مِنْكُمْ فَلاَ يُصْبِحَنَّ بَعْدَ ثَالِثَةٍ وَبَقِيَ فِي بَيْتِهِ مِنْهُ شَيْءٌ» فَلَمَّا كَانَ العَامُ المُقْبِلُ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، نَفْعَلُ كَمَا فَعَلْنَا عَامَ المَاضِي؟ قَالَ: «كُلُوا وَأَطْعِمُوا وَادَّخِرُوا، فَإِنَّ ذَلِكَ العَامَ كَانَ بِالنَّاسِ جَهْدٌ، فَأَرَدْتُ أَنْ تُعِينُوا فِيهَا»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উপরের হাদীস দ্বারা জানা গেল যে, কুরবানীর গোশতের বেলায় অনুমতি রয়েছে যে, যতদিন পর্যন্ত ইচ্ছা খাওয়া যায় এবং রাখা যায়। আর হাদীস দ্বারা আরো জানা যায় যে, আইয়ামে তাশরীকে আল্লাহর বান্দাদের খাওয়া ও পান করাও আল্লাহ্ তা'আলার কাছে প্রিয় ও পছন্দনীয় কাজ। এ দিনগুলো যেন আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে মেহমানদারী ও আপ্যায়নের দিন। তবে এই খাওয়া দাওয়ার সাথে আল্লাহর স্মরণ, তাঁর মাহাত্ম্য ঘোষণা, তাঁর পবিত্রতা ও তাওহীদের বাণী উচ্চারণ দ্বারা রসনাকে সিক্ত রাখা চাই। এর সংমিশ্রণ ছাড়া আল্লাহর প্রকৃত বান্দাদের জন্য জীবনের প্রতিটি বিষয়ই তো বিস্বাদ।
« اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ »
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)