আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

২২- ওমরার অধ্যায়

হাদীস নং: ১৭১৯
আন্তর্জাতিক নং: ১৮৩৮
- ওমরার অধ্যায়
১১৫৫. মুহরিম পুরুষ ও মহিলার জন্য নিষিদ্ধ সুগন্ধিসমূহ।
আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, মুহরিম নারী ওয়ারস কিংবা জাফরানে রঞ্জিত কাপড় পরিধান করবে না।
১৭১৯। আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! ইহরাম অবস্থায় আপনি আমাদেরকে কী ধরনের কাপড় পরতে আদেশ করেন? নবী (ﷺ) বললেনঃ জামা, পায়জামা, পাগড়ী ও টুপি পরিধান করবে না। তবে কারো যদি জুতা না থাকে তা হলে সে যেন মোজা পরিধান করে তার গিরার নীচের অংশটুকু কেটে নেয়। তোমরা জাফরান এবং ওয়ারস লাগানো কোন কাপড় পরিধান করবে না। মুহরিম মহিলাগণ মুখে নেকাব এবং হাতে হাত মোজা লাগাবে না।
মুসা ইবনে উকবা, ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম ইবনে উকবা, জুওয়ায়রিয়া, ইবনে ইসহাক (রাহঃ) নেকাব এবং হাত মোজার বর্ণনায় লাঈস (রাহঃ) এর অনুসরণ করেছেন।
উবাইদুল্লাহ (রাহঃ) এর وَلاَ الوَرْسٌ স্থলে وَلاَ وَرْسٌ বলেছেন এবং তিনি বলতেন, ইহরাম বাঁধা মেয়েরা নেকাব ও হাত মোজা ব্যবহার করবে না।
মালিক (রাহঃ) নাফি (রাহঃ) এর মাধ্যমে ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইহরাম বাঁধা মেয়েরা নেকাব ব্যবহার করবে না। লাঈস ইবনে আবু সুলায়ম (রাহঃ) এ ক্ষেত্রে মালিক (রাহঃ) এর অনুসরণ করেছেন।
أبواب العمرة
باب مَا يُنْهَى مِنَ الطِّيبِ لِلْمُحْرِمِ وَالْمُحْرِمَةِ وَقَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا لاَ تَلْبَسُ الْمُحْرِمَةُ ثَوْبًا بِوَرْسٍ أَوْ زَعْفَرَانٍ
1838 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، حَدَّثَنَا نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: قَامَ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَاذَا تَأْمُرُنَا أَنْ نَلْبَسَ مِنَ الثِّيَابِ فِي الإِحْرَامِ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لاَ تَلْبَسُوا القَمِيصَ، وَلاَ السَّرَاوِيلاَتِ، وَلاَ العَمَائِمَ، وَلاَ البَرَانِسَ إِلَّا أَنْ يَكُونَ أَحَدٌ لَيْسَتْ لَهُ نَعْلاَنِ، فَلْيَلْبَسِ الخُفَّيْنِ، وَلْيَقْطَعْ أَسْفَلَ مِنَ الكَعْبَيْنِ، وَلاَ تَلْبَسُوا شَيْئًا مَسَّهُ زَعْفَرَانٌ، وَلاَ الوَرْسُ، وَلاَ تَنْتَقِبِ المَرْأَةُ المُحْرِمَةُ، وَلاَ تَلْبَسِ القُفَّازَيْنِ» ، تَابَعَهُ مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ، وَجُوَيْرِيَةُ، وَابْنُ إِسْحَاقَ: فِي النِّقَابِ وَالقُفَّازَيْنِ، وَقَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ: وَلاَ وَرْسٌ، وَكَانَ يَقُولُ: لاَ تَتَنَقَّبِ المُحْرِمَةُ، وَلاَ تَلْبَسِ القُفَّازَيْنِ، وَقَالَ مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ ابْنِ عُمَرَ " لاَ تَتَنَقَّبِ المُحْرِمَةُ، وَتَابَعَهُ لَيْثُ بْنُ أَبِي سُلَيْمٍ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ হাদীসে জামা, শেলওয়ার, পাগড়ী ইত্যাদি কেবল কয়েকটি কাপড়ের নাম নিয়েছেন, যেগুলোর সে সময় প্রচলন ছিল। এ বিধানই প্রযোজ্য হবে ঐসব কাপড়ের বেলায়, যেগুলো বিভিন্ন যুগে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মাঝে ও বিভিন্ন দেশে এসব উদ্দেশ্যের জন্য ব্যবহার করা হয় অথবা ভবিষ্যতে ব্যবহার করা হবে- যেসব উদ্দেশ্যের জন্য জামা, শেলওয়ার ও পাগড়ী ইত্যাদি ব্যবহার করা হত।
জাফরান তো একটি প্রসিদ্ধ জিনিস, ওয়ারসও এক ধরনের সুগন্ধিযুক্ত কমলা রঙের পাতা। এ দু'টি জিনিসই যেহেতু সুগন্ধি হিসাবে ব্যবহৃত হত, এজন্য ইহরাম অবস্থায় এমন কাপড় পরিধান করতেও নিষেধ করা হয়েছে, যাতে জাফরান অথবা ওয়ারসের স্পর্শ লেগেছে।

প্রশ্নকারী ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেছিল, "মুহরিম ব্যক্তি কেমন কাপড় পরিধান করবে?" হুযূর (ﷺ) উত্তরে বললেন: "অমুক অমুক কাপড় পরতে পারবে না।" এ উত্তরে তিনি যেন একথাও শিখিয়ে দিলেন যে, জিজ্ঞাসা করার বিষয় এটা নয় যে, মুহরিম ব্যক্তি কি ধরনের কাপড় পরবে; বরং এটা জিজ্ঞাসা করা উচিত ছিল যে, তার জন্য কোন ধরনের কাপড় পরা নিষেধ। কেননা, ইহরামের প্রভাব এটাই পড়ে থাকে যে, কোন কোন কাপড় ও কোন কোন জিনিস যেগুলোর ব্যবহার সাধারণ অবস্থায় জায়েয থাকে- ইহরামের কারণে এগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এ জন্য এটা জিজ্ঞাসা করা চাই যে, ইহরাম অবস্থায় কোন্ কোন্ কাপড় ও কোন কোন্ জিনিসের ব্যবহার নিষিদ্ধ ও নাজায়েয হয়ে যায়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)