হাদীস অনুসন্ধানের ফলাফল
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৯৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কর্জের বিষয় খুবই কঠিন এবং এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারী
৩৯৩. হযরত মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইব্ন জাহশ (রা) বলেন, মসজিদের উঠানে, যেখানে জানাযা রাখা হয় আমরা একদিন সেখানে বসা ছিলাম, আর রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের মধ্যে বসা ছিলেন। এরপর তিনি তাঁর দৃষ্টি আসমানের প্রতি উত্তোলন করলেন এবং কিছু দেখলেন। তারপর তাঁর দৃষ্টি অবনত করলেন আর তাঁর হাত স্বীয় কপালে রেখে বললেন, আল্লাহ পবিত্র, আল্লাহ পবিত্র। কত শক্ত কথা নাযিল হয়েছে। বর্ণনাকারী (মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ) বলেন, এ দিন ও রাত, আমরা সবাই নিশ্চুপ থাকলাম। (আর কী পরিদৃশ্য হয় তার অপেক্ষায় রইলাম)। তবে কল্যাণই পেলাম। মুহাম্মদ বলেন, এরপর প্রাতঃকালে আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করলাম, কী শক্ত কথা নাযিল হয়েছিল? তিনি বললেন, ঋণ সম্বন্ধে শক্ত নির্দেশ নাযিল হয়েছে। (এরপর তিনি আল্লাহ তা'আলার সেই শক্ত নির্দেশের বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে বলেন,) সেই সত্তার শপথ। যার হাতে আমি মুহাম্মদের প্রাণ নিহিত রয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহর পথে শহীদ হয় এরপর জীবিত হয়, এরূপ আল্লাহর পথে শহীদ হয় জীবিত হয়, তারপর আল্লাহর পথে শহীদ ও জীবিত হয় আর তার ওপর থাকে ঋণ, সে ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না তার ঋণ পরিশোধ করা হয়। (আহমদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَحْشٍ قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا بِفِنَاءِ الْمَسْجِدِ حَيْثُ يُوضَعُ الْجَنَائِزُ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ بَيْنَ ظَهْرَيْنَا، فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَصَرَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَنَظَرَ، ثُمَّ طَأْطَأَ بَصَرَهُ وَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى جَبْهَتِهِ، ثُمَّ قَالَ: «سُبْحَانَ اللَّهِ سُبْحَانَ اللَّهِ مَاذَا نَزَلَ مِنَ التَّشْدِيدِ؟» قَالَ: فَسَكَتْنَا يَوْمَنَا وَلَيْلَتَنَا، فَلَمْ نَرَ إِلَّا خَيْرًا حَتَّى أَصْبَحْنَا. قَالَ مُحَمَّدٌ: فَسَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا التَّشْدِيدُ الَّذِي نَزَلَ؟ قَالَ: «فِي الدَّيْنِ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ رَجُلًا قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، ثُمَّ عَاشَ، ثُمَّ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، ثُمَّ عَاشَ، ثُمَّ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، ثُمَّ عَاشَ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ مَا دَخَلَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَقْضِيَ دَيْنَهُ» (رواه احمد)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৯৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কর্জের বিষয় খুবই কঠিন এবং এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারী
৩৯৪. হযরত সালামা ইবনে আকওয়া (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে বসা ছিলাম। এক জানাযা নিয়ে আসা হল। লোকজন বললেন, তার জানাযার নামায পড়ান। রাসূলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞাসা করলেন, এ লোকের ওপর কি ঋণ রয়েছে? লোকজন বললেন, না। তিনি উক্ত জানাযার নামায পড়ালেন। এরপর অন্য এক জানাযা নিয়ে আসা হল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ মৃতের ওপর কি কারো পাওনা রয়েছে? বলা হয় জি হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, সে কি কিছু রেখে গেছে? (যদ্বারা ঋণ পরিশোধ হতে পারে)। লোকজন বললেন, সে তিন দিনার রেখে গেছে। তখন তিনি তার নামাযে জানাযা পড়ালেন। এরপর তৃতীয় জানাযা নিয়ে আসা হল। এ মৃতের কথা জিজ্ঞাসা করলেন, তার ওপর কি ঋণ রয়েছে? লোকজন বললেন, জি হ্যাঁ। তার ওপর তিন দিনার ঋণ রয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, সে কি কিছু রেখে গেছে। (যদ্বারা ঋণ পরিশোধ হতে পারে) লোকজন বলনেন, কিছু রেখে যায়নি। তিনি উপস্থিত সাহাবীগণকে বললেন তোমাদের সাথীর নামাযে জানাযা তোমরাই পড়ে নেও। তখন আবু কাতাদা আনসারী বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ ﷺ তার নামাযে জানাযা পড়ান, তার ঋণ আমার জিম্মায় নিলাম। (আমি পরিশোধ করব) এরপর তিনি এ জানাযারও নামায পড়ালেন। (সহীহ বুখারী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذْ أُتِيَ بِجَنَازَةٍ، فَقَالُوا: صَلِّ عَلَيْهَا، فَقَالَ: «هَلْ عَلَيْهِ دَيْنٌ؟»، قَالُوا: لاَ، فَصَلَّى عَلَيْهَا، ثُمَّ أُتِيَ بِجَنَازَةٍ أُخْرَى، فَقَالَ: «هَلْ عَلَيْهِ دَيْنٌ؟» قِيلَ: نَعَمْ، قَالَ: «فَهَلْ تَرَكَ شَيْئًا؟»، قَالُوا: ثَلاَثَةَ دَنَانِيرَ، فَصَلَّى عَلَيْهَا، ثُمَّ أُتِيَ بِالثَّالِثَةِ، فَقَالَ: «هَلْ عَلَيْهِ دَيْنٌ؟» قَالُوا: ثَلاَثَةُ دَنَانِيرَ، قَالَ: «هَلْ تَرَكَ شَيْئًا؟» قَالُوا: لاَ، قَالَ: «صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ»، قَالَ أَبُو قَتَادَةَ صَلِّ عَلَيْهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَعَلَيَّ دَيْنُهُ، فَصَلَّى عَلَيْهِ. (رواه البخارى)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৯৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কর্জের বিষয় খুবই কঠিন এবং এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারী
৩৯৫. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে ব্যক্তি মানুষের নিকট থেকে (ঋণ) মাল গ্রহণ করে আর তার পরিশোধের ইচ্ছা থাকে তবে আল্লাহ তাআলা তার দ্বারা পরিশোধ করাবেন। (অর্থাৎ পরিশোধ তার সাহায্য করবেন, আর জীবিতাবস্থায় যদি সে পরিশোধে সক্ষম না হয় তবে আখিরাতে তার পক্ষ হতে পরিশোধ করে তাকে মুক্ত করবেন)। আর যে ব্যক্তি কোন লোক থেকে (ঋণ) গ্রহণ করে আর ইচ্ছাই থাকে মেরে দেবার, তবে আল্লাহ তা'আলা তাকে ধ্বংসের স্তরেই রেখে দেবেন। (অর্থাৎ দুনিয়াতে এ মন্দ নিয়তকারীর সাহায্য করবেন না আর আখিরাতে এ মেরে দেয়া তার জন্য বিরাট বিপদ হবে। (সহীহ বুখারী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ أَخَذَ أَمْوَالَ النَّاسِ يُرِيدُ أَدَاءَهَا أَدَّى اللَّهُ عَنْهُ، وَمَنْ أَخَذَ يُرِيدُ إِتْلاَفَهَا أَتْلَفَهُ اللَّهُ» (رواه البخارى)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৯৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কর্জের বিষয় খুবই কঠিন এবং এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারী
৩৯৬. হযরত ইমরান ইবনে হোসাইন (রা) উম্মুল মু'মিনীন হযরত মাইমুনা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমার প্রিয়তম রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে শুনেছি, তিনি বলতেন, যে কোন বান্দা ঋণ গ্রহণ করে আর আল্লাহ জানেন তার হৃদয়ে পরিশোধের ইচ্ছা রয়েছে তবে আল্লাহ তা'আলা তার ঋন দুনিয়াতেই পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেবেন। (নাসাঈ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ عَنْ مَيْمُونَةَ قَالَتْ: سَمِعْتُ خَلِيلِي وَصَفِيِّي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَا مِنْ أَحَدٍ يَدَّانُ دَيْنًا فَيَعْلَمُ اللَّهُ أَنَّهُ يُرِيدُ قَضَاءَهُ إِلَّا أَدَّاهُ اللَّهُ عَنْهُ فِي الدُّنْيَا» (رواه النسائى)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৯৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কর্জের বিষয় খুবই কঠিন এবং এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারী
৩৯৭. হযরত আবদুল্লাহ ইব্ন জাফর ইব্ন আবু তালিব (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আল্লাহ তা'আলা ঋণগ্রস্তের সাথে আছেন ঋণ পরিশোধ পর্যন্ত যখন এ ঋণ কোন মন্দ কাজের জন্য গ্রহণ করা না হয়। (ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ مَعَ الدَّائِنِ حَتَّى يَقْضِيَ دَيْنَهُ، مَا لَمْ يَكُنْ فِيمَا يَكْرَهُ» (رواه ابن ماجة)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৯৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কর্ম পদ্ধতি
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এরও কর্জ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিত এবং তিনি কর্জ গ্রহণ করতেন। এ ধারাবাহিকতায় মা'আরিফুল হাদীসে এ কথাও বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি অমুসলিম ইয়াহুদীদের থেকেও কর্জ গ্রহণ করতেন এবং এতে দীনের যে বিরাট উপযোগিতা ও রহস্য ছিল, তাও সেখানে বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে এ ধারাবাহিকতার কেবল তিনটি হাদীস লিপিবদ্ধ করা যাচ্ছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এরও কর্জ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিত এবং তিনি কর্জ গ্রহণ করতেন। এ ধারাবাহিকতায় মা'আরিফুল হাদীসে এ কথাও বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি অমুসলিম ইয়াহুদীদের থেকেও কর্জ গ্রহণ করতেন এবং এতে দীনের যে বিরাট উপযোগিতা ও রহস্য ছিল, তাও সেখানে বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে এ ধারাবাহিকতার কেবল তিনটি হাদীস লিপিবদ্ধ করা যাচ্ছে।
৩৯৮. হযরত জাবির (রা) বলেন আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট কিছু কর্জ পেতাম। এরপর যখন তিনি তা পরিশোধ করলেন (আমার মূল টাকা থেকে) বেশী দিলেন। (আবু দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: كَانَ لِىْ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَيْنٌ فَقُضِيَ لِي وَزَادَنِي. (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৯৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কর্ম পদ্ধতি
৩৯৯. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট তার পাওনার তাগাদা দিল। তাঁকে শক্ত কথা বলল। এতে তাঁর সাথীগণ (যারা তখন উপস্থিত ছিলেন, তার সাথে কঠোরতা প্রদর্শনের) ইচ্ছা করলেন। তিনি বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। কেননা, পাওনাদারের বলার অধিকার আছে। তার জন্য একটি উট ক্রয় করে এনে তাকে দাও। তারা (বাজার থেকে ফেরত এসে) বললেন (তার উট যেরূপ ছিল সেরূপ পাওয়া যাচ্ছে না) কেবল তার উট থেকে বেশি বয়সের পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বললেন, সেটিই ক্রয় করে তাকে দাও। কেননা সেই ব্যক্তি উত্তম যে উত্তম পরিশোধ করে। (সহীহ মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلًا تَقَاضَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَغْلَظَ لَهُ، فَهَمَّ أَصْحَابُهُ فَقَالَ: دَعُوهُ «فَإِنَّ لِصَاحِبِ الْحَقِّ مَقَالًا»، «وَاشْتَرُوا لَهُ بَعِيرًا فَأَعْطُوهُ إِيَّاهُ» قَالُوا: لاَ نَجِدُ إِلَّا أَفْضَلَ مِنْ سِنِّهِ، قَالَ: «اشْتَرُوهُ، فَأَعْطُوهُ إِيَّاهُ، فَإِنَّ خَيْرَكُمْ أَحْسَنُكُمْ قَضَاءً» (رواه مسلم)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৪০০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কর্ম পদ্ধতি
৪০০. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবু রাবী'আ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ ﷺ আমার নিকট থেকে চল্লিশ হাজার ঋণ গ্রহণ করেন। এরপর তাঁর নিকট সম্পদ এসে পড়ে। তখন তিনি আমাকে তা দিলেন এবং (আমাকে দু'আ স্বরূপ। বললেন, আল্লাহ তা'আলা তোমার পরিবার ও সম্পদে কল্যাণ দিন। ঋণের বদলা হচ্ছে- পরিশোধ করা হবে এবং (করজদাতার) প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হবে। (নাসাঈ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ، قَالَ: اسْتَقْرَضَ مِنِّي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعِينَ أَلْفًا، فَجَاءَهُ مَالٌ فَدَفَعَهُ إِلَيَّ، وَقَالَ: «بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِي أَهْلِكَ وَمَالِكَ، إِنَّمَا جَزَاءُ السَّلَفِ الْحَمْدُ وَالْأَدَاءُ» (رواه النسائى)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৪০১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
দুনিয়ার অন্যান্য দেশ ও জাতির ন্যায় আরবদের মধ্যেও সুদী লেন-দেনের প্রচলন ছিল। আর এখানের সুদখোর মহাজনদের ন্যায় সেখানেও কত পুঁজিপতি এ ব্যবসা করত। যার প্রচলিত প্রসিদ্ধ পন্থা এটাই ছিল যে, অভাবী লোক তাদের নিকট থেকে ঋণ গ্রহণ করত এবং শর্ত আরোপিত হত যে, এ টাকা সে অমুক সময় লাভসহ আদায় করবে। এরপর যদি নির্ধারিত সময়ে ঋণ গ্রহীতা পরিশোধ করতে অক্ষম হয় তবে সময় নিত এবং এ সময়ের হিসাবে সুদের টাকায় আরো অতিরিক্ত আরোপিত হত। এভাবে দরিদ্র ঋণ গ্রহীতার বোঝা বেড়ে যেত আর সুদখোর মহাজন তাদের রক্ত চুষত। একথা সুস্পষ্ট যে, বিষয়টি ইসলামের মূল স্পীরিট ও স্বভাবের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ছিল। ইসলামের শিক্ষা ও নির্দেশ ইহার একেবারে বিপরীত দরিদ্রদের সাহায্য করা হবে, অসহায়দের সহায়তা দেয়া হবে এবং প্রয়োজনশীলদের প্রয়োজন পূর্ণ করা হবে। আর এগুলো নিজের পার্থিব কোন লাভ ও সংখ্যা সুবিধার জন্য নয় বরং কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতের পুণ্যের জন্য করা হবে।
আল্লাহ তা'আলা স্বীয় পবিত্র কিতাব কুরআন মজীদে এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর মহান বাণীতে যেভাবে মানুষকে অশ্লীলতাসমূহের মূল-মদ থেকে রক্ষা করতে ক্রমান্বয়ের নীতি গ্রহণ করেছিলেন অনুরূপভাবে সুদের জবরদস্তী ও অভিশপ্ত ব্যবসা-নীতি বিলীন করার জন্যও উক্ত বাস্তব কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল। প্রথম দিকে বহু দিন পর্যন্ত কেবল হ্যাঁ মূলক প্রক্রিয়ায় এ বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন যে, আপন সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় কর, দরিদ্রদের সাহায্য কর, অসহায়দের আশ্রয়দান কর, প্রয়োজনশীলদের প্রয়োজনগুলো পূর্ণ কর, দয়া, বদান্যতা ও অন্যকে প্রাধান্য প্রদানের ন্যায় স্বভাবকে আয়ত্ব কর। বলা হয়েছে, তুমিও ধ্বংসশীল তোমার সম্পদও ধ্বংস হয়ে যাবে। এজন্য এ সম্পদের দ্বারা আখিরাতের চিরস্থায়ী সফলতা ও জান্নাত অর্জন কর, কারূণের মত সম্পদ পূজারীদের পরিণতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর।
এ শিক্ষা ও উপদেশ এবং এ অনুযায়ী কার্যক্রম সমাজের স্বভাব এরূপ তৈরি করে এবং পরিবেশ এজন্য গঠিত হয়ে যায় যে, জুলুম ও মানবতাবর্জিত ব্যবসা (রিবা-সুদ)-সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার আইন জারি করা হবে। সুতরাং সূরা বাকারার শেষাংশে ২৭৫ আয়াত হতে ২৮০ আয়াত পর্যন্ত এমন সব আয়াত নাযিল হয়েছে যেগুলোতে রিবা (সুদ) সুস্পষ্টভাবে হারাম করা হয়েছে। (অর্থাৎ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا থেকে وَأَنْ تَصَدَّقُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ পর্যন্ত) এসব আয়াতে এটাও সুস্পষ্ট করা হয়েছে যে, যদি পূর্বের লেন-দেন পরম্পরায় কারো কোন সুদী টাকা কোন ঋণগ্রহীতার নিকট বাকি থেকে থাকে তবে এখন তাও নেয়া যাবে না। এসব আয়াতেরই শেষে এ ঘোষণাও করা হয়েছে যে, সুদী ব্যবসা হারাম, এ ঘোষণার পরও যে সব লোক বিরত থাকবে না এবং আল্লাহর আইনের অবাধ্যতা করবে তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছেঃ
فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ
এ ভীতি প্রদর্শন (অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে যুদ্ধ ঘোষনার ভীতি প্রদর্শন) সুদী ব্যবসা ছাড়া ব্যভিচার, মদ, অন্যায় হত্যা ইত্যাদি বড় বড় পাপের ব্যাপারে কুরআন মজীদে যুদ্ধ ঘোষণার আয়াত নাযিল হয়নি। এতে বুঝা যায় যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দৃষ্টিতে এ পাপ অন্যান্য পাপ থেকে অধিক কঠোর ও ভারী।
সামনে বর্ণিতব্য হাদীসমূহ থেকে জানা যাবে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদ খাওয়াকে চূড়ান্ত পর্যায়ের কবীরা গুনাহগুলোর মধ্যে পরিগণিত করেছেন। সুদ গ্রহণকারীর সাথে সুদ প্রদানকারী এমনকি সুদের দলিল লেখক ও এর সাক্ষীগণকেও অভিশাপযোগ্য নির্ধারণ করেছেন। আর কোন কোন বর্ণনায় সুদের গুনাহ ব্যভিচার থেকে সত্তর গুণ অধিক বলা হয়েছে।
দুনিয়ার অন্যান্য দেশ ও জাতির ন্যায় আরবদের মধ্যেও সুদী লেন-দেনের প্রচলন ছিল। আর এখানের সুদখোর মহাজনদের ন্যায় সেখানেও কত পুঁজিপতি এ ব্যবসা করত। যার প্রচলিত প্রসিদ্ধ পন্থা এটাই ছিল যে, অভাবী লোক তাদের নিকট থেকে ঋণ গ্রহণ করত এবং শর্ত আরোপিত হত যে, এ টাকা সে অমুক সময় লাভসহ আদায় করবে। এরপর যদি নির্ধারিত সময়ে ঋণ গ্রহীতা পরিশোধ করতে অক্ষম হয় তবে সময় নিত এবং এ সময়ের হিসাবে সুদের টাকায় আরো অতিরিক্ত আরোপিত হত। এভাবে দরিদ্র ঋণ গ্রহীতার বোঝা বেড়ে যেত আর সুদখোর মহাজন তাদের রক্ত চুষত। একথা সুস্পষ্ট যে, বিষয়টি ইসলামের মূল স্পীরিট ও স্বভাবের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ছিল। ইসলামের শিক্ষা ও নির্দেশ ইহার একেবারে বিপরীত দরিদ্রদের সাহায্য করা হবে, অসহায়দের সহায়তা দেয়া হবে এবং প্রয়োজনশীলদের প্রয়োজন পূর্ণ করা হবে। আর এগুলো নিজের পার্থিব কোন লাভ ও সংখ্যা সুবিধার জন্য নয় বরং কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতের পুণ্যের জন্য করা হবে।
আল্লাহ তা'আলা স্বীয় পবিত্র কিতাব কুরআন মজীদে এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর মহান বাণীতে যেভাবে মানুষকে অশ্লীলতাসমূহের মূল-মদ থেকে রক্ষা করতে ক্রমান্বয়ের নীতি গ্রহণ করেছিলেন অনুরূপভাবে সুদের জবরদস্তী ও অভিশপ্ত ব্যবসা-নীতি বিলীন করার জন্যও উক্ত বাস্তব কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল। প্রথম দিকে বহু দিন পর্যন্ত কেবল হ্যাঁ মূলক প্রক্রিয়ায় এ বিষয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন যে, আপন সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় কর, দরিদ্রদের সাহায্য কর, অসহায়দের আশ্রয়দান কর, প্রয়োজনশীলদের প্রয়োজনগুলো পূর্ণ কর, দয়া, বদান্যতা ও অন্যকে প্রাধান্য প্রদানের ন্যায় স্বভাবকে আয়ত্ব কর। বলা হয়েছে, তুমিও ধ্বংসশীল তোমার সম্পদও ধ্বংস হয়ে যাবে। এজন্য এ সম্পদের দ্বারা আখিরাতের চিরস্থায়ী সফলতা ও জান্নাত অর্জন কর, কারূণের মত সম্পদ পূজারীদের পরিণতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর।
এ শিক্ষা ও উপদেশ এবং এ অনুযায়ী কার্যক্রম সমাজের স্বভাব এরূপ তৈরি করে এবং পরিবেশ এজন্য গঠিত হয়ে যায় যে, জুলুম ও মানবতাবর্জিত ব্যবসা (রিবা-সুদ)-সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার আইন জারি করা হবে। সুতরাং সূরা বাকারার শেষাংশে ২৭৫ আয়াত হতে ২৮০ আয়াত পর্যন্ত এমন সব আয়াত নাযিল হয়েছে যেগুলোতে রিবা (সুদ) সুস্পষ্টভাবে হারাম করা হয়েছে। (অর্থাৎ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبَا থেকে وَأَنْ تَصَدَّقُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ পর্যন্ত) এসব আয়াতে এটাও সুস্পষ্ট করা হয়েছে যে, যদি পূর্বের লেন-দেন পরম্পরায় কারো কোন সুদী টাকা কোন ঋণগ্রহীতার নিকট বাকি থেকে থাকে তবে এখন তাও নেয়া যাবে না। এসব আয়াতেরই শেষে এ ঘোষণাও করা হয়েছে যে, সুদী ব্যবসা হারাম, এ ঘোষণার পরও যে সব লোক বিরত থাকবে না এবং আল্লাহর আইনের অবাধ্যতা করবে তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছেঃ
فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ
এ ভীতি প্রদর্শন (অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে যুদ্ধ ঘোষনার ভীতি প্রদর্শন) সুদী ব্যবসা ছাড়া ব্যভিচার, মদ, অন্যায় হত্যা ইত্যাদি বড় বড় পাপের ব্যাপারে কুরআন মজীদে যুদ্ধ ঘোষণার আয়াত নাযিল হয়নি। এতে বুঝা যায় যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দৃষ্টিতে এ পাপ অন্যান্য পাপ থেকে অধিক কঠোর ও ভারী।
সামনে বর্ণিতব্য হাদীসমূহ থেকে জানা যাবে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদ খাওয়াকে চূড়ান্ত পর্যায়ের কবীরা গুনাহগুলোর মধ্যে পরিগণিত করেছেন। সুদ গ্রহণকারীর সাথে সুদ প্রদানকারী এমনকি সুদের দলিল লেখক ও এর সাক্ষীগণকেও অভিশাপযোগ্য নির্ধারণ করেছেন। আর কোন কোন বর্ণনায় সুদের গুনাহ ব্যভিচার থেকে সত্তর গুণ অধিক বলা হয়েছে।
৪০১. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, সাতটি ধ্বংসকারক গুনাহ হতে বিরত থাক। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ ﷺ সেইগুলো কি কি? তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে (তাঁর ইবাদতে, গুণাবলীতে অথবা কার্যাবলীতে কাউকে) শরীক করা, জাদুকরা, কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা, সুদ খাওয়া, ইয়াতীমের মাল খাওয়া, আর (নিজের প্রাণ বাঁচাবার জন্য) যুদ্ধে মুসলিম সৈন্যকে রেখে পলায়ন করা এবং সতী-সাধ্বী নারীদের প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ রটনা করা। (সহীহ বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اجْتَنِبُوا السَّبْعَ المُوبِقَاتِ»، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا هُنَّ؟ قَالَ: «الشِّرْكُ بِاللَّهِ، وَالسِّحْرُ، وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالحَقِّ، وَأَكْلُ الرِّبَا، وَأَكْلُ مَالِ اليَتِيمِ، وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ، وَقَذْفُ المُحْصَنَاتِ المُؤْمِنَاتِ الغَافِلاَتِ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৪০২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪০২. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে রাতে আমার মিরাজ হয়েছিল সে রাতে আমি এমন এক কাওমের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছিলাম যাদের পেট ছিল ঘরের মত। ভাদের পেট সাপে ভর্তি ছিল। বাইর থেকে এগুলো দেখা যাচ্ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে জিবরাইল! এরা কারা? (যারা এরূপ শাস্তিতে লিপ্ত আছে)। তিনি বললেন, এরা সুদখোর লোক। (আহমদ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَتَيْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي عَلَى قَوْمٍ بُطُونُهُمْ كَالْبُيُوتِ، فِيهَا الْحَيَّاتُ تُرَى مِنْ خَارِجِ بُطُونِهِمْ، فَقُلْتُ: مَنْ هَؤُلَاءِ يَا جِبْرَائِيلُ؟ قَالَ: هَؤُلَاءِ أَكَلَةُ الرِّبَا " (رواه احمد وابن ماجة)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৪০৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪০৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, সুদের সত্তর ভাগ। এর সর্বনিম্ন হচ্ছে আপন মার সাথে ব্যভিচার করার ন্যায় পাপ। (ইবনে মাজাহ, বায়হাকী, শু'আবুল ঈমান)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الرِّبَا سَبْعُونَ جُزْءً، أَيْسَرُهَا أَنْ يَنْكِحَ الرَّجُلُ أُمَّهُ» (رواه ابن ماجه والبيهقى فى شعب الايمان)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৪০৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪০৪. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুদ গ্রহণকারী, সুদ প্রদানকারী, সুদের লেখক ও সাক্ষীদের ওপর রাসুলুল্লাহ ﷺ লা'নত করেছেন এবং বলেছেনঃ এরা সবাই সমান পাপী। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ، قَالَ: «لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آكِلَ الرِّبَا، وَمُوكِلَهُ، وَكَاتِبَهُ، وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৪০৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪০৫. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যখন তোমাদের কোন ব্যক্তি কাউকে ঋণ দেয় এরপর সেই ঋণগ্রহীতা ঋণদাতাকে হাদীয়া হিসাবে কোন জিনিস দেয় অথবা আরোহণের জন্য তাকে বাহন পেশ করে তবে সে তার হাদীয়া গ্রহণ করবে না অথবা বাহন হিসাবে তার পশুতে আরোহণ করবে না। তবে যদি পূর্ব থেকে উভয়ের মধ্যে এরূপ প্রচলন জারি থেকে থাকে সেটা ভিন্ন কথা। (ইবনে মাজাহ, বায়হাকী, শু'আবুল ঈমান)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا أَقْرَضَ أَحَدُكُمْ قَرْضًا، فَأَهْدَى لَهُ، أَوْ حَمَلَهُ عَلَى الدَّابَّةِ، فَلَا يَرْكَبْهُ وَلَا يَقْبَلْهُ، إِلَّا أَنْ يَكُونَ جَرَى بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ قَبْلَ ذَلِكَ» (رواه ابن ماجه والبيهقى فى شعب الايمان)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৪০৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪০৬. হযরত উমর ইবনে খাত্তাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সুদ সংক্রান্ত আয়াত (অর্থাৎ সূরা বাকারায় যে আয়াতে সুদ সম্পূর্ণরূপে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে তা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনের) শেষ পর্যায়ে নাযিল হয়েছিল। নবী ﷺ-কে এ জগত থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল আর আমাদের জন্য এর পূর্ণ ব্যাখ্যা করে যাননি। সুতরাং সুদ সম্পূর্ণরূপে ছেড়ে দাও, এর সাদৃশ্য থেকেও বাঁচ। (ইবনে মাজাহ, দারিমী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: «إِنَّ آخِرَ مَا نَزَلَتْ آيَةُ الرِّبَا، وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُبِضَ وَلَمْ يُفَسِّرْهَا لَنَا، فَدَعُوا الرِّبَا وَالرِّيبَةَ» (رواه ابن ماجة والدارمى)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৪০৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪০৭. হযরত ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, সুদ যদিও বর্ধিত হয় তবে পরিণামে ইহা কমের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। (আহমদ, ইবনে মাজাহ, শুআবুল ঈমান)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: « إِنَّ الرِّبَا وَإِنْ كَثُرَ، فَإِنَّ عَاقِبَتَهُ تَصِيرُ إِلَى قُلٍّ» (رواه احمد وابن ماجه والبيهقى فى شعب الايمان)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৪০৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪০৮. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করেন যে, এমন এক সময় আসবে যে, সব লোকই সুদ খাবে। (কেউই এ থেকে বেঁচে থাকবে না), যদি সে স্বয়ং সুদ না খায় তবে এর উত্তাপ ও ধূলি-বালি তাকে পাবে।
(মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
(মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، «لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يَبْقَى أَحَدٌ إِلَّا أَكَلَ الرِّبَا، فَإِنْ لَمْ يَأْكُلْهُ أَصَابَهُ مِنْ بُخَارِهِ» وَيُرْوَى « مِنْ غُبَارِهِ» (رواه احمد وابوداؤد والنسائى وابن ماجة)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৪০৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪০৯. হযরত উবাদা ইবনে সামিত (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, সোনা সোনার বিনিময়ে বিক্রি, রূপা রূপার বিনিময়ে, গম গমের বিনিময়ে, যব যবের বিনিময়ে, খেজুর খেজুরের বিনিময়ে আর লবণ লবণের বিনিময়ে একই মানের সমপরিমাণ ও নগদ বিক্রি হতে হবে। আর যখন দ্রব্য ভিন্ন হবে তখন তোমাদের ইচ্ছামত বিক্রি কর। তবে লেন-দেন নগদ হতে হবে। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ، وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ، وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ، وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ، وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ، وَالْمِلْحُ بِالْمِلْحِ، مِثْلًا بِمِثْلٍ، سَوَاءً بِسَوَاءٍ، يَدًا بِيَدٍ، فَإِذَا اخْتَلَفَتْ هَذِهِ الْأَجْنَاسُ، فَبِيعُوا كَيْفَ شِئْتُمْ، إِذَا كَانَ يَدًا بِيَدٍ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৪১০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪১০. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, সোনার বিনিময়ে সোনা, রূপার বিনিময়ে রূপা, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর, লবণের বিনিময়ে লবণ একই প্রকার নগদ ক্রয় বিক্রয় হবে। যে ব্যক্তি অতিরিক্ত দিল অথবা অতিরিক্ত দাবি করল সে সুদের ব্যবসা করল। (সে সুদের পাপে জড়িত হল) এতে গ্রহণকারী এবং প্রদানকারী উভয়ে সমান। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ، وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ، وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ، وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ، وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ، وَالْمِلْحُ بِالْمِلْحِ، مِثْلًا بِمِثْلٍ، يَدًا بِيَدٍ، فَمَنْ زَادَ، أَوِ اسْتَزَادَ، فَقَدْ أَرْبَى، الْآخِذُ وَالْمُعْطِي فِيهِ سَوَاءٌ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৪১১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪১১. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। একবার বিলাল (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে (উত্তম) বরনি খেজুর পেশ করেন। নবী ﷺ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কোথা থেকে এসেছে? তিনি বললেন, আমার নিকট নিম্ন মানের খেজুর ছিল, আমি দুই সা' খেজুরের বিনিময়ে এক সা' বরনি খেজুর ক্রয় করেছি। তিনি বললেন, হায়! এটাতো অবিকল সুদ। আগামীতে এরূপ করো না। যখন তুমি খেজুরের বিনিময়ে খেজুর ক্রয় করতে চাও তখন প্রথমে নিজের খেজুর বিক্রি কর। এরপর এর মূল্য দিয়ে অন্য খেজুর ক্রয় করে লও। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِىْ سَعِيدٍ، قَالَ: جَاءَ بِلاَلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِتَمْرٍ بَرْنِيٍّ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مِنْ أَيْنَ هَذَا؟»، قَالَ بِلاَلٌ: كَانَ عِنْدَنَا تَمْرٌ رَدِيٌّ، فَبِعْتُ مِنْهُ صَاعَيْنِ بِصَاعٍ، فَقَالَ: «أَوَّهْ، عَيْنُ الرِّبَا، لاَ تَفْعَلْ، وَلَكِنْ إِذَا أَرَدْتَ أَنْ تَشْتَرِيَ فَبِعِ التَّمْرَ بِبَيْعٍ آخَرَ، ثُمَّ اشْتَرِبِهِ» (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৪১২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সুদ
৪১২. আতা ইবনে ইয়াসার তাবেঈ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত মু'আবিয়া (রা) সোনা বা রূপার একটি পেয়ালা (অথবা জগ) অনুরূপ জাতীয় দ্রব্যের থেকে বেশি ওজনের দ্রব্যের বিনিময়ে বিক্রি করলেন। তখন হযরত আবুদ দারদা তাকে বললেন, আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, তিনি এ জাতীয় ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করতেন; তবে এরূপ যে, সমান সমান হবে। হযরত মু'আবিয়া তাকে বললেন, আমিতো এটা ক্ষতিকর মনে করি না। হযরত আবুদ দারদা (খুবই অসন্তুষ্ট হয়ে) বললেন, মু'আবিয়ার ব্যাপারে কে আমাকে অক্ষম মনে করবে। তা আমি যাকে রাসুলুল্লাহ ﷺের নির্দেশ শুনাচ্ছি; আর সে আমাকে নিজের মত শুনাচ্ছে। (এরপর স্বয়ং মু'আবিয়াকে বললেন) তুমি যেখানে আছ আমি সেখানে থাকতে চাইনা। এরপর হযরত আবুদ দারদা (রা) উমর (রা)-এর নিকট মদীনায় এলেন এবং তাকে ঘটনা বললেন। তখন হযরত উমর হযরত মুয়াবিয়াকে লিখলেন, এ জাতীয় ক্রয়-বিক্রয় করবেন না। সোনা-রূপা ইত্যাদি অনুরূপ জাতীয় জিনিস দ্বারা বিনিময় কেবল এ পদ্ধতিতেই বৈধ যে, উভয় দিক একই রকম এবং সমান ওজনের হবে। (মুআত্তা, নাসাঈ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ؛ أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ، بَاعَ سِقَايَةً مِنْ ذَهَبٍ، أَوْ وَرِقٍ بِأَكْثَرَ مِنْ وَزْنِهَا. فَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ: سَمِعْتُ النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم، يَنْهَى عَنْ مِثْلِ هذَا إِلاَّ مِثْلاً بِمِثْلٍ. فَقَالَ لَهُ مُعَاوِيَةُ: مَا أَرَى بِمِثْلِ هذَا بَأْساً. فَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ: مَنْ يَعْذِرُ لِي مِنْ مُعَاوِيَةَ؟. أَنَا أُخْبِرُهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم. وَهُوَ يُخْبِرُنِي عَنْ رَأْيِهِ. لاَ أُسَاكِنُكَ بِأَرْضٍ أَنْتَ بِهَا. ثُمَّ قَدِمَ أَبُو الدَّرْدَاءِ، عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ. فَذَكَرَ لَهُ ذلِكَ. فَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ، إِلَى مُعَاوِيَةَ: أَنْ لاَ يَبِيعَ ذلِكَ إِلاَّ مِثْلاً بِمِثْلٍ وَزْناً بِوَزْنٍ. (رواه مالك فى الموطا والنسائى فى سننه)
তাহকীক: