হাদীস অনুসন্ধানের ফলাফল

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩৪৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কেমন লোকের খাদ্য খাওয়া যাবে না
৩৪৪. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, সব চেয়ে নিকৃষ্ট খাদ্য সেই ওলীমার খাদ্য, যাতে গরীবদের বাদ দিয়ে কেবল ধনীদের দাওয়াত করা হয়। যে ব্যক্তি (শরীয়াতের কারণ ছাড়া) দাওয়াত কবুল করল না সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করল। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: شَرُّ الطَّعَامِ طَعَامُ الْوَلِيمَةِ يُدْعَى لَهَا الأَغْنِيَاءُ، وَيُتْرَكُ الْفُقَرَاءُ، وَمَنْ تَرَكَ الدَّعْوَةَ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَرَسُولَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. (رواه البخارى ومسلم)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩৪৫
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কবর সম্পর্কে (নবী কারীম ﷺ এর) পথ নির্দেশ
৩৪৫. হযরত আবূ মারসাদ গানাবী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমরা কবরের উপর বসবে না এবং তার দিকে মুখ করে সালাতও আদায় করবে না। (মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي مَرْثَدٍ الْغَنَوِيِّ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « لَا تَجْلِسُوا عَلَى الْقُبُورِ ، وَلَا تُصَلُّوا إِلَيْهَا » (رواه مسلم)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩৪৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সহবাস সম্পর্কিত নির্দেশাবলী
৩৪৫. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আেমাদের কেউ যদি স্ত্রী সঙ্গমের ইচ্ছা করে- বলবে:
باسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنِي الشَّيْطانَ، وجَنِّبِ الشَّيْطانَ ما رَزَقْتَنا.
আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে শয়তানের অনিষ্ট হতে বাঁচান আর আমাদেরকে যে সন্তান দান করেন তাকেও শয়তান থেকে বাঁচান। সুতরাং সেই সঙ্গমে যদি তাদের সন্তান নির্ধারিত হয়ে থাকে তবে শয়তান কখনো তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। সে সর্বদা শয়তানের অনিষ্ট হতে রক্ষা পাবে। (বুখারী শরীফ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَأْتِيَ أَهْلَهُ قَالَ بِاسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا، فَإِنَّهُ إِنْ يُقَدَّرْ بَيْنَهُمَا وَلَدٌ فِي ذَلِكَ، لَمْ يَضُرَّهُ شَيْطَانٌ أَبَدًا. (رواه البخارى ومسلم)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩৪৬
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কবর সম্পর্কে (নবী কারীম ﷺ এর) পথ নির্দেশ
৩৪৬. হযরত আমর ইবনে হাযম (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কারীম ﷺ আমাকে একটি কবরের সাথে হেলান দিয়ে বসতে দেখে বললেন: কবরবাসীকে কষ্ট দিওনা অথবা তিনি বলেছেনঃ তাকে কষ্ট দিও না। (আহমাদ)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ ، قَالَ : رَآنِي النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُتَّكَأً عَلَى قَبْرٍ ، فَقَالَ : « لَا تُؤْذِ صَاحِبَ هَذَا الْقَبْرِ أَوْ لَا تُؤْذِهِ » (رواه احمد)
tahqiq

তাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩৪৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রী সঙ্গম এক গোপন রহস্য, এর প্রকাশ জঘন্যতম গুনাহ
৩৪৬. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম স্তরের হবে, যে স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে এবং স্ত্রীও করে এরপর গোপনিয়তা প্রকাশ করে দেয়। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِيْ سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ مِنْ أَشَرِّ النَّاسِ عِنْدَ اللَّهِ مَنْزِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ الرَّجُلَ يُفْضِي إِلَى امْرَأَتِهِ وَتُفْضِي إِلَيْهِ ثُمَّ يَنْشُرُ سِرَّهَا. (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩৪৭
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কবর যিয়ারত
৩৪৭. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা কবর যিয়ারত করতে পার। কেননা তা দুনিয়ার প্রতি নির্মোহ করে এবং আখিরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়। (ইবন মাজাহ)
کتاب الصلوٰۃ
عَنِ عَبْدِاللهِ ابْنِ مَسْعُودٍ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : « كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ ، فَزُورُوهَا؛ فَإِنَّهَا تُزَهِّدُ فِي الدُّنْيَا ، وَتُذَكِّرُ الْآخِرَةَ » (رواه ابن ماجة)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩৪৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্বভাব বিরুদ্ধ পন্থায় সঙ্গমে আল্লাহর লা'নত
৩৪৭. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি স্ত্রীর পশ্চাৎদেশে সঙ্গম করে তার প্রতি আল্লাহর লা'নত। (আহমদ, আবু দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَلْعُونٌ مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَا. (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩৪৮
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কবর যিয়ারত
৩৪৮. হযরত বুরায়দা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: যখন লোকেরা কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে বের হত তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ তাদেরকে এই দু'আ-

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللهُ بِكُمْ لَاحِقُونَ نَسْأَلُ اللهَ لَنَا وَلَكُمْ الْعَافِيَةَ

কবরবাসী! তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আমরাও ইনশা আল্লাহ্ তোমাদের সাথে মিলিত হবো। আমরা আমাদের ও তোমাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি" পাঠ করেন। (মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ : " كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَلِّمُهُمْ إِذَا خَرَجُوا إِلَى الْمَقَابِرِ السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ ، وَإِنَّا ، إِنْ شَاءَ اللهُ بِكُمْ لَلَاحِقُونَ ، نَسْأَلُ اللهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ " (رواه مسلم)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩৪৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্বভাব বিরুদ্ধ পন্থায় সঙ্গমে আল্লাহর লা'নত
৩৪৮. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন পুরুষ অথবা কোন মহিলার পশ্চাৎদেশে সঙ্গম করে তার প্রতি আল্লাহ তা'আলা দৃষ্টিপাত করবেন না। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَى رَجُلٍ أَتَى رَجُلاً أَوِ امْرَأَةً فِي الدُّبُرِ. (رواه الترمذى)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩৪৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আযল প্রসঙ্গ

কখনো এরূপ হয়ে থাকে যে, মানুষ কোন বিশেষ কারণে (যেমন, স্ত্রীর স্বাস্থ্য অথবা প্রথম সন্তানের স্বাস্থ্য রক্ষা করার লক্ষ্যে এটা চায় না যে, এ সময় তার স্ত্রী গর্ভধারণ করুক। এ উদ্দেশ্যে সে এরূপ করে যে, বীর্যপাতের পূর্ব মুহূর্তে নিজেকে স্ত্রী থেকে পৃথক করে নেয় যেন বীর্য বাইরে নিক্ষিপ্ত হয়। এটাকে 'আযল' বলে। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সময়েও কোন কোন লোক এরূপ করতেন। এ সম্পর্কে হুজুর ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি যে উত্তর দিয়েছিলেন তা সামনের হাদীসে আসছে। আর একথা সুষ্পষ্ট যে, এটা নিষিদ্ধ বা নাজায়িয অবশ্য নয়, তবে উত্তমও নয়। উম্মতের অধিকাংশ ফকীহবৃন্দ এ জাতীয় হাদীসসমূহ থেকে এটাই বুঝেছেন যে, যদি কোন ব্যক্তি নিজের বিশেষ অবস্থা ও কল্যাণকামিতার কারণে আযল করে তবে সুযোগ আছে, গুনাহ নেই। তবে আমাদের এ যুগে পাশ্চাত্য জাতি ও রাষ্ট্রসমূহের আনুগত্য ও অনুকরণে কোন কোন দেশে দেশীয় ও জাতীয় বংশধারা সীমিতকরণ কার্যাবলী যেভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে, তার উদ্দেশ্য মনুষ্য জাতি বৃদ্ধি না পাক। মনুষ্য জাতি বৃদ্ধি পেলে ভাত পাওয়া যাবে না, ইসলামে মোটেই এর সুযোগ নেই। এটা সেই গোমরাহী দৃষ্টিভঙ্গি, যে কারনে জাহিলী যুগে কোন কোন আরববাসী নিজেদের নবজাতক সন্তানকে হত্যা করত। কুরআন মজীদে তাদের সম্বন্ধেই বলা হয়েছে:
وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ مِنْ إِمْلَاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ
দারিদ্র্যের জন্য তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না। আমিই তোমাদেরকে ও তাদেরকে রিযক দিয়ে থাকি। (সুরা আন'আম: ১৫১)

এ ভূমিকার পর আযল সম্পর্কিত নিচের হাদীস পাঠ করুন।
৩৪৮. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র জীবদ্দশায়) কুরআন নাযিলের যুগে আমরা (কোন কোন সাহাবী) 'আযল করতাম (আর এটা নিষিদ্ধ এ বিষয়ে কোন আয়াত নাযিল হয়নি) মুসলিমের বর্ণনায় একথা অতিরিক্ত এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট এ খবর পৌছলে তিনি নিষেধ করেননি। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍقَالَ كُنَّا نَعْزِلُ وَالْقُرْآنُ يَنْزِلُ. (رواه البخارى ومسلم)
وزاد مسلم فَبَلَغَ ذَالِكَ النَّبِيَّ فَلَمْ يَنْهَنَا.
tahqiq

তাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩৪৯
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কবর যিয়ারত
৩৪৯. হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী করীম ﷺ মদীনার কতিপয় কবরের নিকট দিয়ে পথ চলাকালে তাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন-

«السَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ الْقُبُورِ يَغْفِرُ اللَّهُ لَنَا وَلَكُمْ أَنْتُمْ سَلَفُنَا وَنَحْنُ بِالْأَثَرِ»

"হে কবরবাসী! তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ্ আমাদের ও তোমাদের ক্ষমা করুন। তোমরা আমাদের পূর্বগামী এবং আমরা তোমাদের অনুগামী"। (তিরমিযী)
کتاب الصلوٰۃ
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : مَرَّ النَّبِىُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقُبُورِ الْمَدِينَةِ فَأَقْبَلَ عَلَيْهِمْ بِوَجْهِهِ ، فَقَالَ : السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ القُبُورِ ، يَغْفِرُ اللَّهُ لَنَا وَلَكُمْ ، أَنْتُمْ سَلَفُنَا ، وَنَحْنُ بِالأَثَرِ.
(رواه الترمذى)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩৪৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আযল প্রসঙ্গ
৩৪৯. হযরত আবু সাঈদ খুদরী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে আযল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন, সব বীর্য থেকেই সন্তান হয় না। (অর্থাৎ সন্তান উদ্দেশ্য নয়, এরূপ নির্গত এক বিন্দু থেকেও আল্লাহর নির্দেশ হলে গর্ভ সঞ্চার হতে পারে) আর যখন কোন বস্তু পয়দা করতে আল্লাহর ইচ্ছা হয় তখন কোন জিনিস এটা বারণ করতে পারে না। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْعَزْلِ فَقَالَ: مَا مِنْ كُلِّ الْمَاءِ يَكُونُ الْوَلَدُ وَإِذَا أَرَادَ اللَّهُ خَلْقَ شيء لَمْ يَمْنَعْهُ شَيْءٌ. (رواه مسلم)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩৫০
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কারো মৃত্যুর পর তার জন্য মাগফিরাত ও রহমতের দু’আ করা, দয়া-করুণা প্রার্থনা করা—এসবই তার প্রতি সদাচরণের সর্বোত্তম পদ্ধতি। জানাযার সালাত আদায় করার মূল উদ্দেশ্যও এটাই। কবর যিয়ারত বিষয়ক হাদীস সমূহের মধ্যে দু'টি হাদীসে কবরবাসীকে সালাম দেওয়ার সাথে সাথে মাগফিরাত চাওয়ার বিষয়ও বর্ণিত হয়েছে। মৃতের কল্যাণে দু'আ করার আরো একটি ফলদায়ক পদ্ধতি রাসূলুল্লাহ ﷺ শিক্ষা দিয়েছেন। আর তা হল, মৃতের পক্ষ থেকে দান-সাদাকা অথবা সাওয়াবের কোন কাজ করা। একেই বলে ইসালে সাওয়াব। এ পর্যায়ে নিম্নবর্ণিত দু'টি সাহীস পাঠ করে নেয়া যেতে পারে।
৩৫০. হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, সা'দ ইবনে উবায়দা (রা.)-এর মা যখন ইন্তিকাল করেন তখন তিনি উপস্থিত ছিলেন না। সেমতে তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার মায়ের কাছে অনুপস্থিত থাকাকালে তিনি ইন্তিকাল করেছেন। সুতরাং আমি যদি তাঁর নামে দান সাদাকা করি তাতে তিনি উপকৃত হবেন কি? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন সা'দ বললেন, আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি, আমি তাঁর নামে আমার (মিখরাফ নামক) একটি বাগান দান করে দিলাম। (বুখারী)
کتاب الصلوٰۃ
عَنِ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا : أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ تُوُفِّيَتْ أُمُّهُ وَهُوَ غَائِبٌ عَنْهَا ، فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ وَأَنَا غَائِبٌ عَنْهَا ، أَيَنْفَعُهَا شَيْءٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ بِهِ عَنْهَا؟ قَالَ : « نَعَمْ » ، قَالَ : فَإِنِّي أُشْهِدُكَ أَنَّ حَائِطِيَ المِخْرَافَ صَدَقَةٌ عَلَيْهَا. (رواه البخارى)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩৫০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আযল প্রসঙ্গ
৩৫০. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট এসে বললেন, আমার এক বাদী আছে। সে আমাদের কাজকর্ম করে। আর আমি তার সাথে সঙ্গমও করে থাকি। সে গর্ভধারণ করুক, এটা আমি অপসন্দ করি। (সম্ভবত উদ্দেশ্য এই ছিল যে, আমি কি আযল করতে পারি?) তিনি বললেন, চাইলে তুমি তার সাথে আযল কর। তবে এ বাঁদীর জন্য যা নির্ধারণ করা হয়েছে তা অবশ্যই হয়ে থাকবে। কিছু দিন পর সেই ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বললেন, বাঁদীটি গর্ভধারণ করেছে। তিনি বললেন, আমি তো তোমাকে বলেছিলাম, তাঁর জন্য যা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অবশ্যই হয়ে থাকবে। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَجُلاً أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ لِي جَارِيَةً هِيَ خَادِمَتُنَا وَأَنَا أَطُوفُ عَلَيْهَا وَأَكْرَهُ أَنْ تَحْمِلَ. فَقَالَ: اعْزِلْ عَنْهَا إِنْ شِئْتَ فَإِنَّهُ سَيَأْتِيهَا مَا قُدِّرَ لَهَا. فَلَبِثَ الرَّجُلُ ثُمَّ أَتَاهُ فَقَالَ إِنَّ الْجَارِيَةَ قَدْ حَبِلَتْ. فَقَالَ: قَدْ أَخْبَرْتُكَ أَنَّهُ سَيَأْتِيهَا مَا قُدِّرَ لَهَا. (رواه مسلم)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩৫১
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মৃতদের জন্য ইসালে সাওয়াব
৩৫১. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনুল আ'স (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আস ইবনে ওয়াইল (রা) মৃত্যুর সময় এই মর্মে ওয়াসীয়্যাত করে যায় যে, তার পক্ষ থেকে যেন একশ' দাস মুক্ত করা হয়। সেমতে (তার এক পুত্র) হিশাম ইবনুল আস (রা) তার পক্ষ থেকে পঞ্চাশজন দাস মুক্ত করে। দ্বিতীয় পুত্র আমর ইবনুল আস (রা) অবশিষ্ট পঞ্চাশজন দাস মুক্ত করার সংকল্প ব্যক্ত করেন। কিন্তু তিনি এ বিষয় নবী কারীম ﷺ-এর কাছে প্রশ্ন করে বিষয়টি জেনে নিতে চাইলেন। তারপর আমর তাঁর নিকট গিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের পিতা একশ' দাস মুক্ত করার ওয়াসীয়্যাত করেছিলেন। হিশাম তার পক্ষ থেকে পঞ্চাশজন দাস মুক্ত করে দিয়েছে এবং অবশিষ্ট পঞ্চাশ জনকে আমি কি তার পক্ষ থেকে মুক্ত করে দিব? রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ তোমাদের পিতা যদি মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করত এবং তোমরা তার পক্ষ থেকে দাস মুক্ত করতে অথবা অন্য কোন কিছু দান করতে অথবা তার পক্ষে হজ্জ করতে তাহলে সে আমালের সাওয়াব তার আত্মায় পৌঁছত। (আবু দাউদ)।
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عَبْدِاللهِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ الْعَاصَ بْنَ وَائِلٍ أَوْصَى أَنْ يُعْتِقَ عَنْهُ مِائَةُ رَقَبَةٍ ، فَأَعْتَقَ ابْنُهُ هِشَامٌ خَمْسِينَ رَقَبَةً ، فَأَرَادَ ابْنُهُ عَمْرٌو أَنْ يُعْتِقَ عَنْهُ الْخَمْسِينَ الْبَاقِيَةَ ، فَقَالَ : حَتَّى أَسْأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبِي أَوْصَى بِعَتْقِ مِائَةِ رَقَبَةٍ ، وَإِنَّ هِشَامًا أَعْتَقَ عَنْهُ خَمْسِينَ وَبَقِيَتْ عَلَيْهِ خَمْسُونَ رَقَبَةً ، أَفَأُعْتِقُ عَنْهُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « إِنَّهُ لَوْ كَانَ مُسْلِمًا فَأَعْتَقْتُمْ عَنْهُ أَوْ تَصَدَّقْتُمْ عَنْهُ أَوْ حَجَجْتُمْ عَنْهُ بَلَغَهُ ذَلِكَ » (رواه ابوداؤد)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩৫১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ চার স্ত্রী পর্যন্ত গ্রহণের অনুমতি

যে ব্যক্তি মানুষের প্রকৃতি ও মানুষের বিভিন্ন শ্রেণীর অবস্থাদি সম্পর্কে অবগত, সে নিশ্চিতভাবে জেনে থাকবে যে, অনেক লোক স্বীয় স্বভাব ও রুচি অনুযায়ী, আর অনেকে নিজেদের স্ত্রীর বিশেষ অবস্থার কারণে এরূপ অবস্থায় অবস্থান করে যে, যদি তাদের একের অধিক স্ত্রী গ্রহণের অনুমতি না থাকে তবে একথার বিরাট আশংকা রয়েছে যে, তারা অবৈধ কাজে জড়িত হবে। এ জন্য আল্লাহ প্রদত্ত শরীয়তে, যেখানে ব্যভিচারকে শক্ত হারাম নির্ধারণ করা হয়েছে সেখানে বহু বিবাহের অনুমতি রয়েছে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ কর্তৃক আনীত শরীয়তে বিশেষ করে বিবাহিত লোকের জন্য ব্যভিচার এরূপ শক্ত গোনাহ যে, এর শাস্তি প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ড। এরূপ শরীয়তে যদি কোন অবস্থায়ই বহু বিবাহের অনুমতি না থাকে তবে মানুষের প্রতি আইনের অনেক বাড়াবাড়ি হবে। যে সব পাশ্চাত্য দেশ ও জাতির আইনে বহু বিবাহের মোটেই সুযোগ নেই সেখানে ব্যভিচারের আইনগত বৈধতা রয়েছে। আর কার্যতও যেখানে ব্যভিচারের যে ছড়াছড়ি তা কোন গোপন বিষয় নয়।

ইসলামী শরীয়ত ব্যভিচারকে নির্মূল করার জন্য একদিকে এজন্য কঠিনতম শাস্তি নির্ধারণ করেছে অপর দিকে সঙ্গত শর্তাদির সাথে চার স্ত্রী পর্যন্ত গ্রহণের অনুমতি প্রদান করেছে। এ ছাড়াও বহু দিক ও কারণ রয়েছে যে সবের দাবিও তাই। তবে এটা বিস্তারিত ব্যাখ্যার স্থান নয়।

রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে নবুওত প্রদানের সময় দুনিয়ার অন্যান্য বহু জাতির ন্যায় আরবদের মধ্যেও স্ত্রীদের সংখ্যার কোন সীমাবদ্ধ আইন ছিল না। কেউ কেউ দশ দশটি বা এরও অধিক স্ত্রী রাখত। ইসলামী শরীয়তে লোকদের বিভিন্ন অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে এর শেষ সীমা চার নির্ধারণ করেছে।
৩৫১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। গাইলান ইবনে সালমা সাকাফী ইসলাম কবুল করেন। আর জাহিলী যুগে তার দশ স্ত্রী ছিল। তারাও ভার সাথে ইসলাম কলুল করে। তখন নবী ﷺ তাকে বললেন, চার স্ত্রী রেখে বাকিদের পৃথক করে দাও। (আহমদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ غَيْلاَنَ بْنَ سَلَمَةَ الثَّقَفِيَّ أَسْلَمَ وَلَهُ عَشْرُ نِسْوَةٍ فِي الجَاهِلِيَّةِ، فَأَسْلَمْنَ مَعَهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَمْسِكْ أَرْبَعاً. وَفَارِقْ سَائِرَهُنَّ. (رواه احمد)
tahqiq

তাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩৫২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে ব্যবহারে সমতা ও ইনসাফ সম্পর্কে

যদি কোন ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী থাকে তবে তার জন্য অপরিহার্য অবশ্য কর্তব্য নির্ধারণ করা হয়েছে যে, সে স্ত্রীদের সাথে একই রকম আচরণ করবে। কারো প্রতি সামান্যতম অবিচার হবে না। কুরআন মজীদের সূরা নিসায় যে আয়াতে চার স্ত্রী পর্যন্ত গ্রহণের স্পষ্ট অনুমতি প্রদান করা হয়েছে সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।
{فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً } [النساء: 3]
অর্থাৎ যদি ভোমরা একাধিক স্ত্রীদের বিবাহের অবস্থায় ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে না পার আর সবার সাথে একই প্রকার ব্যবহার করতে না পার তবে এক স্ত্রীর ওপরই যথেষ্ট কর, একাধিক বিবাহ করো না। স্ত্রীদের সাথে বেইনসাফকারী স্বামীদের আখিরাতে যে বিশেষ অপমানজনক আযাব হবে, রাসূলুল্লাহ ﷺ তা-ও উল্লেখ করেছেন, যেন মানুষ এ ব্যাপারে ভয় করে। তবে হৃদয়ের আকর্ষণের ওপর মানুষের হাত নেই। এ বিষয়ে মানুষ অপারগ, অবশ্য কর্মে ও ব্যবহারে পার্থক্য না হওয়া চাই।
৩৫২. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখন কোন মানুষের দুই (বা ততোধিক) স্ত্রী থাকে আর সে তাদের মধ্যে সমতা বিধান করে না, কিয়ামতের দিন দেহের এক দিক পতিত অবস্থায় সে উপস্থিত হবে। (তিরমিযী, আবূ দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, দারিমী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا كَانَ عِنْدَ الرَّجُلِ امْرَأَتَانِ فَلَمْ يَعْدِلْ بَيْنَهُمَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشِقُّهُ سَاقِطٌ. (رواه الترمذى وابوداؤد والنسائى وابن ماجه والدارمى)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩৫৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ স্ত্রীদের সাথে ব্যবহারে সমতা ও ইনসাফ সম্পর্কে
৩৫৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর সব স্ত্রীগণের সঙ্গে পালাক্রমে বাস করতেন এবং পূর্ণ ইনসাফ করতেন। এ প্রসঙ্গে বলতেন, হে আল্লাহ! এটা আমার বণ্টন, যে বিষয়ে আমার শক্তি রয়েছে। সুতরাং আমাকে তিরস্কার করবেন না (হৃদয়ের) ঐ বিষয়ের জন্য, যার কর্তৃত্ব আপনার কর্তৃত্বে রয়েছে; যা আমার কর্তৃত্বে নেই। (তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবন, মাজাহ, দারিমী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقْسِمُ بَيْنَ نِسَائِهِ فَيَعْدِلُ وَيَقُولُ: اللَّهُمَّ هَذِهِ قِسْمَتِي فِيمَا أَمْلِكُ فَلاَ تَلُمْنِي فِيمَا تَمْلِكُ وَلاَ أَمْلِكُ. (رواه الترمذى وابوداؤد والنسائى وابن ماجه والدارمى)

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩৫৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তালাক ও ইদ্দত

যেমন জানা গেল যে, বিয়ে-শাদীর উদ্দেশ্য হচ্ছে, নর-নারী এ সম্পর্ক স্থাপন করে পরস্পর জড়িত হয়ে পবিত্র ভালবাসার সাথে আনন্দ ও সুখের জীবন যাপন করবে। আর যেভাবে সে নিজে কারো সন্তান অনুরূপভাবে তার থেকেও সন্তানের ধারা অব্যাহত থাকবে। সে সন্তান তার হৃদয় ও নয়নের শীতলতার কারণ হবে এবং আখিরাতে জান্নাত লাভের ওসীলা হবে।

এসব উদ্দেশ্যের জন্য উভয়ের মধ্যে ভালবাসা ও আনন্দদায়ক সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। রাসুলুল্লাহ ﷺ স্বামী-স্ত্রীর পরস্পর আচরণ সম্পর্কে যে নির্দেশাবলী প্রদান করেছেন সেগুলোর মুল ও কেন্দ্রীয় উদ্দেশ্য এটাই।

এতদসত্তেও কখনো অবস্থা এরূপ দাঁড়ায় যে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অতিশয় তিক্ততা ও বিষাদ সৃষ্টি হয়ে থাকে। তখন একত্রে বসবাস করা আনন্দ ও শান্তির পরিবর্তে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এরূপ ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা ও উৎসাহব্যঞ্জক বাণী এটাই যে, বিষণ্নতা উভয়কে যথাসম্ভব সহ্য করে নিতে হবে। সম্পর্ক অটুট ও মনোরম করার চেষ্টা করবে। তবে সর্বশেষ পন্থা হিসাবে 'তালাক' এরও অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। যদি কোন অবস্থায়ই তালাক ও পৃথক হওয়ার অনুমতি না থাকত তবে এরূপ সম্পর্ক উভয়ের জন্য আযাবে পরিণত হত। এরপর তালাক সম্পর্কিত বিস্তারিত নির্দেশাবলী প্রদান করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত প্রথম নীতিগত নির্দেশ এই দেয়া হয়েছে যে, তালাক ও এর দ্বারা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়া আল্লাহ তা'আলার নিকট খুবই অপসন্দনীয়। সুতরাং যথাসম্ভব এ থেকে বিরত থাকা চাই। না পুরুষ স্বয়ং এ উদ্যোগ নেবে আর না নারী এটা চেয়ে নেবে। কেবল এরূপ অপারগ অবস্থায়ই এটা করা যায়, যেরূপ কোন অঙ্গে বড় জটিলতা দেখা দিলে অপারেশন বা কাটা-ছেঁড়া সহ্য করা হয়। এরপর তালাক ও পৃথক হওয়ার পন্থা এই বলা হয়েছে যে, পবিত্রাবস্থায় (অর্থাৎ যে সব দিনে নারী বিশেষ ধরনের অপবিত্র অবস্থায় থাকে না) স্বামী কেবল রেজঈ এক তালাক দেবে, যেন, ইদ্দতের মধ্যে রিজআত অর্থাৎ স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণের সুযোগ থাকে। তারপর স্বামী যদি পুনঃগ্রহণের সিদ্ধান্ত না নেয় তবে ইদ্দতের সময়কাল অতিক্রান্ত হতে দেবে। এতে পুনঃগ্রহণের সুযোগ থাকবে না বটে, তবে উভয়ের সম্মতিক্রমে দ্বিতীয়বার বিয়ের সম্পর্ক স্থাপিত হতে পারে।

একসাথে তিন তালাক দেয়া নাজায়িয ও শক্ত গুনাহ সাব্যস্ত করা হয়েছে, যেমন সামনে উল্লেখিতব্য কোন কোন হাদীস থেকে জানা যাবে। তবে বিভিন্ন সময়ে তিন তালাক দেয়াকেও অতিশয় অপসন্দনীয় করা হয়েছে। আর এজন্য দুনিয়াতেই এ শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে যে, যদি সেই স্বামী তার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে পুনরায় বিয়ে করতে চায় তবে বিয়ে করতে পারবে না, যতক্ষণ সে অন্য কারো বিবাহ বন্ধনে এসে তার সাথে সঙ্গত না হবে। এরপর হয় তার ইন্তিকালে সে বিধবা হবে অথবা সেই স্বামীও তালাক দিয়ে দেয়। বস্তুত কেবল এই অবস্থায়ই ইদ্দত অতিক্রমের পর এ দু'জনের পুনরায় বিবাহ হতে পারে। এই কঠোর নিয়ম-নীতি মুলত স্বামীর তিন তালাক দেয়ারই শাস্তি। এ ভূমিকার পর এতদসংক্রান্ত কতিপয় হাদীস নিম্নে পাঠ করুন।

তালাক অতিশয় অপসন্দনীয় কাজ
৩৫৪. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, হালাল ও বৈধ বিষয়ের মধ্যে আল্লাহ তা'আলার নিকট তালাক অতিশয় অপসন্দনীয়। (আবু দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: أَبْغَضُ الْحَلاَلِ إِلَى اللَّهِ الطَّلاَقُ. (رواه ابوداؤد)
tahqiq

তাহকীক:

মা'আরিফুল হাদীস

হাদীস নং: ৩৫৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তালাক ও ইদ্দত: তালাক অতিশয় অপসন্দনীয় কাজ
৩৫৫. হযরত মু'আয ইবনে জাবাল (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বলেছেন, হে মু'আয! দাস-দাসী মুক্ত করা থেকে অধিক প্রিয় কোন জিনিস আল্লাহ দুনিয়ার বুকে সৃষ্টি করেননি। আর তালাক থেকে অধিক ঘৃণীত ও অপসন্দনীয় কোন জিনিস আল্লাহ দুনিয়ার বুকে সৃষ্টি করেননি। (দারাকুতনী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ , قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " يَا مُعَاذُ مَا خَلَقَ اللَّهُ شَيْئًا عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنَ الْعَتَاقِ , وَلَا خَلَقَ اللَّهُ شَيْئًا عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ أَبْغَضَ إِلَيْهِ مِنَ الطَّلَاقِ. (رواه الدار قطنى)
tahqiq

তাহকীক: